খুঁজুন
                               
, ,

রাষ্ট্র রূপান্তরের ভূমিকায় সাংবাদিকতা

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্র রূপান্তরের ভূমিকায় সাংবাদিকতা

রাষ্ট্র রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় সাংবাদিকতা একটি অপরিহার্য এবং প্রভাবশালী মাধ্যম। এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের কাঠামো ও নীতির পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাংবাদিকতা শুধুমাত্র তথ্য সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জনমত গঠন, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রাষ্ট্রের রূপান্তর প্রক্রিয়ায় জনমত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতা তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপনের মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত প্রভাবিত করে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসা সমস্যাগুলি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সমাধানের পথও নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ, দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা সামাজিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলিকে সামনে তুলে ধরে সাংবাদিকতা নাগরিকদের সচেতন করে এবং তাদের মতামত গঠন করে। সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এটি সরকারের কর্মকাণ্ড ও নীতির ওপর নজরদারি করে এবং সেগুলির স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। দুর্নীতির মতো অপকর্ম উন্মোচনের মাধ্যমে সাংবাদিকতা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির ঘটনা সাংবাদিকতার মাধ্যমে উন্মোচিত হওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। সাংবাদিকতা রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এটি নীতিনির্ধারকদের কাছে জনগণের দাবিদাওয়া পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবগত রাখে। উদাহরণস্বরূপ, উন্নয়ন প্রকল্পগুলির তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরলে তারা সেগুলিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারে। রাষ্ট্র রূপান্তরের ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা একটি অপরিহার্য উপাদান। সাংবাদিকতা সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলি তুলে ধরে এবং জনগণকে সচেতন করে। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনে সহায়তা করে।

গণতন্ত্রের চর্চা সাংবাদিকতার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এটি মুক্ত মত প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে এবং জনগণকে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি জনগণের সামনে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও নীতিগুলি তুলে ধরে, যা জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। সংকটকালীন সময়ে সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তনে ত্বরান্বিত ভূমিকা পালন করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি, অর্থনৈতিক সংকট বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়, সাংবাদিকতা তথ্য সরবরাহ এবং সমস্যার প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, COVID-19 মহামারির সময় সাংবাদিকতা সঠিক তথ্য সরবরাহ করে এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে অবগত রাখে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রকাশ করার মাধ্যমে সাংবাদিকতা রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সাহায্য করে। এটি নিপীড়িত জনগণের পক্ষে কথা বলে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। যেমন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাংবাদিকতার প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মহলে সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং সমাধানের প্রচেষ্টা জোরদার করে। বৈশ্বিক পরিসরে সাংবাদিকতা রাষ্ট্র রূপান্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি তুলে ধরে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়তা করে। ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতা রাষ্ট্র রূপান্তরে আরও কার্যকর হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ ও গতিশীল করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিবর্তন ও উদ্যোগ সহজে পৌঁছে যাচ্ছে।

সাংবাদিকতার ভূমিকাকে কার্যকর করার পথে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন: অনেক দেশে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। তাদের ওপর সরকারের বা কর্পোরেট সংস্থার চাপ থাকে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ভুয়া খবর ও তথ্য বিকৃতির সমস্যা বেড়েছে, যা রাষ্ট্র রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।অনেক সাংবাদিক তাদের কাজ করতে গিয়ে জীবনঝুঁকিতে পড়েন। রাষ্ট্র রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় সাংবাদিকতার ভূমিকা আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি শুধুমাত্র তথ্য প্রদান বা সমস্যার দিক নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং নৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কার্যকর শক্তি হিসেবে কাজ করে।

সাংবাদিকতা রাজনৈতিক সংস্কারের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি রাজনৈতিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির তথ্য উন্মোচন করে। পাশাপাশি সাংবাদিকতা জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায়, যাতে তারা সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালে আরব বসন্তে সাংবাদিকতার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভিন্ন দেশের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা ও দাবি-দাওয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকতা এক কার্যকর মাধ্যম। অনেক সময় রাষ্ট্রের মূলধারার কাঠামোর বাইরে থাকা গোষ্ঠীগুলোর সমস্যা উপেক্ষিত হয়। সাংবাদিকতা এই শোষিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পক্ষে কথা বলে এবং তাদের দাবিকে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন বা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকারের লড়াইয়ে সাংবাদিকতার ভূমিকা অপরিসীম। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক রূপান্তরেও সাংবাদিকতা বিশাল ভূমিকা রাখে। এটি ব্যবসা, শিল্প এবং অর্থনৈতিক নীতির সঠিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে। এটি অর্থনৈতিক দুর্নীতি উন্মোচন করে এবং নীতিগত সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর সাংবাদিকতা বৈশ্বিক শ্রম অধিকার এবং স্থানীয় শিল্পখাতের সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে এবং সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনার পথ তৈরি করে। সাংবাদিকতা উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জনমত তৈরি করতে সাহায্য করে। জলবায়ু পরিবর্তন রাষ্ট্র রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সাংবাদিকতা এই বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং নীতিনির্ধারকদের পরিবেশবান্ধব সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোর সমস্যাগুলি তুলে ধরে এবং পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করে। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন রাষ্ট্রের রূপান্তরের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাংবাদিকতা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য আরও দ্রুত এবং সঠিকভাবে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে ডেটা সাংবাদিকতা এবং অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি বিভাজনের অবসান ঘটিয়ে সংলাপ এবং বোঝাপড়ার পথ তৈরি করে। যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের সময় সাংবাদিকতা প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরে, যা সমাধানের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ, রুয়ান্ডার গণহত্যার সময় সাংবাদিকতা বিশ্ববাসীকে সঠিক তথ্য দিতে পারলে আরও দ্রুত হস্তক্ষেপ সম্ভব হতো। সাংবাদিকতা সমাজের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনেও ভূমিকা পালন করে। এটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে উদযাপন এবং প্রচার করে। এছাড়া সমাজের মধ্যে নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং সহিষ্ণুতার ধারণা জাগিয়ে তোলে।

সাংবাদিকতা যেমন রাষ্ট্র রূপান্তরে অবদান রাখে, তেমনি এটি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। রাজনৈতিক চাপ : অনেক সময় সাংবাদিকতা রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে, যা তাদের স্বাধীনতা সীমিত করে।প্রতিযোগিতা ও বাজার কেন্দ্রিকতা: বর্তমান বিশ্বে বাণিজ্যিক লাভের জন্য কিছু সংবাদমাধ্যম সত্যতার বদলে দর্শক টানার জন্য বিভ্রান্তিকর খবর পরিবেশন করে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা: অনেক দেশে সাংবাদিকরা কাজের জন্য হুমকি, নির্যাতন এবং হত্যার শিকার হন।

ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্রমবিকাশ সাংবাদিকতার নতুন পথ উন্মুক্ত করছে। বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরির জন্য ডেটার ব্যবহার বাড়ছে। তথ্য দ্রুত ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সংবাদ সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপনার ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার সাংবাদিকতাকে আরও কার্যকর করে তুলেছে।

রাষ্ট্র রূপান্তরের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতা একটি অপরিহার্য মাধ্যম। এটি কেবলমাত্র তথ্য সরবরাহকারী নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য শক্তিশালী হাতিয়ার। সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সাংবাদিকতা রাষ্ট্রকে আরও জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ এবং মানবিক করে তুলতে পারে। তবে এর জন্য সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং নৈতিক দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকতার এই ভূমিকা রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রূপান্তরের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম। রাষ্ট্র রূপান্তরের ভূমিকায় সাংবাদিকতার অবদান অস্বীকার করা যায় না। এটি শুধুমাত্র তথ্যের যোগানদাতা নয়, বরং একটি সক্রিয় পরিবর্তন সৃষ্টিকারী মাধ্যম। তবে সাংবাদিকতা তার ভূমিকা সফলভাবে পালন করতে পারবে তখনই, যখন এটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করবে। সাংবাদিকতার উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সার্বিক অগ্রগতি ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর শক্তিশালীকরণ সম্ভব।

লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্স (ব্যাচ ২০২১), পিআইবি।

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত! অনুমোদিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’। ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিন জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পল্লী সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুঃস্থ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং পেট্রোবাংলার উদ্যোগে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘১টি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের জন্য তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার প্যাকেজগুলোর ঘোষণা দেন। এ সময় হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার খাওয়া ও কোরবানিসহ তিনটি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
হাব জানায়, তিনটি প্যাকেজের মধ্যে বিশেষ প্যাকেজ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা, সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ও সাশ্রয়ী প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবার সাশ্রয়ী প্যাকেজের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টাকা বেশি। এ ছাড়া বিশেষ হজ প্যাকেজে ব্যয় বেড়েছে ৪১ হাজার ৬০ টাকা।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ২০২৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ২টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) এর খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা।

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

ভারতের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিটের) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভ গড়িয়েছে টানা তৃতীয় দিনে। সংঘাত ও বিক্ষোভের মধ্যেই বুধবার (২২ জুলাই) সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকার পার্লামেন্টে প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সরকারি সূত্রগুলো। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংসতার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সেদিনের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাটি পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা উদ্ধৃত করে কিরেন রিজিজু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এনডিএ শরিকদের সংসদের সব ধরনের কাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোকে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ এবং যুবসমাজের কল্যাণে কাজ করা সব সংসদ সদস্যের যৌথ দায়িত্ব।’