খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

তৈলবাজ-তৈলসংস্কৃতি সামাজিক ও নৈতিকতার অবক্ষয়

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
তৈলবাজ-তৈলসংস্কৃতি সামাজিক ও নৈতিকতার অবক্ষয়

তৈলমর্দন এক অত্যন্ত পরিচিত সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, যা যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতিতে বিদ্যমান ছিল এবং এখনও রয়েছে। এটি মূলত ক্ষমতাসীন বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা লাভের জন্য তাদের চাটুকারিতা, প্রশংসা বা অহেতুক প্রশংসার মাধ্যমে নিজের স্থান সুসংহত করার কৌশল। তৈলমর্দনের প্রক্রিয়া কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়েই নয়, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং পেশাগত ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করে থাকে। তৈলমর্দন বলতে বোঝানো হয় এমন এক ধরণের আচরণ, যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্য একজনের প্রতি অতিরিক্ত প্রশংসা বা চাটুকারতা প্রদর্শন করে। সাধারণত, এটি করতে দেখা যায় এমন ব্যক্তিকে যিনি কোনো না কোনো সুবিধা পাওয়ার আশায় থাকেন। তৈলমর্দনের পেছনে লুকিয়ে থাকা প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো, নিজেকে উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে যাওয়া বা নিজস্ব সমস্যার সহজ সমাধান লাভ করা। বাংলা ভাষায় তৈলমর্দন শব্দটি অত্যন্ত কৌতুকপূর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি এমন এক সামাজিক ব্যাধি, যা ব্যক্তি বা সমাজের স্বাভাবিক বিকাশে অন্তরায় সৃষ্টি করে। এ ধরনের আচরণ ব্যক্তিগত নীতিবোধ এবং আত্মসম্মানের পরিপন্থী।

মানবসভ্যতার প্রাচীন যুগ থেকেই তৈলমর্দনের উপস্থিতি লক্ষণীয়। প্রাচীন রাজা-রাজড়া বা সম্রাটদের দরবারে চাটুকারদের অস্তিত্ব ছিল খুবই সাধারণ। এদের কাজ ছিল রাজা বা শাসককে তুষ্ট করা এবং নিজের সুবিধা অর্জন করা। এ ধরনের আচরণ রাজদরবারে বা শাসনব্যবস্থার মধ্যে একধরনের গোষ্ঠীগত প্রভাব সৃষ্টি করত। শাসকগণ তৈলমর্দকদের আশীর্বাদে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করতেন এবং তৈলমর্দকগণ সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত হতেন। আধুনিক যুগে তৈলমর্দন কেবল রাজনীতি নয়, কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা, শিক্ষা ও অন্যান্য সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এখন এর রূপ ও মাত্রা কিছুটা পরিবর্তিত হলেও মূল ধারণাটি একই রয়ে গেছে।

তৈলমর্দন সাধারণত দুইভাবে প্রকাশ পায়-প্রশংসা বা চাটুকারিতা-একজন ব্যক্তিকে অহেতুক প্রশংসা করা বা তার কাজকে বাড়িয়ে দেখানো। বশ্যতা প্রদর্শন-ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রতি অতিরিক্ত নম্রতা বা বিনয় প্রদর্শন করা। এ ধরনের আচরণে তৈলমর্দকের মধ্যে আত্মসম্মানের অভাব পরিলক্ষিত হয়। অনেকে মনে করেন, এটি একটি সামাজিক কৌশল, যা ব্যক্তিকে সুবিধাপ্রাপ্তির পথ সুগম করে। অন্যদিকে, এটি একটি নেতিবাচক মনোভাব, যা নৈতিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তৈলমর্দনের প্রভাব ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের উপর বহুমুখী। এর মধ্যে কিছু ইতিবাচক এবং বেশিরভাগই নেতিবাচক। তৈলমর্দনকারী ব্যক্তি অল্প সময়ে সুবিধা অর্জন করলেও তার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য প্রায়শই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, তার স্বভাব চাটুকার বা স্বার্থপর হিসেবে পরিচিতি পায়, যা সামাজিক অবস্থানকে দুর্বল করে।সমাজে তৈলমর্দনের কারণে প্রকৃত মেধা এবং যোগ্যতার অবমূল্যায়ন হয়। তৈলমর্দকরা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মন জয় করে, ফলে প্রকৃত মেধাবী এবং সৎ মানুষ প্রায়শই উপেক্ষিত হয়। এটি সমাজে বৈষম্য ও অবিচারের জন্ম দেয়। কর্মক্ষেত্রে তৈলমর্দনের ফলে যোগ্য ব্যক্তির পরিবর্তে চাটুকারদের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায়। এতে প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা কমে যায় এবং কাজের পরিবেশে একধরনের নেতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। যোগ্য কর্মীদের অবমূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে অস্থিরতা তৈরি করে।

রাজনীতিতে তৈলমর্দনের ফলে শাসকগণ প্রকৃত সমস্যাগুলো থেকে দূরে সরে যান। তৈলমর্দকরা তাদের চাটুকারিতার মাধ্যমে শাসকদের ভুল পথে পরিচালিত করে। এতে জনগণের সমস্যা সমাধানে বিলম্ব হয় এবং শাসনব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারায়। তৈলমর্দনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করে। সেগুলো হলো : স্বার্থসিদ্ধি- ব্যক্তিগত বা পেশাগত সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে। আত্মবিশ্বাসের অভাব-নিজের যোগ্যতায় বিশ্বাসের অভাব থাকলে মানুষ অন্যের তুষ্টির মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করতে চায়। ক্ষমতায় আসীনদের প্রভাব-ক্ষমতাসীন ব্যক্তির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈলমর্দনের প্রধান কারণ।
৪. নৈতিকতার অভাব: চাটুকারিতার পেছনে প্রায়শই নৈতিক মূল্যবোধের অভাব লক্ষ্য করা যায়।

তৈলমর্দনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। সেগুলো হলো : ব্যক্তি এবং সমাজের মধ্যে নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। যোগ্যতা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে তোলা। জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে তৈলমর্দনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা। প্রশাসন ও রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তৈলমর্দনের ধারণা আরও বিশদে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি মূলত এক প্রকার মানসিক কৌশল, যা মানুষ তার নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করে। এই চর্চা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এবং প্রতিটি সময়ে এর ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখা গেছে। তবে এটি সর্বত্রই এক ধরনের স্বার্থপরতা এবং মানসিক দাসত্বের প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে। প্রাচীন ভারতীয় রাজসভা থেকে শুরু করে রোমান সাম্রাজ্যের দরবার এবং চীনের সম্রাটদের প্রাসাদ পর্যন্ত সর্বত্র তৈলমর্দনের অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল। এ সময়ে রাজসভায় চাটুকাররা রাজা-রাজড়ার মনোরঞ্জনের জন্য গান গাওয়া, কবিতা রচনা এবং কল্পিত প্রশংসা করতেন। রাজদরবারে মিথ্যা প্রশংসা রাজাকে বাস্তবতা থেকে দূরে রাখত এবং এর ফলে রাজ্যের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতো। উপনিবেশিক শাসনামলে শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে সুযোগ পাওয়ার জন্য স্থানীয় মানুষদের একাংশ তৈলমর্দনের আশ্রয় নিত। ব্রিটিশদের প্রতি দাসত্ব প্রদর্শন করে অনেকেই ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুবিধা আদায় করত। আধুনিক কালে এই চর্চাটি রাজনীতি ও কর্পোরেট সংস্কৃতিতে বিশেষভাবে দৃশ্যমান। এখন এটি কিছুটা পরিশীলিত হয়েছে, তবে মূল উদ্দেশ্য একদমই বদলায়নি।

তৈলমর্দনের সামাজিক প্রভাব সর্বব্যাপী। এটি সমাজের প্রতিটি স্তরে বিদ্যমান এবং ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা যায়। অনেক সময় পরিবারের মধ্যে একজন সদস্য অন্য সদস্যের প্রশংসা বা চাটুকারতা করেন তার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। যেমন, অনেক সময় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের মন জয় করতে তাদের প্রশংসা করা হয়। শিক্ষক বা প্রভাষকের কাছ থেকে ভালো গ্রেড বা সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই তৈলমর্দনের আশ্রয় নেয়। এতে প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্পোরেট জগতে তোষামোদের প্রবণতা খুবই সাধারণ। কর্মক্ষেত্রে বস বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মনোরঞ্জনের জন্য তৈলমর্দন করার সংস্কৃতি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্কৃতিকে দুর্বল করে। রাজনীতিতে তৈলমর্দন সবচেয়ে বিপজ্জনক। নেতাদের চাটুকারিতা করা এবং তাদের ভুল সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

তৈলমর্দন একটি নৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। এটি ব্যক্তির নৈতিকতাবোধকে দুর্বল করে এবং তাকে এক ধরনের স্বার্থপরতার পথে পরিচালিত করে। নৈতিকভাবে শক্তিশালী সমাজ তৈলমর্দনের চর্চা কমিয়ে আনতে পারে। তৈলমর্দক ব্যক্তি নিজের স্বার্থের জন্য অন্যের প্রতি অসৎ আচরণ করে। এটি অন্যের প্রতি ঈর্ষা, অবিশ্বাস এবং হিংসার জন্ম দেয়। একজন তৈলমর্দক ব্যক্তি কেবল নিজের উন্নতির জন্য কাজ করে, ফলে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং সামাজিক বন্ধন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়া তৈলমর্দনের একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্চপদস্থ ব্যক্তি বা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের পোস্টে অহেতুক প্রশংসা করেন, যাতে তারা সেই ব্যক্তির মনোযোগ পান। ইনফ্লুয়েন্সার বা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের পোস্টে অসংখ্য চাটুকার মন্তব্য দেখা যায়, যা এক ধরনের ভার্চুয়াল তৈলমর্দনের উদাহরণ। কর্পোরেট সোশ্যাল মিডিয়ায় কর্মচারীরা অনেক সময় তাদের বস বা সহকর্মীদের প্রশংসা করে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করেন।

তৈলমর্দনের কিছু সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে, যা ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। তৈলমর্দনের কারণে প্রকৃত মেধাবী এবং যোগ্য ব্যক্তিরা প্রায়শই অবমূল্যায়িত হন। শাসকগোষ্ঠী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তৈলমর্দকদের আশ্রয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারেন। এটি সমাজে একধরনের অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করে, যা বৈষম্যের জন্ম দেয়। তৈলমর্দন ব্যক্তির নৈতিক মূল্যবোধকে দুর্বল করে এবং তাকে আত্মকেন্দ্রিক করে তোলে। তৈলমর্দনের চর্চা নির্মূল করতে হলে নৈতিক শিক্ষা, সঠিক মূল্যবোধ এবং যোগ্যতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৈলমর্দনের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। প্রতিভা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে, যাতে তৈলমর্দকরা সুযোগ না পায়। শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যা তরুণ প্রজন্মকে সৎ এবং নীতিনিষ্ঠ হতে সাহায্য করবে। কর্মক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে, যাতে তৈলমর্দকরা অন্যায় সুবিধা না পায়।

তৈলমর্দন একধরনের সামাজিক ব্যাধি, যা ব্যক্তি ও সমাজের অগ্রগতির পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। এটি কেবলমাত্র সাময়িক সুবিধা প্রদান করে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাই তৈলমর্দনের পরিবর্তে নৈতিকতা, সৎকর্ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি সুষম সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তৈলমর্দন একটি সামাজিক ব্যাধি, যা সমাজের বিকাশ এবং নৈতিকতার উন্নয়নে প্রধান অন্তরায়। এটি ক্ষণস্থায়ী সুবিধা প্রদান করলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তি এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের সবার উচিত, তৈলমর্দনের বদলে সৎকর্ম, যোগ্যতা এবং ন্যায়বিচারের উপর গুরুত্বারোপ করা। এ ধরনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সমাজকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তুলবে।

লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, লেখক ও সংগঠক, চাঁদপুর।

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।