খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

প্রিয় বিদ্যালয় : স্মৃতির অ্যালবামে ভাসা দিনগুলো

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
প্রিয় বিদ্যালয় : স্মৃতির অ্যালবামে ভাসা দিনগুলো

আমিরাবাদ গোলাম কিবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, যা বহু শিক্ষার্থীর জীবনের ভিত্তি স্থাপনের স্থান হিসেবে পরিচিত, আমার শৈশব এবং কৈশোরের এক অনন্য স্মৃতিস্তম্ভ। বিদ্যালয়ের স্নিগ্ধ পরিবেশ, শিক্ষকদের স্নেহময় আচরণ, আর বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো হাসিখুশি মুহূর্তগুলো আজও আমার হৃদয়ে জীবন্ত। প্রথম দিন বিদ্যালয়ে যাওয়ার স্মৃতিটি এখনো স্পষ্ট। অজানা এক উত্তেজনা, নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আনন্দ এবং শিক্ষকদের সম্মুখীন হওয়ার উত্তাপ—সব মিলিয়ে এক ভিন্ন অনুভূতি ছিল। বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ, যেখানে বড় বড় গাছের ছায়া আর একটি সুন্দর খোলা মাঠ ছিল, মনে করিয়ে দেয় শৈশবের নির্ভেজাল আনন্দ। প্রথমদিনের সেই পরিচিতি ক্লাসে শিক্ষক আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য এবং গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই বিদ্যালয় কেবল পড়াশোনার স্থান নয়, এটি তোমাদের মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ভিত্তি। সেই কথাগুলো আজও আমার জীবনের পথপ্রদর্শক।
আমিরাবাদ গোলাম কিবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আমাদের সবারই ছিল গভীর শ্রদ্ধা। তারা ছিলেন কেবল শিক্ষক নন, আমাদের অভিভাবকও। শিক্ষক তাবারক উল্লাহ স্যার, বর্তমান প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন স্যার গণিত শেখানোর সময় যে ধৈর্য এবং কৌশল দেখাতেন, তা আমাকে গণিতে আত্মবিশ্বাসী হতে শিখিয়েছে। অন্যদিকে, নিরঞ্জন চক্রবর্তী বাংলা পড়ানোর সময় গল্পের ভেতর দিয়ে আমাদের ভাবনার দিগন্ত প্রসারিত করতেন। সবসময় মনে পড়ে প্রিয় স্যারদের প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম, এনামুল হক, হযরত আলী স্যার, বর্তমান প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন বেপারী, কাজল স্যার, নিরঞ্জন চক্রবর্তী, ভুবেনস্বর স্যার, মাওঃ শামছুল ইসলাম স্যার, জেসমিন ম্যাডামসহ আরো অনেককে।

স্মরণীয় একটি ঘটনা হলো, একবার বার্ষিক পরীক্ষার আগে আমি ইংরেজি একটি অধ্যায় নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলাম। আমাদের ইংরেজি শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম স্যার নিজ উদ্যোগে বাড়তি সময় দিয়ে শেখানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই একান্ত প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ আমি পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পেরেছিলাম। এই ঘটনাগুলো শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ককে তুলে ধরে।

সহপাঠিদের সাথে সবসময় পড়াশুনায় একটি প্রতিযোতিা থাকতো। ক্লাসে সবসময় ইব্রাহিম খলিল সোহাগ, সিরাজুল ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম তুহিন, আমি, হাসান প্রধানীয়া ও ঊষা রাণী এদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতো। এ প্রতিযোগিতা আমাদের মধ্যে শুরু হয় সপ্তম শ্রেণি থেকেই। এভাবে আমরা যথন এসএসসি পরীক্ষার ধারপ্রান্তে তখন আমাদের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম স্যার মনে জেদ ধরলেন যে ইব্রাহিম খলিল সোহাগ, সিরাজুল ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম তুহিন, আমি স্যারের বাসায় থেকে পরীক্ষা দিতে হবে। তবে কোনো এক কারণে ইব্রাহিম খলিল সোহাগ আমাদের সাথে স্যারের বাসায় থাকে নি। শেষ পর্যন্ত আমি সিরাজুল ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম তুহিন স্যারের বাসায় থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। আমাদের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিলো বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে। আমরা পরীক্ষার দুই আগেই স্যারের বাসায় চলে যাই। স্যারের বাসায় আমাদের পিতৃস্নেহে আগলে রাখলেন। সকালে পরীক্ষা দিতে যাবো-স্যার ফজরের নামাজের সময় ডেকে তুললেন। আমরা ফজর নামাজ পড়ে পড়াগুলো রিভিশন দিতে থাকি। সঠিক সময় নাস্তা করালেন-স্যারের সহধর্মিণী যিনি পরম মমতায় মাতৃস্নেহে আমাদের খাওয়াতেন। কয়েকটি দিন স্যারের বাসায় ছিলাম আমরা মনেই করিনি। যে আমাদের নিজের বাসায় আমরা নেই। এতোটা অতিথি পরায়ন মানুষ ছিলেন স্যারের পরিবার যা এখনও অনুভব করি। যা আমরা কোনোদিন ভুলতে পারবো না।
সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো দিনগুলো আজও আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হয়। টিফিনের সময় সবাই মিলে বড় মাঠে দৌড়ঝাঁপ করা, গল্পের আসর বসানো, আর ছোটখাটো দুষ্টুমিগুলো যেন জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়। টিফিনের সময় বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে আম গাছের নিচে আড্ডা এখনো শৈশবে ফিরিয়ে নেয়। আজো খুঁজে ফিরি সেই বন্ধুদের-ইব্রাহিম খলিল সোহাগ, সিরাজুল ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম তুহিন, আমি, হাসান প্রধানীয়া, ঊষা রাণী, জাহাঙ্গীর আলম পলাশ, মিজানুর রহমান বেপারী, ভজন চন্দ্র দাস, রাজন চন্দ্র দাস, বিকাশ পাল, গোলাম কিবরিয়া সুজন, হাসেম বেপারী, জাবেদ হোসেন, রাশেদ খান, সামিম মোল্লা, খাইরুন নাহার মিতা, শিল্পী আক্তার, পান্না আক্তার, জেসমিন আক্তার, ইয়াসমিন আক্তার, রোকেয়া আক্তা, মুক্তা আক্তা, খোকন চন্দ্র বালা, আব্দুল্লাহ নোমান, ফারুক হোসেন, হাসান খান, সবুর খান, সালাউদ্দিন, ইসমাইল, বিল্লাল, কামাল, আলাউদ্দিন, খোকন খান ও বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।
একবার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আমি এবং আমার বন্ধু মিজান একসঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। আমরা দুজনই সেরা পুরস্কার পাওয়ার জন্য লড়াই করছিলাম, কিন্তু শেষে মিজান জিতেছিল। পরে আমরা একসঙ্গে পুরস্কার উদযাপন করেছিলাম, কারণ বন্ধুত্বের চেয়ে বড় কোনো প্রতিযোগিতা নেই। বিদ্যালয়ের বার্ষিক অনুষ্ঠানের দিনগুলো ছিল সত্যিই রঙিন। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, নৃত্য, আবৃত্তি, জারিগান—সবকিছুতেই ছিল প্রাণের ছোঁয়া।। দর্শকদের প্রশংসা আর শিক্ষকদের উৎসাহ আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল।
পাশাপাশি, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সময় বিদ্যালয়ের মাঠ পরিণত হতো উৎসবের কেন্দ্রস্থল। প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশ নেওয়া ছাড়াও, অন্যদের উৎসাহ দেওয়ার মুহূর্তগুলোও ছিল ভীষণ আনন্দদায়ক। বিদ্যালয়ের সংগীত শিক্ষক এনামুল স্যার যখন গান শিখাতেন, তখন মনে হতো, এই বিদ্যালয় কেবল পড়াশোনার জায়গা নয়, এটি আমাদের প্রতিভা বিকাশের মঞ্চ।
আমিরাবাদ গোলাম কিবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় আমাকে শুধু শিক্ষাগত জ্ঞান দেয়নি, জীবনের মূল্যবান শিক্ষাও দিয়েছে। এখানে আমি শিখেছি নেতৃত্বের গুণাবলি, সহযোগিতার মানসিকতা, এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখার শক্তি। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের বাইরের কার্যক্রমগুলো আমার চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিদ্যালয়ের শেষ দিনটি ছিল আনন্দের মধ্যেও এক বিষণ্ণতার দিন। আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানে শিক্ষকরা যখন আমাদের আশীর্বাদ করছিলেন, তখন চোখে জল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেদিন আমি অনুভব করেছিলাম, এই বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়; এটি আমাদের সবার জন্য এক বিশাল পরিবারের মতো। বিদায়ের পর আজও যখন বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাই, হৃদয়ে এক অদ্ভুত টান অনুভব করি। মনে হয়, সেই দিনগুলো কি আর কখনো ফিরে আসবে? যদিও বাস্তবে তা সম্ভব নয়, তবে স্মৃতির পাতায় সেই দিনগুলো আজও অমলিন।
আমিরাবাদ গোলাম কিবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় আমার জীবনের ভিত্তি। এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান, মূল্যবোধ, এবং স্মৃতিগুলো আমার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আমাকে প্রেরণা জোগায়। বিদ্যালয়ের প্রতিটি ইট-পাথর, গাছ-পালা, এবং স্মৃতি চিরকাল আমার হৃদয়ে অমলিন থাকবে। এই প্রিয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে আমার ভালোবাসা চিরকাল অটুট থাকবে।
আমিরাবাদ গোলাম কিবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। প্রায় প্রতিদিন ক্লাসের পর আমরা একসঙ্গে গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটতাম। আমাদের আলোচনার বিষয় ছিল অনেক বৈচিত্র্যময়—পাঠ্যবইয়ের বিষয় থেকে শুরু করে ক্রিকেট ম্যাচ, পছন্দের সিনেমা, বা ভবিষ্যৎ স্বপ্ন।
একবার আমরা সবাই মিলে মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়েছিলাম। খেলার মাঝখানে বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে গিয়েছিলাম। সেই মুহূর্তের আনন্দ, নির্ভেজাল হাসি, এবং মাঠে দৌড়াদৌড়ির সেই স্মৃতি আজও মনে পড়লে মুখে হাসি ফোটে। সেই খেলাগুলো আমাদের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছিল। একবার বার্ষিক শিক্ষা সফরে আমরা সবাই বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি ঐতিহাসিক স্থান সোনারগাঁও পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। লঞ্চে যাওয়ার সময় আমরা গান গেয়ে, গল্প করে সবাইকে স্মরণীয় করে তুলেছিলাম। সেদিনের সেই প্রাণবন্ত মুহূর্তগুলো আজও আমার জীবনের সেরা স্মৃতির তালিকায় রয়েছে।
আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তাদের আন্তরিকতা এবং ধৈর্য আমাদের জীবনের পথ চলায় প্রেরণার উৎস। আমাদের বিজ্ঞান শিক্ষক ভুবনেশ্বর স্যার একটি বিজ্ঞান বিষয়ক নানা দিক শিখিয়ে ছিলেন আজও আমার প্রেরণার উৎস। আমাদের  শিক্ষক স্যার আমাকে বলেছিলেন, “তুমি যদি নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখো, তাহলে বড় কিছু অর্জন করা সম্ভব।” সেই কথাগুলো সেদিন শুধু সাহস জোগায়নি, বরং পরবর্তী জীবনে আমাকে বহুবার আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করেছে।
আমাদের ক্লাসে ঘটে যাওয়া ছোটখাটো দুষ্টুমিগুলো আজও মনে পড়লে হাসি পায়। একবার ক্লাসে একজন বন্ধু চুপিচুপি আমের আঁটি নিয়ে এসেছিল এবং সবাইকে ভাগ করে খাওয়ানোর সময় শিক্ষক আমাদের ধরে ফেলেছিলেন। আমরা ভেবেছিলাম তিনি আমাদের শাস্তি দেবেন, কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি হেসে বলেছিলেন, “পরের বার ক্লাসের সময় এভাবে ফল খেয়ো না।” তার সেই হালকা শাসন এবং পরম করুণার ব্যবহার আমাদের জন্য শিক্ষণীয় ছিল।
আরেকবার ক্লাসের মধ্যে শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে আমরা সবাই মিলে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছিলাম। হঠাৎ শিক্ষক এসে পড়ায় আমরা ভয়ে গুটিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের শুধুমাত্র সতর্ক করে বলেছিলেন, “ক্লাসটাই মাঠ হয়ে যাবে যদি তোমরা নিয়ম মানতে না শিখো।” সেই মুহূর্তে লজ্জা পেলেও তার আচরণ আমাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আমিরাবাদ গোলাম কিবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শুধু পড়াশোনা নয়, সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ। বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, কুইজ—সবকিছুতেই সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের মানসিক বিকাশে সাহায্য করেছিল। আমি মনে করি, একবার বিদ্যালয়ের বার্ষিক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় “প্রযুক্তি আমাদের জীবনের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ” বিষয় নিয়ে আমি পক্ষ সমর্থন করেছিলাম। আমার যুক্তিগুলো দর্শকদের এবং বিচারকদের মুগ্ধ করেছিল। সেদিন প্রথম পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছিলাম যে আমি ভবিষ্যতে বড় মঞ্চেও নিজের কথা বলার ক্ষমতা রাখি।
আমাদের বিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশও স্মৃতির ভাণ্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গাছগাছালিতে ভরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, যেখানে পাখির ডাক আর দমকা হাওয়ার শব্দে মন শান্ত হয়ে যেত। বিদ্যালয়ের খোলা মাঠ আমাদের খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত ছিল। বৃষ্টির দিনে মাঠে পানি জমে গেলে আমরা কাদা মাখা খেলায় মেতে উঠতাম। এই সরল আনন্দগুলো জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়।
বিশেষ করে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির কথা ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। সেখানে বই পড়ার সুযোগ আমাকে অনেক নতুন জগৎ চিনতে সাহায্য করেছিল। লাইব্রেরির নীরব পরিবেশে বই পড়তে বসা ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ। সেদিনগুলোতে আমি জীবন এবং জ্ঞান নিয়ে নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করেছিলাম।
বিদ্যালয়ের শেষ দিনে বিদায় অনুষ্ঠান ছিল আমার জীবনের এক আবেগঘন মুহূর্ত। বন্ধু, শিক্ষক এবং প্রিয় বিদ্যালয়ের পরিবেশ ছেড়ে যাওয়ার কষ্টে সেদিন অনেকের চোখেই জল ছিল। বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক যখন আমাদের জীবনের জন্য আশীর্বাদ করছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল, এ যেন একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন এক যাত্রার সূচনা।
সেদিন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, আমার বিদ্যালয়ের স্মৃতি এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা কখনোই ভুলব না। মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে ফিরে গেলে সেই দিনগুলোকে আবার মনে করার সুযোগ পাই, যা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। আমিরাবাদ গোলাম কিবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় আমার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানকার প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে শিক্ষা দিয়েছে, আনন্দ দিয়েছে এবং আমার জীবনের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বহু দূর এগিয়ে গেলেও এই বিদ্যালয়ের স্মৃতি, শিক্ষা এবং মূল্যবোধ চিরকাল আমার সঙ্গে থাকবে। বিদ্যালয়ের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা সীমাহীন। প্রিয় আমিরাবাদ গোলাম কিবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা চিরন্তন। তুমি শুধু একটি বিদ্যালয় নও; তুমি আমার জীবনের পথপ্রদর্শক, আমার শৈশবের আশ্রয়, আর আমার আজকের অস্তিত্বের ভিত্তি।
লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, (এসএসসি ব্যাচ ১৯৯৯), সংগঠক ও লেখক, চাঁদপুর।

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।