খুঁজুন
                               
, ,

শেষ মুহূর্তের গোলে জাপান-বাধা পেরোল ব্রাজিল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
শেষ মুহূর্তের গোলে জাপান-বাধা পেরোল ব্রাজিল

হিউস্টনে বড় অঘটনের শঙ্কা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে আটকাতে পারল না জাপান। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর নাটকীয় ম্যাচে ২-১ গোলে জিতে শেষ ১৬-তে উঠেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথমার্ধে কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে। আর ম্যাচের শেষ আক্রমণে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে জয় নিশ্চিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
হিউস্টনে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে শুরুটা ব্রাজিলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গোল করে আগে এগিয়ে যায় জাপান। ২৮ মিনিটে ব্রাজিলের ভুল পাস থেকে বল কুড়িয়ে নিয়ে দারুণ দৌড়ে এগিয়ে যান কাইশু সানো। এরপর বক্সের বাইরে থেকে তাঁর শট জড়িয়ে যায় জালে। বিশ্বকাপের নকআউটে ব্রাজিলের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়ে বড় অঘটনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে জাপান।
গোল হজমের পর চাপ বাড়ায় ব্রাজিল। তবে প্রথমার্ধে জাপানের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি আনচেলত্তির দল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে মাঝেমধ্যে বেশি ভেতরে পাওয়া যাচ্ছিল, ফলে তাঁর এক বনাম এক পরিস্থিতি কম তৈরি হচ্ছিল। জাপানও মাঝমাঠ ঘন করে ব্রাজিলকে স্বস্তিতে খেলতে দেয়নি।
বিরতির পর বদলে যায় ব্রাজিলের চেহারা। লুকাস পাকেতার জায়গায় এন্দ্রিককে নামান আনচেলত্তি। ভিনিসিয়ুসকে আরও বেশি করে বাঁ দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাতেই ব্রাজিলের আক্রমণে গতি বাড়ে।
৫৫ মিনিটে আসে সমতা। ভিনিসিয়ুসের দিক থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে বল আসে গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েসের কাছে। তাঁর ক্রসে হেড করে গোল করেন কাসেমিরো। প্রথমে অফসাইডের সম্ভাবনায় গোলটি পরীক্ষা করা হলেও শেষ পর্যন্ত গোল বহাল থাকে। ১-১ সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
সমতার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিয়ে নেয় সেলেসাওরা। ৫৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন জাপান গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। এরপরও একের পর এক আক্রমণে জাপানকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে ব্রাজিল।
জাপান ধীরে ধীরে রক্ষণে নেমে যায়। শেষ দিকে তাদের লক্ষ্য ছিল ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু ব্রাজিলের চাপ থামেনি। ক্রস, সেট পিস, দ্রুত পাস, সব পথেই চেষ্টা করতে থাকে আনচেলত্তির দল।
৯২ মিনিটে কাসেমিরো চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন, তার জায়গায় নামেন ফাবিনিও। কাসেমিরোর জন্য দিনটি ছিল মিশ্র অনুভূতির। গোল করেছেন, ব্রাজিলকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে।
ম্যাচ যখন প্রায় অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার পথে, তখনই ব্রাজিলের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের শেষ দিকে বক্সের ভেতর অসাধারণ কাজ করেন ব্রুনো গিমারায়েস। তাঁর পাস থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠান মার্তিনেল্লি। শেষ মুহূর্তের সেই গোলেই হিউস্টনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ব্রাজিল।
জাপানের জন্য হারটা হৃদয়ভাঙা। তারা পরিকল্পনা মেনে খেলেছিল, আগে গোলও পেয়েছিল, দীর্ঘ সময় ব্রাজিলকে অস্বস্তিতে রেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের চাপ, অভিজ্ঞতা ও বেঞ্চের শক্তির কাছে টিকতে পারেনি মোরিয়াসুর দল।
ব্রাজিলের জয় সহজ ছিল না। বরং এই ম্যাচ তাদের সতর্ক করে দিল, নকআউটে নামের ওজন দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। ভিনিসিয়ুসের তৎপরতা, কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা, ব্রুনো গিমারায়েসের সৃজনশীলতা এবং মার্তিনেল্লির ফিনিশিং মিলেই শেষ পর্যন্ত বাঁচাল সেলেসাওদের।
জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠল ব্রাজিল। তবে আনচেলত্তির দলের সামনে এখন ভাবনার বিষয়ও কম নয়। পাকেতার চোট, কাসেমিরোর শারীরিক সমস্যা এবং প্রথমার্ধের ছন্দহীনতা পরের ম্যাচের আগে নিশ্চয়ই আলোচনায় থাকবে।
তবু নকআউট ফুটবলে শেষ কথা জয়। আর হিউস্টনে সেই জয় ব্রাজিল পেয়েছে নাটকীয়ভাবে, শেষ মুহূর্তে, মার্তিনেল্লির পায়ে।

চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১৫

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে উপজেলার বানিয়াচোঁ পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী আল-আরাফাহ পরিবহনের একটি বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা হাইড্রোলিক বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ওভারটেক করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের আশঙ্কা, গুরুতর আহতদের মধ্যে আরও কেউ মারা যেতে পারেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওভারটেক করতে গিয়ে বাস ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং দুটিই সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

৭১ ও ২৪-এর শহীদদের স্বপ্নপূরণে সবাইকে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
৭১ ও ২৪-এর শহীদদের স্বপ্নপূরণে সবাইকে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেছেন, ৭১ ও ২৪ -এ যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য লড়াই করা, যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে এবং সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ স্কাউটসের শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল দেশে একটি পরিবর্তন আনা। এমন একটি পরিবর্তন, যার মধ্য দিয়ে মানুষের মৌলিক চাহিদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ অন্তত শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। শহীদদের আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা কারোর নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা শহীদ হয়েছেন, তারা একটি মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তাদের জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে শুধু তাদের স্মরণ করলেই হবে না, তাদের মধ্যে থেকে আমারা যারা বেঁচে আছি,আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশ স্কাউটসদের সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সবাইকে দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রাণ-প্রকৃতির পাশে থাকার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি অন্যদেরও এ কাজে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ স্কাউটসের ১০ শহীদ পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক ও সম্মাননা পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি নাসিমুল গণি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের অবদান ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জাতীয় পাঠ্যক্রমে তাদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে, শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ড.মাহাদী আমিনসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৬৬ কিমি মহাসড়কের বাঁকে ৭০ ‘মৃত্যুফাঁদ’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ
১৬৬ কিমি মহাসড়কের বাঁকে ৭০ ‘মৃত্যুফাঁদ’

একটি বাঁক পেরোতেই সামনে আরেকটি বাঁক। কোথাও বাঁক এতটাই তীক্ষ্ণ যে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন শেষ মুহূর্তের আগে দেখা যায় না। কোথাও আবার সড়কের দুই পাশে গাছপালা, বাজার ও স্থাপনার কারণে দৃষ্টিসীমা আরও কম। এর মধ্যেই চলছে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ নানা ধরনের যানবাহন। ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতায় সামান্য ভুলেই ঘটছে মুখোমুখি সংঘর্ষ। কেউ ছিটকে পড়ছেন খাদে, কেউ চাপা পড়ছেন সড়কের পাশে। বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ১৬৬ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে এমন বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে অন্তত ৫০টি। পরিবহন মালিক ও চালকদের হিসাবে সংখ্যাটি প্রায় ৭০। তাদের হিসাবে, এর মধ্যে অন্তত ৪০টি বাঁক দুর্ঘটনাপ্রবণ। বছরের পর বছর এসব বাঁকের অনেকগুলো একই অবস্থায় থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয় বাসচালক, পরিবহন মালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি শুধু চালকদের অসচেতনতার কারণে তৈরি হচ্ছে না। সরু সড়ক, বিপজ্জনক বাঁক, যানবাহনের বাড়তি চাপ, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং চালকদের দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো—সব মিলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলেছে। অথচ অবকাঠামোগত এসব ঝুঁকির অনেকগুলো চিহ্নিত হওয়ার পরও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
পদ্মা সেতুর পর বেড়েছে যানবাহনের চাপ
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতু চালুর আগে ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশালের ভূরঘাটা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করত। পদ্মা সেতু চালুর পর এ সংখ্যা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের ছুটিতে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে, মহাসড়কের বড় একটি অংশ এখনও মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত দুই লেনের। ফলে পদ্মা সেতু পেরিয়ে দ্রুতগতিতে আসা যানবাহন তুলনামূলক সরু এই মহাসড়কে ঢোকার পর গতি নিয়ন্ত্রণ না করলে বাঁকগুলো বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়। বিশেষ করে মাদারীপুর থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত অংশে এ সমস্যা প্রকট বলে জানিয়েছেন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
যেসব বাঁকে বেশি ঝুঁকি
বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কের উজিরপুরের সানুহার, গৌরনদীর ভূরঘাটা ব্রিজ ও ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড, টরকী, আশোকাঠি, মাহিলাড়া, বাটাজোড়, কটকস্থল, পিঙ্গলাকাঠি, কসবা, বাবুগঞ্জের নতুনহাট, রহমতপুর, এয়ারপোর্ট মোড়, ক্যাডেট কলেজ, পাংশা, সাতমাইল, ছয়মাইল, বরিশাল সদরের গড়িয়ারপার, কাশিপুর, রেইন্ট্রিতলা, খয়রাবাদ ব্রিজের পরের অংশ, দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট, নলছিটি জিরো পয়েন্ট, বাকেরগঞ্জের লক্ষ্মীপাশা, বোয়ালিয়া, ভরপাশা, রেইন্ট্রিতলা, চরামদ্দি, আমতলীর শাখারিয়া ও ব্রিকস ফিল্ড এবং কলাপাড়ার মহিষাকাটা, চুনাখালী ও কেঁওড়াবুনিয়া এলাকায় একাধিক বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসচালক ও পরিবহন মালিকেরা।
তাদের ভাষ্য, এসব বাঁকের কয়েকটি এতটাই তীক্ষ্ণ যে বিপরীত দিকের যানবাহন সামনে না আসা পর্যন্ত চালকেরা তা দেখতে পান না। শীতকালে কুয়াশার কারণে ঝুঁকি আরও বাড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবহন কোম্পানিগুলোর আগে যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতা। ফলে বাঁক এলাকাতেও অনেক চালক ওভারটেকের চেষ্টা করেন। বাসচালক মোহাম্মদ নয়ন বলেন, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ভূরঘাটা পর্যন্ত মহাসড়কে প্রায় ৪০টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ থেকে ১৯টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পদ্মা সেতু চালুর পর এই সড়কে দ্রুতগতির যানবাহন বেড়েছে। এক্সপ্রেসওয়ে পেরিয়ে এসব যানবাহন যখন ২৪ ফুট প্রশস্ত সড়কে ঢোকে, তখন একের পর এক বাঁকের কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়। এর ওপর রয়েছে বাস কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা। নিয়মিত এই রুটে গাড়ি চালানো চালকেরাও যখন দুর্ঘটনার শিকার হন, তখন নতুন চালকদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ভূরঘাটা থেকে নথুল্লাবাদ পর্যন্ত প্রায় ৫৬ কিলোমিটার সড়কে ৪০ থেকে ৪২টি বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ দুর্ঘটনায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়েছে অথবা বিপরীত দিকের যানবাহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে।
পটুয়াখালী অংশেও ২০ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের হিসাবে, লেবুখালী পায়রা সেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি স্থানে সতর্কতামূলক চিহ্নও দেওয়া হয়েছে। বাঁকগুলো সোজা করার জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল আক্তার লিমন এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সোজা করার কাজ করা যাবে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের হিসাবের সঙ্গে একমত নন পরিবহন মালিকেরা। পটুয়াখালী জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইমাম হোসেন নাসির বলেন, পায়রা সেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্তই প্রায় ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এ পথে দেড় শতাধিক আঞ্চলিক বাস চলাচল করে। বিশেষ করে শীতকালে কুয়াশার কারণে এসব বাঁকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। বাঁকগুলো সোজা করার জন্য সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষকে বারবার বলা হয়েছে।
পাঁচ বছরে বরিশাল বিভাগে নিহত ২,৩৮৭
অবকাঠামোগত ঝুঁকির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে দুর্ঘটনার সামগ্রিক পরিসংখ্যানও। বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ২ হাজার ৩৮৭ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ৫২৪টি দুর্ঘটনায় ৫৮৭ জন, ২০২২ সালে ৪৩০টি দুর্ঘটনায় ৫১১ জন, ২০২৩ সালে ৪৩৬টি দুর্ঘটনায় ৪১১ জন, ২০২৪ সালে ৪৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৫৭ জন এবং ২০২৫ সালে ৪৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪২১ জন নিহত হন।
অর্থাৎ পাঁচ বছরে নথিভুক্ত দুর্ঘটনায় বরিশাল বিভাগে গড়ে প্রতিদিন একাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এই পরিসংখ্যান পুরো বরিশাল বিভাগের; শুধু বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে নিহতের সংখ্যা নয়। এ মহাসড়কের পৃথক পাঁচ বছরের সমন্বিত মৃত্যুর তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, বরিশাল বিভাগের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বড় একটি অংশ বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের দুর্ঘটনার শিকার। পদ্মা সেতুর পর যানবাহনের গতি ও সংখ্যা দুটোই বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে সড়কের সক্ষমতা বাড়েনি।
তিনি বলেন, ২৪ ফুট প্রশস্ত সরু সড়কে দ্রুতগতির বাসের সঙ্গে ধীরগতির যানবাহনও চলছে। বাঁক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। চালকদের সচেতনতার পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একজন চালককে দীর্ঘ সময় একটানা গাড়ি চালানো থেকেও বিরত রাখতে হবে। ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা গাড়ি চালালে চালকের ক্লান্তি ও তন্দ্রাচ্ছন্নতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রশস্ত হচ্ছে কিছু অংশ, বসানো হচ্ছে সতর্কতামূলক চিহ্ন
সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল অংশে ৩৬টি বাঁক চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব বাঁকের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ২৪ ফুট থেকে ৩২ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়েছে। কোথাও কাজ চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা, ডানে-বাঁয়ে মোড়, ‘ধীরে চলুন’ ও নির্ধারিত গতিসীমার সতর্কতামূলক চিহ্ন বসানো হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও দুর্ঘটনা না কমার জন্য তিনি চালকদের অসচেতনতা ও অতিরিক্ত গতিকে দায়ী করেন।
চার ধরন বাদে সব মোটরযানের জন্য বিআরটিএর কড়া সতর্কবার্তা
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কটি দুই লেনের এবং গড়ে ২৪ ফুট প্রশস্ত। পদ্মা সেতু চালুর পর এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। সরু সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেসব স্থানে সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে; কোথাও কোথাও কাজ চলছে। বাজার এলাকায় স্পিডব্রেকারসহ বিভিন্ন মোড়ে সতর্কতামূলক চিহ্নও দেওয়া হয়েছে। এরপরও দুর্ঘটনা পুরোপুরি কমছে না। মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা হলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
চালকের ভুলেও বাড়ছে দুর্ঘটনা
বরিশাল বিআরটিএর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জিয়াউর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ২০২২ সালের একটি দুর্ঘটনার ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থেকে যমুনা লাইন পরিবহনের এক চালককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এ ধরনের ঘটনায় চালকের অসচেতনতার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল করা হয়। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করলে বিধি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বাস টার্মিনালগুলোতে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হয়।