খুঁজুন
                               
, ,

পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা : অনিশ্চয়তায় বিপন্ন

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা : অনিশ্চয়তায় বিপন্ন

সহ-শিক্ষা কার্যক্রম কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায় না। বক্তৃতা, বিতর্ক, নাটক, আবৃত্তি, সংগীত কিংবা খেলাধুলা এসবই শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে সহায়তা করে। বিশেষত বিতর্ক প্রতিযোগিতা একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতা, বক্তৃতার গুণাবলি এবং দলগতভাবে কাজ করার ক্ষমতা বাড়ায়। বাংলাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়, তবে ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকা আয়োজন খুব বেশি নেই।
চাঁদপুর জেলায় ‘পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা’  এক অনন্য উদ্যোগ। একটানা ১২ বছর ধরে এ প্রতিযোগিতা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতর্কচর্চা, যুক্তিবাদী মনোভাব এবং মুক্তচিন্তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্যে এটি হয়ে উঠেছিলো বার্ষিক উৎসবের মতো। কিন্তু সম্প্রতি এ প্রতিযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এটি কি আর চালু থাকবে, না কি এ মূল্যবান উদ্যোগটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে?
প্রতিযোগিতার সূচনা : চাঁদপুর একটি সংস্কৃতি -শিক্ষাবান্ধব জেলা। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা বরাবরই মেধা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় সুনাম কুড়িয়েছে। কিন্তু ১৯৮৩ সালের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ধীরে ধীরে সীমিত হতে থাকে। দীর্ঘ সময় ব্যবধানে ২০০৯ সালে চাঁদপুর কণ্ঠ একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা হিসেবে জেলার শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু করে। পরে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়। এভাবেই জন্ম নেয় পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা।
প্রতিযোগিতার ইতিহাস : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-চাঁদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর অফিস যখন কালীবাড়ি মোড়ের নূর ম্যানশনে ছিলো তখন আমরা ইয়েস সদস্য হিসেবে সনাক-টিআইবির সাথে জড়িত ছিলাম। তখন সারা বাংলাদেশে মাত্র ৩৪টি সনাক ছিলো। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের দুই ধরনের কমিটি ছিলো, একটি হলো সনাক ও অন্যটি ইয়েস। তখনকার সনাক-টিআইবি, চাঁদপুর গঠিত হয়েছিল চাঁদপুরের সুধীজনদের একাংশ নিয়ে। তৎকালীন সনাক সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক মনোহর আলী (বর্তমানে প্রয়াত) এবং সনাক সদস্য ছিলেন প্রথিতযশা চিকিৎসক আলহাজ্ব ডা. এম. এ. গফুর, ডা. মো. এ কিউ রুহুল আমিন, কাজী শাহাদাত, অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন খান, প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মোশারেফ হোসেন, রূপালী চম্পক ও কৃষ্ণা সাহাসহ বিশিষ্টজনরা। তখন টিআইবির আয়োজনে জাতীয়ভাবে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সেখানে চাঁদপুর থেকে ইয়েস সদস্য ওমর ফারুক ফাহিম (বর্তমানে জজশীপে কর্মরত) অংশগ্রহণ করেন। ফাহিম সেখানে অংশগ্রহণ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। তিনি সারাদেশের সকল বিতার্কিককে পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছিলেন। অনুজপ্রতিম ওমর ফারুক ফাহিমের সেই বিজয় সারাদেশের সাথে চাঁদপুরে আলোচিত বিষয় ছিলো। আর এই ফাহিমের বিতর্কের জয়গানের আলোচনার মাধ্যমেই চাঁদপুরে কীভাবে বিতর্ক চর্চা শুরু করা যায় সেটি নিয়ে ভাবতে থাকেন সনাক-টিআইবির ইয়েস সদস্যরা। তখনকার ইয়েস সদস্যদের মধ্যে ইবনে আজম সাব্বির, হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, এহসান ফারুক ছন্দ, নাঈম হোসেন, উজ্জ্বল হোসাইন, নুরে আলম নয়ন, কেএম মাসুদ, দৌলত হোসেন শান্ত, ইকরাম হোসেন পুতুল, নেয়ামুল হক, বিপ্লব, আছমা আক্তার আঁখি, নাজিয়া আহমেদ পিকসী, ওমর ফারুক ফাহিমসহ আরো অনেকেই জড়িত ছিলেন। ইয়েস সদস্যদের মধ্যে আবার দুটি ভাগ ছিলো। এদের কিছু সংখ্যক নিয়ে সনাকের গণনাট্য দল ছিলো এবং কিছু সংখ্যককে নিয়ে ইয়েস কার্যক্রম পরিচালিত হতো। মূলত গণনাটক আর ইয়েস সদস্য সকলে ইয়েস সদস্য হিসেবেই পরিচিত ছিলো। ওমর ফারুক ফাহিমের বিতর্কের সাফল্যের কারণে ইবনে আজম সাব্বিরের নেতৃত্বে ইয়েস মিটিংয়ের আলোচনায় চাঁদপুরে বিতর্ক চর্চা এবং বিতর্ক সংগঠন করার প্রস্তাব আসে। যেহেতু টিআইবি একটি স্বতন্ত্র সংগঠন, সেহেতু সনাক-টিআইবির ব্যানারে বিতর্ক চর্চাকে সাংগঠনিক কাঠামোতে নেয়া যায়নি। কারণ, টিআইবির ব্যানারে কোনো সংগঠন করার এখতিয়ার ছিলো না। তাই ইয়েস সদস্যরা চিন্তা করে, যে কোনোভাবেই হোক একটি বিতর্ক সংগঠনের করার ব্যবস্থা করতে হবে।
পরবর্তী ইয়েস মিটিংয়ে বিতর্ক সংগঠন করার বিষয়ে ইয়েস সদস্যরা সবাই আলোচনায় মিলিত হন। সেই সভায় সনাক-টিআইবি কার্যালয়ে সকলের প্রস্তাব ও সম্মতির ভিত্তিতে একটি নাম নির্ধারণ করা হয়। নামটি হচ্ছে চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলন, ইংরেজিতে চাঁদপুর ডিবেট মুভমেন্ট, সংক্ষেপে সিডিএম। ইয়েস সদস্য ইবনে আজম সাব্বির, ওমর ফারুক ফাহিম, আহসান ফারুক ছন্দ, আশিক-বিন-ইকবাল আনন্দ এবং আমিসহ একটি খসড়া কমিটির তালিকাও প্রস্তুত করি। আমি বয়সে সিনিয়র হওয়ায় সকলে আমাকে সভাপতি হওয়ার জন্যে অনুরোধ জানান। কিন্তু আমি দেখেছি যে, আমার দ্বারা বিতর্কের মঞ্চে বিতর্ক করা সম্ভব নয়, তাই বিতর্ক সংগঠক হতে পারবো এটাই আমার জন্যে গর্বের বিষয় ছিলো। ইবনে আজম সাব্বিরকে সভাপতি এবং ওমর ফারুক ফাহিমকে সেক্রেটারী করে চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলনের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সহ-সভাপতি নির্বাচন করা হয় আমাকে। এভাবেই শুরু হলো চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলনের বিতর্ক চর্চা। বিতর্ক আন্দোলন সৃষ্টির পর থেকেই চাঁদপুর রোটারী ভবনে তখন এটির প্রথম আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা করা হয় প্রয়াত অধ্যাপক মনোহর আলী স্যারকে এবং সাথে উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তৎকালীন সনাক সদস্যদের। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী শাহাদাত, প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মোশারেফ হোসেন, অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার প্রমুখ। প্রথম বিতর্ক কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় চাঁদপুর রোটারী ভবনে, সেখানে আমাদের সকলের উপস্থিতিতে খুব সুন্দর একটি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এরপর আর চাঁদপুরে বিতর্ক চর্চার জন্যে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শুরু থেকেই চাঁদপুরে বিশিষ্টজনদের নামে বিতর্ক উৎসব করা হতো। এরপর চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলনের আয়োজনে চাঁদপুর ক্লাবে জাতীয় বিতর্ক উৎসব করা হয়। এ উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাড. ইকবাল-বিন-বাশার। আমরা যারা সামনে থেকে বিতর্ক যোদ্ধা হিসেবে কাজ করি, তাদের নেপথ্যে ছিলেন ইকবাল-বিন-বাশার ও শাহিদুর রহমান চৌধুরীর মতো সমাজসেবীরা। তবে বিতর্ক চর্চার প্রসার ও প্রচারের কাজটি খুবই সহজতর হয়েছে শুধুই চাঁদপুর কণ্ঠ ও কাজী শাহাদাতের মতো বিতর্ক-জ্বরে আক্রান্ত মানুষের জন্যে।
বিতর্ক আন্দোলনের শুরুতেই  দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ এবং টাইটেল স্পন্সর হিসেবে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সকে সংযুক্ত করা হয়। কয়েক বছর চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে জেলাব্যাপী একসাথে বিতর্ক চর্চা করার পর চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলন তাদের নিজস্ব গণ্ডিতে ফিরে যায়। ঠিক তখনই কাজী শাহাদাত চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে সাথে ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজন চন্দ্র দে, সাইফুল ইসলাম, আরিফ হোসেনসহ আরো অনেকে।
কাজী শাহাদাত বিতর্কের প্রাণপুরুষ। একটু রেগে গেলেও কাজের বেলায় আসলে তিনিই কাজী। তার কাজে রয়েছে একটি নিজস্বতা। কোনো কাজ সঠিকভাবে না হলে তিনি সেটি কখনোই করেনই না। আর তিনি যে কাজে হাত দেন সেটি অবশ্যই সঠিকভাবে করেই ছাড়েন। চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন শুরু থেকেই যাত্রা করে এ পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা সদর ও উপজেলাগুলোতে বিতর্কের প্রচার-প্রসার ও বীজ বপন করে আজ ফলবান বৃক্ষ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। যার ফলস্বরূপ প্রতিবছর পাঞ্জেরী-চাঁদপুর বিতর্ক প্রতিযোগিতার মহাযজ্ঞ চলে। ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ১১টি প্রতিযোগিতার সফল সমাপ্তির পর করোনা মহামারীর কারণে দ্বাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আসর হয়নি। সেটি হয়েছে ২০২৩-২৪ বছরে।
স্বপ্নদ্রষ্টার ভূমিকা : এই প্রতিযোগিতার আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন চাঁদপুরের বিতর্ক জগতের কর্ণধার কাজী শাহাদাত। তিনি শুধু সংগঠকই নন, একজন দক্ষ বিতর্ক সংগঠক হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে বিতর্কচর্চায় অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর সঙ্গে আরও ক’জন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি দীর্ঘ ১২ বছর নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাদের প্রচেষ্টা ছাড়া এতো বড়ো একটি প্রতিযোগিতা ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা সম্ভব হতো না। তারা বিচারক খুঁজে বের করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বুদ্ধ করা, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, স্পন্সর সংগ্রহ করা সব কিছুতেই সক্রিয় ছিলেন। ফলে চাঁদপুরে একটি শক্তিশালী বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে উঠে।
শিক্ষার্থীদের বিকাশ ও প্রভাব : বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তি-তর্কের সঠিক চর্চা গড়ে তোলে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চাঁদপুরের বহু শিক্ষার্থী পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কে সাফল্য অর্জন করেছে। অনেকে আবার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিখ্যাত বিতর্ক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ প্রতিযোগিতা শুধু মেধা বিকাশই করেনি, বরং শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করেছে। তারা জনসম্মুখে সাবলীলভাবে বক্তব্য রাখার অভ্যাস অর্জন করেছে। অনেক শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতা থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলি শিখে নিয়েছে, যা পরবর্তীতে তাদের জীবনে কাজে লেগেছে।
১২ বছরের ধারাবাহিকতা একটি মাইলফলক : একটানা ১২ বছর ধরে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ প্রতিযোগিতা আয়োজন চাঁদপুরে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে খুব কম জেলায় এতো দীর্ঘ সময় ধরে জেলা পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতা টিকেছিলো। এ কারণে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্যে এক অনন্য অর্জন।
চ্যালেঞ্জ ও সংকট : তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রতিযোগিতার সামনে নানা চ্যালেঞ্জ এসেছে। প্রধান সমস্যাগুলো হলো :
অর্থনৈতিক সংকট : স্পন্সরদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা আয়োজন কঠিন হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনিক জটিলতা : অনেক সময় স্থানীয় প্রশাসন বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত সহযোগিতা দেয় না।
নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়া : মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতর্কের প্রতি আগ্রহ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
সংগঠকদের ক্লান্তি : দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করলেও নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি, ফলে পুরানো সংগঠকদের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে ১২ বছরের একটানা এই প্রতিযোগিতার ইতি টানতে হয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ : প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে চালু হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। একদিকে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ হ্রাস এসব মিলিয়ে আয়োজন ঝুঁকির মুখে। যদি এটি বন্ধ হয়ে যায় বা চালু করা না যায়, তাহলে চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্যে একটি বড়ো সুযোগ হারিয়ে যাবে। এক সময় হয়তো এটি ইতিহাসেই থেকে যাবে। তবে অনেকেই বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা থাকলে আবারও এ প্রতিযোগিতা নবউদ্যমে শুরু হতে পারে। এর জন্যে প্রয়োজন স্থানীয় সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নতুন সংগঠক তৈরির উদ্যোগ এবং সরকারের সহযোগিতা।
সমাধান ও সুপারিশ : স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। জেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাঞ্জেরী বা অন্যান্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে যুক্ত করতে হবে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিতর্ক ক্লাব গঠন করে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ জাগাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিতর্কের প্রচার করতে হবে।
সারমর্ম : পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুধু একটি সহ-শিক্ষা কার্যক্রম নয়; এটি চাঁদপুরের তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, যুক্তি ও সৃজনশীলতার বিকাশের প্রতীক ছিলো। একটানা ১২ বছর ধরে যে মাইলফলক অর্জিত হয়েছে, সেটি হারিয়ে গেলে শুধু একটি প্রতিযোগিতাই বন্ধ হবে না, বরং শিক্ষার্থীদের জন্যে একটি অনন্য শিক্ষার ক্ষেত্রও সংকুচিত হবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু রাখা এবং আরও প্রসারিত করা জরুরি। চাঁদপুরবাসীকে এই উদ্যোগ রক্ষার জন্যে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন।

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে ও সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের দায়িত্ব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ শৃঙ্খলা পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ এর আগে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। এ সময় তিনি উপস্থিত সেনাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। এরপরে তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।

দুই বছর পর স্বস্তি, টাকা পাচ্ছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
দুই বছর পর স্বস্তি, টাকা পাচ্ছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা

দীর্ঘ দুই বছরের অনিশ্চয়তা আর ভোগান্তির পর স্বস্তি ফিরছে ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে। আজ থেকে আবারও স্বাভাবিকভাবে টাকা তুলতে পারছেন গ্রাহকরা। নেই আগের মতো নির্দিষ্ট অঙ্কের সীমাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন নিজের জমানো টাকা তুলতে না পারার পর অর্থ হাতে পেয়ে খুশি গ্রাহকরা। ব্যাংক কর্মকর্তারাও বলছেন, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। এখন প্রত্যাশা, ঘুরে দাঁড়াবে ন্যাশনাল ব্যাংক।
নিজের জমানো টাকা হাতে পাওয়ার স্বস্তি যেন গ্রাহকদের চোখেমুখে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর নানা দুশ্চিন্তার পর আবারও প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারছেন তারা। কারও টাকা লাগবে সংসারের খরচে, কারও ব্যবসায়, আবার কারও জরুরি প্রয়োজনে। এত দিন এসব চাহিদা পূরণে ছিল নানা সীমাবদ্ধতা। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে স্বস্তি ফিরেছে গ্রাহকদের মধ্যে।
অনেকগুলো গ্রাহকের সাথে কথা বলেছে ঢাকা জার্নাল। তারা জানিয়েছে, ‘অনেক দিন পর নিজের টাকা তুলতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আগে টাকা তুলতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হতো। এখন টাকা তুলতে পারছি, এতে আমরা খুবই খুশি’।
গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোই এখন ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল ভিত্তি গ্রাহকের বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা পরিশোধ এবং সেবার মান উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের বাংলামোটর শাখার ম্যানেজার মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন ঢাকা জার্নালকে বলেন, ‘গ্রাহকদের টাকা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা চাই, গ্রাহকরা আবারও স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকিং সেবা নিন এবং আমাদের ওপর আস্থা রাখুন’।
তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে শুধু টাকা উত্তোলনের সুযোগ চালু রাখাই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা, আমানতের নিরাপত্তা এবং গ্রাহকদের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। গ্রাহকদের আস্থা ফিরে এলে তা ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নিজের জমানো টাকা তুলতে পারছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা। এতে স্বস্তি ফিরলেও ব্যাংকটির সামনে এখন বড় দায়িত্ব, এই স্বাভাবিক লেনদেন ধরে রাখা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। গ্রাহকদের প্রত্যাশা, আবারও আগের অবস্থানে ফিরে আসবে ন্যাশনাল ব্যাংক। গ্রাহকের আস্থা আর স্বাভাবিক লেনদেনের ধারাবাহিকতাই পারে ন্যাশনাল ব্যাংককে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে এগিয়ে নিতে।

হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা ইরানের

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সাম্প্রতিক সময়ে এই নৌপথে একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছে বাহিনীটি।
এ ছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তার ওপর নির্ভর করে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলেও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে পানির নিচে থাকা মাইনের আঘাতে একটি বড় তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার খবর প্রকাশিত হয়। এর পরদিন সৌদি আরবের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এলাকায় আরও অন্তত দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
পরপর এসব হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই প্রণালিটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিল আইআরজিসি। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে এ নৌপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এর মধ্য দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তেলের দামেও ঊর্ধ্বগতির চাপ তৈরি হতে পারে। সূত্র:আল-জাজিরা, ইরনা