খুঁজুন
                               
, ,

ক্যামব্রিজ ও লেভেলে সাত বিষয়ে এ প্লাস পেলেন সাফওয়ান হোসেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
ক্যামব্রিজ ও লেভেলে সাত বিষয়ে এ প্লাস পেলেন সাফওয়ান হোসেন

ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের জুন ২০২৬ Cambridge O Level পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছেন সাফওয়ান হোসেন। রাজধানীর Scholastica Uttara-এর এই মেধাবী শিক্ষার্থী সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে প্রতিটিতেই A + গ্রেড অর্জন করেছেন। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, Mathematics Syllabus D বিষয়ে সাফওয়ান হোসেন পেয়েছেন ৯৯ নম্বর, Physics-এ ৯৮, Biology-তে ৯৬, English Language-এ ৯৫, Chemistry-তে ৯৪, Additional Mathematics-এ ৯৩ এবং Bengali-তে ৯২ নম্বর। সাতটি বিষয়ের মোট নম্বরের গড় দাঁড়িয়েছে ৯৫.৬ শতাংশ।
বিশেষ করে Mathematics-এ ৯৯ এবং Physics-এ ৯৮ নম্বর অর্জন তাঁর অসাধারণ একাডেমিক দক্ষতার প্রমাণ বহন করছে। বিজ্ঞান ও গণিতের পাশাপাশি ভাষাভিত্তিক বিষয়েও সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন তাঁর বহুমুখী মেধা ও ধারাবাহিক অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়েছে। সাফওয়ান হোসেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ডাচ-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (DBCCI) প্রেসিডেন্ট শাখাওয়াত হোসেন মামুন এবং শিল্প উদ্যোগতা শেখ সুবর্ণা রসুলের জ্যেষ্ঠ সন্তান। দুই ভাইয়ের মধ্যে সাফওয়ান বড় তাঁর ছোট ভাই সারওয়ান হোসেন। সাফওয়ানের এই কৃতিত্বে তাঁর পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর এমন সাফল্য শুধু পরিবারের জন্য নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দেশের জন্যও গর্বের বিষয়।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থায় এমন ফলাফল অর্জনের পেছনে শিক্ষার্থীর মেধার পাশাপাশি নিয়মিত অধ্যয়ন, কঠোর পরিশ্রম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অভিভাবকের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের যথাযথ দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাফওয়ানের সাত বিষয়ে A + অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এই সাফল্য দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীকেও পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সাফওয়ান হোসেনের এই অসাধারণ সাফল্যে দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে তিনি দেশের জন্য আরও গৌরব বয়ে আনবেন এমন প্রত্যাশা সবার।

সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সম্মেলনের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে, পেছনে যেতে চাই না, সামনে এগিয়ে যেতে চাই। সবাইকে নিয়ে সামনে যেতে চাই। সামনে যেতে হলে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। একজন রাজস্ব কর্মকর্তার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশ একটি পরিবারের মতো। সেখানে রাজস্ব বিভাগ অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, যেটি অতীতে হয়ে গেছে, সেটা হয়ে গেছে। আমরা সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আপনারা সরকারের কাছে যা চাইছেন, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সৎ, দক্ষ, তাদের আমরা আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দিতে চাই।
সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও এনবিআরের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব যোগ দিয়েছেন। সম্মেলনে রাজস্ব বিভাগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া রাজস্ব কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নে সরাসরি জবাব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

গরিবের চিকিৎসাসেবার মানবতার বাতিঘর ঘিরে পুরানবাজারবাসীর মধ্যে স্বস্তি

১০৫ বছরের দাতব্য চিকিৎসালয় ফের চালু হচ্ছে চাঁদপুরে

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
১০৫ বছরের দাতব্য চিকিৎসালয় ফের চালু হচ্ছে চাঁদপুরে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে চাঁদপুর পৌরসভার ১০৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী দাতব্য চিকিৎসালয়। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় পুরানবাজারসহ আশপাশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাত্র ২ টাকার বিনিময়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছে মানবতার বাতিঘর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
স্থানীয়দের মতে, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চাঁদপুর পৌরসভার এই দাতব্য চিকিৎসালয় নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে পুরানবাজার ও আশপাশের এলাকার দরিদ্র, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষ নামমাত্র খরচে এখান থেকে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতেন। ফলে চিকিৎসালয়টি শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নয় বরং স্থানীয় মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশে পরিণত হয়েছে।
তবে গত বছর তৎকালীন পৌর প্রশাসনের সময়ে নানা কারণ দেখিয়ে চিকিৎসালয়টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন নিম্নআয়ের রোগীরা। অল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ হারিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র কিংবা ফার্মেসির ওপর নির্ভর করতে থাকেন। এতে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যায়।
চিকিৎসালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এটি পুনরায় চালুর দাবি জোরালো হতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহলের পাশাপাশি গণমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
গণমাধ্যমকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন।
চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, জেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা করেন। সকালের উদ্দেশ্য ছিল—পুরানবাজারের দরিদ্র মানুষের দীর্ঘদিনের এই চিকিৎসাসেবাটি যেন আবারও চালু হয়।
এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছেন ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ। ঢাকায় অবস্থান করেও তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পুরানবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে ভূমিকা রাখেন।
সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর পথ তৈরি হয়েছে। চাঁদপুর পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি এলজিডি) মো. এরশাদ উদ্দিনের উদ্যোগকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চিকিৎসালয়টি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে পুরানবাজার ও আশপাশের এলাকার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা নামমাত্র খরচে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
চিকিৎসালয়টির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি চাঁদপুর পৌরসভার অন্যতম প্রাচীন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। সময়ের সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার প্রসার ঘটলেও দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা কমেনি। বরং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ ধরনের সেবাকেন্দ্রের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
সচেতন মহলের অভিমত, চিকিৎসালয়টি শুধু পুনরায় চালু করলেই হবে না; এর সেবার মানও নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও তার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারবে।
তাদের মতে, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসালয়কে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সীমিত পরিসরে হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ, বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা হলে এটি দরিদ্র মানুষের জন্য আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পুরানবাজারের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আগে সামান্য অসুস্থতা হলেও অনেকে এই চিকিৎসালয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারতেন। মাত্র ২ টাকা খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ দরিদ্র মানুষের জন্য ছিল বড় সহায়তা। চিকিৎসালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। পুনরায় চালুর উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসালয়টির কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগের মতোই দরিদ্র মানুষের সেবায় প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এর সেবা আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী বলেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা তার পেশাগত দায়িত্ব। তবে পুরানবাজারের সন্তান হিসেবে এই চিকিৎসালয়ের সঙ্গে তার আবেগও জড়িয়ে আছে। পুরান বাজারের বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর। এখান থেকে নতুন বাজার চিকিৎসা সেবা নিতে গেলে কমপক্ষে ১০০ টাকা যাতায়াত বাড়ার খরচ হয়। এটি চালু হলে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা পাবে এতে করে তারা বড় কোন রোগে আক্রান্ত হবে না। তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরে এখানকার দরিদ্র মানুষ নামমাত্র মূল্যে যে চিকিৎসাসেবা পেতেন, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি বিভিন্ন মহলে তুলে ধরেছেন। চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর উদ্যোগ সফল হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে এটি আমার জন্য বড় একটি প্রাপ্তি। একই সঙ্গে পুরানবাজারের সন্তান হিসেবে গরিব মানুষের এই চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রটি আবার চালু হতে যাচ্ছে—এটি আমার জন্য অন্যরকম তৃপ্তির বিষয়।
চাঁদপুর পৌরসভার এই ১০৫ বছরের পুরোনো দাতব্য চিকিৎসালয় পুনরায় চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের কার্যক্রমই শুরু হচ্ছে না; বরং দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার একটি পুরোনো ঐতিহ্যও নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ‘মানবতার বাতিঘর’ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে—এমন প্রত্যাশাই পুরানবাজারবাসীর।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল-সবুজের ঐতিহাসিক জয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল-সবুজের ঐতিহাসিক জয়

যা আগে কখনো করতে পারেনি, ডারউইনে সেটিই করে দেখাল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে প্রথমবার টেস্টে হারিয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রান। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় অবশ্য দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন প্রথম ইনিংসের শতকজয়ী তানজিদ হাসান। জশ হ্যাজলউডের দুর্দান্ত বলে কোনো রান না করেই বোল্ড হন তিনি। অস্ট্রেলিয়া এরপর চাপ তৈরির চেষ্টা করলেও হাতের মুঠোয় আসা ইতিহাস আর ফসকে যেতে দেয়নি বাংলাদেশ। ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
এই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় তারা। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের মধ্যে একমাত্র স্টিভ স্মিথই প্রতিরোধ গড়তে পেরেছিলেন, করেন ৭১ রান। জবাবে ব্যাট হাতেও আধিপত্য দেখায় বাংলাদেশ। তানজিদের ঐতিহাসিক ১০১, অধিনায়ক শান্তর ৮৪ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানে ৪২৬ রান তোলে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট শতকটি আসে তানজিদের ব্যাট থেকে। প্রথম ইনিংস শেষে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে রাখার একমাত্র নায়ক ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট শতক তুলে নিয়ে ১০৪ রান করেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট তুলে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশের সামনে ৫৭ রানের লক্ষ্য
বল হাতে এবার নেতৃত্ব দেন মিরাজ। স্টিভ স্মিথ, অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নকে ফিরিয়ে ৬৬ রানে নেন ৫ উইকেট। কামিন্সকে আউট করে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক হাজার রান ও ১০০ উইকেটের ডাবলও পূর্ণ করেন তিনি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচে হাসানের শিকার দাঁড়ায় ৯টি।
২০০৩ সালের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়েই ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। দেশটির মাটিতে এটি টাইগারদের প্রথম টেস্ট জয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সব মিলিয়ে দ্বিতীয়। ২০১৭ সালে মিরপুরে ২০ রানের জয়টি ছিল তাদের আগের একমাত্র সাফল্য।
ডারউইনের এই জয় শুধু একটি অঘটন নয়। চার দিন ধরে ব্যাটিং, বোলিং ও মানসিক দৃঢ়তায় অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে পাওয়া বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ ও ২৮৪
বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ৫৭/১ (১৪.২ ওভার)
ফল: বাংলাদেশ ১ উইকেটে জয়ী।