খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মানবতা : সঙ্কটময় সময়ে সম্প্রীতিই একমাত্র পথ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
মানবতা : সঙ্কটময় সময়ে সম্প্রীতিই একমাত্র পথ

মানবতা একটি সর্বজনীন অনুভূতি, যা মানুষকে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি, এবং সহমর্মিতা দেখাতে উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান সময়ে মানবতার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। প্রযুক্তি, আধুনিকতা, এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে মানুষ তার মানবিক গুণাবলি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই, সমাজ ও বিশ্বের কল্যাণে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

মানবতা এবং এর তাৎপর্য : মানবতা হলো একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি। এটি কোনো ধর্ম, বর্ণ বা জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সর্বজনীন। যখন একজন ব্যক্তি অন্যের কল্যাণে কাজ করে, তখন তিনি মানবতাকে এগিয়ে নিয়ে যান। এটি কেবল সাহায্য নয়, বরং একটি মনের অবস্থা যেখানে মানুষ অন্যদের প্রতি দয়া, উদারতা এবং সেবার মনোভাব দেখায়। মানবতার সেবা শুধু অন্যের উপকারের জন্য নয়, নিজের আত্মার শান্তি এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য অপরিহার্য। এর মধ্যে রয়েছে : সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠা-মানবতার সেবার মাধ্যমে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান কমানো যায়। সম্প্রীতি বজায় রাখা-একে অপরের সাহায্যে সমাজে শান্তি এবং সম্প্রীতি বজায় থাকে। মর্যাদা রক্ষা-প্রত্যেক মানুষের জীবনের গুরুত্ব উপলব্ধি করা এবং তাদের মর্যাদাকে সম্মান জানানো মানবতার অংশ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদান-শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো মানবতাবাদী দায়িত্ব।

মানবতার সেবার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ : মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার পথে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নিজেদের স্বার্থ ছাড়া অন্যদের সাহায্য করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেছেন। বৈষম্য এবং দারিদ্র্যের কারণে মানুষ একে অপরের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। সমাজে সচেতনতার অভাব অনেক সমস্যার মূল কারণ। ধর্ম, জাতি, এবং ভাষার ভিত্তিতে বিভাজন মানবতার সেবার পথে একটি বড় বাধা।

কীভাবে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা যায় : মানবতার সেবায় নিজেকে নিবেদিত করার জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির সচেতন প্রচেষ্টা প্রয়োজন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাথে যুক্ত হয়ে সমাজের উন্নয়নে কাজ করা। অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। অশিক্ষিত জনগণের মাঝে শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া মানবতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দরিদ্র শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পরিবেশের সুরক্ষা মানবতারই একটি অংশ। বৃক্ষরোপণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার, এবং পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে মানবতা রক্ষা করা। থেকে বঞ্চিত মানুষদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। রক্তদান, অঙ্গদান এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া।অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য যেকোনো বিপর্যয়ের সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো। যেমন : বন্যা, ভূমিকম্প, কিংবা মহামারীর সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে রোটারী, লায়ন, রেড ক্রিসেন্ট, ইনার হুইলসহ এ জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কাজগুলো করা।

মানবতার সেবা এবং ধর্ম : প্রত্যেক ধর্ম মানবতার সেবার উপর গুরুত্বারোপ করে। ইসলাম বলে, মানবতার সেবা করা মহান কাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা একে অপরের প্রতি দয়া প্রদর্শন করো। হিন্দু ধর্মে মানবসেবা পরম ধর্ম হিসেবে বিবেচিত। খ্রিস্টধর্ম বলে, তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসো। বৌদ্ধধর্মে সহমর্মিতা এবং দয়াকে সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়া হয়।

উদাহরণস্বরূপ মহান ব্যক্তিত্ব ; ইতিহাসে বহু ব্যক্তিত্ব মানবতার সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। মাদার তেরেসা-তিনি তার পুরো জীবন দরিদ্র ও অসহায়দের সেবায় কাটিয়েছেন। নেলসন ম্যান্ডেলা, তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন। বেগম রোকেয়া, নারীদের শিক্ষা এবং অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আব্রাহাম লিংকন, দাসত্ব প্রথার অবসান ঘটিয়ে মানবতার সেবা করেছ।

মানবতার সেবা এবং আধুনিক প্রজন্ম : বর্তমান প্রজন্মের কাছে মানবতার সেবা করার অনেক সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তারা দ্রুত সমাজের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করতে পারে। তরুণদের উচিত তাদের প্রতিভা এবং শক্তি মানবতার কল্যাণে ব্যবহার করা। এসো মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করি এই আহ্বান কেবল একটি বাক্য নয়; এটি একটি দায়িত্ব, একটি নৈতিক আদর্শ। মানবতার সেবা আমাদের সমাজকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং উন্নত করতে সাহায্য করে। আমরা যদি একে অপরের পাশে দাঁড়াই, তবে একটি মানবিক পৃথিবী গড়া সম্ভব। তাই আসুন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করি এবং সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করি।মানবতার সেবা কেবল দয়া প্রদর্শন নয়। এটি সমাজের ভিত্তি গড়ে তোলার একটি প্রক্রিয়া। এটি ব্যক্তি থেকে শুরু করে পুরো জাতির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। একজন মানুষ যখন মানবতার কল্যাণে কাজ করেন, তখন তার প্রভাব সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে অনেকের জীবনে পড়ে। মানবতার সেবা কেবল আর্থিক সাহায্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সময়, জ্ঞান, এবং সহানুভূতি প্রদানের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দৈনন্দিন জীবনে মানবতার সেবা : মানবতার সেবা বড় কিছু করতে হবে এমন নয়; এটি দৈনন্দিন ছোট ছোট কাজের মাধ্যমেও করা সম্ভব। অন্যকে সাহায্য করা : রাস্তায় অসহায় কারো পাশে দাঁড়ানো বা অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছাতে সাহায্য করা। সময় দান : বৃদ্ধাশ্রম বা এতিমখানায় সময় কাটানো। সচেতনতা বৃদ্ধি : জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এবং পরিবেশ সংক্রান্ত সচেতনতা তৈরি করা। পরিচ্ছন্নতা : সমাজের পরিবেশ সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা।

মানবতার সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার : প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট মানবতার সেবায় নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। উদাহরণস্বরূপ : অনলাইন দান প্ল্যাটফর্ম : বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় অনলাইনের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম : দারিদ্র্যপীড়িত মানুষদের অবস্থা তুলে ধরে সমাজের সচেতনতা বাড়ানো। মানবিক উদ্যোগের প্রচার : অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা। ডিজিটাল শিক্ষা : অনলাইন শিক্ষা প্রদান করে শিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত করা।

মানবতার সেবা এবং নারীর ভূমিকা : নারীরা সমাজের অর্ধেক। তারা মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ : শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী শিক্ষকরা সমাজে শিক্ষার আলো ছড়াতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্বাস্থ্যসেবায় নারী ডাক্তার, নার্স, এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের জীবন বাঁচাতে দিন-রাত কাজ করেন। পরিবারে মানবিক মূল্যবোধ, একজন মা সন্তানের মধ্যে মানবিক গুণাবলী গড়ে তোলার প্রধান ভূমিকা পালন করেন।

সংকটময় সময়ে মানবতার সেবা : সংকটকালীন সময়ে মানবতার সেবা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোভিড-১৯ এর সময় ডাক্তার, নার্স, এবং স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ভূমিকম্প, কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের খাদ্য, আশ্রয়, এবং চিকিৎসা প্রদান করা। যুদ্ধ ও শরণার্থী সঙ্কট, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

সমাজের উন্নয়নে মানবতার সেবার অবদান : মানবতার সেবার মাধ্যমে সমাজে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সম্ভব। দারিদ্র্য দূরীকরণ-দারিদ্র্যের চক্র থেকে মানুষকে বের করে এনে তাদের স্বাবলম্বী করা। শিক্ষা ও কর্মসংস্থান-দরিদ্রদের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। সমাজের অগ্রগতি-মানবতার সেবা সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সমঝোতা বৃদ্ধি করে।

মানবতার সেবার নৈতিক দিক : মানবতার সেবা কোনো প্রতিদান পাওয়ার প্রত্যাশায় করা হয় না। এটি আত্মিক এবং নৈতিক দায়িত্ব।অন্যের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমে যে মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কিছুতে পাওয়া সম্ভব নয়। সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের উচিত নিজের ভূমিকা পালন করা।: মানবতার সেবা আমাদের নৈতিক চরিত্রকে উন্নত করে এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা দেয়।

শিক্ষার্থীদের মানবতার সেবায় অংশগ্রহণ : শিক্ষার্থীরা সমাজের ভবিষ্যৎ। তারা মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজসেবা প্রকল্প বা ক্লাবের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করা। স্কুল, কলেজে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা। স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে কাজ করা।

দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ : বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা মানবতার সেবায় অসাধারণ অবদান রেখেছেন। রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট : দুর্যোগকালীন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। রোটারী ও রোটার‌্যাক্ট-বিভিন্ন সময়ে দেশে প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও মহামারিসহ সঙ্কটকালীন সময়ে রোটারী ও রোটার‌্যাক্ট মানবতার সেবায় কাজ করছে। গ্রামীণ ব্যাংক : ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আশা সংস্থা : গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

সর্বোপরি-এসো মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করি—এই আহ্বানকে বাস্তবায়িত করার জন্য আমাদের প্রত্যেককে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, সংগঠক, লেখক ও সাংবাদিক, চাঁদপুর। যোগাযোগ : 01710802899, rtrujjal@gmail.com

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।