খুঁজুন
                               
, ,

যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে জিয়াউর রহমানের খুনী

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
যেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে জিয়াউর রহমানের খুনী

মুছে ফেলেছিলেন আসল পরিচয়, শেষ মুহূর্তে একটি তিল বা আঁচিলে ধরা খেলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খুনি মোজাফফর নামের বাংলাদেশের মিরজাফর!

দীর্ঘ ৪৫ বছর নিজের পরিচয় গোপন রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন। তবে শেষ মুহূর্তে নিজের পরিচয় জানাতে গিয়ে করা একটি ভুলই তার ছদ্মবেশের অবসান ঘটায়। সেই সূত্র ধরে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

মোজাফফর হোসেন তার আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলেছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ছদ্মনাম ধারণ করেন এবং নিজের চেহারা ও বেশভূষায় পরিবর্তন আনেন। দীর্ঘ ৪৫ বছরে তার পারিবারিক যোগাযোগ এবং পুরোনো চেনা পরিমণ্ডলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন, যাতে কোনোভাবেই কল ট্র্যাকিং বা নজরদারির মাধ্যমে তার সন্ধান না মেলে। জীবনের শেষভাগে এসে তিনি অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বসবাস শুরু করেন রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ও অভিজাত এলাকাগুলোর একটি বনানী ডিওএইচএসে।

একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসাবে ডিওএইচএস এলাকাটি তার চেনা পরিবেশ হলেও, সেখানে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ, বয়োবৃদ্ধ এবং রাজনীতিবিমুখ নাগরিক হিসাবে পরিচিত করে তুলেছিলেন। আশপাশের মানুষ বা প্রতিবেশীরা কেউই কল্পনাও করতে পারেনি যে, তাদের পাশে বসবাসকারী এই বৃদ্ধই আসলে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম চাঞ্চল্যকর রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান ঘাতক।

এতদিন পর কীভাবে ধরা পড়ল ইতিহাসের এই খলনায়ক— জানতে চাইলে অভিযানে থাকা ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধীরা কত ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ এই মোজাফফর। নিজের অবয়ব, চালচলন, এমনকি পেশা ও বাসস্থান পরিবর্তন করে সে দীর্ঘদিন একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে ছদ্মবেশে অবস্থান করছিল। এ কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ক্লু ছিল না। তবে অপরাধ যতই নিখুঁত হোক না কেন, অপরাধীর কোনো না কোনো চিহ্ন বা সূত্র থেকেই যায়। এটাই নির্মম নিয়তি। আর সেই সূত্র ধরেই এত বছর পর তাকে ডিবি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

গ্রেফতারের সূত্র জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ডিবির বিশ্বস্ত টিম জানতে পারে, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে তার মেয়ের কর্মস্থলের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করেন। জানা যায়, তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে (এয়ারটেল) চাকরি করেন। কয়েক মাস ধরে মেয়ের কর্মস্থল এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দারা একটি সম্ভাব্য বাড়ির ঠিকানা চিহ্নিত করেন। বাড়িটি চিহ্নিত করার পর ডিবি কর্মকর্তারা বেশ কিছুদিন ধরে দূর থেকে লক্ষ্য রাখেন এবং ছদ্মবেশে সার্বিক পরিবেশ ও মোজাফফরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। গোয়েন্দাদের কাছে মোজাফফরের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি ক্লু আগে থেকেই নথিবদ্ধ ছিল। তার নাকের ঠিক নিচে একটি আঁচিল বা তিল সদৃশ কালো দাগ রয়েছে। চেহারা পরিবর্তন করলেও এই জন্ম চিহ্নটি পরিবর্তনের সুযোগ তার ছিল না। অভিযানে যাওয়ার আগে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই চিহ্নটিকে তাদের প্রধান শনাক্তকরণ সূত্র হিসাবে নির্ধারণ করেন।

বুধবার গভীর রাতে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। করা হয় অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা। গোয়েন্দা দল ছদ্মবেশে বাসার দরজায় কড়া নাড়ে। ভেতর থেকে দরজা খোলার পর অত্যন্ত নাটকীয় ও সুকৌশলে এগোয় পুরো প্রক্রিয়া। দরজা খেলার পর গোয়েন্দারা সরাসরি কোনো অভিযান বা গ্রেফতারবিষয়ক কোনো ভয়ভীতি না দেখিয়ে অতিথির মতো স্বাভাবিক আচরণ করেন। মেয়ের নাম ধরে জানতে চান অমুক (তার মেয়ে, যিনি এয়ারটেলে কাজ করেন) বাসায় আছেন কিনা। এ সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিজেদের ‘এয়ারটেল অফিস’ থেকে আসা কর্মী হিসাবে পরিচয় দেন।

তবে এত রাতে অফিসের লোক বাসায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই ঘরের ভেতর থেকে কৌতূহল ও কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়। এজন্য বাসার ভেতর থেকে একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি দরজা খুলে এগিয়ে এসে জানতে চান, ‘এত রাতে অফিসের কাজ কেন? আমাকে বলুন কী বিষয়। গোয়েন্দারা তখন কৌশলগতভাবে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটির চেহারা পর্যবেক্ষণ করেন। বাড়ির অল্প আলোতেও কর্মকর্তাদের চোখ এড়ায়নি তার নাকের নিচে থাকা সেই পরিচিত তিল বা আঁচিলটি। এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, ‘মুরব্বি, আমরা তো আপনাকে চিনি না, আপনি কে? আমরা যার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, তার সঙ্গে দেখা করতে দিন।’ সরল বিশ্বাসে এবং কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই ব্যক্তি উত্তর দেন ‘আমি মোজাফফর। মেয়ের বাবা’।

মোজাফফরের মুখ থেকে একথা শোনার পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেনি ডিবির চৌকশ দল। পলকের মধ্যে পকেট থেকে বের হয়ে আসে হ্যান্ডকাফ। অতঃপর মোজাফফরের দুই হাত বন্দি হয়ে যায় ডিবির শিকলে। চোখের পলকে দীর্ঘদিনের ছদ্মবেশী ও সুচতুর পলাতক আসামির হাতজোড়া অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আইনের খাঁচায়। এরপর হতভম্ব চাহনি আর অপ্রস্তুত আত্মসমর্পণ বুঝিয়ে দেয়, ডিবির এই নিখুঁত অপারেশন কতটা নিঁখুত ও পরিপক্ব ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন ১৯৮১ সালের ৩১ মে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি ছিলেন কিলিং স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য।

প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সামরিক তদন্তের পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, মোজাফফর হোসেন ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। ঘটনার পর থেকেই তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ফেরারি ছিলেন।
মামলার নথি, তদন্তের বিবরণী থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সেই কালরাতে মেজর মোজাফফরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। আক্রমণের সময় সার্কিট হাউজে হানা দিয়ে মেজর মোজাফফর ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন সরাসরি রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে অগ্রসর হন।

মোজাফফরই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি সশরীরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কক্ষের বাইরে এনে শনাক্ত করেন। শুধু শনাক্ত করাই নয়, ঠান্ডা মাথায় তিনি রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পরপরই মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোনে ইংরেজিতে নৃশংস বার্তাটি দেন, ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’। ১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সরকারি বাহিনী পুনরায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়, তখন বিদ্রোহের মূল হোতা মেজর জেনারেল মঞ্জুরসহ অনেকেই গ্রেফতার হন এবং পরে মঞ্জুর নিহত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন এবং মেজর এসএম খালেদ কৌশলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

গোয়েন্দা সূত্রে মোজাফফরের সাড়ে চার দশকের পলাতক জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। গ্রেফতার এড়াতে মোজাফফর দীর্ঘদিন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপন করেছিলেন। নিজেকে আড়াল করতে তিনি নিজের আসল পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি ভুয়া নাম, পরিচয় এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে চলতেন। এতদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘তিনি একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। তাই প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে সেনাবাহিনীর নিজস্ব জুডিশিয়াল প্রসেস বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

১৯৮১ সালের ৩১ মে যখন সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয় এবং সেনাবাহিনীর তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর নিহত হন, তখন মোজাফফর বুঝতে পারেন তার বাঁচার কোনো পথ নেই। তাই তিনি তার আরেক সহযোগী মেজর এসএম খালেদ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কৌশলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রবেশ করেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে তিনি দীর্ঘ সময় কাটান। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালের দিকে তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকেই পরবর্তী জীবনের ছক আঁকেন।

পলাতক অবস্থায় তিনি কেবল ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ভারতের ভুয়া নাগরিকত্ব বা জাল নথির সাহায্যে তিনি পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন। এই ভুয়া আন্তর্জাতিক নথির ওপর ভর করে তিনি বিশ্বের একাধিক দেশ সফর করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) বা বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তার আসল নামে খোঁজ করেও দীর্ঘদিন কোনো হদিস পাননি।
©

শাহরাস্তিতে ‘ডাকাতি’ সাজিয়ে বড় জাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
শাহরাস্তিতে ‘ডাকাতি’ সাজিয়ে বড় জাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ডাকাতির নাটক সাজিয়ে আপন বড় জা রিগান আক্তার মীমকে (২৪) গলা টিপে হত্যা করেছে ছোট জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা (২৩)। ১৬ জুলাই বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সে। একদিনের মধ্যে পুলিশ লোমহর্ষক এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।

গেল ১৫ জুলাই রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড বাতলা বেপারী বাড়িতে সাবেক চেয়ারম্যান মুকুল হকের বসতঘরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনাকে ডাকাতির এবং নিজেকে আহত বলে দাবি করা বড় জা সুমাইয়া আক্তার মিনাকে ঘটনার পর দিনই শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ

আটক করে। পরে ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে জবানবন্দির জন্য চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া হত্যার কথা স্বীকার করেছে। পারিবারিক কলহ ও প্রতিহিংসার জেরে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

থানা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রিগান আক্তার মীম ২০২০ সালে শাহরাস্তির সাইফুল ইসলাম রনির সাথে বিয়ে হয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তাদের সংসারে সাইকা (৩) ও সিরাত (৩ মাস) নামে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। ঘটনার দিন ১৫ জুলাই সকালে রিগানের জা নাজমিন বেগম (৫৫) ও ছোট দেবর রিমন (২৫) চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। রাত সুযোগ বুঝে সুমাইয়া রিগানকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ডাকাতির ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করে।

পাশের বাড়ির চাচা মিজান (৬৫) চিৎকারের শব্দ পেয়ে রিগানের বাবা মো. কবির হোসেনকে খবর দেন। এসে তারা মেয়ের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে ১৬ জুলাই শাহরাস্তি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৫, ধারা-৩০২ পেনাল কোড।

শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শরিফুল ইসলাম জানান, আসামি সুমাইয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। প্রতিহিংসার কারণেই সে জা-কে হত্যা করেছে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে।এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গোড়ালির চোট নিয়েও স্পেনের বিপক্ষে খেলবেন এমবাপ্পে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
গোড়ালির চোট নিয়েও স্পেনের বিপক্ষে খেলবেন এমবাপ্পে

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্স শিবিরে সামান্য উদ্বেগ তৈরি করেছিলেন দলটির অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন দলের শেষ অনুশীলন পুরোপুরি শেষ করতে পারেননি ফরাসি অধিনায়ক। তবে ফরাসি ভক্তদের জন্য স্বস্তির খবর তার চোট গুরুতর নয়। গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে এমবাপ্পের খেলা নিয়েও কোনো সংশয় দেখছেন না কোচ দিদিয়ের দেশম।
মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোড়ালিতে হালকা চোট পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। ফ্রান্সের ২-০ গোলের জয়ের শেষ দিকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল। ডালাসে সোমবার ফ্রান্সের শেষ অনুশীলনে অংশ নিলেও এমবাপ্পের ওপর পুরো চাপ দেওয়া হয়নি। দলের অন্য খেলোয়াড়দের তুলনায় কিছু অনুশীলনে কম সময় ছিলেন তিনি। মূলত সতর্কতার অংশ হিসেবেই তার অনুশীলনের সময় কমিয়ে দেওয়া হয়। এমবাপ্পের অবস্থা নিয়ে দেশম বলেছেন, ‘কিলিয়ান ভালো আছে। সে অনুশীলন করেছে। একটি অনুশীলন ১৫ মিনিটের বদলে ১০ মিনিট করার অনুমতি পেয়েছে।’
ফরাসি কোচের কথাতেই পরিষ্কার, এমবাপ্পেকে নিয়ে বড় কোনো শঙ্কা নেই। শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো সমস্যা দেখা না দিলে স্পেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন তিনিই। চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এমবাপ্পে। এখন পর্যন্ত আট গোল করে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টি নষ্ট করলেও পরে দারুণ এক গোলে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ফরাসি তারকা। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ডালাসে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায়। শক্তিশালী স্প্যানিশ রক্ষণ ভাঙতে এমবাপ্পের উপস্থিতিই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে স্বস্তির খবর পেল ইংল্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে স্বস্তির খবর পেল ইংল্যান্ড

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে স্বস্তির খবর পেল ইংল্যান্ড। অসুস্থতা কাটিয়ে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ তারকা ডেকলান রাইস। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে ইংলিশ মিডফিল্ডারের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনাও জোরালো। নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তিন দিন বিছানায় ছিলেন রাইস। পুরোপুরি সুস্থ না হয়েও ম্যাচটি শুরু করেছিলেন তিনি। তবে শারীরিক অবস্থার কারণে বিরতির সময় তাকে তুলে নেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হারানোর পর কানসাস সিটিতে নিজেদের ঘাঁটিতে ফেরে ইংল্যান্ড। সেখানে রাইসের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের সঙ্গে মাঝমাঠে শুরু করার আশা করা হচ্ছে তাকে। তবে ইংল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক একাদশ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাইস। প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানোর পাশাপাশি রক্ষণ থেকে খেলা গড়ে তোলায়ও তাঁর বড় ভূমিকা রয়েছে। লিওনেল মেসি, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের বিপক্ষে মাঝমাঠের লড়াইয়ে তাকে প্রয়োজন টুখেলের। ইংল্যান্ড শিবিরে অবশ্য এজরি কনসার ফিটনেস নিয়েও কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। নরওয়ের বিপক্ষে পেশিতে টান অনুভব করায় তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে অ্যাস্টন ভিলার এই ডিফেন্ডারও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলার জন্য বিবেচনায় থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কনসার পরিবর্তে রিস জেমসকে শুরুর একাদশে ফেরানোর সুযোগও রয়েছে। নরওয়ের বিপক্ষে বদলি হিসেবে ভালো খেলা বুকায়ো সাকাও শুরু করতে পারেন।
এদিকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শুধু মেসিকে ঘিরে পরিকল্পনা করলে চলবে না বলে সতীর্থদের সতর্ক করেছেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তার মতে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিটি বিভাগেই ম্যাচের ফল বদলে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় রয়েছেন। ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঘেরা ম্যাচটিতে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে ইংল্যান্ড। দুই দল সর্বশেষ বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল ২০০২ সালে। এবার প্রথমবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দেখা হবে তাদের। আটলান্টায় ম্যাচটি শুরু হবে ১৫ জুলাই স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায়, বাংলাদেশ সময় ১৬ জুলাই রাত ১টায়। ম্যাচ পরিচালনা করবেন যুক্তরাষ্ট্রের রেফারি ইসমাইল এলফাথ।