খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মানুষ তাঁর কল্পনাতেই সুন্দর বাস্ববতায় সংগ্রামী

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৫, ২:২৫ অপরাহ্ণ
মানুষ তাঁর কল্পনাতেই সুন্দর বাস্ববতায় সংগ্রামী

মানুষকে বলা হয় সৃষ্টিশীল জীব, কারণ তার সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা তাকে প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা করেছে। সৃষ্টিশীলতা হলো এমন একটি গুণ, যা মানুষের চিন্তা, কল্পনা, এবং নতুন কিছু তৈরি করার সামর্থ্যকে তুলে ধরে। এটি শুধু শিল্প বা সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সমাজবিজ্ঞান, এবং প্রতিদিনের জীবনযাপনেও প্রভাব ফেলে। মানুষের এই সৃজনশীল গুণের মাধ্যমে সভ্যতা এগিয়ে চলেছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে।  সৃষ্টিশীলতা বলতে বোঝায় এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানুষ নতুন কিছু তৈরি করে বা বিদ্যমান জিনিসে নতুনত্ব আনে। এটি হতে পারে একটি ছবি আঁকা, একটি গান রচনা করা, একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা, বা একটি সমস্যার অনন্য সমাধান বের করা। সৃষ্টিশীলতা কেবল শৈল্পিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

মানুষের কল্পনা করার শক্তি তার সৃষ্টিশীলতার মূল চালিকা শক্তি। কল্পনার মাধ্যমে মানুষ এমন জিনিস কল্পনা করতে পারে যা বাস্তবে এখনও সম্ভব হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, বিজ্ঞানীরা মহাকাশ ভ্রমণের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। মানুষের সৃজনশীলতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যমান জিনিসকে উন্নত করার ক্ষমতা। উদাহরণস্বরূপ, হুইল আবিষ্কারের পর মানুষ সেটি ব্যবহার করে গাড়ি, বাইসাইকেল এবং আরও উন্নত যানবাহন তৈরি করেছে। মানুষ তার সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার সৃজনশীলতারই ফল।
মানুষের সৃষ্টিশীলতা বিভিন্ন ধরনের শিল্প এবং সংস্কৃতির বিকাশে অবদান রেখেছে। এটি মানুষের জীবনকে আরও সুন্দর, অর্থবহ, এবং সমৃদ্ধ করেছে।

শিল্পের জগতে সৃষ্টিশীলতা মানুষের সৃজনশীলতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির “মোনালিসা” থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা, সঙ্গীত, এবং চিত্রকলা—সবই মানুষের সৃষ্টিশীলতার ফল। বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন থেকে শুরু করে এলন মাস্ক পর্যন্ত, সবাই সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে পৃথিবীকে বদলে দিয়েছেন। নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ সূত্র আবিষ্কার বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছে, আর মাস্কের টেসলা এবং স্পেসএক্স প্রযুক্তির দুনিয়ায় বিপ্লব ঘটিয়েছে। মানুষের সৃজনশীলতা প্রযুক্তির অগ্রগতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, স্মার্টফোন—সবকিছুই সৃষ্টিশীলতার উদাহরণ। মানুষের সৃজনশীলতার প্রভাব সমাজের কাঠামোতেও দেখা যায়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, আইন, এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সৃষ্টিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সৃষ্টিশীলতা বিকাশের জন্য একটি উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, এবং সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করে। অনেক সময় মানুষ নতুন কিছু করতে ভয় পায় বা নিজেকে অক্ষম মনে করে। এটি সৃষ্টিশীলতার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। সৃষ্টিশীল কার্যক্রমের জন্য সময় এবং সম্পদের প্রয়োজন। যখন এগুলোর অভাব হয়, তখন সৃষ্টিশীলতার বিকাশ ধীরগতিতে হয়। মানুষের সৃষ্টিশীলতা বিকাশের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল, কলেজ, এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা উৎসাহিত করা উচিত। সৃষ্টিশীলতা বিকাশের জন্য উন্মুক্ত চিন্তাভাবনার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এটি মানুষের মনের সীমাবদ্ধতা দূর করতে সাহায্য করে। পরিবেশ এমন হতে হবে, যেখানে মানুষ তার সৃজনশীলতাকে প্রয়োগ করতে এবং পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন কিছু শিখতে পারে। মানুষকে তার সৃজনশীলতা প্রকাশের জন্য উৎসাহ এবং সমর্থন প্রদান করা প্রয়োজন। এটি তার আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নতুন কিছু করার প্রেরণা যোগায়।
মানুষ প্রকৃতির একটি অনন্য সৃষ্টি। তার সৃষ্টিশীলতার জন্যই সভ্যতা আজ এতদূর এগিয়েছে। সৃষ্টিশীলতা শুধু একটি ব্যক্তিগত গুণ নয়, এটি একটি সামাজিক সম্পদ। সৃষ্টিশীল মানুষের প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বিশ্ব নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে চলেছে। তাই সৃষ্টিশীলতাকে লালন এবং বিকাশ করার জন্য সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে। মানুষের সৃষ্টিশীলতা যত বৃদ্ধি পাবে, ততই সভ্যতা উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে।

কল্পনা মানুষের সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। এটি এমন একটি মানসিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানুষ ভবিষ্যতের ছবি আঁকতে, নতুন ধারণা তৈরি করতে এবং অজানা বিষয় সম্পর্কে চিন্তা করতে সক্ষম হয়। কল্পনার ক্ষমতা মানুষকে প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা করে এবং তাকে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার পথে পরিচালিত করে। কল্পনার সংজ্ঞা কল্পনা হলো মানুষের মনের এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে বাস্তবে দেখা বা উপলব্ধি করা তথ্যের ভিত্তিতে নতুন কিছু তৈরি করা হয়। এটি হতে পারে বাস্তব অভিজ্ঞতার রূপান্তর বা সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা।
কল্পনার মাধ্যমে মানুষ অতীত অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কৃষিকাজ শুরুর আগে মানুষ প্রকৃতির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তা থেকে ভবিষ্যতের জন্য ধারণা তৈরি করেছে। কল্পনার ক্ষমতা মানুষের মধ্যে জিজ্ঞাসার উদ্রেক ঘটায়। এটি মানুষকে এমন বিষয় নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে, যা সে আগে কখনও দেখেনি বা জানেনি। উদাহরণস্বরূপ, বিজ্ঞানীরা কল্পনার মাধ্যমে মহাকাশ অনুসন্ধান শুরু করেছিলেন। কল্পনার ক্ষমতা সৃজনশীলতাকে জ্বালানি যোগায়। নতুন শিল্পকর্ম, প্রযুক্তি, বা সাহিত্য সৃষ্টির পেছনে কল্পনার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। মানুষ তার কল্পনাশক্তি ব্যবহার করে একই সমস্যার বিভিন্ন সমাধান খুঁজে বের করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এক সমস্যার জন্য একাধিক প্রযুক্তি বা পদ্ধতি আবিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের কল্পনার শক্তি বিশ্বকে বদলে দিয়েছে। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব তার গভীর কল্পনার ফল। তেমনি, জুল ভার্নের বইতে মহাকাশ ভ্রমণের ধারণা বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করেছিল। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির “দ্য লাস্ট সাপার” বা মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর “ডেভিড” মূর্তি তাদের কল্পনার একটি অসাধারণ প্রকাশ। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, এবং রোবোটিকসের পেছনে মানুষের কল্পনার বড় ভূমিকা রয়েছে। স্মার্টফোনের ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে কল্পনাকে একীভূত করার একটি উদাহরণ। অনেক সময় মানুষের কল্পনা বাস্তবতার সীমারেখায় আটকে যায়। এটি উদ্ভাবন প্রক্রিয়াকে ধীর করে। কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহস এবং প্রেরণা প্রয়োজন। অনুপ্রেরণার অভাব কল্পনাশক্তিকে দমিয়ে দিতে পারে। কখনও কখনও মানুষের কল্পনা নেতিবাচক হতে পারে, যা তাকে ভয় বা উদ্বেগের দিকে ঠেলে দেয়। এটি তার মানসিক স্বাস্থ্য ও কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।

বই পড়া এবং নতুন বিষয় শেখার মাধ্যমে কল্পনার শক্তি বৃদ্ধি পায়। মুক্ত চিন্তা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা কল্পনাশক্তিকে প্রসারিত করে। আঁকা, লেখা, বা মিউজিকের মতো সৃজনশীল কাজ কল্পনাশক্তিকে জাগ্রত করে। পরিবেশ এমন হতে হবে, যেখানে নতুন ধারণা গ্রহণযোগ্য এবং উৎসাহিত হয়। কল্পনার ক্ষমতা মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এটি শুধু নতুন কিছু তৈরি করতেই নয়, বরং ভবিষ্যতের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দিতে সাহায্য করে। মানুষের কল্পনাশক্তি যতই বিকশিত হবে, ততই সভ্যতা আরও সমৃদ্ধ হবে। তাই কল্পনার শক্তিকে লালন এবং বিকাশ করার জন্য প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা, পরিবেশ এবং মানসিক উদ্দীপনা।

মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সংশোধন এবং উন্নয়নের ক্ষমতা। এই গুণের মাধ্যমে মানুষ তার ভুলত্রুটি শুধরে নিতে পারে এবং বিদ্যমান জিনিসকে আরও ভালো ও কার্যকর করতে পারে। সংশোধন ও উন্নয়নের ক্ষমতাই মানুষের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। এর ফলেই সভ্যতার ক্রমোন্নতি সম্ভব হয়েছে এবং মানুষ প্রকৃতির সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পেরেছে। সংশোধনের ক্ষমতা মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানুষ তার ভুলগুলো চিহ্নিত করে এবং সেগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা মানুষকে আরও উন্নত করে তোলে।
প্রতিদিনের জীবনে মানুষ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়, যেগুলোর কিছু সঠিক হয়, কিছু ভুল। ভুল সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে সংশোধনের ক্ষমতা প্রকাশ পায়। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভুল উত্তর দিলে পরবর্তী সময়ে সঠিক উত্তর শিখে নেয়। তেমনি কর্মক্ষেত্রে ভুল কর্মপরিকল্পনা সংশোধন করে সঠিক পথে এগোনোর মাধ্যমে উন্নতি ঘটে। মানব ইতিহাসের ভুল সিদ্ধান্ত, যেমন যুদ্ধ বা পরিবেশ ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষ বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে আরও টেকসই করার চেষ্টা করছে। উন্নয়ন হলো মানুষের প্রগতিশীল মানসিকতার প্রতিফলন। এটি বিদ্যমান অবস্থা থেকে আরও ভালো কিছু তৈরি করার প্রক্রিয়া। মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।

মানুষের উন্নয়নের ক্ষমতা নতুন নতুন প্রযুক্তি, ধারণা এবং পদ্ধতি উদ্ভাবন করে। উদাহরণস্বরূপ, আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে আধুনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, সবই উন্নয়নের উদাহরণ। উন্নয়ন মানে শুধু নতুন কিছু তৈরি করা নয়, বরং সমস্যার আরও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা। উদাহরণস্বরূপ, পরিবেশ দূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত। উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষ এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চায়, যা দীর্ঘস্থায়ী এবং সকলের জন্য উপকারী। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মানুষের উন্নয়ন বিস্ময়কর। টেলিগ্রাফ থেকে শুরু করে আজকের ইন্টারনেট—এটি উন্নয়নের ধারাবাহিক উদাহরণ। তেমনি, বিজ্ঞানে ভ্যাকসিনের উদ্ভাবন মানুষের জীবনের গুণগত মান উন্নত করেছে। সমাজের কাঠামো উন্নত করার জন্য মানুষ আইন, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে অগ্রগতি ঘটিয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মানুষের উন্নয়নের ক্ষমতা লক্ষণীয়। বার্টার সিস্টেম থেকে শুরু করে আজকের ডিজিটাল লেনদেন পর্যন্ত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
কিছু মানুষ পরিবর্তন বা উন্নয়নকে ভয় পায়, যা সংশোধন এবং অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যথাযথ শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে মানুষ প্রায়ই তার ভুল বুঝতে ব্যর্থ হয় এবং উন্নয়নের সুযোগ হাতছাড়া করে। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অভাব সংশোধন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। সংশোধন ও উন্নয়নের ক্ষমতা বিকাশের উপায়। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে তার ভুলত্রুটি চিহ্নিত করার ক্ষমতা এবং উন্নয়নের পদ্ধতি শেখানো যায়। সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা মানুষের সংশোধন ও উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন ধারণা এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করলে মানুষ উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে। সংশোধন ও উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার মানুষের ক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
সংশোধন এবং উন্নয়নের ক্ষমতা মানুষের সৃষ্টিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মানুষকে তার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে এবং উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এই ক্ষমতার মাধ্যমেই মানুষ যুগে যুগে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতেও এই গুণ মানুষের অগ্রগতি এবং পৃথিবীকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হবে।

লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, লেখক ও প্রাবন্ধিক।

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।