খুঁজুন
                               
, ,

শীতকালে মায়ের হাতে পিঠা-পুলি ঐতিহ্যের মিষ্টি স্মৃতি

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
শীতকালে মায়ের হাতে পিঠা-পুলি ঐতিহ্যের মিষ্টি স্মৃতি

শীতকাল বাঙালির জীবনে এক অনন্য ঋতু। এই ঋতু শুধু ঠাণ্ডা আবহাওয়া নয়, বরং গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, কৃষ্টিকলা এবং সুখময় পারিবারিক মুহূর্তের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। শীতকাল এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে এক অনন্য উষ্ণতার সৃষ্টি হয়, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পিঠা-পুলির ঐতিহ্য। মায়ের হাতে তৈরি পিঠার গন্ধ যেন শৈশবের মিষ্টি স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।  পিঠা-পুলি বাঙালির সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। শীতের সকালের শিশিরভেজা প্রকৃতির সাথে একবাটি ধোঁয়া ওঠা পিঠার স্বাদ যেন সবার হৃদয় জয় করে। মায়ের হাতে তৈরি পিঠার প্রতি ভালোবাসা আর আন্তরিকতা বাঙালি পরিবারে এক নতুন আনন্দের সঞ্চার করে। বাঙালি সংস্কৃতিতে পিঠার ইতিহাস বহু প্রাচীন। প্রাচীনকাল থেকেই ধান ও চালের উপর ভিত্তি করে গ্রামীণ জীবনযাত্রার সূচনা হয়। ধান কেটে ফসল ঘরে তোলার পর এই শস্যকে কেন্দ্র করেই পিঠা তৈরির প্রথা চালু হয়। পিঠা শুধু খাদ্য নয়; এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।

গ্রামবাংলার মায়েরা শীতকালে নতুন ধানের চালে নানা ধরনের পিঠা তৈরি করেন। এই পিঠাগুলি তৈরি হয় খুব যত্ন এবং ভালোবাসার সঙ্গে। বিভিন্ন অঞ্চলের পিঠার ধরণ ও বৈচিত্র্য বিভিন্ন। চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা, দুধপুলি, নারিকেলের পুলি, মালপোয়া, কিংবা ক্ষীরপিঠার মতো পিঠাগুলি আমাদের ঐতিহ্যেরই অংশ।
মায়ের হাতে তৈরি পিঠার স্বাদ অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয়। শীতের সকালে মা যখন উঠে পিঠা বানান, সেই সময়টুকু যেন সবার জন্য একটি উৎসবের মতো। মায়ের পিঠা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন নতুন চালের গুঁড়ো, খেজুরের গুড়, নারিকেল—সবকিছুই গ্রামের প্রকৃতির সঙ্গে জড়িত। মায়ের পিঠা তৈরির সময় পুরো বাড়ি ভরে ওঠে গুড় আর নারিকেলের মনোরম গন্ধে। ছোটরা উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করে কখন পিঠা তৈরি হবে। আবার কেউ কেউ চুলার পাশে বসে গরম পিঠার স্বাদ নেয়ার জন্য অপেক্ষা করে। পিঠা তৈরির প্রতিটি ধাপে মায়ের মমতা আর যত্ন মিশে থাকে, যা পরিবারের সবার জন্য এক অনন্য অনুভূতি সৃষ্টি করে।
বাঙালির পিঠার তালিকা অত্যন্ত বিস্তৃত। অঞ্চলভেদে পিঠার ধরণ বদলে যায়। কিছু পিঠা ভাপা করে তৈরি হয়, কিছু আবার ভাজা হয়। শীতের সকালে ভাপা পিঠা খুবই জনপ্রিয়। চালের গুঁড়ো আর খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি ভাপা পিঠা একদিকে নরম আর অন্যদিকে স্বাদের দিক থেকে অপূর্ব। পাটিসাপটা পিঠা হল আরেকটি জনপ্রিয় পিঠা, যা তৈরি হয় নারিকেলের পুর দিয়ে। দুধপুলি পিঠা নারিকেল, দুধ আর খেজুর গুড়ের মিশ্রণে তৈরি হয়। এটি সবার কাছে খুবই প্রিয়। চিতই পিঠা সাধারণত গরম দুধ কিংবা গুড় দিয়ে খাওয়া হয়। মালপোয়া পিঠা বানানো হয় ময়দা আর গুড় দিয়ে, যা মিষ্টির মতো সবার মন ভরিয়ে দেয়। শীতকালের পিঠা-পুলি বাঙালির সামাজিক জীবনের একটি বড় অংশ। পিঠা তৈরির সময় একসঙ্গে পরিবার-পরিজন জড়ো হয়, যা পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করে। গ্রামে পিঠা উৎসব বা নবান্ন উৎসবের সময় পিঠা-পুলির প্রাধান্য দেখা যায়। এই উৎসবে সবাই একত্রে পিঠা খায় এবং আনন্দ ভাগ করে নেয়।

শহুরে জীবনে অনেকেই এই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন। যদিও আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার কারণে মায়ের হাতে তৈরি পিঠার স্বাদ অনেকেই উপভোগ করতে পারেন না, তবুও শীতকাল এলেই এই স্মৃতিগুলি সবার মনে জাগ্রত হয়। প্রবাসী বাঙালিদের জন্য মায়ের পিঠার স্মৃতি বিশেষভাবে আবেগময়। শীতকালের ঠাণ্ডায় তারা দেশে ফিরে মায়ের হাতে তৈরি পিঠার স্বাদ নিতে চায়। মায়ের পিঠা যেন তাদের শৈশবের দিনগুলির স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। প্রবাসে থেকেও অনেকে নিজ হাতে পিঠা তৈরির চেষ্টা করেন, তবে মায়ের পিঠার সেই স্বাদ আর ভালোবাসার অনুরূপ কিছুই হয় না। পিঠা-পুলির সঙ্গে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এটি কেবল খাদ্য নয়, বরং একটি ঐতিহ্যের ধারক। পিঠার উৎপত্তি মূলত কৃষিজীবী সমাজ থেকে। ফসল কাটার পর নতুন ধানের চাল দিয়ে পিঠা তৈরি করা একটি প্রাচীন প্রথা। এ কারণে নবান্ন উৎসবের সঙ্গে পিঠার অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক।

শীতের আগমনে বাঙালির গ্রামীণ জীবনে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পিঠার বৈচিত্র্য এবং তার উপাদানের সহজলভ্যতা এই সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খেজুরের গুড়, নারিকেল, দুধ—সব উপাদান প্রাকৃতিক এবং মৌসুমী। বর্তমান সময়ে পিঠা উৎসব একটি জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাম থেকে শহরে, এমনকি বিভিন্ন দেশে বাঙালিরা পিঠা উৎসবের আয়োজন করে নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে। পিঠা উৎসবে বিভিন্ন ধরনের পিঠার প্রদর্শনী হয়, যা নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে সাহায্য করে।

পিঠা উৎসব কেবলমাত্র খাদ্যের প্রদর্শনী নয়, এটি একটি মেলবন্ধনের অনুষ্ঠান। এই উৎসবে অংশগ্রহণকারী সবাই বাঙালির ঐতিহ্যের অংশীদার হয়ে ওঠে। পিঠা উৎসব আমাদের ঐতিহ্যের গভীর শিকড়কে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। গ্রামের বাড়িতে শীতকালে পিঠার আনন্দ আলাদা। মা-ঠাকুমারা মিলে পিঠা বানানোর সময় পুরো পরিবার একত্রিত হয়। বড়রা পিঠা বানানোর কাজে সাহায্য করেন, আর ছোটরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে পিঠা খাওয়ার জন্য। এই পারিবারিক সময়গুলো সম্পর্কের বন্ধন আরও মজবুত করে। গ্রামীণ মেয়েরা নিজেদের গৃহস্থালীর দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য পিঠা বানানোর বিশেষ পদ্ধতি রপ্ত করে। তাদের হাতে তৈরি পিঠায় নান্দনিকতা এবং শৈল্পিক দক্ষতা দেখা যায়। এক একটি পিঠার নকশা যেন বাংলার গ্রামীণ জীবনের প্রতীক।শহুরে জীবনে মাটির চুলা বা খেজুর গুড় সহজলভ্য না হলেও মায়েরা পিঠার ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে যেমন রাইস কুকার বা মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে পিঠা তৈরি করা যায়, তেমনি এই পিঠার প্রতি আবেগও অব্যাহত থাকে।

শীতকালে অনেক পরিবার একত্রিত হয়ে পিঠা তৈরি করে। শহুরে পরিবেশে এটি একটি মজার পারিবারিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। অনেক মানুষ এখনো মায়ের হাতের সেই ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদে ফিরে যেতে চায় এবং নিজেদের শৈশবের মুহূর্তগুলোকে স্মরণ করে।বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের পিঠা প্রচলিত। অঞ্চলভেদে পিঠার ধরন, স্বাদ এবং তৈরির পদ্ধতিতে ভিন্নতা দেখা যায়।

পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে : ক্ষীরপুলি এবং দুধপিঠা খুবই জনপ্রিয়।
চট্টগ্রামে : মিষ্টি পিঠার পাশাপাশি তেলে ভাজা “মিষ্টি চিতই” বা “মালপোয়া” পিঠা বেশি প্রচলিত।
সিলেট অঞ্চলে : মাংসপিঠা বা “খোলাপিঠা” অন্যতম বৈচিত্র্যপূর্ণ।
ঢাকা ও ময়মনসিংহে : পাটিসাপটা ও নারিকেলের পুলি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

প্রতিটি অঞ্চলের পিঠার বৈচিত্র্য আমাদের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। প্রবাসে থাকা বাঙালিদের জন্য শীতকালের পিঠা শুধু একটি খাবার নয়; এটি শৈশবের স্মৃতি এবং মায়ের ভালোবাসার প্রতীক। প্রবাসীরা যখন নিজ হাতে পিঠা তৈরি করেন, তখন তারা নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। অনেকে প্রবাসে পিঠা উৎসবের আয়োজন করেন, যা তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে জাগ্রত রাখতে সাহায্য করে।

মায়ের হাতে বানানো পিঠার স্বাদ প্রবাসে পাওয়া না গেলেও, তার স্মৃতি প্রবাসীদের মন জুড়ে থাকে। এ কারণেই পিঠা বাঙালির জীবনে এক শক্তিশালী আবেগের। শীতকালে মায়ের পিঠা-পুলি বাঙালির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু খাবার নয়, বরং মায়ের স্নেহ, পরিবারের বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিশ্রণ। পিঠার প্রতিটি কামড় যেন এক টুকরো আনন্দের স্মৃতি। আজকের আধুনিক জীবনে, এই ঐতিহ্য ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিঠা শুধু শীতের খাদ্য নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতির মর্মবাণী এবং আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ। মায়ের পিঠার স্বাদে আমরা পাই শৈশবের সুমধুর দিনগুলোর স্মৃতি এবং পরিবারের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সুতরাং, শীত এলেই মায়ের পিঠা-পুলির ঐতিহ্য আমাদের জীবনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করে। শীতকালে মায়ের পিঠা-পুলি শুধু একটি খাদ্য নয়; এটি বাঙালি সংস্কৃতির গর্ব এবং মায়ের ভালোবাসার প্রতীক। এই ঐতিহ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে। পিঠার মিষ্টি গন্ধ, মায়ের যত্ন আর শীতের আনন্দ—সবকিছু মিলিয়ে এটি বাঙালির জীবনে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। মায়ের হাতে তৈরি পিঠা আমাদের মনে ভালোবাসা, ঐতিহ্য এবং পারিবারিক বন্ধনের মূল্য মনে করিয়ে দেয়।

লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, লেখক ও সংগঠক, চাঁদপুর, 01710802899, rtrujjal@gmail.com

দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে অস্থিরতার সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতি না মেনে টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প নেওয়া, কোথাও কাজ না করে এবং কোথাও নামমাত্র কাজ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মাত্র দুই দিনে ২১টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটোয়ারী অপসারণের এক দিন আগে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ১৭টি চেক ইস্যু করে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর আগে ১৪ আগস্ট চারটি প্রকল্পের বিপরীতে আরও ১৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যে দুই দিনের উত্তোলনের পরিমাণ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলা হয়েছে।
নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনায় কয়েকটি প্রকল্পে কাজ না হওয়া এবং কিছু প্রকল্পে আংশিক কাজ করে পুরো বিল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন ঠিকাদার দাবি করেছেন, তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ ও বিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও প্রকল্প সম্পর্কে তারা জানতেন না।
১৮ আগস্ট ইস্যু করা চেকগুলোর মধ্যে চেয়ারম্যানের আত্মীয় ঠিকাদার শেখ নজরুল ইসলামের নামে সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিল দেওয়ার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে বাবুরহাট মার্কেটের সাইট প্রস্তুত ও বালু ভরাটের দুটি কাজের বিপরীতে প্রায় ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, সেখানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ গাড়ি বালু ফেলা হয়েছিল এবং পুরো জায়গা ভরাট হয়নি। শেখ নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি যে কাজ করেছেন শুধু সেই কাজের বিল নিয়েছেন।
জেলা পরিষদের হলরুমের ওয়াল টাইলসকরণ এবং ভবন সংস্কার ও রংকরণ প্রকল্পে প্রায় ১৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে এসব কাজে বাস্তবে কাজ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বক্তব্যেও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। একজন ঠিকাদার প্রথমে হলরুমে কাজ না করার কথা বললেও পরে নিজের লাইসেন্সে কাজ হয়েছে বলে জানান। আরেক ঠিকাদার দাবি করেন, প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানতেন না এবং টাকা উত্তোলনের পর প্রকৌশলী তার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে যান।
এ ছাড়া আরও পাঁচটি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। চেয়ারম্যান অপসারিত হওয়ায় ওই অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি; পরে চেকগুলো বাতিল করা হয়। জেলা পরিষদ প্রশাসকের দাবি, এসব চেকের বিপরীতে কোনও ফাইল বা প্রকল্প ছিল না। সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, ফাইলগুলো সঠিক না হওয়ায় চেক বাতিল করা হয় এবং ভুল করে লেখা হয়েছিল।
জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আব্দুল কুদ্দুস ভাটের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু কাজ হয়নি, কিছু কাজ আংশিক হয়েছে এবং কয়েকটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, প্রকল্প পরিদর্শন ও কাজের পরিমাণ যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রকৌশলীর। সাবেক প্রকৌশলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাজ হওয়ার পরই বিল দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দুদক তথ্য চেয়েছে এবং তদন্ত করছে। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ দুদককে প্রয়োজনীয় তথ্য দেবে।
নথিতে থাকা অর্থ উত্তোলন, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহারের দাবি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। কোন প্রকল্প বাস্তবে হয়েছে, কে কাজ করেছেন, কে প্রত্যয়ন দিয়েছেন এবং অর্থ কার হাতে গেছে—এসব বিষয় এখন দুদকের তদন্তে নির্ধারিত হবে।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া।
প্রস্তাবিত ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠির সঙ্গে আইনের খসড়ার সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে জানা যায়, ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করতে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ৮ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
গঠিত কমিটি কর্তৃক একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী- খসড়া আইনটির ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার ‘এফবি বরকত’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখনও পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও আট জেলেকে। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ট্রলার মালিক সমিতি। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে গভীর সমুদ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির মালিক বরগুনার পাথরঘাটার আশরাফ কোম্পানি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার দিন আগে ১৩ জন জেলে পাথরঘাটা থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায় ‘এফবি বরকত’। গতকাল সোমবার বিকেলে সাগরে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে ডুবে যাওয়া ট্রলারের কাছাকাছি থাকা পাথরঘাটার অপর একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা পানিতে ভাসতে থাকা আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া জেলেদের বরাত দিয়ে তারা ট্রলারডুবির বিষয়টি মালিকপক্ষকে জানান। এ ঘটনায় এখনো পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে কাজ করছে ট্রলার মালিক সমিতি। নিখোঁজ পাঁচ জেলের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ‘এফবি বরকত’ নামে একটি ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার খবর তারা অপর একটি ট্রলারের জেলেদের মাধ্যমে পেয়েছেন। খবর পাওয়ার পর ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারের জন্য ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আট জেলেকে উপকূলে নিয়ে আসা হচ্ছে।