খুঁজুন
                               
, ,

১৬৬ কিমি মহাসড়কের বাঁকে ৭০ ‘মৃত্যুফাঁদ’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ
১৬৬ কিমি মহাসড়কের বাঁকে ৭০ ‘মৃত্যুফাঁদ’

একটি বাঁক পেরোতেই সামনে আরেকটি বাঁক। কোথাও বাঁক এতটাই তীক্ষ্ণ যে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন শেষ মুহূর্তের আগে দেখা যায় না। কোথাও আবার সড়কের দুই পাশে গাছপালা, বাজার ও স্থাপনার কারণে দৃষ্টিসীমা আরও কম। এর মধ্যেই চলছে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ নানা ধরনের যানবাহন। ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতায় সামান্য ভুলেই ঘটছে মুখোমুখি সংঘর্ষ। কেউ ছিটকে পড়ছেন খাদে, কেউ চাপা পড়ছেন সড়কের পাশে। বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ১৬৬ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে এমন বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে অন্তত ৫০টি। পরিবহন মালিক ও চালকদের হিসাবে সংখ্যাটি প্রায় ৭০। তাদের হিসাবে, এর মধ্যে অন্তত ৪০টি বাঁক দুর্ঘটনাপ্রবণ। বছরের পর বছর এসব বাঁকের অনেকগুলো একই অবস্থায় থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয় বাসচালক, পরিবহন মালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ, বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি শুধু চালকদের অসচেতনতার কারণে তৈরি হচ্ছে না। সরু সড়ক, বিপজ্জনক বাঁক, যানবাহনের বাড়তি চাপ, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং চালকদের দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো—সব মিলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলেছে। অথচ অবকাঠামোগত এসব ঝুঁকির অনেকগুলো চিহ্নিত হওয়ার পরও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
পদ্মা সেতুর পর বেড়েছে যানবাহনের চাপ
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতু চালুর আগে ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশালের ভূরঘাটা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করত। পদ্মা সেতু চালুর পর এ সংখ্যা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের ছুটিতে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে, মহাসড়কের বড় একটি অংশ এখনও মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত দুই লেনের। ফলে পদ্মা সেতু পেরিয়ে দ্রুতগতিতে আসা যানবাহন তুলনামূলক সরু এই মহাসড়কে ঢোকার পর গতি নিয়ন্ত্রণ না করলে বাঁকগুলো বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়। বিশেষ করে মাদারীপুর থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত অংশে এ সমস্যা প্রকট বলে জানিয়েছেন পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
যেসব বাঁকে বেশি ঝুঁকি
বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কের উজিরপুরের সানুহার, গৌরনদীর ভূরঘাটা ব্রিজ ও ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড, টরকী, আশোকাঠি, মাহিলাড়া, বাটাজোড়, কটকস্থল, পিঙ্গলাকাঠি, কসবা, বাবুগঞ্জের নতুনহাট, রহমতপুর, এয়ারপোর্ট মোড়, ক্যাডেট কলেজ, পাংশা, সাতমাইল, ছয়মাইল, বরিশাল সদরের গড়িয়ারপার, কাশিপুর, রেইন্ট্রিতলা, খয়রাবাদ ব্রিজের পরের অংশ, দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট, নলছিটি জিরো পয়েন্ট, বাকেরগঞ্জের লক্ষ্মীপাশা, বোয়ালিয়া, ভরপাশা, রেইন্ট্রিতলা, চরামদ্দি, আমতলীর শাখারিয়া ও ব্রিকস ফিল্ড এবং কলাপাড়ার মহিষাকাটা, চুনাখালী ও কেঁওড়াবুনিয়া এলাকায় একাধিক বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসচালক ও পরিবহন মালিকেরা।
তাদের ভাষ্য, এসব বাঁকের কয়েকটি এতটাই তীক্ষ্ণ যে বিপরীত দিকের যানবাহন সামনে না আসা পর্যন্ত চালকেরা তা দেখতে পান না। শীতকালে কুয়াশার কারণে ঝুঁকি আরও বাড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবহন কোম্পানিগুলোর আগে যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতা। ফলে বাঁক এলাকাতেও অনেক চালক ওভারটেকের চেষ্টা করেন। বাসচালক মোহাম্মদ নয়ন বলেন, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ভূরঘাটা পর্যন্ত মহাসড়কে প্রায় ৪০টি দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁক রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ থেকে ১৯টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পদ্মা সেতু চালুর পর এই সড়কে দ্রুতগতির যানবাহন বেড়েছে। এক্সপ্রেসওয়ে পেরিয়ে এসব যানবাহন যখন ২৪ ফুট প্রশস্ত সড়কে ঢোকে, তখন একের পর এক বাঁকের কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়। এর ওপর রয়েছে বাস কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা। নিয়মিত এই রুটে গাড়ি চালানো চালকেরাও যখন দুর্ঘটনার শিকার হন, তখন নতুন চালকদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ভূরঘাটা থেকে নথুল্লাবাদ পর্যন্ত প্রায় ৫৬ কিলোমিটার সড়কে ৪০ থেকে ৪২টি বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ দুর্ঘটনায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়েছে অথবা বিপরীত দিকের যানবাহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে।
পটুয়াখালী অংশেও ২০ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক
পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের হিসাবে, লেবুখালী পায়রা সেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি স্থানে সতর্কতামূলক চিহ্নও দেওয়া হয়েছে। বাঁকগুলো সোজা করার জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল আক্তার লিমন এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সোজা করার কাজ করা যাবে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের হিসাবের সঙ্গে একমত নন পরিবহন মালিকেরা। পটুয়াখালী জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইমাম হোসেন নাসির বলেন, পায়রা সেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্তই প্রায় ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। এ পথে দেড় শতাধিক আঞ্চলিক বাস চলাচল করে। বিশেষ করে শীতকালে কুয়াশার কারণে এসব বাঁকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। বাঁকগুলো সোজা করার জন্য সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষকে বারবার বলা হয়েছে।
পাঁচ বছরে বরিশাল বিভাগে নিহত ২,৩৮৭
অবকাঠামোগত ঝুঁকির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে দুর্ঘটনার সামগ্রিক পরিসংখ্যানও। বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ২ হাজার ৩৮৭ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ৫২৪টি দুর্ঘটনায় ৫৮৭ জন, ২০২২ সালে ৪৩০টি দুর্ঘটনায় ৫১১ জন, ২০২৩ সালে ৪৩৬টি দুর্ঘটনায় ৪১১ জন, ২০২৪ সালে ৪৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৫৭ জন এবং ২০২৫ সালে ৪৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪২১ জন নিহত হন।
অর্থাৎ পাঁচ বছরে নথিভুক্ত দুর্ঘটনায় বরিশাল বিভাগে গড়ে প্রতিদিন একাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এই পরিসংখ্যান পুরো বরিশাল বিভাগের; শুধু বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে নিহতের সংখ্যা নয়। এ মহাসড়কের পৃথক পাঁচ বছরের সমন্বিত মৃত্যুর তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, বরিশাল বিভাগের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বড় একটি অংশ বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের দুর্ঘটনার শিকার। পদ্মা সেতুর পর যানবাহনের গতি ও সংখ্যা দুটোই বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে সড়কের সক্ষমতা বাড়েনি।
তিনি বলেন, ২৪ ফুট প্রশস্ত সরু সড়কে দ্রুতগতির বাসের সঙ্গে ধীরগতির যানবাহনও চলছে। বাঁক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। চালকদের সচেতনতার পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একজন চালককে দীর্ঘ সময় একটানা গাড়ি চালানো থেকেও বিরত রাখতে হবে। ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা গাড়ি চালালে চালকের ক্লান্তি ও তন্দ্রাচ্ছন্নতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রশস্ত হচ্ছে কিছু অংশ, বসানো হচ্ছে সতর্কতামূলক চিহ্ন
সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল অংশে ৩৬টি বাঁক চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব বাঁকের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ২৪ ফুট থেকে ৩২ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়েছে। কোথাও কাজ চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা, ডানে-বাঁয়ে মোড়, ‘ধীরে চলুন’ ও নির্ধারিত গতিসীমার সতর্কতামূলক চিহ্ন বসানো হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও দুর্ঘটনা না কমার জন্য তিনি চালকদের অসচেতনতা ও অতিরিক্ত গতিকে দায়ী করেন।
চার ধরন বাদে সব মোটরযানের জন্য বিআরটিএর কড়া সতর্কবার্তা
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কটি দুই লেনের এবং গড়ে ২৪ ফুট প্রশস্ত। পদ্মা সেতু চালুর পর এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। সরু সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেসব স্থানে সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে; কোথাও কোথাও কাজ চলছে। বাজার এলাকায় স্পিডব্রেকারসহ বিভিন্ন মোড়ে সতর্কতামূলক চিহ্নও দেওয়া হয়েছে। এরপরও দুর্ঘটনা পুরোপুরি কমছে না। মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা হলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
চালকের ভুলেও বাড়ছে দুর্ঘটনা
বরিশাল বিআরটিএর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জিয়াউর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ২০২২ সালের একটি দুর্ঘটনার ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থেকে যমুনা লাইন পরিবহনের এক চালককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এ ধরনের ঘটনায় চালকের অসচেতনতার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল করা হয়। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করলে বিধি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় থেকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বাস টার্মিনালগুলোতে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হয়।

মহারাষ্ট্রের বিশেষ সম্মাননা পেলেন রানি মুখার্জি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৪ অপরাহ্ণ
মহারাষ্ট্রের বিশেষ সম্মাননা পেলেন রানি মুখার্জি

বলিউডে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ সম্মাননা পেলেন অভিনেত্রী রানি মুখার্জি। ৬২তম মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ‘রাজ কাপুর স্পেশাল কন্ট্রিবিউশন অ্যাওয়ার্ড’। ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্রায় তিন দশক ধরে অবদানের জন্য রানিকে এই বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। মুম্বাইয়ে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী সাজে হাজির হয়ে নজর কাড়েন অভিনেত্রী। সবুজ শাড়িতে লাল পাড়, মাথায় গাজরা ও গলায় মঙ্গলসূত্র—সব মিলিয়ে রানির সাজে ছিল বাঙালি-ভারতীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া।
পুরস্কার গ্রহণের পর মঞ্চে বক্তব্য দিতে উঠে উপস্থিত সবাইকে চমকে দেন রানি। পুরো বক্তব্যই তিনি দেন মারাঠি ভাষায়। তার এই উদ্যোগ অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা পায়। বক্তব্যে মুম্বাইয়ের সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন রানি। তিনি জানান, এই শহরেই তার জন্ম এবং এখান থেকেই গড়ে উঠেছে তার চলচ্চিত্রজীবন। সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতাকে কীভাবে সামলাতে হয়, জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা মুম্বাই থেকেই পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মহারাষ্ট্রে মারাঠি ভাষা ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা চলছে। এমন সময়ে পুরস্কার মঞ্চে রানির সাবলীল মারাঠি বক্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
অনুষ্ঠানে রানি মুখার্জির পাশাপাশি বিনোদন জগতের আরও কয়েকজন প্রবীণ ও গুণী ব্যক্তিত্বকেও বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

পুজোর আগে ত্বকের যত্নে জরুরি যে ৪ বিষয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
পুজোর আগে ত্বকের যত্নে জরুরি যে ৪ বিষয়

দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক, সাজগোজ, ঠাকুর দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর প্যান্ডেল হপিং। পুজোর কয়েক দিনে বদলে যায় দৈনন্দিন রুটিনও। রাত জাগা, দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা, নিয়মিত মেকআপ করা এবং অনিয়মিত খাওয়াদাওয়ার প্রভাব পড়ে ত্বকে। তাই পুজোর সাজে মুখের জেল্লা ধরে রাখতে আগে থেকেই ত্বকের যত্নে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
পর্যাপ্ত জল ও ঘুম
পুজোর ব্যস্ততায় অনেকেই পর্যাপ্ত জল খাওয়া ও ঘুমের বিষয়টি ভুলে যান। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলেও নিয়ম করে জল পান করতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি।
অতিরিক্ত মিষ্টি ও বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রেও সংযমী হওয়া ভালো। বেশি চিনি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ত্বকের প্রদাহ বা ব্রণের সমস্যা বাড়াতে পারে। তবে পুজোয় মিষ্টি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু পরিমাণের দিকে নজর রাখলেই হবে।
মেকআপ ব্যবহারে সতর্কতা
পুজোর সাজে মেকআপ থাকবেই। তবে ত্বকের ধরন বুঝে প্রসাধনী বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজ়িং বা ক্রিমভিত্তিক প্রসাধনী, তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য নন-কমেডোজেনিক মেকআপ এবং সংবেদনশীল ত্বকের জন্য কম জ্বালাপোড়া তৈরি করে এমন প্রসাধনী ব্যবহার করা যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মেকআপ করে কখনও ঘুমিয়ে পড়া যাবে না। বাইরে থেকে ফিরে ভালোভাবে মেকআপ তুলে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করা উচিত।
হঠাৎ নতুন স্কিন কেয়ার নয়
পুজোর ঠিক আগে নতুন কোনও স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। নতুন সিরাম, ক্রিম বা সক্রিয় উপাদানযুক্ত পণ্য হঠাৎ ব্যবহার করলে কারও কারও ত্বকে অস্বস্তি, শুষ্কতা কিংবা ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই পুজোর সময় ত্বক যে পরিচর্যায় অভ্যস্ত, সেটিই নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া ভালো। সাধারণভাবে ক্লিনজ়ার, ময়েশ্চারাইজ়ার ও সানস্ক্রিন—এই তিনটি ধাপকে গুরুত্ব দেওয়া যায়।
নতুন ট্রিটমেন্টে সতর্ক থাকুন
পুজোর আগে ত্বকে নতুন কোনও বিশেষ চিকিৎসা বা ট্রিটমেন্ট করানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কেমিক্যাল পিল, লেজার বা মাইক্রোনিডলিংয়ের মতো কিছু পদ্ধতির পর ত্বকে সাময়িক লালচে ভাব, খসখসে হওয়া বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তাই পুজোর ঠিক আগে প্রথমবার এমন কোনও ট্রিটমেন্ট না করিয়ে প্রয়োজন হলে আগেই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সব মিলিয়ে পুজোর সময় ত্বক ভালো রাখতে অনেক ধাপের স্কিন কেয়ার রুটিনের প্রয়োজন নেই। পর্যাপ্ত জল পান, ভালো ঘুম, সুষম খাবার, সানস্ক্রিন ব্যবহার, নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা এবং ঘুমানোর আগে মেকআপ ভালোভাবে পরিষ্কার করাই হতে পারে সুন্দর ও সতেজ ত্বকের সহজ নিয়ম।
সূত্র: এই সময়

তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে যেসব খাবার খাবেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে যেসব খাবার খাবেন

কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরম বেড়েছে। বিশেষ করে দিনের বেলায় অস্বস্তিকর গরমে ঘাম ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমন আবহাওয়ায় শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
গরমে শরীরকে স্বস্তিতে রাখতে খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন পানি ও পুষ্টি সমৃদ্ধ কিছু খাবার। চলুন জেনে নেওয়া যাক—
টকজাতীয় ফল
লেবু, বাতাবিলেবু, মালটা ও কমলালেবুর মতো সাইট্রাস ফলে পানি ও ভিটামিন সি থাকে। গরমের দিনে এসব ফল খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তেঁতুলও খেতে পারেন। তবে ফলের জুসের চেয়ে পুরো ফল খাওয়াই ভালো, কারণ এতে আঁশও পাওয়া যায়।
দই
গরমে দই হতে পারে ভালো একটি খাবার। এতে পানি, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক থাকে। দই বা লাচ্ছি শরীরে তরল যোগাতেও সহায়তা করতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি মিশিয়ে খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
পেঁয়াজ
গরমের খাবারের সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ অনেকেরই পছন্দ। এতে পানির পরিমাণও রয়েছে। সালাদ হিসেবে অন্যান্য সবজির সঙ্গে পেঁয়াজ খেতে পারেন।
পান্তা ভাত
বাঙালির পরিচিত খাবার পান্তা ভাতেও পানির পরিমাণ বেশি থাকে। গরমের দিনে এটি খেলে খাবারের মাধ্যমে কিছুটা তরল পাওয়া যায়। তবে পান্তা ভাত তৈরিতে পরিষ্কার পানি ব্যবহার এবং খাবারটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।
সবুজ শাকসবজি
পালং, লালশাক, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজিতে পানি, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। তাই গরমের দিনে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত শাকসবজি রাখা যেতে পারে।
শুধু খাবার নয়, পানি পানও জরুরি
গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। তাই তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মিষ্টি কোমল পানীয়ের পরিবর্তে পানি, ডাবের পানি বা কম চিনি দেওয়া পানীয় খাওয়া উত্তম। বিশেষ করে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে পানিশূন্যতার লক্ষণ- অতিরিক্ত তৃষ্ণা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া দেখা দিলে দ্রুত বিশ্রাম নিয়ে তরল গ্রহণ করা উচিত।
তবে খাবার খেলেই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে এমন নয়। প্রচণ্ড গরমে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঠান্ডা পরিবেশে বিশ্রাম নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।