খুঁজুন
                               
, ,

সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সহযোগী না কি সৃজনশীলতার নীরব সংকট?

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সহযোগী না কি সৃজনশীলতার নীরব সংকট?

ডিজিটাল বিপ্লবের এই সময়ে সাংবাদিকতা এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি।  তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ধারায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এখন শুধু প্রযুক্তি জগতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গণমাধ্যমের অঙ্গনেও শক্তভাবে জায়গা করে নিয়েছে।  সংবাদ সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, এমনকি প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।  অনেক ক্ষেত্রে এটি কাজকে সহজ, দ্রুত এবং তথ্যনির্ভর করে তুলছে—কিন্তু একইসঙ্গে উঠছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এই প্রযুক্তি কি সাংবাদিকতার সৃজনশীলতাকে সহায়তা করছে, নাকি ধীরে ধীরে তা ক্ষয় করে দিচ্ছে?
বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, অনেক সাংবাদিক সরাসরি এআই ব্যবহার করে সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করছেন।  এটি নিঃসন্দেহে সময় সাশ্রয়ী এবং তাৎক্ষণিক ফলপ্রসূ মনে হতে পারে।  কিন্তু এর অন্তর্নিহিত ঝুঁকিও কম নয়।  যখন একজন সাংবাদিক নিজে চিন্তা না করে, বিশ্লেষণ না করে একটি যন্ত্রের ওপর নির্ভর করেন তখন তার পেশাগত দক্ষতা ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে।  লেখার মৌলিক গঠন, ভাষার শৈলী, তথ্যের ব্যাখ্যা—সবকিছুতেই একধরনের যান্ত্রিকতা প্রবেশ করে।  ফলে সাংবাদিকতার প্রাণ, অর্থাৎ মানবিক অনুভূতি ও গভীরতা, ক্রমশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয় এটি মানুষের গল্প বলার একটি শক্তিশালী শিল্প।  একটি প্রতিবেদন তখনই প্রভাব ফেলে, যখন সেখানে থাকে মানবিক স্পর্শ, বাস্তব অভিজ্ঞতার গভীরতা এবং লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি।  এআই হয়তো দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে সাজিয়ে দিতে পারে, কিন্তু একজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কান্না, দুর্যোগে বেঁচে থাকার সংগ্রাম কিংবা সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ—এই অনুভূতিগুলো একটি যন্ত্র কখনোই সম্পূর্ণভাবে ধারণ করতে পারে না।  ফলে এআই-নির্ভর প্রতিবেদনগুলো অনেক সময় তথ্যসমৃদ্ধ হলেও প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।  একজন সাংবাদিক যখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন, তখন তিনি শুধু আগুনের ক্ষয়-ক্ষতি নয়, মানুষের আতঙ্ক, অসহায়ত্ব এবং বেঁচে থাকার আকুতি প্রত্যক্ষ করেন।  সেই অভিজ্ঞতা তার লেখায় প্রতিফলিত হয়, যা পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।  কিন্তু যদি একই প্রতিবেদন শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক এআই দিয়ে তৈরি করা হয়, তাহলে সেখানে সংখ্যার হিসাব থাকলেও মানবিক আবেগের ঘাটতি থেকেই যাবে।  এটাই সাংবাদিকতা ও যান্ত্রিক লেখার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য।
তবে এআই-কে পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই।  বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি সাংবাদিকতার জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। গবেষণামূলক কাজে, তথ্য যাচাইয়ে, ডেটা বিশ্লেষণে কিংবা নতুন ধারণা খুঁজে পেতে এআই হতে পারে এক অসাধারণ সহায়ক।  উদাহরণস্বরূপ, কোনো জটিল আইনগত বিষয়ের ওপর রিপোর্ট করতে গেলে সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা, পূর্ববর্তী নজির বা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট দ্রুত খুঁজে বের করতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  এতে সময় বাঁচে এবং প্রতিবেদনের তথ্যভিত্তিক শক্তি বাড়ে।
কিন্তু এখানেই একটি সীমারেখা টানা জরুরি।  তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে এআই সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সেই তথ্যকে ব্যাখ্যা করা প্রেক্ষাপট তৈরি করা এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করার দায়িত্ব একজন সাংবাদিকেরই।  এই ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে সাংবাদিকতা তার মৌলিক চরিত্র হারাবে।
বর্তমান সময়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হিউম্যান টাচ বা মানবিক স্পর্শ।  পাঠক বা দর্শক শুধুমাত্র তথ্য জানতে চায় না; তারা চায় সেই তথ্যের পেছনের গল্প জানতে, অনুভব করতে।  একটি ভালো প্রতিবেদনে লেখকের চিন্তা, অনুভূতি এবং পর্যবেক্ষণের ছাপ থাকে।  এআই-নির্ভর লেখায় এই উপাদানগুলো অনেক সময় অনুপস্থিত থাকে।  ফলে তা পাঠকের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়।
এছাড়া অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা সাংবাদিকদের মধ্যে অলসতা তৈরি করতে পারে।  যখন সহজেই একটি লেখা তৈরি হয়ে যায়, তখন নিজের মেধা ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়।  দীর্ঘমেয়াদে এটি পেশাগত দক্ষতার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।  একজন সাংবাদিকের শক্তি তার অনুসন্ধানী মনোভাব, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং ভাষার ওপর দক্ষতা।  এই দক্ষতাগুলো চর্চার মাধ্যমে উন্নত হয়—কিন্তু এআই-এর ওপর নির্ভরতা বাড়লে এই চর্চা কমে যেতে পারে।
সাংবাদিকতার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য পড়ার অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  ভালো মানের পত্রিকা, বই, গবেষণাপত্র এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রতিবেদন পড়লে একজন সাংবাদিক তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে পারেন।  ভাষার বৈচিত্র্য, উপস্থাপনার কৌশল এবং তথ্য বিশ্লেষণের ধরন সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়।  এই অভ্যাস একজন সাংবাদিককে আত্মনির্ভরশীল করে তোলে, যা কোনো প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।
এছাড়া মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা সাংবাদিকতার জন্য অপরিহার্য।  বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া, মানুষের সঙ্গে কথা বলা, তাদের অভিজ্ঞতা শোনা—এই প্রক্রিয়াগুলো একজন সাংবাদিককে সমৃদ্ধ করে। এআই এই অভিজ্ঞতা দিতে পারে না। এটি কেবল তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা উপলব্ধি করার ক্ষমতা তার নেই।
তবে এটিও সত্য যে আধুনিক সাংবাদিকতা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে।  দ্রুত সংবাদ পরিবেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রতিযোগিতা, দর্শকের পরিবর্তিত চাহিদা—এসবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।  তাই এআই-কে পুরোপুরি বর্জন করা বাস্তবসম্মত নয়।  বরং প্রয়োজন এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা হতে পারে—এআই-কে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করা।  এটি তথ্য সংগ্রহ, ধারণা তৈরি এবং প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করতে সাহায্য করতে পারে।  এরপর সেই খসড়াকে একজন সাংবাদিক নিজের অভিজ্ঞতা, বিশ্লেষণ এবং ভাষার দক্ষতা দিয়ে সমৃদ্ধ করবেন। এতে সময়ও বাঁচবে, আবার সৃজনশীলতাও বজায় থাকবে।
এছাড়া গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।  সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এআই ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি শেখানো উচিত।  পাশাপাশি মৌলিক লেখার দক্ষতা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।  প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারলেই সাংবাদিকতা তার মান বজায় রাখতে পারবে।
নৈতিকতার বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এআই-নির্ভর প্রতিবেদনে অনেক সময় ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকার ঝুঁকি থাকে।  তাই তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব সাংবাদিকেরই।  কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা নিশ্চিত করা পেশাগত দায়িত্বের অংশ। এই দায়িত্ব কোনো যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না।
পরিশেষে বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাংবাদিকতার জন্য একদিকে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, অন্যদিকে এটি একটি সতর্কবার্তাও নিয়ে এসেছে।  এটি যেমন কাজকে সহজ করছে, তেমনি সৃজনশীলতা ও মৌলিকতার জন্য চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।  তাই প্রয়োজন সচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং পেশাগত দায়িত্ববোধ।
আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প নয়; এটি কেবল একটি সহায়ক মাধ্যম। একজন সাংবাদিকের প্রকৃত শক্তি তার চিন্তা, অনুভূতি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতায়।  এই শক্তিকে ধরে রেখেই যদি আমরা এআই-কে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। আর যদি আমরা অন্ধভাবে এর ওপর নির্ভর করি, তাহলে একসময় আমাদের সৃজনশীলতা এবং পেশাগত স্বাতন্ত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।
সুতরাং, সময় এসেছে নতুন করে ভাবার—আমরা কি যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হব, নাকি যন্ত্রকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করব? সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই সিদ্ধান্তের ওপরই।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, এমসিএস, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্স।

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত! অনুমোদিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’। ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিন জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পল্লী সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুঃস্থ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং পেট্রোবাংলার উদ্যোগে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘১টি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের জন্য তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার প্যাকেজগুলোর ঘোষণা দেন। এ সময় হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার খাওয়া ও কোরবানিসহ তিনটি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
হাব জানায়, তিনটি প্যাকেজের মধ্যে বিশেষ প্যাকেজ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা, সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ও সাশ্রয়ী প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবার সাশ্রয়ী প্যাকেজের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টাকা বেশি। এ ছাড়া বিশেষ হজ প্যাকেজে ব্যয় বেড়েছে ৪১ হাজার ৬০ টাকা।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ২০২৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ২টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) এর খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা।

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

ভারতের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিটের) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভ গড়িয়েছে টানা তৃতীয় দিনে। সংঘাত ও বিক্ষোভের মধ্যেই বুধবার (২২ জুলাই) সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকার পার্লামেন্টে প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সরকারি সূত্রগুলো। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংসতার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সেদিনের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাটি পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা উদ্ধৃত করে কিরেন রিজিজু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এনডিএ শরিকদের সংসদের সব ধরনের কাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোকে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ এবং যুবসমাজের কল্যাণে কাজ করা সব সংসদ সদস্যের যৌথ দায়িত্ব।’