খুঁজুন
                               
, ,

তৈলবাজ-তৈলসংস্কৃতি সামাজিক ও নৈতিকতার অবক্ষয়

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
তৈলবাজ-তৈলসংস্কৃতি সামাজিক ও নৈতিকতার অবক্ষয়

তৈলমর্দন এক অত্যন্ত পরিচিত সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, যা যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতিতে বিদ্যমান ছিল এবং এখনও রয়েছে। এটি মূলত ক্ষমতাসীন বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা লাভের জন্য তাদের চাটুকারিতা, প্রশংসা বা অহেতুক প্রশংসার মাধ্যমে নিজের স্থান সুসংহত করার কৌশল। তৈলমর্দনের প্রক্রিয়া কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়েই নয়, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং পেশাগত ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করে থাকে। তৈলমর্দন বলতে বোঝানো হয় এমন এক ধরণের আচরণ, যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্য একজনের প্রতি অতিরিক্ত প্রশংসা বা চাটুকারতা প্রদর্শন করে। সাধারণত, এটি করতে দেখা যায় এমন ব্যক্তিকে যিনি কোনো না কোনো সুবিধা পাওয়ার আশায় থাকেন। তৈলমর্দনের পেছনে লুকিয়ে থাকা প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো, নিজেকে উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে যাওয়া বা নিজস্ব সমস্যার সহজ সমাধান লাভ করা। বাংলা ভাষায় তৈলমর্দন শব্দটি অত্যন্ত কৌতুকপূর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি এমন এক সামাজিক ব্যাধি, যা ব্যক্তি বা সমাজের স্বাভাবিক বিকাশে অন্তরায় সৃষ্টি করে। এ ধরনের আচরণ ব্যক্তিগত নীতিবোধ এবং আত্মসম্মানের পরিপন্থী।

মানবসভ্যতার প্রাচীন যুগ থেকেই তৈলমর্দনের উপস্থিতি লক্ষণীয়। প্রাচীন রাজা-রাজড়া বা সম্রাটদের দরবারে চাটুকারদের অস্তিত্ব ছিল খুবই সাধারণ। এদের কাজ ছিল রাজা বা শাসককে তুষ্ট করা এবং নিজের সুবিধা অর্জন করা। এ ধরনের আচরণ রাজদরবারে বা শাসনব্যবস্থার মধ্যে একধরনের গোষ্ঠীগত প্রভাব সৃষ্টি করত। শাসকগণ তৈলমর্দকদের আশীর্বাদে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করতেন এবং তৈলমর্দকগণ সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত হতেন। আধুনিক যুগে তৈলমর্দন কেবল রাজনীতি নয়, কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা, শিক্ষা ও অন্যান্য সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এখন এর রূপ ও মাত্রা কিছুটা পরিবর্তিত হলেও মূল ধারণাটি একই রয়ে গেছে।

তৈলমর্দন সাধারণত দুইভাবে প্রকাশ পায়-প্রশংসা বা চাটুকারিতা-একজন ব্যক্তিকে অহেতুক প্রশংসা করা বা তার কাজকে বাড়িয়ে দেখানো। বশ্যতা প্রদর্শন-ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রতি অতিরিক্ত নম্রতা বা বিনয় প্রদর্শন করা। এ ধরনের আচরণে তৈলমর্দকের মধ্যে আত্মসম্মানের অভাব পরিলক্ষিত হয়। অনেকে মনে করেন, এটি একটি সামাজিক কৌশল, যা ব্যক্তিকে সুবিধাপ্রাপ্তির পথ সুগম করে। অন্যদিকে, এটি একটি নেতিবাচক মনোভাব, যা নৈতিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তৈলমর্দনের প্রভাব ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের উপর বহুমুখী। এর মধ্যে কিছু ইতিবাচক এবং বেশিরভাগই নেতিবাচক। তৈলমর্দনকারী ব্যক্তি অল্প সময়ে সুবিধা অর্জন করলেও তার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য প্রায়শই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, তার স্বভাব চাটুকার বা স্বার্থপর হিসেবে পরিচিতি পায়, যা সামাজিক অবস্থানকে দুর্বল করে।সমাজে তৈলমর্দনের কারণে প্রকৃত মেধা এবং যোগ্যতার অবমূল্যায়ন হয়। তৈলমর্দকরা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মন জয় করে, ফলে প্রকৃত মেধাবী এবং সৎ মানুষ প্রায়শই উপেক্ষিত হয়। এটি সমাজে বৈষম্য ও অবিচারের জন্ম দেয়। কর্মক্ষেত্রে তৈলমর্দনের ফলে যোগ্য ব্যক্তির পরিবর্তে চাটুকারদের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায়। এতে প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা কমে যায় এবং কাজের পরিবেশে একধরনের নেতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। যোগ্য কর্মীদের অবমূল্যায়ন কর্মক্ষেত্রে অস্থিরতা তৈরি করে।

রাজনীতিতে তৈলমর্দনের ফলে শাসকগণ প্রকৃত সমস্যাগুলো থেকে দূরে সরে যান। তৈলমর্দকরা তাদের চাটুকারিতার মাধ্যমে শাসকদের ভুল পথে পরিচালিত করে। এতে জনগণের সমস্যা সমাধানে বিলম্ব হয় এবং শাসনব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারায়। তৈলমর্দনের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করে। সেগুলো হলো : স্বার্থসিদ্ধি- ব্যক্তিগত বা পেশাগত সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে। আত্মবিশ্বাসের অভাব-নিজের যোগ্যতায় বিশ্বাসের অভাব থাকলে মানুষ অন্যের তুষ্টির মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করতে চায়। ক্ষমতায় আসীনদের প্রভাব-ক্ষমতাসীন ব্যক্তির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈলমর্দনের প্রধান কারণ।
৪. নৈতিকতার অভাব: চাটুকারিতার পেছনে প্রায়শই নৈতিক মূল্যবোধের অভাব লক্ষ্য করা যায়।

তৈলমর্দনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। সেগুলো হলো : ব্যক্তি এবং সমাজের মধ্যে নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। যোগ্যতা এবং দক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে তোলা। জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে তৈলমর্দনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা। প্রশাসন ও রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তৈলমর্দনের ধারণা আরও বিশদে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি মূলত এক প্রকার মানসিক কৌশল, যা মানুষ তার নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করে। এই চর্চা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এবং প্রতিটি সময়ে এর ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখা গেছে। তবে এটি সর্বত্রই এক ধরনের স্বার্থপরতা এবং মানসিক দাসত্বের প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে। প্রাচীন ভারতীয় রাজসভা থেকে শুরু করে রোমান সাম্রাজ্যের দরবার এবং চীনের সম্রাটদের প্রাসাদ পর্যন্ত সর্বত্র তৈলমর্দনের অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল। এ সময়ে রাজসভায় চাটুকাররা রাজা-রাজড়ার মনোরঞ্জনের জন্য গান গাওয়া, কবিতা রচনা এবং কল্পিত প্রশংসা করতেন। রাজদরবারে মিথ্যা প্রশংসা রাজাকে বাস্তবতা থেকে দূরে রাখত এবং এর ফলে রাজ্যের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতো। উপনিবেশিক শাসনামলে শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে সুযোগ পাওয়ার জন্য স্থানীয় মানুষদের একাংশ তৈলমর্দনের আশ্রয় নিত। ব্রিটিশদের প্রতি দাসত্ব প্রদর্শন করে অনেকেই ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুবিধা আদায় করত। আধুনিক কালে এই চর্চাটি রাজনীতি ও কর্পোরেট সংস্কৃতিতে বিশেষভাবে দৃশ্যমান। এখন এটি কিছুটা পরিশীলিত হয়েছে, তবে মূল উদ্দেশ্য একদমই বদলায়নি।

তৈলমর্দনের সামাজিক প্রভাব সর্বব্যাপী। এটি সমাজের প্রতিটি স্তরে বিদ্যমান এবং ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা যায়। অনেক সময় পরিবারের মধ্যে একজন সদস্য অন্য সদস্যের প্রশংসা বা চাটুকারতা করেন তার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। যেমন, অনেক সময় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের মন জয় করতে তাদের প্রশংসা করা হয়। শিক্ষক বা প্রভাষকের কাছ থেকে ভালো গ্রেড বা সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই তৈলমর্দনের আশ্রয় নেয়। এতে প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্পোরেট জগতে তোষামোদের প্রবণতা খুবই সাধারণ। কর্মক্ষেত্রে বস বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মনোরঞ্জনের জন্য তৈলমর্দন করার সংস্কৃতি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্কৃতিকে দুর্বল করে। রাজনীতিতে তৈলমর্দন সবচেয়ে বিপজ্জনক। নেতাদের চাটুকারিতা করা এবং তাদের ভুল সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

তৈলমর্দন একটি নৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। এটি ব্যক্তির নৈতিকতাবোধকে দুর্বল করে এবং তাকে এক ধরনের স্বার্থপরতার পথে পরিচালিত করে। নৈতিকভাবে শক্তিশালী সমাজ তৈলমর্দনের চর্চা কমিয়ে আনতে পারে। তৈলমর্দক ব্যক্তি নিজের স্বার্থের জন্য অন্যের প্রতি অসৎ আচরণ করে। এটি অন্যের প্রতি ঈর্ষা, অবিশ্বাস এবং হিংসার জন্ম দেয়। একজন তৈলমর্দক ব্যক্তি কেবল নিজের উন্নতির জন্য কাজ করে, ফলে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং সামাজিক বন্ধন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়া তৈলমর্দনের একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্চপদস্থ ব্যক্তি বা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের পোস্টে অহেতুক প্রশংসা করেন, যাতে তারা সেই ব্যক্তির মনোযোগ পান। ইনফ্লুয়েন্সার বা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের পোস্টে অসংখ্য চাটুকার মন্তব্য দেখা যায়, যা এক ধরনের ভার্চুয়াল তৈলমর্দনের উদাহরণ। কর্পোরেট সোশ্যাল মিডিয়ায় কর্মচারীরা অনেক সময় তাদের বস বা সহকর্মীদের প্রশংসা করে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করেন।

তৈলমর্দনের কিছু সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে, যা ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। তৈলমর্দনের কারণে প্রকৃত মেধাবী এবং যোগ্য ব্যক্তিরা প্রায়শই অবমূল্যায়িত হন। শাসকগোষ্ঠী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তৈলমর্দকদের আশ্রয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারেন। এটি সমাজে একধরনের অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করে, যা বৈষম্যের জন্ম দেয়। তৈলমর্দন ব্যক্তির নৈতিক মূল্যবোধকে দুর্বল করে এবং তাকে আত্মকেন্দ্রিক করে তোলে। তৈলমর্দনের চর্চা নির্মূল করতে হলে নৈতিক শিক্ষা, সঠিক মূল্যবোধ এবং যোগ্যতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৈলমর্দনের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। প্রতিভা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে, যাতে তৈলমর্দকরা সুযোগ না পায়। শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যা তরুণ প্রজন্মকে সৎ এবং নীতিনিষ্ঠ হতে সাহায্য করবে। কর্মক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে, যাতে তৈলমর্দকরা অন্যায় সুবিধা না পায়।

তৈলমর্দন একধরনের সামাজিক ব্যাধি, যা ব্যক্তি ও সমাজের অগ্রগতির পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। এটি কেবলমাত্র সাময়িক সুবিধা প্রদান করে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাই তৈলমর্দনের পরিবর্তে নৈতিকতা, সৎকর্ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি সুষম সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তৈলমর্দন একটি সামাজিক ব্যাধি, যা সমাজের বিকাশ এবং নৈতিকতার উন্নয়নে প্রধান অন্তরায়। এটি ক্ষণস্থায়ী সুবিধা প্রদান করলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তি এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের সবার উচিত, তৈলমর্দনের বদলে সৎকর্ম, যোগ্যতা এবং ন্যায়বিচারের উপর গুরুত্বারোপ করা। এ ধরনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সমাজকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তুলবে।

লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, লেখক ও সংগঠক, চাঁদপুর।

দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। সে হিসেবে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারে স্বর্ণের বিক্রয় মূল্য কমানো হচ্ছে। নতুন এই মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিলো বাজুস। ওই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৯১ টাকায়।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার গহনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকবে। ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকারের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ঘোষিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের (মোসলেম আহম্মদ) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। এদিকে, যৌন নিপীড়নের বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিশুর অভিভাবক শাহজালাল রুমি অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারেন। চড় দেওয়ার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে যৌন হয়রানি করেন উপাধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন। এ সময় বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে নানা ধরনের ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) সকালে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে ঘটনার জবাবদিহি চান।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) তাকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে শিশু নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে ও সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের দায়িত্ব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ শৃঙ্খলা পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ এর আগে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। এ সময় তিনি উপস্থিত সেনাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। এরপরে তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।