খুঁজুন
                               
, ,

কবি নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা ও সাম্যবাদ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
কবি নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা ও সাম্যবাদ

নজরুল ইসলাম, বাংলার বিদ্রোহী কবি, সাহিত্যিক, এবং সংগীতজ্ঞ, বাংলা সাহিত্যে সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম প্রধান প্রতীক। তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্মের প্রতিটি স্তরে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে সাম্য, মানবতা এবং বিপ্লবের ধ্বনি। কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য ও গানে সাম্যবাদের যে অনন্য প্রতিফলন দেখা যায়, তা তাঁকে সাম্যের কবি হিসেবে অভিহিত করেছে। ১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকেই তিনি দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন। এই কঠিন জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে মানুষের দুঃখ-দুর্দশার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত করেছিল। তিনি মক্তবের শিক্ষালাভের পাশাপাশি মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করতেন এবং পরে লেটো গানে যোগ দিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াতেন।

নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের শুরু থেকে বিদ্রোহ ও সাম্যের ধারণা প্রবলভাবে প্রকাশ পায়। তাঁর লেখনীতে বারবার উঠে এসেছে শোষিত, নিপীড়িত এবং বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কণ্ঠস্বর। ১৯২২ সালে প্রকাশিত তাঁর কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা বিদ্রোহী কাব্যের এক চমৎকার নিদর্শন, যা তাঁকে বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। নজরুলের কাছে সাম্য মানে শুধু অর্থনৈতিক সাম্য নয়। এটি ছিল মানুষের ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাতি, এবং শ্রেণি ভেদে সম্পূর্ণ সমান অধিকারের কথা। তিনি বিশ্বাস করতেন, শোষণমুক্ত এক পৃথিবী গড়ার জন্য সাম্যের প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। এই বিশ্বাস থেকেই তাঁর কাব্যে, প্রবন্ধে এবং গানে সাম্যের চেতনা বারবার ফিরে আসে।

নজরুলের বিদ্রোহী কবিতায় তিনি ঘোষণা করেন,
আমি চির বিদ্রোহী বীর—
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির!

এই কবিতায় তিনি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিদ্রোহের কথা বলেননি, বরং সমাজে শোষণ ও অসাম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল শাসক শ্রেণির বিরুদ্ধে এবং নিপীড়িত মানুষের পক্ষে। নজরুলের কবিতাগুলোতে সাম্যের বাণী স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত। তাঁর কবিতা কখনো বিদ্রোহী, কখনো প্রেমময়, আবার কখনো করুণাভরা মানবিক অনুভূতির কথা বলে।

কাণ্ডারী হুঁশিয়ার কবিতায় তিনি জগৎ-সংসারের সকল অশান্তি, অশোভন ও অসাম্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সেখানে তিনি আহ্বান জানান,
দুর্বল, ধ্বস্ত, ক্লান্ত, ক্ষান্ত, কাঁদিছে মানব-সন্তান,
হে কাণ্ডারী, জাগো এবার জাগো! অঘ্রানেরই চাঁদ!

নজরুল ইসলামের গানগুলোতে সাম্যের চেতনা একইভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষত তাঁর ইসলামি সংগীত এবং শ্যামাসংগীতে ধর্ম-বর্ণের বিভাজনহীন একতার সুর শোনা যায়। তিনি লিখেছেন,
মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই
যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই।

এই পঙক্তিতে তিনি ধর্মের সীমানা অতিক্রম করে মানবতার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ইসলামি গান যেমন মানুষের সাম্য ও একতার কথা বলে, তেমনি শ্যামাসংগীতও ভক্তি ও প্রেমের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধের দীক্ষা দেয়। নজরুলের প্রবন্ধগুলোতেও সাম্যের ভাবনা গভীরভাবে নিহিত। তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ ধর্ম ও মানবতা-তে তিনি ধর্মের নামে বিভেদের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে, ধর্মের আসল উদ্দেশ্য মানবকল্যাণ। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন,
ধর্ম মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়, ঘৃণা করতে নয়।

নজরুলের সাম্যবাদ ছিল গভীরভাবে মানবিক এবং সর্বজনীন। তিনি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সমাজ বা সম্প্রদায়ের জন্য সাম্যের কথা বলেননি, বরং সমগ্র মানবজাতির মুক্তি চেয়েছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে বারবার উঠে এসেছে নারীর অধিকারের কথা, যা সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে খুবই ব্যতিক্রমী ছিল। তিনি লিখেছেন,
বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

নজরুল এখানে নারী ও পুরুষের সমান অবদানের কথা বলেছেন, যা সমাজে লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক দৃঢ় অবস্থান। বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলাম সাম্যের কবি হিসেবে অমর হয়ে আছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম মানুষকে দারিদ্র্য, শোষণ এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উদ্বুদ্ধ করে। নজরুলের রচনা শুধুমাত্র সাহিত্য নয়, এটি একটি আন্দোলন, একটি বিপ্লব। তাঁর কাব্য, গান, প্রবন্ধে যে সাম্যের বাণী তিনি প্রচার করেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। নজরুল ইসলামের সাম্যবাদ কেবল রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি ছিল একটি দার্শনিক দর্শন। তাঁর রচনাবলি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানবজাতির প্রকৃত মুক্তি কেবল সাম্যের মাধ্যমেই সম্ভব। কাজী নজরুল ইসলাম আজও আমাদের মাঝে এক চিরজাগ্রত সাম্যের প্রতীক হয়ে আছেন। নজরুলের সাহিত্যকর্মে সাম্য ও বিদ্রোহের চেতনা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তিনি শাসনব্যবস্থা, সামাজিক অবিচার এবং ধর্মের নামে বিভেদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর লেখা বিদ্রোহী কবিতা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, যা বিদ্রোহ ও সাম্যের এক অমোঘ বার্তা বহন করে।

আমি চির উন্নত শির
শির নেহারি আমারি নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির!

এই পঙক্তিতে তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। নজরুলের মতে, মানুষের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সাম্যের ভিত্তি স্থাপন সম্ভব। তাঁর সাহিত্যে বারবার দেখা যায়, তিনি শাসকের দমননীতি এবং জাতি-ধর্মের বিভাজন নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। নজরুলের সাম্যবাদ ধর্মের ক্ষেত্রেও এক নতুন পথ দেখায়। তিনি ইসলামের গান যেমন রচনা করেছেন, তেমনি হিন্দু শ্যামাসংগীতেও ছিলেন পারদর্শী। তাঁর জীবনী ও সাহিত্যকর্মে ধর্মীয় সাম্যের এই চিত্র স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন,

গাহি সাম্যের গান—
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।

এই বার্তা ধর্মীয় সাম্যের চূড়ান্ত প্রতীক। তাঁর রচনায় আমরা দেখতে পাই, তিনি হিন্দু-মুসলমান বিভেদ দূর করে এক মানবিক সমাজ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ধর্মকে তিনি মানুষের হৃদয়ের পূজা হিসেবে কল্পনা করেছিলেন, যা ভেদাভেদ নয়, বরং ঐক্যের পথ দেখায়।

সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

এই পঙক্তিতে নজরুল মানবজাতির সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা দিয়েছেন। শোষণ ও শ্রেণি-বৈষম্যের বিরুদ্ধে নজরুল

নজরুলের কবিতা ও প্রবন্ধে শ্রেণি-সংগ্রামের চিত্র অত্যন্ত প্রাঞ্জল। তিনি ছিলেন দারিদ্র্য ও শোষণের বিরুদ্ধে একজন অকুতোভয় যোদ্ধা। তাঁর দুর্দিনের যাত্রী কাব্যগ্রন্থ এবং কাণ্ডারী হুঁশিয়ার কবিতা এর উজ্জ্বল উদাহরণ।

পড়ে না চোখের পর্দা, কান্না পড়ে না মন,
অশ্রুর ভেলা লইয়া চলো করিব বিশ্ব ভাসন!

এই আহ্বান নিপীড়িত মানুষের মুক্তির এক প্রতীক। নজরুল শ্রেণিবিভক্ত সমাজকে ধ্বংস করে একটি শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন। নজরুলের সাম্যবাদ শুধু অর্থনৈতিক বা সামাজিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি নারীর অধিকার এবং মর্যাদার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। এক সময় যখন নারীর সামাজিক অবস্থান অত্যন্ত নিচে ছিল, তখন নজরুল নারীকে সমান অধিকার দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

গৃহিণী গৃহের শ্রী—
গৃহের আলো, জীবনের আশা।

এই পঙক্তিতে নজরুল নারীকে ঘরের শোভা এবং মানবসমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

নজরুল দারিদ্র্যের যন্ত্রণা নিজে অনুভব করেছিলেন এবং তাঁর সাহিত্যে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়। তিনি লিখেছেন:

দেখিনু সেদিন রেলে—
কালো মুখ শীর্ণ তনু, ক্ষুধায় কঙ্কাল,
দেখিনু পথের ভিখারি।

এই পঙক্তি শুধু দারিদ্র্যের চিত্রায়ন নয়; এটি সমাজের দায়বদ্ধতাও স্মরণ করিয়ে দেয়। নজরুলের সাম্যবাদ আজও সমান প্রাসঙ্গিক। আধুনিক সমাজে যেখানে এখনও বৈষম্য, শোষণ, এবং বিভেদ রয়ে গেছে, সেখানে তাঁর রচনাগুলি আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। তাঁর সাহিত্য শুধু বাংলার নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য এক মূল্যবান সম্পদ। নজরুল ইসলাম নিছক একজন কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক সাম্যবাদী বিপ্লবী, যিনি সাহিত্যের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর বিদ্রোহী সুর, প্রেমময় দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবিক বোধ আমাদের আজও আলোড়িত করে। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর জীবনের মাধ্যমে এবং সাহিত্যে সাম্যের যে চেতনা জাগ্রত করেছেন, তা চিরকাল অম্লান থাকবে। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা যায়, নজরুল কেবল বাংলার নয়, সারা বিশ্বের সাম্যের কবি।

লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, লেখক ও সংগঠক, চাঁদপুর, 01710802899, rtrujjal@gmail.com

দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। সে হিসেবে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারে স্বর্ণের বিক্রয় মূল্য কমানো হচ্ছে। নতুন এই মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিলো বাজুস। ওই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৯১ টাকায়।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার গহনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকবে। ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকারের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ঘোষিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের (মোসলেম আহম্মদ) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। এদিকে, যৌন নিপীড়নের বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিশুর অভিভাবক শাহজালাল রুমি অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারেন। চড় দেওয়ার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে যৌন হয়রানি করেন উপাধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন। এ সময় বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে নানা ধরনের ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) সকালে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে ঘটনার জবাবদিহি চান।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) তাকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে শিশু নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে ও সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের দায়িত্ব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ শৃঙ্খলা পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ এর আগে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। এ সময় তিনি উপস্থিত সেনাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। এরপরে তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।