খুঁজুন
                               
, ,

গরিবের চিকিৎসাসেবার মানবতার বাতিঘর ঘিরে পুরানবাজারবাসীর মধ্যে স্বস্তি

১০৫ বছরের দাতব্য চিকিৎসালয় ফের চালু হচ্ছে চাঁদপুরে

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
১০৫ বছরের দাতব্য চিকিৎসালয় ফের চালু হচ্ছে চাঁদপুরে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে চাঁদপুর পৌরসভার ১০৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী দাতব্য চিকিৎসালয়। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় পুরানবাজারসহ আশপাশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাত্র ২ টাকার বিনিময়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছে মানবতার বাতিঘর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
স্থানীয়দের মতে, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চাঁদপুর পৌরসভার এই দাতব্য চিকিৎসালয় নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে পুরানবাজার ও আশপাশের এলাকার দরিদ্র, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষ নামমাত্র খরচে এখান থেকে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতেন। ফলে চিকিৎসালয়টি শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নয় বরং স্থানীয় মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশে পরিণত হয়েছে।
তবে গত বছর তৎকালীন পৌর প্রশাসনের সময়ে নানা কারণ দেখিয়ে চিকিৎসালয়টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন নিম্নআয়ের রোগীরা। অল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ হারিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র কিংবা ফার্মেসির ওপর নির্ভর করতে থাকেন। এতে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যায়।
চিকিৎসালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এটি পুনরায় চালুর দাবি জোরালো হতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহলের পাশাপাশি গণমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
গণমাধ্যমকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন।
চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, জেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা করেন। সকালের উদ্দেশ্য ছিল—পুরানবাজারের দরিদ্র মানুষের দীর্ঘদিনের এই চিকিৎসাসেবাটি যেন আবারও চালু হয়।
এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছেন ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ। ঢাকায় অবস্থান করেও তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পুরানবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে ভূমিকা রাখেন।
সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর পথ তৈরি হয়েছে। চাঁদপুর পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি এলজিডি) মো. এরশাদ উদ্দিনের উদ্যোগকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চিকিৎসালয়টি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে পুরানবাজার ও আশপাশের এলাকার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা নামমাত্র খরচে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
চিকিৎসালয়টির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি চাঁদপুর পৌরসভার অন্যতম প্রাচীন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। সময়ের সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার প্রসার ঘটলেও দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা কমেনি। বরং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ ধরনের সেবাকেন্দ্রের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
সচেতন মহলের অভিমত, চিকিৎসালয়টি শুধু পুনরায় চালু করলেই হবে না; এর সেবার মানও নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও তার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারবে।
তাদের মতে, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসালয়কে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সীমিত পরিসরে হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ, বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা হলে এটি দরিদ্র মানুষের জন্য আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পুরানবাজারের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আগে সামান্য অসুস্থতা হলেও অনেকে এই চিকিৎসালয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারতেন। মাত্র ২ টাকা খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ দরিদ্র মানুষের জন্য ছিল বড় সহায়তা। চিকিৎসালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। পুনরায় চালুর উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসালয়টির কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগের মতোই দরিদ্র মানুষের সেবায় প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এর সেবা আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী বলেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা তার পেশাগত দায়িত্ব। তবে পুরানবাজারের সন্তান হিসেবে এই চিকিৎসালয়ের সঙ্গে তার আবেগও জড়িয়ে আছে। পুরান বাজারের বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর। এখান থেকে নতুন বাজার চিকিৎসা সেবা নিতে গেলে কমপক্ষে ১০০ টাকা যাতায়াত বাড়ার খরচ হয়। এটি চালু হলে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা পাবে এতে করে তারা বড় কোন রোগে আক্রান্ত হবে না। তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরে এখানকার দরিদ্র মানুষ নামমাত্র মূল্যে যে চিকিৎসাসেবা পেতেন, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি বিভিন্ন মহলে তুলে ধরেছেন। চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর উদ্যোগ সফল হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে এটি আমার জন্য বড় একটি প্রাপ্তি। একই সঙ্গে পুরানবাজারের সন্তান হিসেবে গরিব মানুষের এই চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রটি আবার চালু হতে যাচ্ছে—এটি আমার জন্য অন্যরকম তৃপ্তির বিষয়।
চাঁদপুর পৌরসভার এই ১০৫ বছরের পুরোনো দাতব্য চিকিৎসালয় পুনরায় চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের কার্যক্রমই শুরু হচ্ছে না; বরং দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার একটি পুরোনো ঐতিহ্যও নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ‘মানবতার বাতিঘর’ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে—এমন প্রত্যাশাই পুরানবাজারবাসীর।

দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। সে হিসেবে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারে স্বর্ণের বিক্রয় মূল্য কমানো হচ্ছে। নতুন এই মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিলো বাজুস। ওই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৯১ টাকায়।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার গহনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকবে। ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকারের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ঘোষিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের (মোসলেম আহম্মদ) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। এদিকে, যৌন নিপীড়নের বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিশুর অভিভাবক শাহজালাল রুমি অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারেন। চড় দেওয়ার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে যৌন হয়রানি করেন উপাধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন। এ সময় বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে নানা ধরনের ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) সকালে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে ঘটনার জবাবদিহি চান।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) তাকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে শিশু নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে ও সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের দায়িত্ব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ শৃঙ্খলা পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ এর আগে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। এ সময় তিনি উপস্থিত সেনাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। এরপরে তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।