খুঁজুন
                               
, ,

চাঁদপুরে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ঠিকাদারের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
চাঁদপুরে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ঠিকাদারের মৃত্যু

চাঁদপুর শহরের ব্যাংক কলোনি এলাকায় একটি নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে দেলোয়ার হোসেন (৫৮) নামে এক ঠিকাদারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ব্যাংক কলোনির আশরাফিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার হোসেন বিষ্ণুদী রোডের ব্যাংক কলোনি এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নির্মাণাধীন ভবনের পাঁচতলার ছাদে শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ তদারকি করছিলেন ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক ডা. মো. নাজমুল তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ফিরলো তবে লাশ হয়ে

কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সাথে ছবি তুলবে বলে মায়ের শখের আইফোনটি নিয়ে হাসিমুখে ঘর থেকে বেরিয়েছিল ১৩ বছরের কিশোর অপ্রতিম। কে জানতো, এই যাওয়াই তার শেষ যাওয়া! নিখোঁজের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমাই পাহাড়ের এক নির্জন প্রান্তর থেকে উদ্ধার হলো তার রক্তাক্ত নিথর দেহ।অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ঘনঘটা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। তার মা নাহিদা বেগম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছিলেন, দুপুরে তার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়েছিল ছেলেটি। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা এবং রাত নামলেও বুকের ধন আর মায়ের কাছে ফিরে আসেনি। ছেলেকে হন্যে হয়ে খুঁজে না পেয়ে শুক্রবার রাতেই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে উদ্বিগ্ন পরিবার।

অবশেষে সব অপেক্ষার অবসান ঘটে এক বুকফাটা আর্তনাদের মধ্য দিয়ে। আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর সানন্দা গ্রামে লালমাই পাহাড়ের এক নির্জন স্থানে অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। যে ছেলেটির চোখেমুখে ছিল দুরন্তপনা আর হাজারো স্বপ্ন, সেই ছেলেটি আজ শুধুই এক নিথর দেহ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা নাহিদা বেগম, তার এই অবর্ণনীয় শোক যেন ছুঁয়ে গেছে পুরো কুমিল্লাকে। কীভাবে, কেন এই নিষ্পাপ কিশোরকে এমন করুণ পরিণতির শিকার হতে হলো—সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন বাকরুদ্ধ সবাই।

গাড়ির চাকায় তিশার হাতের ছাপ

রাজধানীর বনশ্রীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চাঁদপুরের তিশা আহমেদ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীর বনশ্রীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চাঁদপুরের তিশা আহমেদ

রাজধানীর বনশ্রীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চাঁদপুরের পরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন রোটারিয়ান এবং চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাবের সাবেক সভাপতি সফিউদ্দিন আহমেদের মেয়ে তিশা আহমেদ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বনশ্রী জি-ব্লক মেইন রোডে ফরাজী হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের একটি দৃশ্য উপস্থিত মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। যে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে তিশার মৃত্যু হয়েছে, সেই চাকায় লেগে থাকা তাঁর হাতের ছাপ যেন রেখে গেছে এক হৃদয়বিদারক স্মৃতি। কয়েক মুহূর্ত আগেও যে হাতটি ছিল জীবনের স্পন্দনে ভরা, দুর্ঘটনার পর সেই হাতের ছাপই হয়ে ওঠে অকালে ঝরে যাওয়া একটি জীবনের নীরব সাক্ষী।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনয় চন্দ্র পাল জানান, রমজান পরিবহনসহ দুটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই তাসপিয়া আহমেদ নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৯টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রমজান পরিবহনের একটি বাসসহ দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। বাস দুটির চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। নিহতের ভাই এনাম আহমেদ জানান, তাঁর বোন কাজে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। সন্ধ্যায় তিনি খবর পান, ফরাজী হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে যাওয়ার পর দুই বাসের চাপায় তাঁর বোন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা বনশ্রীর একটি টেইলার্সের মালিক মো. মূসা বলেন, তাসপিয়া তাঁর দোকান থেকে নিয়মিত কাপড় তৈরি করাতেন। তাঁর ভাষায়, তাসপিয়া ছিলেন অত্যন্ত ভালো মানুষ। আগামীকাল তাঁর কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ একদিন আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে হয়েছে। পরে তিনিই তাসপিয়ার পরিবারের সদস্যদের দুর্ঘটনার খবর দেন।
তিশা আহমেদের আকস্মিক মৃত্যুতে চাঁদপুরের রোটারি অঙ্গন, সামাজিক ও পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন বাবার কাছে সন্তানের মৃত্যু যে কতটা অসহনীয়, তিশার অকালমৃত্যু যেন তারই নির্মম বাস্তবতা। যে সন্তানকে ঘিরে পরিবারের ছিল ভালোবাসা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনা, একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সবকিছু থমকে দিয়েছে।
তিশার এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল—সড়কে সামান্য অসতর্কতাও মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিতে পারে একটি প্রাণ এবং একটি পরিবারের সব স্বপ্ন।
উল্লেখ্য, নিহত শিক্ষক তাসপিয়া আহমেদ তিসা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আফতাবনগর শাখার শিক্ষক ছিলেন।

৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধ: হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদনে সাড়া মিলল না

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধ: হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদনে সাড়া মিলল না

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ পেল না ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব মামলাটি কার্যতালিকা (কজ লিস্ট) থেকে বাদ দিয়ে আদেশ দেন। আদালত স্পষ্ট জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পূর্বে হাইকোর্টের রায়ে আপাতত হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। ২০১৭ সালে এনবিআরের ১৪ নম্বর কর অঞ্চল এক পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০১২ থেকে ২০১৭—এই পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে মোট ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা আয়কর দাবি করে।
কর দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ রিট করলে আদালত প্রাথমিক রুল জারি করলেও, দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট খারিজ করে রায় দেন। ফলে কর পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। শুনানিতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ আজাদ অংশ নেন। শুনানি শেষে আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত লিভ-টু-আপিল করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই তারা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন। তবে চেম্বার আদালত লিখিত রায় না আসা পর্যন্ত কোনো আদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানান।
চেম্বার আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধের চ্যালেঞ্জে বড় ধরনের ধাক্কা খেল গ্রামীণ কল্যাণ। এখন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই কেবল তারা পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়ায় যেতে পারবে।