খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শীতকালে মায়ের হাতে পিঠা-পুলি ঐতিহ্যের মিষ্টি স্মৃতি

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
শীতকালে মায়ের হাতে পিঠা-পুলি ঐতিহ্যের মিষ্টি স্মৃতি

শীতকাল বাঙালির জীবনে এক অনন্য ঋতু। এই ঋতু শুধু ঠাণ্ডা আবহাওয়া নয়, বরং গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, কৃষ্টিকলা এবং সুখময় পারিবারিক মুহূর্তের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। শীতকাল এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে এক অনন্য উষ্ণতার সৃষ্টি হয়, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পিঠা-পুলির ঐতিহ্য। মায়ের হাতে তৈরি পিঠার গন্ধ যেন শৈশবের মিষ্টি স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।  পিঠা-পুলি বাঙালির সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। শীতের সকালের শিশিরভেজা প্রকৃতির সাথে একবাটি ধোঁয়া ওঠা পিঠার স্বাদ যেন সবার হৃদয় জয় করে। মায়ের হাতে তৈরি পিঠার প্রতি ভালোবাসা আর আন্তরিকতা বাঙালি পরিবারে এক নতুন আনন্দের সঞ্চার করে। বাঙালি সংস্কৃতিতে পিঠার ইতিহাস বহু প্রাচীন। প্রাচীনকাল থেকেই ধান ও চালের উপর ভিত্তি করে গ্রামীণ জীবনযাত্রার সূচনা হয়। ধান কেটে ফসল ঘরে তোলার পর এই শস্যকে কেন্দ্র করেই পিঠা তৈরির প্রথা চালু হয়। পিঠা শুধু খাদ্য নয়; এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।

গ্রামবাংলার মায়েরা শীতকালে নতুন ধানের চালে নানা ধরনের পিঠা তৈরি করেন। এই পিঠাগুলি তৈরি হয় খুব যত্ন এবং ভালোবাসার সঙ্গে। বিভিন্ন অঞ্চলের পিঠার ধরণ ও বৈচিত্র্য বিভিন্ন। চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা, দুধপুলি, নারিকেলের পুলি, মালপোয়া, কিংবা ক্ষীরপিঠার মতো পিঠাগুলি আমাদের ঐতিহ্যেরই অংশ।
মায়ের হাতে তৈরি পিঠার স্বাদ অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয়। শীতের সকালে মা যখন উঠে পিঠা বানান, সেই সময়টুকু যেন সবার জন্য একটি উৎসবের মতো। মায়ের পিঠা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন নতুন চালের গুঁড়ো, খেজুরের গুড়, নারিকেল—সবকিছুই গ্রামের প্রকৃতির সঙ্গে জড়িত। মায়ের পিঠা তৈরির সময় পুরো বাড়ি ভরে ওঠে গুড় আর নারিকেলের মনোরম গন্ধে। ছোটরা উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করে কখন পিঠা তৈরি হবে। আবার কেউ কেউ চুলার পাশে বসে গরম পিঠার স্বাদ নেয়ার জন্য অপেক্ষা করে। পিঠা তৈরির প্রতিটি ধাপে মায়ের মমতা আর যত্ন মিশে থাকে, যা পরিবারের সবার জন্য এক অনন্য অনুভূতি সৃষ্টি করে।
বাঙালির পিঠার তালিকা অত্যন্ত বিস্তৃত। অঞ্চলভেদে পিঠার ধরণ বদলে যায়। কিছু পিঠা ভাপা করে তৈরি হয়, কিছু আবার ভাজা হয়। শীতের সকালে ভাপা পিঠা খুবই জনপ্রিয়। চালের গুঁড়ো আর খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি ভাপা পিঠা একদিকে নরম আর অন্যদিকে স্বাদের দিক থেকে অপূর্ব। পাটিসাপটা পিঠা হল আরেকটি জনপ্রিয় পিঠা, যা তৈরি হয় নারিকেলের পুর দিয়ে। দুধপুলি পিঠা নারিকেল, দুধ আর খেজুর গুড়ের মিশ্রণে তৈরি হয়। এটি সবার কাছে খুবই প্রিয়। চিতই পিঠা সাধারণত গরম দুধ কিংবা গুড় দিয়ে খাওয়া হয়। মালপোয়া পিঠা বানানো হয় ময়দা আর গুড় দিয়ে, যা মিষ্টির মতো সবার মন ভরিয়ে দেয়। শীতকালের পিঠা-পুলি বাঙালির সামাজিক জীবনের একটি বড় অংশ। পিঠা তৈরির সময় একসঙ্গে পরিবার-পরিজন জড়ো হয়, যা পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করে। গ্রামে পিঠা উৎসব বা নবান্ন উৎসবের সময় পিঠা-পুলির প্রাধান্য দেখা যায়। এই উৎসবে সবাই একত্রে পিঠা খায় এবং আনন্দ ভাগ করে নেয়।

শহুরে জীবনে অনেকেই এই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন। যদিও আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার কারণে মায়ের হাতে তৈরি পিঠার স্বাদ অনেকেই উপভোগ করতে পারেন না, তবুও শীতকাল এলেই এই স্মৃতিগুলি সবার মনে জাগ্রত হয়। প্রবাসী বাঙালিদের জন্য মায়ের পিঠার স্মৃতি বিশেষভাবে আবেগময়। শীতকালের ঠাণ্ডায় তারা দেশে ফিরে মায়ের হাতে তৈরি পিঠার স্বাদ নিতে চায়। মায়ের পিঠা যেন তাদের শৈশবের দিনগুলির স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। প্রবাসে থেকেও অনেকে নিজ হাতে পিঠা তৈরির চেষ্টা করেন, তবে মায়ের পিঠার সেই স্বাদ আর ভালোবাসার অনুরূপ কিছুই হয় না। পিঠা-পুলির সঙ্গে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এটি কেবল খাদ্য নয়, বরং একটি ঐতিহ্যের ধারক। পিঠার উৎপত্তি মূলত কৃষিজীবী সমাজ থেকে। ফসল কাটার পর নতুন ধানের চাল দিয়ে পিঠা তৈরি করা একটি প্রাচীন প্রথা। এ কারণে নবান্ন উৎসবের সঙ্গে পিঠার অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক।

শীতের আগমনে বাঙালির গ্রামীণ জীবনে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পিঠার বৈচিত্র্য এবং তার উপাদানের সহজলভ্যতা এই সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খেজুরের গুড়, নারিকেল, দুধ—সব উপাদান প্রাকৃতিক এবং মৌসুমী। বর্তমান সময়ে পিঠা উৎসব একটি জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাম থেকে শহরে, এমনকি বিভিন্ন দেশে বাঙালিরা পিঠা উৎসবের আয়োজন করে নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে। পিঠা উৎসবে বিভিন্ন ধরনের পিঠার প্রদর্শনী হয়, যা নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে সাহায্য করে।

পিঠা উৎসব কেবলমাত্র খাদ্যের প্রদর্শনী নয়, এটি একটি মেলবন্ধনের অনুষ্ঠান। এই উৎসবে অংশগ্রহণকারী সবাই বাঙালির ঐতিহ্যের অংশীদার হয়ে ওঠে। পিঠা উৎসব আমাদের ঐতিহ্যের গভীর শিকড়কে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। গ্রামের বাড়িতে শীতকালে পিঠার আনন্দ আলাদা। মা-ঠাকুমারা মিলে পিঠা বানানোর সময় পুরো পরিবার একত্রিত হয়। বড়রা পিঠা বানানোর কাজে সাহায্য করেন, আর ছোটরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে পিঠা খাওয়ার জন্য। এই পারিবারিক সময়গুলো সম্পর্কের বন্ধন আরও মজবুত করে। গ্রামীণ মেয়েরা নিজেদের গৃহস্থালীর দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য পিঠা বানানোর বিশেষ পদ্ধতি রপ্ত করে। তাদের হাতে তৈরি পিঠায় নান্দনিকতা এবং শৈল্পিক দক্ষতা দেখা যায়। এক একটি পিঠার নকশা যেন বাংলার গ্রামীণ জীবনের প্রতীক।শহুরে জীবনে মাটির চুলা বা খেজুর গুড় সহজলভ্য না হলেও মায়েরা পিঠার ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে যেমন রাইস কুকার বা মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে পিঠা তৈরি করা যায়, তেমনি এই পিঠার প্রতি আবেগও অব্যাহত থাকে।

শীতকালে অনেক পরিবার একত্রিত হয়ে পিঠা তৈরি করে। শহুরে পরিবেশে এটি একটি মজার পারিবারিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। অনেক মানুষ এখনো মায়ের হাতের সেই ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদে ফিরে যেতে চায় এবং নিজেদের শৈশবের মুহূর্তগুলোকে স্মরণ করে।বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের পিঠা প্রচলিত। অঞ্চলভেদে পিঠার ধরন, স্বাদ এবং তৈরির পদ্ধতিতে ভিন্নতা দেখা যায়।

পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে : ক্ষীরপুলি এবং দুধপিঠা খুবই জনপ্রিয়।
চট্টগ্রামে : মিষ্টি পিঠার পাশাপাশি তেলে ভাজা “মিষ্টি চিতই” বা “মালপোয়া” পিঠা বেশি প্রচলিত।
সিলেট অঞ্চলে : মাংসপিঠা বা “খোলাপিঠা” অন্যতম বৈচিত্র্যপূর্ণ।
ঢাকা ও ময়মনসিংহে : পাটিসাপটা ও নারিকেলের পুলি বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

প্রতিটি অঞ্চলের পিঠার বৈচিত্র্য আমাদের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। প্রবাসে থাকা বাঙালিদের জন্য শীতকালের পিঠা শুধু একটি খাবার নয়; এটি শৈশবের স্মৃতি এবং মায়ের ভালোবাসার প্রতীক। প্রবাসীরা যখন নিজ হাতে পিঠা তৈরি করেন, তখন তারা নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। অনেকে প্রবাসে পিঠা উৎসবের আয়োজন করেন, যা তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে জাগ্রত রাখতে সাহায্য করে।

মায়ের হাতে বানানো পিঠার স্বাদ প্রবাসে পাওয়া না গেলেও, তার স্মৃতি প্রবাসীদের মন জুড়ে থাকে। এ কারণেই পিঠা বাঙালির জীবনে এক শক্তিশালী আবেগের। শীতকালে মায়ের পিঠা-পুলি বাঙালির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু খাবার নয়, বরং মায়ের স্নেহ, পরিবারের বন্ধন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিশ্রণ। পিঠার প্রতিটি কামড় যেন এক টুকরো আনন্দের স্মৃতি। আজকের আধুনিক জীবনে, এই ঐতিহ্য ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিঠা শুধু শীতের খাদ্য নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতির মর্মবাণী এবং আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ। মায়ের পিঠার স্বাদে আমরা পাই শৈশবের সুমধুর দিনগুলোর স্মৃতি এবং পরিবারের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সুতরাং, শীত এলেই মায়ের পিঠা-পুলির ঐতিহ্য আমাদের জীবনে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করে। শীতকালে মায়ের পিঠা-পুলি শুধু একটি খাদ্য নয়; এটি বাঙালি সংস্কৃতির গর্ব এবং মায়ের ভালোবাসার প্রতীক। এই ঐতিহ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে। পিঠার মিষ্টি গন্ধ, মায়ের যত্ন আর শীতের আনন্দ—সবকিছু মিলিয়ে এটি বাঙালির জীবনে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। মায়ের হাতে তৈরি পিঠা আমাদের মনে ভালোবাসা, ঐতিহ্য এবং পারিবারিক বন্ধনের মূল্য মনে করিয়ে দেয়।

লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, লেখক ও সংগঠক, চাঁদপুর, 01710802899, rtrujjal@gmail.com

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।