খুঁজুন
                               
, ,

শেষ মুহূর্তের গোলে জাপান-বাধা পেরোল ব্রাজিল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
শেষ মুহূর্তের গোলে জাপান-বাধা পেরোল ব্রাজিল

হিউস্টনে বড় অঘটনের শঙ্কা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে আটকাতে পারল না জাপান। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর নাটকীয় ম্যাচে ২-১ গোলে জিতে শেষ ১৬-তে উঠেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথমার্ধে কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে। আর ম্যাচের শেষ আক্রমণে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে জয় নিশ্চিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
হিউস্টনে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে শুরুটা ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গোল করে আগে এগিয়ে যায় জাপান। ২৮ মিনিটে ব্রাজিলের ভুল পাস থেকে বল কুড়িয়ে নিয়ে দারুণ দৌড়ে এগিয়ে যান কাইশু সানো। এরপর বক্সের বাইরে থেকে তাঁর শট জড়িয়ে যায় জালে। বিশ্বকাপের নকআউটে ব্রাজিলের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়ে বড় অঘটনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে জাপান।
গোল হজমের পর চাপ বাড়ায় ব্রাজিল। তবে প্রথমার্ধে জাপানের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি আনচেলত্তির দল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে মাঝেমধ্যে বেশি ভেতরে পাওয়া যাচ্ছিল, ফলে তাঁর এক বনাম এক পরিস্থিতি কম তৈরি হচ্ছিল। জাপানও মাঝমাঠ ঘন করে ব্রাজিলকে স্বস্তিতে খেলতে দেয়নি।
বিরতির পর বদলে যায় ব্রাজিলের চেহারা। লুকাস পাকেতার জায়গায় এন্দ্রিককে নামান আনচেলত্তি। ভিনিসিয়ুসকে আরও বেশি করে বাঁ দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাতেই ব্রাজিলের আক্রমণে গতি বাড়ে।
৫৫ মিনিটে আসে সমতা। ভিনিসিয়ুসের দিক থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে বল আসে গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েসের কাছে। তাঁর ক্রসে হেড করে গোল করেন কাসেমিরো। প্রথমে অফসাইডের সম্ভাবনায় গোলটি পরীক্ষা করা হলেও শেষ পর্যন্ত গোল বহাল থাকে। ১-১ সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
সমতার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিয়ে নেয় সেলেসাওরা। ৫৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন জাপান গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। এরপরও একের পর এক আক্রমণে জাপানকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে ব্রাজিল।
জাপান ধীরে ধীরে রক্ষণে নেমে যায়। শেষ দিকে তাদের লক্ষ্য ছিল ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু ব্রাজিলের চাপ থামেনি। ক্রস, সেট পিস, দ্রুত পাস, সব পথেই চেষ্টা করতে থাকে আনচেলত্তির দল।
৯২ মিনিটে কাসেমিরো চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন, তার জায়গায় নামেন ফাবিনিও। কাসেমিরোর জন্য দিনটি ছিল মিশ্র অনুভূতির। গোল করেছেন, ব্রাজিলকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে।
ম্যাচ যখন প্রায় অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার পথে, তখনই ব্রাজিলের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের শেষ দিকে বক্সের ভেতর অসাধারণ কাজ করেন ব্রুনো গিমারায়েস। তাঁর পাস থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠান মার্তিনেল্লি। শেষ মুহূর্তের সেই গোলেই হিউস্টনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ব্রাজিল।
জাপানের জন্য হারটা হৃদয়ভাঙা। তারা পরিকল্পনা মেনে খেলেছিল, আগে গোলও পেয়েছিল, দীর্ঘ সময় ব্রাজিলকে অস্বস্তিতে রেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের চাপ, অভিজ্ঞতা ও বেঞ্চের শক্তির কাছে টিকতে পারেনি মোরিয়াসুর দল।
ব্রাজিলের জয় সহজ ছিল না। বরং এই ম্যাচ তাদের সতর্ক করে দিল, নকআউটে নামের ওজন দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। ভিনিসিয়ুসের তৎপরতা, কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা, ব্রুনো গিমারায়েসের সৃজনশীলতা এবং মার্তিনেল্লির ফিনিশিং মিলেই শেষ পর্যন্ত বাঁচাল সেলেসাওদের।
জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠল ব্রাজিল। তবে আনচেলত্তির দলের সামনে এখন ভাবনার বিষয়ও কম নয়। পাকেতার চোট, কাসেমিরোর শারীরিক সমস্যা এবং প্রথমার্ধের ছন্দহীনতা পরের ম্যাচের আগে নিশ্চয়ই আলোচনায় থাকবে।
তবু নকআউট ফুটবলে শেষ কথা জয়। আর হিউস্টনে সেই জয় ব্রাজিল পেয়েছে নাটকীয়ভাবে, শেষ মুহূর্তে, মার্তিনেল্লির পায়ে।

এক ম্যাচেই মেসির চার গিনেস রেকর্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
এক ম্যাচেই মেসির চার গিনেস রেকর্ড

লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ যেন এখন শুধুই রেকর্ড বাড়ানোর মঞ্চ। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে শেষ ৩২-এ তোলার দিনে শুধু বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাই হননি তিনি, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের হিসাবেও চারটি বড় বিশ্বকাপ রেকর্ডে নিজের নাম আরও উঁচুতে তুলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ডালাসে গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের দুই গোলই মেসির। ৩৮ মিনিটে প্রথম গোল করে তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। যোগ করা সময়ে আরেক গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে যান ১৮-তে। এই জয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অস্ট্রিয়া ম্যাচের পর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের আলোচনায় মেসির চারটি বড় রেকর্ড উঠে এসেছে। গোল, জয়, ম্যাচ ও মিনিট—বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সূচকেই এখন তাঁর নাম সবার ওপরে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের আগে মেসি ছিলেন ক্লোসের পাশে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে পুরুষদের বিশ্বকাপে ১৬ গোলে পৌঁছেছিলেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল তাকে ক্লোসের ওপরে তোলে, দ্বিতীয় গোল রেকর্ডটা আরও বাড়িয়ে দেয়।
মেসির বিশ্বকাপ গোল এখন ১৮। এতে তিনি শুধু পুরুষদের বিশ্বকাপে ক্লোসেকে ছাড়াননি, নারী-পুরুষ মিলিয়েও সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। ব্রাজিলের নারী ফুটবল কিংবদন্তি মার্তা বিশ্বকাপে করেছিলেন ১৭ গোল। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় গোলের পর মেসি সেই সংখ্যাটিও ছাড়িয়ে যান। তবে এই রেকর্ড পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে ১৬ গোলে পৌঁছেছেন। বয়স মাত্র ২৭। তাই মেসি এখন শীর্ষে থাকলেও এমবাপে তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠেছেন।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয় মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৮তম জয়। এই রেকর্ডেও তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ক্লোসেকে। জার্মান কিংবদন্তির বিশ্বকাপ জয় ছিল ১৭টি। ২০০২, ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপ মিলিয়ে সেই রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। মেসির প্রথম বিশ্বকাপ জয় ২০০৬ সালে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—ছয় বিশ্বকাপজুড়ে জয় যোগ হতে থাকে। কাতার ২০২২-এ মেক্সিকো, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের পথ ধরে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তিনি। ২০২৬ সালে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়ে সেই সংখ্যা এখন ১৮।
এই রেকর্ড মেসির দীর্ঘস্থায়িত্বের বড় প্রমাণ। শুধু অনেক বিশ্বকাপ খেলেছেন, তা নয়; প্রায় প্রতিটি আসরেই দলকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে গেছেন। ২০১৪ সালে ফাইনাল, ২০২২ সালে শিরোপা, ২০২৬ সালে আবার নকআউট—একই খেলোয়াড়ের এমন ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড মেসি আগেই নিজের করেছিলেন। কাতার ২০২২ ফাইনালে জার্মানির লোথার ম্যাথিউসকে ছাড়িয়ে ২৬ ম্যাচে পৌঁছেছিলেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলে সেই সংখ্যা এখন ২৮। মেসির বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ২০০৬ সালে। তখন তিনি ছিলেন তরুণ প্রতিভা। ২০১০ সালে খেলা গড়ার কারিগর, ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলা অধিনায়ক, ২০১৮ সালে হতাশার আসর, ২০২২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২৬ সালে রেকর্ডের পর রেকর্ড বাড়ানো অভিজ্ঞ মহাতারকা—মেসির ২৮ ম্যাচের ভেতরেই এক পূর্ণ ফুটবল-জীবনের গল্প আছে।
এই রেকর্ড শুধু উপস্থিতির নয়, প্রাসঙ্গিক থাকারও। অনেক ফুটবলার দীর্ঘ ক্যারিয়ার পান, কিন্তু এত বছর ধরে বিশ্বকাপের কেন্দ্রে থাকা অন্য ব্যাপার। মেসি সেই জায়গাটাই আলাদা করেছেন। ম্যাচ সংখ্যার মতো মিনিটের রেকর্ডেও মেসি সবার ওপরে। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনি ইতালির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনিকে ছাড়িয়েছিলেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রায় পুরো ম্যাচ খেলে মেসির মোট মিনিট এখন ২,৪৮৯।
এই রেকর্ড মেসির দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকার আরেকটি দিক দেখায়। ৩৯-এর কাছাকাছি বয়সেও তিনি শুধু নামমাত্র মাঠে থাকছেন না; গোল করছেন, ম্যাচের ভাগ্য বদলাচ্ছেন, চাপ প্রয়োগে অংশ নিচ্ছেন, নিচে নেমে বল নিচ্ছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের পরও জোড়া গোল করে তিনি দেখিয়েছেন, তার প্রভাব এখনো ম্যাচ-নির্ধারক।
মেসির জন্য অস্ট্রিয়া ম্যাচটি শুরু হয়েছিল হতাশায়। নবম মিনিটে পেনাল্টি মিস করেন তিনি। কিন্তু ৩৮ মিনিটে রেকর্ডগড়া গোল, পরে যোগ করা সময়ে আরেক গোল—এই ঘুরে দাঁড়ানোই তার বিশ্বকাপ জীবনের প্রতীক। ভুল হতে পারে, কিন্তু শেষ কথা লেখার ক্ষমতা এখনো তাঁর আছে।
চলতি বিশ্বকাপে দুই ম্যাচে মেসির গোল ৫টি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল। আর্জেন্টিনার সব গোলই এসেছে তার পা থেকে। সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়েও তিনি আপাতত সামনে, যদিও এমবাপে ও আর্লিং হলান্ড খুব কাছেই আছেন।

রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তা

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর আটটি থানার পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা থানায় ২ জন, ধানমন্ডি থানায় ১০ জন, বংশাল থানায় ১ জন, খিলক্ষেত থানায় ২ জন, কদমতলী থানায় ১ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ৮ জন, মিরপুর থানায় ১ জন এবং তুরাগ থানায় ১ জন রয়েছেন। এডিসি নিয়াজ মেহেদী বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হেট্টিক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হেট্টিক

কানসাসের রাতটা যেন লিওনেল মেসির জন্যই সাজানো ছিল। বিশ্বকাপের মঞ্চে ষষ্ঠবার। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ। আর সেই ম্যাচেই হ্যাটট্রিক। শুধু হ্যাটট্রিক নয়, সেই তিন গোলেই মিরোস্লাভ ক্লোসের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসালেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। আর আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
মেসির ক্যারিয়ারে বড় রাতের অভাব নেই। কিন্তু আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই রাত অন্যরকম। ৩৮ বছর বয়সেও তিনি যেন সময়কে থামিয়ে রেখেছেন। ফুটবল তাঁকে যা দিতে পারত, প্রায় সবই দিয়েছে। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, ব্যালন ডি’অর, অসংখ্য রেকর্ড। তবু বড় মঞ্চে তাঁর ক্ষুধা কমেনি। কানসাসে সেই পুরোনো মেসিকেই দেখা গেল, যিনি বল পেলেই ম্যাচের ভাষা বদলে দিতে পারেন।
ম্যাচের শুরুতেই আর্জেন্টিনা গোল পেয়ে যাচ্ছিল। ৬ মিনিটে মেসি বল জালে পাঠান, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। দুই মিনিট পর আলজেরিয়ার ফারেস চাইবিও দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন। ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেটিও অফসাইড। প্রথম ১০ মিনিটেই দুই দলের দুটি গোল বাতিল হওয়ায় ম্যাচে তৈরি হয় আলাদা উত্তেজনা।
তবে সেই উত্তেজনার কেন্দ্রে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করেননি মেসি। ১৭ মিনিটে রদ্রিগো দি পলের পাস পেয়ে জায়গা তৈরি করেন তিনি। এরপর বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে বল পাঠান জালে। আলজেরিয়া গোলরক্ষক লুকা জিদান ঝাঁপিয়েছিলেন, কিন্তু শটের দিক, গতি ও নিখুঁততা সামলাতে পারেননি। ২০০তম ম্যাচে মেসির প্রথম উদ্‌যাপন তখনই হয়ে যায়।
গোলের পর আর্জেন্টিনা আর তাড়াহুড়ো করেনি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মতোই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে তারা। এনজো ফের্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও দি পলের মাঝমাঠ বলের দখল ধরে রাখে। আলজেরিয়া কখনো কখনো পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে বড় পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। বিরতিতে আর্জেন্টিনা এগিয়ে ছিল ১-০ গোলে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গল্প আরও পরিষ্কার হয়ে যায়। ৬০ মিনিটে মেসির দ্বিতীয় গোল। ম্যাক অ্যালিস্টারের দূরপাল্লার শট ঠিকমতো ধরে রাখতে পারেননি লুকা জিদান। বল বক্সের ভেতরে সামনে পড়ে গেলে মেসি সবার আগে প্রতিক্রিয়া দেখান। ডান পায়ের ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ২-০ করেন তিনি। বয়স তাঁর ৩৯ ছুঁইছুঁই, কিন্তু বক্সে প্রতিক্রিয়ার গতিতে তিনি এখনো অনেকের চেয়ে এগিয়ে।
এরপর ৭৬ মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত, যা রাতটাকে ইতিহাসে পরিণত করে। মাঝমাঠ থেকে বল টেনে নিয়ে নিকোলাস গনসালেসের সঙ্গে পাস বিনিময় করেন মেসি। ফিরতি বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে জালের কোণ খুঁজে নেন। এটাই তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬।
এই ১৬ গোল তাঁকে নিয়ে যায় মিরোস্লাভ ক্লোসের পাশে। জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকার এত দিন এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। মেসি এখন সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন। আর একটি গোল করলেই তিনি এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন।
মেসির এই রাত আরও বিশেষ, কারণ তিনি এখন পুরুষ বিশ্বকাপে ছয়টি আসরে মাঠে নামা বিরল ফুটবলারদের তালিকায় একক উচ্চতায়। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করেছিলেন। ২০১০-এ গোল পাননি, কিন্তু এরপর ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে গোল করে চলেছেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা ফুটবলারদের তালিকায়ও তাঁর অবস্থান আরও উজ্জ্বল হলো।
৮০ মিনিটে মেসিকে তুলে নেন লিওনেল স্কালোনি। পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানায়। নিকো পাজ তাঁর জায়গায় নামেন, কিন্তু ম্যাচের গল্প তখন শেষ। বাকি সময় আর্জেন্টিনা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। রিয়াদ মাহরেজ নেমে আলজেরিয়ার আক্রমণে কিছুটা প্রাণ আনার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।
আর্জেন্টিনার জন্য জয়টা শুধু ভালো শুরু নয়, শক্ত বার্তাও। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আবারও দেখাল, তারা শুধু মেসির আবেগের ওপর দাঁড়িয়ে নেই; দল হিসেবে পরিণত, মাঝমাঠে শক্ত, রক্ষণে সংগঠিত। তবে এমন রাতে সব আলো শেষ পর্যন্ত এক মানুষের ওপরই গিয়ে পড়ে।
মেসি আবার মেসিই রইলেন। সময়ের বিপক্ষে, বয়সের বিপক্ষে, যুক্তির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি আরেকবার ইতিহাস লিখলেন। কানসাসের রাত তাই শুধু আর্জেন্টিনার জয় নয়। এটি মেসির আরেকটি অমর অধ্যায়।