খুঁজুন
                               
, ,

কিশোরীর প্রেম : জীবনের পরিবর্তনশীল এক অধ্যায়

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
কিশোরীর প্রেম : জীবনের পরিবর্তনশীল এক অধ্যায়

কিশোরীর প্রেম একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়, যা মানব জীবনের এক অনন্য অধ্যায়কে চিহ্নিত করে। এটি কিশোরী মেয়েদের মানসিক, সামাজিক, এবং শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রেম, একটি অনুভূতি হিসেবে, এই বয়সে কিশোরীদের জীবনে বিশেষভাবে আবির্ভূত হয় এবং তাদের জীবনবোধ, মানসিক পরিপক্বতা, এবং ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে। এই প্রবন্ধে কিশোরীর প্রেমের নানা দিক বিশ্লেষণ করা হবে—মানসিক বিকাশ, সামাজিক প্রভাব, এবং এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলি নিয়ে।

কিশোর বয়স ১৩ থেকে ১৯ বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন একজন মেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে দ্রুত পরিণত হতে থাকে। এই বয়সে প্রেম মূলত আবেগপ্রবণ, রোমাঞ্চকর এবং কৌতূহলনির্ভর হয়। এটি প্রথমবারের মতো একজন কিশোরীর জীবনে নতুন এক ধরনের আকর্ষণ, স্নেহ এবং সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছা তৈরি করে। প্রেমের প্রতি এই আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই তার বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।কিশোরী বয়সের প্রেমের বৈশিষ্ট্যগুলো অন্য বয়সের প্রেম থেকে আলাদা। এখানে আবেগ প্রাধান্য পায়, যুক্তি নয়। কিশোরীরা সাধারণত তাদের অনুভূতির গভীরতায় ডুবে যায় এবং তাদের প্রেমের সম্পর্কগুলোকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করে।

মানসিক ও শারীরিক বিকাশের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক : কিশোরীদের মনের গঠন এ সময় দ্রুত পরিবর্তিত হয়। তাদের মানসিক বিকাশের অংশ হিসেবে, আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষাগুলো প্রেমের অনুভূতির মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে। প্রেমের মাধ্যমে তারা নতুন আবেগ এবং মানসিক জগতের সঙ্গে পরিচিত হয়। শারীরিক বিকাশও প্রেমের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এই বয়সে কিশোরীদের শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে, যা তাদের আবেগপ্রবণ করে তোলে। এই আবেগ, কখনও কখনও, তাদেরকে নতুন সম্পর্ক গড়তে বা একটি বিশেষ ব্যক্তির প্রতি আকৃষ্ট হতে প্রভাবিত করে।

কিশোরীর প্রেমের ইতিবাচক দিক : কিশোরীর প্রেমের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, যা তাকে মানসিক ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে। প্রেম একটি কিশোরীর মনে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার অনুভূতি জাগায়। একটি প্রেমময় সম্পর্ক কিশোরীর মানসিক শক্তি যোগাতে পারে। এটি তাকে একাকিত্ব থেকে মুক্তি দেয়। প্রেমের মাধ্যমে কিশোরীরা সম্পর্ক গড়ার কৌশল, সহযোগিতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করে। এই বয়সে প্রেম কিশোরীদের আবেগ সম্পর্কে সচেতন হতে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়।

কিশোরীর প্রেমের নেতিবাচক দিক : তবে, প্রেমের আবেগ অতিমাত্রায় গভীর হলে তা কখনও কখনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেমের আবেগে ডুবে গিয়ে অনেক কিশোরী পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। সম্পর্কের জটিলতা ও প্রত্যাখ্যান অনেক কিশোরীর মধ্যে হতাশা বা মানসিক আঘাত তৈরি করতে পারে। প্রেমের কারণে অনেক কিশোরী পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে, যা সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। আবেগের বশবর্তী হয়ে কিশোরীরা অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব : কিশোরীদের প্রেম নিয়ে সমাজে নানা মতবিরোধ রয়েছে। অনেক সমাজে এটি নিষিদ্ধ বা ট্যাবু হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে, কিশোরীরা তাদের প্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করে। আবার কিছু সমাজে প্রেমকে প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যেখানে কিশোরীরা তাদের অনুভূতিগুলো সহজেই প্রকাশ করতে পারে।

পরিবারের ভূমিকা : পরিবারের ভূমিকা কিশোরীর প্রেমকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা যদি কিশোরীর প্রেমের ব্যাপারে খোলামেলা আলোচনা করেন, তবে এটি কিশোরীর জন্য উপকারী হতে পারে। কিশোরীর অনুভূতিগুলোকে সম্মান জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে পারে। পরিবারের উচিত কিশোরীর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা, তবে তা কখনও যেন তার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ না করে।

কিশোরীর প্রেমের নৈতিক শিক্ষা : প্রেমের আসল অর্থ বোঝানো। দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো সম্পর্কে সচেতন করা। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল শেখানো।

কিশোরীর প্রেম একটি স্বাভাবিক ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে, এটি সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে তা কিশোরীর জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সমন্বিত ভূমিকা কিশোরীর প্রেমের আবেগকে সঠিক পথে চালিত করতে সহায়তা করতে পারে। একমাত্র তখনই কিশোরীরা প্রেমের মাধ্যমে জীবনের গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাবে।

কিশোর বয়স জীবনের এক অপরিহার্য ও উত্তেজনাপূর্ণ সময়। এ সময় মেয়েরা ধীরে ধীরে শৈশব থেকে যৌবনে পদার্পণ করে। প্রেম, যা কিশোরীর জীবনে নতুন রঙ ও অনুভূতি নিয়ে আসে, তার মানসিক জগৎকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। প্রেমের আবেগ শুধু তাদের ব্যক্তিত্ব গঠনের অংশ নয়, এটি জীবনের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার শুরু।

প্রেমের আবেগের গভীরতা : কিশোরীদের প্রেম সাধারণত কল্পনাপ্রবণ ও আবেগনির্ভর হয়। তারা তাদের আদর্শ ব্যক্তিকে রোমান্টিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শুরু করে। কিশোরীদের প্রেমের সম্পর্ক অনেক সময় মনের গভীর চাহিদা, স্নেহ, এবং নিরাপত্তার খোঁজ থেকে আসে। প্রেমের এই অনুভূতি তাদের মনের গভীরে আশা ও আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়।

এই বয়সে প্রেমের সঙ্গে কিশোরীদের স্বপ্ন এবং বাস্তবতার দ্বন্দ্বও কাজ করে। তারা প্রেমকে শুধু সম্পর্ক হিসেবে নয়, বরং জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন দিক তাদের এই স্বপ্নকে ভেঙে দিতে পারে, যা তাদের আবেগের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

প্রেম ও শিক্ষার সমন্বয়  : প্রেম তাদের শিক্ষাজীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। কিছু কিশোরী প্রেমের আবেগে মগ্ন হয়ে পড়াশোনার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে। আবার কিছু কিশোরী প্রেমের অনুপ্রেরণায় নিজেদের জীবনে বড় কিছু অর্জনের জন্য চেষ্টা করে।

ইতিবাচক দিক : প্রেম কিশোরীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা আনতে পারে। অনেকে তাদের ভালোবাসার মানুষের অনুপ্রেরণায় জীবনে বড় কিছু করার জন্য উৎসাহ পায়।

নেতিবাচক দিক : প্রেমের আবেগে কিশোরীরা অনেক সময় পড়াশোনার গুরুত্ব উপেক্ষা করে। এটি তাদের একাডেমিক ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

কিশোরীর প্রেমে বন্ধু ও সমাজের ভূমিকা : বন্ধুরা কিশোরীদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে। এই বয়সে কিশোরীরা বন্ধুদের সঙ্গে তাদের প্রেমের অনুভূতি শেয়ার করে। বন্ধুরা অনেক সময় কিশোরীদের প্রেমের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কিশোরীর প্রেমকে অনেকভাবেই প্রভাবিত করে। কিছু সমাজে কিশোর বয়সে প্রেমকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। ফলে কিশোরীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে সংকোচবোধ করে। আবার, কিছু সংস্কৃতিতে প্রেমকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয়, যেখানে কিশোরীরা নিজেদের ইচ্ছা ও অনুভূতিগুলো নিয়ে খোলামেলা হতে পারে।

প্রেমের আবেগ নিয়ন্ত্রণে পারিবারিক ভূমিকা : পরিবার কিশোরীর প্রেমের বিষয়টি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে। পরিবার যদি কিশোরীর প্রতি সহানুভূতিশীল হয় এবং তার মনের কথা শোনার চেষ্টা করে, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজেই সম্ভব।

বাবা-মা যদি কিশোরীর প্রেমের বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন, তবে কিশোরী তার অনুভূতি নিয়ে স্বস্তি পাবে। এটি তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগায়।পরিবারের উচিত কিশোরীদের জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। তবে এটি যেন তাদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ না করে।

প্রেমের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের বিকাশ : কিশোরীর প্রেম শুধু আবেগের বিষয় নয়; এটি তার ব্যক্তিত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রেম কিশোরীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস, এবং সহনশীলতা গড়ে তোলে। প্রেমের মাধ্যমে কিশোরীরা নিজেদের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতাগুলো উপলব্ধি করতে পারে। প্রেমের সম্পর্ক কিশোরীদের মধ্যে যোগাযোগ দক্ষতা এবং আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক উন্নত করতে সাহায্য করে।

সম্পর্কের বিভিন্ন জটিলতার মধ্যে দিয়ে কিশোরীরা সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করে।

প্রেম ও প্রযুক্তির প্রভাব: বর্তমান যুগে প্রযুক্তি কিশোরীর প্রেমের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপ, এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ওঠা এখন একটি সাধারণ বিষয়। তবে, এটি যেমন সুবিধা দেয়, তেমনি বিপদও বয়ে আনতে পারে।

প্রযুক্তি প্রেমের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনে। এটি সম্পর্ককে সহজ এবং আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

প্রযুক্তি-নির্ভর সম্পর্ক কখনও কখনও কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গোপনীয়তার অভাব, অতিরিক্ত সময় ব্যয়, এবং প্রতারণার ঝুঁকি কিশোরীদের বিপদে ফেলতে পারে।

নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা : কিশোর বয়সে প্রেমের বিষয়টি নিয়ে সঠিক নৈতিক শিক্ষা এবং সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেমের প্রকৃতি এবং দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রেমের ভূমিকা বোঝানো। সম্পর্কের সীমা এবং গোপনীয়তার গুরুত্ব বোঝানো

কিশোরীর প্রেম জীবনের একটি জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে প্রভাব ফেলে এবং তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে। প্রেমের এই অধ্যায় সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সমর্থন পেলে কিশোরীরা জীবনে আরও সফল এবং পরিপক্ব হয়ে উঠতে পারে। বাবা-মা, শিক্ষক এবং সমাজের সহানুভূতি ও সমর্থন কিশোরীদের প্রেমের অনুভূতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। এর মাধ্যমে কিশোরীরা তাদের জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্যগুলো অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে।

লেখক: উজ্জ্বল হোসাইন, সংগঠক ও প্রাবন্ধিক। মোবাইল : 016751283, rtrujjal@gmail.com

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে ও সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের দায়িত্ব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ শৃঙ্খলা পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ এর আগে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। এ সময় তিনি উপস্থিত সেনাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। এরপরে তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।

দুই বছর পর স্বস্তি, টাকা পাচ্ছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
দুই বছর পর স্বস্তি, টাকা পাচ্ছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা

দীর্ঘ দুই বছরের অনিশ্চয়তা আর ভোগান্তির পর স্বস্তি ফিরছে ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে। আজ থেকে আবারও স্বাভাবিকভাবে টাকা তুলতে পারছেন গ্রাহকরা। নেই আগের মতো নির্দিষ্ট অঙ্কের সীমাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন নিজের জমানো টাকা তুলতে না পারার পর অর্থ হাতে পেয়ে খুশি গ্রাহকরা। ব্যাংক কর্মকর্তারাও বলছেন, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। এখন প্রত্যাশা, ঘুরে দাঁড়াবে ন্যাশনাল ব্যাংক।
নিজের জমানো টাকা হাতে পাওয়ার স্বস্তি যেন গ্রাহকদের চোখেমুখে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর নানা দুশ্চিন্তার পর আবারও প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারছেন তারা। কারও টাকা লাগবে সংসারের খরচে, কারও ব্যবসায়, আবার কারও জরুরি প্রয়োজনে। এত দিন এসব চাহিদা পূরণে ছিল নানা সীমাবদ্ধতা। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে স্বস্তি ফিরেছে গ্রাহকদের মধ্যে।
অনেকগুলো গ্রাহকের সাথে কথা বলেছে ঢাকা জার্নাল। তারা জানিয়েছে, ‘অনেক দিন পর নিজের টাকা তুলতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আগে টাকা তুলতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হতো। এখন টাকা তুলতে পারছি, এতে আমরা খুবই খুশি’।
গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোই এখন ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল ভিত্তি গ্রাহকের বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা পরিশোধ এবং সেবার মান উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের বাংলামোটর শাখার ম্যানেজার মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন ঢাকা জার্নালকে বলেন, ‘গ্রাহকদের টাকা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা চাই, গ্রাহকরা আবারও স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকিং সেবা নিন এবং আমাদের ওপর আস্থা রাখুন’।
তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে শুধু টাকা উত্তোলনের সুযোগ চালু রাখাই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা, আমানতের নিরাপত্তা এবং গ্রাহকদের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। গ্রাহকদের আস্থা ফিরে এলে তা ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে।
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নিজের জমানো টাকা তুলতে পারছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা। এতে স্বস্তি ফিরলেও ব্যাংকটির সামনে এখন বড় দায়িত্ব, এই স্বাভাবিক লেনদেন ধরে রাখা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। গ্রাহকদের প্রত্যাশা, আবারও আগের অবস্থানে ফিরে আসবে ন্যাশনাল ব্যাংক। গ্রাহকের আস্থা আর স্বাভাবিক লেনদেনের ধারাবাহিকতাই পারে ন্যাশনাল ব্যাংককে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে এগিয়ে নিতে।

হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা ইরানের

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সাম্প্রতিক সময়ে এই নৌপথে একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছে বাহিনীটি।
এ ছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তার ওপর নির্ভর করে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলেও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে পানির নিচে থাকা মাইনের আঘাতে একটি বড় তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার খবর প্রকাশিত হয়। এর পরদিন সৌদি আরবের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এলাকায় আরও অন্তত দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
পরপর এসব হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই প্রণালিটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিল আইআরজিসি। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে এ নৌপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এর মধ্য দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তেলের দামেও ঊর্ধ্বগতির চাপ তৈরি হতে পারে। সূত্র:আল-জাজিরা, ইরনা