খুঁজুন
                               
, ,

ভোক্তা অধিকার : আমরা কতটা সচেতন?

মায়েদা হোসেন সাফি
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
ভোক্তা অধিকার : আমরা কতটা সচেতন?

আমরা সবাই জীবনের প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত পণ্য ও সেবা গ্রহণ করি। কেউ বাজার থেকে খাদ্যসামগ্রী কিনছেন, কেউ আবার কিস্তিতে ইলেকট্রনিক পণ্য, আবার কেউ চিকিৎসা বা শিক্ষাসেবাও গ্রহণ করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এসব পণ্য ও সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে আমরা কি জানি আমাদের কী কী অধিকার রয়েছে? আমরা কি জানি, প্রতারণার শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করতে হয়, অথবা আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে কী ধরনের আইনি সহায়তা পাওয়া যায়?
বাংলাদেশে “ভোক্তা” বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যিনি ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছাড়া, শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ব্যবহারের জন্য কোনো পণ্য ক্রয় বা সেবা গ্রহণ করেন। অর্থাৎ, আপনি যদি নিজের জন্য খাদ্য, জামাকাপড়, ওষুধ বা যেকোনো প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে থাকেন এবং তা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে না হয়ে থাকে, তাহলে আপনি আইনত একজন “ভোক্তা”। এমনকি কেউ আত্মকর্মসংস্থান বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে ছোট পরিসরে কোনো পণ্য ব্যবহার করলেও তিনি ভোক্তার সংজ্ঞায় পড়তে পারেন।ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন” প্রণয়ন করে। এই আইনের অধীনে কিছু কার্যক্রম অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেমন—ভেজাল বা মানহীন পণ্য সরবরাহ, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য বা সেবা না দেওয়া, কম ওজনে পণ্য সরবরাহ, মেয়াদোত্তীর্ণ বা ক্ষতিকর দ্রব্য বিক্রি ইত্যাদি। এমনকি পণ্যের গায়ে সঠিক মূল্য না লেখা বা সঠিক তথ্য গোপন করাও ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে।স্বভাবত বাজার নিয়ন্ত্রণকারী বা বাজারে ব্যবসা করা ব্যক্তিরা অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকেন। বিপরীতে ভোক্তারা থাকেন তুলনামূলকভাবে অসহায় অবস্থায়। অন্যদিকে, ব্যবসায়িরা সংগঠিত হলেও ভোক্তারা সাধারণত অসংগঠিত থাকেন।কোনো প্রতারণা বা অসততাকে, যা মানুষের অধিকার খর্ব করে, তার ব্যাপকতা নিয়ে চলতে দেওয়া যায় না। ভোক্তা অধিকারকে মানবাধিকারের ধারণা থেকে আলাদা করা যায় না। এটি সামাজিক ন্যায়বিচারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।আমেরিকার ভোক্তা আন্দোলনের পুরোধা রালফ নাদের-এর মতে, “ভোক্তা হচ্ছে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি”।যদি কোনো ভোক্তা এসব অনিয়মের শিকার হন, তাহলে তিনি সরাসরি অভিযোগ করতে পারেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে। অভিযোগ করার জন্য রয়েছে কয়েকটি সহজ উপায়। প্রথমত, িি.িফহপৎঢ়.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে গিয়ে সরাসরি অভিযোগ দাখিল করা যায়। দ্বিতীয়ত, মোবাইল ফোন থেকে ১৬১২১ নম্বরে কল করে অভিযোগ জানানো সম্ভব। তৃতীয়ত, এড়ড়মষব চষধু ঝঃড়ৎব থেকে “ঈঈগঝ” নামে একটি মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে সেখান থেকেও অভিযোগ করা যায়।অভিযোগ করার আগে ভোক্তাকে প্রথমে ওয়েবসাইটে বা অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য লিখে, প্রয়োজনে রশিদ, ছবি বা ভিডিওসহ প্রমাণ সংযুক্ত করে তা দাখিল করা যায়। প্রতিটি অভিযোগের জন্য নির্ধারিত ট্র্যাকিং নম্বর দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যায়। আইন অনুযায়ী, অভিযোগ নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ সময়সীমা ৬০ কার্যদিবস। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভোক্তা পণ্যের মূল দামের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ত্রয়োদশ অধ্যায়ে “ওজন ও মাপকাঠি সংক্রান্ত অপরাধ” নিয়ে ধারা ২৬৪ থেকে ২৬৭ পর্যন্ত বিধান রয়েছে। এ অধ্যায় ভোক্তাদের সঠিক পরিমাণে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রতারণামূলকভাবে মিথ্যা যন্ত্র বা মাপকাঠি ব্যবহারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রণীত।ধারা ২৬৪ অনুসারে, যে ব্যক্তি জেনে-বুঝে ওজন করার জন্য মিথ্যা যন্ত্র প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহার করে, সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ অপরাধ প্রমাণের জন্য প্রমাণ করতে হবে যে— (ক) অভিযুক্ত ব্যক্তি অপ্রকৃত যন্ত্র ব্যবহার করেছেন, (খ) তা ওজন মাপার যন্ত্র ছিল, (গ) অভিযুক্ত জানতেন যে যন্ত্রটি মিথ্যা, এবং (ঘ) তিনি তা প্রতারণামূলকভাবে দখলে রেখে ব্যবহার করেছেন। এই অপরাধ আমলযোগ্য নয়, সমনযোগ্য, জামিনযোগ্য, আপসযোগ্য নয় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচারযোগ্য।ধারা ২৬৫-এ বলা হয়েছে, যদি কেউ প্রতারণামূলকভাবে মিথ্যা ওজন, দৈর্ঘ্য বা ধারণক্ষমতা মাপ ব্যবহার করে, অথবা কোনো ওজন বা মাপকাঠিকে অন্য ধরনের ওজন বা মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করে, তবে তিনি একইভাবে এক বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।ধারা ২৬৬ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি জেনে-বুঝে মিথ্যা ওজন বা মাপের যন্ত্র, বাটখারা বা দৈর্ঘ্য/পরিমাণ মাপার মাপকাঠি নিজের দখলে রাখেন, যাতে তা প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তিনি এক বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।ধারা ২৬৭-এ বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি জেনে-বুঝে মিথ্যা বাটখারা, মাপকাঠি বা ওজন করার যন্ত্র তৈরি, বিক্রয় বা লেনদেন করেন, যা প্রকৃত হিসাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, তিনি একইভাবে এক বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।এসব বিধান ভোক্তা অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ এগুলো বাজারে সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতারণা প্রতিরোধ করে এবং ন্যায়সঙ্গত বাণিজ্যিক পরিবেশ গড়ে তোলে।
এই আইন সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শুধুমাত্র প্রতারিত ভোক্তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এর মাধ্যমে পুরো বাজার ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল রাখা সম্ভব হয়। ব্যবসায়ীরা জানেন যে, ভোক্তারা প্রয়োজনে অভিযোগ করতে পারবেন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এই সচেতনতা ও আইনি চাপের কারণে তারা মানসম্মত পণ্য ও সেবা সরবরাহ করতে বাধ্য হন। এর ফলে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে ধীরে ধীরে কমে আসে।একই সঙ্গে একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হয়, যেখানে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে মান বজায় রাখা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। এর প্রভাব পড়ে ভোক্তার আস্থায়—মানসম্মত সেবা পেয়ে ভোক্তারা বাজার ব্যবস্থার প্রতি আরও বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন, যা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে শেখেন যে প্রতারণা মেনে নেওয়া কোনো সমাধান নয়; বরং আইনগত প্রতিরোধই হলো সঠিক পথ।মানুষকে ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার জন্য প্রথমেই শিক্ষাক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে ভোক্তা অধিকার এবং প্রাসঙ্গিক আইন অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই নিজের অধিকার ও করণীয় সম্পর্কে অবগত হবে। শিক্ষার পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকা, ফেসবুক এবং ইউটিউবের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক তথ্য মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।এছাড়া কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনাও কার্যকর। গ্রাম, বাজার কিংবা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সেমিনার, কর্মশালা এবং সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে পণ্য বিক্রির স্থান, দোকান ও সুপারশপে ভোক্তার অধিকার এবং অভিযোগ জানানোর ঠিকানা সম্বলিত প্রচারপত্র ও পোস্টার টাঙালে ক্রেতারা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন। এভাবে বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি সচেতন ভোক্তা সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।বাংলাদেশে ভোক্তারা নানা উপায়ে প্রতারিত হচ্ছেন, যার বাস্তব চিত্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেমন, ঢাকার একাধিক মিষ্টির দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ ব্যবহার করে মিষ্টি তৈরির ঘটনা ধরা পড়ে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারত। অভিযানে এসব দোকানকে জরিমানা করা হয় এবং ভোক্তারা তাৎক্ষণিক প্রতিকার পান। একইভাবে এক ভোক্তা অভিযোগ করেন, তিনি ৫০০ গ্রাম গুঁড়ো দুধ কিনলেও তাতে ওজন ছিল মাত্র ৪৮০ গ্রাম; অভিযোগের ভিত্তিতে দোকানদারকে জরিমানা করা হয়।এছাড়া ভুল তথ্যযুক্ত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও ভোক্তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। একটি প্রসাধনী কোম্পানি বিজ্ঞাপনে দাবি করেছিল যে তাদের ক্রিমে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক নেই, কিন্তু পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় এতে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। ভোক্তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা এবং পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। গ্রামীণ অঞ্চলেও প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, এক ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ে, পরে ওষুধ জব্দ করে দোকানকে জরিমানা করা হয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে ভোক্তাদের সচেতনতা ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতারণা রোধ সম্ভব।বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটা কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে বাজারে গিয়ে কেনাকাটার জন্য আলাদা সময় দেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। এতে সময় ও শ্রম—দুটোই বাঁচছে। তবে কিছু অনলাইন পেজ ও দোকান এই সুবিধাভোগী মানসিকতার সুযোগ নিচ্ছে। তারা ক্রেতাদের প্রতিশ্রুত পণ্য না দিয়ে ভেজাল, নষ্ট, নকল বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সরবরাহ করছে, যা ভোক্তাদের অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই আমাদের উচিত এই ধরনের প্রতারক অনলাইন পেজ ও দোকানের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়া। আমাদের সক্রিয় পদক্ষেপই পারে আমাদের নিজেদের এবং আমাদের আশেপাশের মানুষের অধিকারকে সুরক্ষিত রাখতে।ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো আজকের সময়ের দাবি। অনেকেই এখনও জানেন না তাদের অধিকার কী, কিংবা কোথায় গেলে সঠিক প্রতিকার মিলবে। ফলে ব্যবসায়ী বা সেবা প্রদানকারীরা অনেক সময় ভোক্তাদের অধিকার লঙ্ঘন করে পার পেয়ে যান। সচেতনতা বাড়াতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ভোক্তা অধিকার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করা দরকার।
পরিশেষে বলা যায়, একজন ভোক্তা শুধু একজন ক্রেতা নয়, বরং দেশের বাজার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন সচেতন ভোক্তা যেমন নিজের অধিকার রক্ষা করতে সক্ষম, তেমনি সে অন্যদেরও সচেতন করতে পারেন। তাই পণ্য বা সেবা গ্রহণে প্রতারিত হলে চুপ না থেকে, আইনের আশ্রয় নেওয়া জরুরি। কারণ, শক্তিশালী ভোক্তা সমাজই পারে একটি ন্যায্য ও সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।আসুন, আমি, আপনি, আমরা সচেতন হই। আমরা সচেতন হলে এই সমাজ, মানুষ সচেতন হবে। দুর্নীতি বন্ধ হবে, স্বচ্ছতা আসবে, জবাবদিহিতা বাড়বে। শুধুমাত্র একজন ভোক্তা হিসেবে নয়, সমাজের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের অধিকার যেমন আছে, তেমনি অন্য কারো অধিকার রক্ষা করাও আমাদের দায়িত্ব। আসুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি। সমাজের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন সাধারণ জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করে লাভবান হতে না পারে এবং যেন তারা সিন্ডিকেট করে পেরে উঠতে না পারে, তাই আমরা সবাই যেন সচেতন থাকি।

লেখক পরিচিতি : মাহেদা হোসেন সাফি, এলএলবি (অনার্স, চতুর্থ সেমিস্টার), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে অস্থিরতার সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতি না মেনে টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প নেওয়া, কোথাও কাজ না করে এবং কোথাও নামমাত্র কাজ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মাত্র দুই দিনে ২১টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটোয়ারী অপসারণের এক দিন আগে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ১৭টি চেক ইস্যু করে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর আগে ১৪ আগস্ট চারটি প্রকল্পের বিপরীতে আরও ১৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যে দুই দিনের উত্তোলনের পরিমাণ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলা হয়েছে।
নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনায় কয়েকটি প্রকল্পে কাজ না হওয়া এবং কিছু প্রকল্পে আংশিক কাজ করে পুরো বিল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন ঠিকাদার দাবি করেছেন, তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ ও বিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও প্রকল্প সম্পর্কে তারা জানতেন না।
১৮ আগস্ট ইস্যু করা চেকগুলোর মধ্যে চেয়ারম্যানের আত্মীয় ঠিকাদার শেখ নজরুল ইসলামের নামে সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিল দেওয়ার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে বাবুরহাট মার্কেটের সাইট প্রস্তুত ও বালু ভরাটের দুটি কাজের বিপরীতে প্রায় ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, সেখানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ গাড়ি বালু ফেলা হয়েছিল এবং পুরো জায়গা ভরাট হয়নি। শেখ নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি যে কাজ করেছেন শুধু সেই কাজের বিল নিয়েছেন।
জেলা পরিষদের হলরুমের ওয়াল টাইলসকরণ এবং ভবন সংস্কার ও রংকরণ প্রকল্পে প্রায় ১৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে এসব কাজে বাস্তবে কাজ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বক্তব্যেও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। একজন ঠিকাদার প্রথমে হলরুমে কাজ না করার কথা বললেও পরে নিজের লাইসেন্সে কাজ হয়েছে বলে জানান। আরেক ঠিকাদার দাবি করেন, প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানতেন না এবং টাকা উত্তোলনের পর প্রকৌশলী তার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে যান।
এ ছাড়া আরও পাঁচটি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। চেয়ারম্যান অপসারিত হওয়ায় ওই অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি; পরে চেকগুলো বাতিল করা হয়। জেলা পরিষদ প্রশাসকের দাবি, এসব চেকের বিপরীতে কোনও ফাইল বা প্রকল্প ছিল না। সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, ফাইলগুলো সঠিক না হওয়ায় চেক বাতিল করা হয় এবং ভুল করে লেখা হয়েছিল।
জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আব্দুল কুদ্দুস ভাটের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু কাজ হয়নি, কিছু কাজ আংশিক হয়েছে এবং কয়েকটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, প্রকল্প পরিদর্শন ও কাজের পরিমাণ যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রকৌশলীর। সাবেক প্রকৌশলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাজ হওয়ার পরই বিল দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দুদক তথ্য চেয়েছে এবং তদন্ত করছে। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ দুদককে প্রয়োজনীয় তথ্য দেবে।
নথিতে থাকা অর্থ উত্তোলন, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহারের দাবি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। কোন প্রকল্প বাস্তবে হয়েছে, কে কাজ করেছেন, কে প্রত্যয়ন দিয়েছেন এবং অর্থ কার হাতে গেছে—এসব বিষয় এখন দুদকের তদন্তে নির্ধারিত হবে।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া।
প্রস্তাবিত ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠির সঙ্গে আইনের খসড়ার সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে জানা যায়, ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করতে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ৮ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
গঠিত কমিটি কর্তৃক একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী- খসড়া আইনটির ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার ‘এফবি বরকত’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখনও পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও আট জেলেকে। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ট্রলার মালিক সমিতি। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে গভীর সমুদ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির মালিক বরগুনার পাথরঘাটার আশরাফ কোম্পানি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার দিন আগে ১৩ জন জেলে পাথরঘাটা থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায় ‘এফবি বরকত’। গতকাল সোমবার বিকেলে সাগরে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে ডুবে যাওয়া ট্রলারের কাছাকাছি থাকা পাথরঘাটার অপর একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা পানিতে ভাসতে থাকা আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া জেলেদের বরাত দিয়ে তারা ট্রলারডুবির বিষয়টি মালিকপক্ষকে জানান। এ ঘটনায় এখনো পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে কাজ করছে ট্রলার মালিক সমিতি। নিখোঁজ পাঁচ জেলের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ‘এফবি বরকত’ নামে একটি ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার খবর তারা অপর একটি ট্রলারের জেলেদের মাধ্যমে পেয়েছেন। খবর পাওয়ার পর ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারের জন্য ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আট জেলেকে উপকূলে নিয়ে আসা হচ্ছে।