খুঁজুন
                               
, ,

কিশোরীর প্রেম : জীবনের পরিবর্তনশীল এক অধ্যায়

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
কিশোরীর প্রেম : জীবনের পরিবর্তনশীল এক অধ্যায়

কিশোরীর প্রেম একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়, যা মানব জীবনের এক অনন্য অধ্যায়কে চিহ্নিত করে। এটি কিশোরী মেয়েদের মানসিক, সামাজিক, এবং শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রেম, একটি অনুভূতি হিসেবে, এই বয়সে কিশোরীদের জীবনে বিশেষভাবে আবির্ভূত হয় এবং তাদের জীবনবোধ, মানসিক পরিপক্বতা, এবং ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে। এই প্রবন্ধে কিশোরীর প্রেমের নানা দিক বিশ্লেষণ করা হবে—মানসিক বিকাশ, সামাজিক প্রভাব, এবং এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলি নিয়ে।

কিশোর বয়স ১৩ থেকে ১৯ বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন একজন মেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে দ্রুত পরিণত হতে থাকে। এই বয়সে প্রেম মূলত আবেগপ্রবণ, রোমাঞ্চকর এবং কৌতূহলনির্ভর হয়। এটি প্রথমবারের মতো একজন কিশোরীর জীবনে নতুন এক ধরনের আকর্ষণ, স্নেহ এবং সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছা তৈরি করে। প্রেমের প্রতি এই আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই তার বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।কিশোরী বয়সের প্রেমের বৈশিষ্ট্যগুলো অন্য বয়সের প্রেম থেকে আলাদা। এখানে আবেগ প্রাধান্য পায়, যুক্তি নয়। কিশোরীরা সাধারণত তাদের অনুভূতির গভীরতায় ডুবে যায় এবং তাদের প্রেমের সম্পর্কগুলোকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করে।

মানসিক ও শারীরিক বিকাশের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক : কিশোরীদের মনের গঠন এ সময় দ্রুত পরিবর্তিত হয়। তাদের মানসিক বিকাশের অংশ হিসেবে, আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষাগুলো প্রেমের অনুভূতির মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে। প্রেমের মাধ্যমে তারা নতুন আবেগ এবং মানসিক জগতের সঙ্গে পরিচিত হয়। শারীরিক বিকাশও প্রেমের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এই বয়সে কিশোরীদের শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে, যা তাদের আবেগপ্রবণ করে তোলে। এই আবেগ, কখনও কখনও, তাদেরকে নতুন সম্পর্ক গড়তে বা একটি বিশেষ ব্যক্তির প্রতি আকৃষ্ট হতে প্রভাবিত করে।

কিশোরীর প্রেমের ইতিবাচক দিক : কিশোরীর প্রেমের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, যা তাকে মানসিক ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে। প্রেম একটি কিশোরীর মনে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার অনুভূতি জাগায়। একটি প্রেমময় সম্পর্ক কিশোরীর মানসিক শক্তি যোগাতে পারে। এটি তাকে একাকিত্ব থেকে মুক্তি দেয়। প্রেমের মাধ্যমে কিশোরীরা সম্পর্ক গড়ার কৌশল, সহযোগিতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করে। এই বয়সে প্রেম কিশোরীদের আবেগ সম্পর্কে সচেতন হতে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়।

কিশোরীর প্রেমের নেতিবাচক দিক : তবে, প্রেমের আবেগ অতিমাত্রায় গভীর হলে তা কখনও কখনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেমের আবেগে ডুবে গিয়ে অনেক কিশোরী পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। সম্পর্কের জটিলতা ও প্রত্যাখ্যান অনেক কিশোরীর মধ্যে হতাশা বা মানসিক আঘাত তৈরি করতে পারে। প্রেমের কারণে অনেক কিশোরী পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে, যা সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। আবেগের বশবর্তী হয়ে কিশোরীরা অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব : কিশোরীদের প্রেম নিয়ে সমাজে নানা মতবিরোধ রয়েছে। অনেক সমাজে এটি নিষিদ্ধ বা ট্যাবু হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে, কিশোরীরা তাদের প্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করে। আবার কিছু সমাজে প্রেমকে প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যেখানে কিশোরীরা তাদের অনুভূতিগুলো সহজেই প্রকাশ করতে পারে।

পরিবারের ভূমিকা : পরিবারের ভূমিকা কিশোরীর প্রেমকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা যদি কিশোরীর প্রেমের ব্যাপারে খোলামেলা আলোচনা করেন, তবে এটি কিশোরীর জন্য উপকারী হতে পারে। কিশোরীর অনুভূতিগুলোকে সম্মান জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে পারে। পরিবারের উচিত কিশোরীর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা, তবে তা কখনও যেন তার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ না করে।

কিশোরীর প্রেমের নৈতিক শিক্ষা : প্রেমের আসল অর্থ বোঝানো। দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো সম্পর্কে সচেতন করা। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল শেখানো।

কিশোরীর প্রেম একটি স্বাভাবিক ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে, এটি সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে তা কিশোরীর জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সমন্বিত ভূমিকা কিশোরীর প্রেমের আবেগকে সঠিক পথে চালিত করতে সহায়তা করতে পারে। একমাত্র তখনই কিশোরীরা প্রেমের মাধ্যমে জীবনের গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাবে।

কিশোর বয়স জীবনের এক অপরিহার্য ও উত্তেজনাপূর্ণ সময়। এ সময় মেয়েরা ধীরে ধীরে শৈশব থেকে যৌবনে পদার্পণ করে। প্রেম, যা কিশোরীর জীবনে নতুন রঙ ও অনুভূতি নিয়ে আসে, তার মানসিক জগৎকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। প্রেমের আবেগ শুধু তাদের ব্যক্তিত্ব গঠনের অংশ নয়, এটি জীবনের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার শুরু।

প্রেমের আবেগের গভীরতা : কিশোরীদের প্রেম সাধারণত কল্পনাপ্রবণ ও আবেগনির্ভর হয়। তারা তাদের আদর্শ ব্যক্তিকে রোমান্টিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শুরু করে। কিশোরীদের প্রেমের সম্পর্ক অনেক সময় মনের গভীর চাহিদা, স্নেহ, এবং নিরাপত্তার খোঁজ থেকে আসে। প্রেমের এই অনুভূতি তাদের মনের গভীরে আশা ও আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়।

এই বয়সে প্রেমের সঙ্গে কিশোরীদের স্বপ্ন এবং বাস্তবতার দ্বন্দ্বও কাজ করে। তারা প্রেমকে শুধু সম্পর্ক হিসেবে নয়, বরং জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন দিক তাদের এই স্বপ্নকে ভেঙে দিতে পারে, যা তাদের আবেগের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

প্রেম ও শিক্ষার সমন্বয়  : প্রেম তাদের শিক্ষাজীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। কিছু কিশোরী প্রেমের আবেগে মগ্ন হয়ে পড়াশোনার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে। আবার কিছু কিশোরী প্রেমের অনুপ্রেরণায় নিজেদের জীবনে বড় কিছু অর্জনের জন্য চেষ্টা করে।

ইতিবাচক দিক : প্রেম কিশোরীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা আনতে পারে। অনেকে তাদের ভালোবাসার মানুষের অনুপ্রেরণায় জীবনে বড় কিছু করার জন্য উৎসাহ পায়।

নেতিবাচক দিক : প্রেমের আবেগে কিশোরীরা অনেক সময় পড়াশোনার গুরুত্ব উপেক্ষা করে। এটি তাদের একাডেমিক ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

কিশোরীর প্রেমে বন্ধু ও সমাজের ভূমিকা : বন্ধুরা কিশোরীদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে। এই বয়সে কিশোরীরা বন্ধুদের সঙ্গে তাদের প্রেমের অনুভূতি শেয়ার করে। বন্ধুরা অনেক সময় কিশোরীদের প্রেমের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কিশোরীর প্রেমকে অনেকভাবেই প্রভাবিত করে। কিছু সমাজে কিশোর বয়সে প্রেমকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। ফলে কিশোরীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে সংকোচবোধ করে। আবার, কিছু সংস্কৃতিতে প্রেমকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয়, যেখানে কিশোরীরা নিজেদের ইচ্ছা ও অনুভূতিগুলো নিয়ে খোলামেলা হতে পারে।

প্রেমের আবেগ নিয়ন্ত্রণে পারিবারিক ভূমিকা : পরিবার কিশোরীর প্রেমের বিষয়টি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে। পরিবার যদি কিশোরীর প্রতি সহানুভূতিশীল হয় এবং তার মনের কথা শোনার চেষ্টা করে, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজেই সম্ভব।

বাবা-মা যদি কিশোরীর প্রেমের বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন, তবে কিশোরী তার অনুভূতি নিয়ে স্বস্তি পাবে। এটি তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগায়।পরিবারের উচিত কিশোরীদের জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। তবে এটি যেন তাদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ না করে।

প্রেমের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের বিকাশ : কিশোরীর প্রেম শুধু আবেগের বিষয় নয়; এটি তার ব্যক্তিত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রেম কিশোরীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস, এবং সহনশীলতা গড়ে তোলে। প্রেমের মাধ্যমে কিশোরীরা নিজেদের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতাগুলো উপলব্ধি করতে পারে। প্রেমের সম্পর্ক কিশোরীদের মধ্যে যোগাযোগ দক্ষতা এবং আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক উন্নত করতে সাহায্য করে।

সম্পর্কের বিভিন্ন জটিলতার মধ্যে দিয়ে কিশোরীরা সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করে।

প্রেম ও প্রযুক্তির প্রভাব: বর্তমান যুগে প্রযুক্তি কিশোরীর প্রেমের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপ, এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ওঠা এখন একটি সাধারণ বিষয়। তবে, এটি যেমন সুবিধা দেয়, তেমনি বিপদও বয়ে আনতে পারে।

প্রযুক্তি প্রেমের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনে। এটি সম্পর্ককে সহজ এবং আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

প্রযুক্তি-নির্ভর সম্পর্ক কখনও কখনও কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গোপনীয়তার অভাব, অতিরিক্ত সময় ব্যয়, এবং প্রতারণার ঝুঁকি কিশোরীদের বিপদে ফেলতে পারে।

নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা : কিশোর বয়সে প্রেমের বিষয়টি নিয়ে সঠিক নৈতিক শিক্ষা এবং সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেমের প্রকৃতি এবং দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রেমের ভূমিকা বোঝানো। সম্পর্কের সীমা এবং গোপনীয়তার গুরুত্ব বোঝানো

কিশোরীর প্রেম জীবনের একটি জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে প্রভাব ফেলে এবং তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে। প্রেমের এই অধ্যায় সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সমর্থন পেলে কিশোরীরা জীবনে আরও সফল এবং পরিপক্ব হয়ে উঠতে পারে। বাবা-মা, শিক্ষক এবং সমাজের সহানুভূতি ও সমর্থন কিশোরীদের প্রেমের অনুভূতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। এর মাধ্যমে কিশোরীরা তাদের জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্যগুলো অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে।

লেখক: উজ্জ্বল হোসাইন, সংগঠক ও প্রাবন্ধিক। মোবাইল : 016751283, rtrujjal@gmail.com

সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে সব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে সব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন আইন অনুযায়ী সব ধরনের সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী মো. সাহাবুদ্দিন সব ধরনের সুবিধা পাবেন। তার নিরাপত্তার জন্য এসএসএফ ও পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি বিধান রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকেও তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। আইন অনুযায়ী যেসব সুবিধা প্রাপ্য, সেগুলোর সবই তিনি পাবেন। মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংকটময় সময়ে তিনি সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিধি-বিধান অনুযায়ীই তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি।
তিনি বলেন, সেই সময় সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা (প্রিভিলেজ) ভোগ করতেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে বা এ-সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে কোনো মামলা করা যায় না। তবে এর বাইরে কোনো সময়ের বক্তব্য নিয়ে কেউ মতামত দিলে, সেটি তাদের স্বাধীনতা। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় সেখানে দেখিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের সে অধিকার রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল, মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে, সেটি রয়েছে। এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। তবে আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য সেখানে নেই।

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত! অনুমোদিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’। ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিন জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পল্লী সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুঃস্থ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং পেট্রোবাংলার উদ্যোগে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘১টি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের জন্য তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার প্যাকেজগুলোর ঘোষণা দেন। এ সময় হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার খাওয়া ও কোরবানিসহ তিনটি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
হাব জানায়, তিনটি প্যাকেজের মধ্যে বিশেষ প্যাকেজ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা, সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ও সাশ্রয়ী প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবার সাশ্রয়ী প্যাকেজের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টাকা বেশি। এ ছাড়া বিশেষ হজ প্যাকেজে ব্যয় বেড়েছে ৪১ হাজার ৬০ টাকা।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ২০২৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ২টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) এর খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা।