খুঁজুন
                               
, ,

ক্লান্ত পথিকের ক্লান্তিহীন ভালোবাসা

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫, ১:০৭ অপরাহ্ণ
ক্লান্ত পথিকের ক্লান্তিহীন ভালোবাসা

পৃথিবীর কোনো মানচিত্রেই তার গন্তব্য ছিলো না। না ছিলো কোনো বাঁধা সময়, না নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য। যে মানুষটা শুধু হেঁটেই চলেছে বছরের পর বছর লোকেরা তাকে ক্লান্তহীন পথিক বলে ডাকে। তার আসল নাম? সেটা কেউ জানে না। কেউ একজন বলেছিল, তার নাম হয়তো আদিত্য। কেউ বলেছে, আহসান। কিন্তু সে শুধু একবার বলেছিল, আমার নামটাও যাত্রাপথে ফেলে এসেছি। এখন আমি শুধু পথেরই।
সে এসেছিল ছোট্ট এক নদীঘেরা গ্রামে, নাম ছিল অচিন্তপুর। সন্ধ্যার আগ মুহূর্ত। নদীর তীরে বসে কিছু বালক খেলছিল, আর একপাশে গরু ঘরে ফিরছিল খালি পেট নিয়ে। পথিক এসেই বসে পড়েছিল নদীর ঘাটে। তার পরনে ধুলিধূসর পাঞ্জাবি, হাতে বাঁশের লাঠি, কাঁধে ফাটা ব্যাগ। চোখ দুটো ক্লান্ত, অথচ শান্তির পরিপূর্ণতায় ভরপুর।
তখনই তার সাথে প্রথম দেখা হয় গ্রামের একমাত্র লাইব্রেরির দায়িত্বপ্রাপ্ত তরুণী—নিভা। বয়স বাইশ-তেইশ হবে। চোখে সরলতা আর কণ্ঠে দৃঢ়তা। সে লাইব্রেরির পুরোনো বই গুছিয়ে ফিরছিল। পথিককে দেখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। হঠাৎ এগিয়ে এসে বলল,
আপনি এখানে বসে আছেন, কোথাও যেতে হবে না?
পথিক হেসে বলল, চলতে চলতেই তো থামি মাঝে মাঝে। এই থামাগুলোই আমার বিশ্রাম।
নিভা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনার বাড়ি কোথায়?
পথিক উত্তর দিল, যেখানেই রাত হয়, সেখানেই আমার বাড়ি।
আপনি কী করেন?
মানুষ দেখি, গল্প শুনি, ভালোবাসা খুঁজি।
সেদিনই প্রথম, তারপর থেকে নিভা প্রায় প্রতিদিনই কিছু সময় নদীর ঘাটে বসে তার সঙ্গে কথা বলত। গল্প শুনত। জানতে চাইত, সে এতো হেঁটে বেড়ায় কেন? কোথা থেকে এসেছে? কিছুই জানা যেত না। সে শুধু বলত, আমি ভালোবাসা খুঁজি, যেটা হারিয়ে ফেলেছি অনেক বছর আগে।
দিন যেতে লাগল। পথিক থাকতেই লাগল অচিন্তপুরে। গ্রামের লোকজন শুরুতে সন্দেহ করলেও পরে তাকে আপন করে নেয়। কেউ তাকে খেতে দেয়, কেউ চা বানিয়ে আনে। নিভার লাইব্রেরির পাশেই একটা পুরোনো ভাঙা ঘর সেটাকেই সে রাতের আশ্রয় বানাল।
নিভা মাঝে মাঝে তার জন্য বই এনে দিতো রবীন্দ্রনাথ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, এমনকি জীবনানন্দের কবিতা।
পথিক বলত, এই লেখকেরা তো আমাকেই লিখেছে কোনো এক অচেনা, অদৃশ্য পথিককে।
একদিন সন্ধ্যায় নিভা বলল,
আপনার গল্প শুনে মনে হয়, আপনি কাউকে খুব ভালোবেসেছিলেন।
পথিক কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
ভালোবাসা তো কখনো চলে যায় না, আমরা শুধু তাকে হারিয়ে ফেলি। আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম—সেই নারীকে, যে আমার চোখে আকাশ দেখত, আমার গল্পে জীবন খুঁজত। সে বলত, একদিন আমিও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গল্পকার হবো। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে আমি একাই রয়ে গেলাম।
সে কোথায়?
আমি জানি না। হয়তো কোনো গ্রামে সে এখনো অপেক্ষা করে, হয়তো অন্য কারো পাশে বসে চুপ করে থাকে। আমি শুধু হাঁটি, যদি কখনো তার অপেক্ষার ছায়াটাও পাই।
নিভার চোখে পানি চলে এল। সে বুঝতে পারল, এই পথিক শুধু ক্লান্তহীন না, এক ভাঙা হৃদয়ের গল্পও বয়ে বেড়ায় সে।
গ্রামের একটি মেলার আয়োজন হল। সবাই আনন্দে মেতে উঠল। পথিককেও ডাকা হলো। সে গান গাইল—পুরনো বাউল গান, হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা সুরে। সবাই চুপ করে শুনল। গানের শেষে নিভা এগিয়ে গিয়ে তার পাশে দাঁড়াল। হাতে একটা ছোট্ট চিঠি ধরিয়ে দিল।
এটা আমার জন্য?
হ্যাঁ। এবার আপনিই পড়বেন।
পথিক ঘরে ফিরে চিঠি খুলল-
আপনার পথচলার গল্প শুনে মনে হয়, আপনি শুধু কাউকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন না, আপনি নিজেকেও খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
আমি জানি না আপনি কোথা থেকে এসেছেন, জানি না কোথায় যাবেন।
তবে আমি চাই, এই গ্রামটাই আপনার গন্তব্য হোক।
আমি চাই, আপনি আর ক্লান্ত না হন।
আপনি থাকতে পারেন এখানে। আমার পাশে।
পথিক অনেকক্ষণ ধরে চিঠিটা ধরে রাখল। তার চোখে জল। খুব ধীরে সে নদীর ঘাটে গিয়ে বসল। চারপাশে নিস্তব্ধতা। মাথার ওপর চাঁদের আলো। সে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকল।
পরদিন সকালে কেউ আর তাকে খুঁজে পেল না।
নিভা ছুটে গেল নদীর পাড়ে, লাইব্রেরিতে, ভাঙা ঘরে। কোথাও নেই। কেবল ঘরের একপাশে একটা পুরোনো পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেল। নাম লেখা ক্লান্ত পথিকের ক্লান্তিহীন ভালোবাসা।
ভেতরে লেখা ছিল-
আমি ভালোবাসতে পারি, কিন্তু থামতে পারি না।
ভালোবাসা মানে শুধু কারো পাশে থাকা নয়,
অনেক সময় দূরে হেঁটে যাওয়াটাই আসল ভালোবাসা
যাতে কেউ অপেক্ষায় না থাকে, কষ্ট না পায়।
নিভা, তুমি আমার ভালোবাসার শেষ ছায়া।
আমি জানি, তুমি অপেক্ষা করবে না।
তবু যদি কখনো নদীর ঘাটে বসে কেউ বলে,
আমি তাকে চিনতাম, তবে জানবে, আমি ফিরে এসেছিলাম একবার খুব নিঃশব্দে।
বছর ঘুরে গেছে। নদীর পাড়ে এখনো বসে থাকে নিভা। কারো হাতে পুরোনো পাণ্ডুলিপি থাকলে সে পড়ে শোনায় সেই গল্প
ক্লান্ত পথিকের ক্লান্তিহীন ভালোবাসা
যে ভালোবাসা থামে না, অপেক্ষা চায় না, শুধু হেঁটে চলে যায় কোনো না কোনো হৃদয়ের আকাশে।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, চাঁদপুর।

দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে অস্থিরতার সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতি না মেনে টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প নেওয়া, কোথাও কাজ না করে এবং কোথাও নামমাত্র কাজ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মাত্র দুই দিনে ২১টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটোয়ারী অপসারণের এক দিন আগে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ১৭টি চেক ইস্যু করে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর আগে ১৪ আগস্ট চারটি প্রকল্পের বিপরীতে আরও ১৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যে দুই দিনের উত্তোলনের পরিমাণ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলা হয়েছে।
নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনায় কয়েকটি প্রকল্পে কাজ না হওয়া এবং কিছু প্রকল্পে আংশিক কাজ করে পুরো বিল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন ঠিকাদার দাবি করেছেন, তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ ও বিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও প্রকল্প সম্পর্কে তারা জানতেন না।
১৮ আগস্ট ইস্যু করা চেকগুলোর মধ্যে চেয়ারম্যানের আত্মীয় ঠিকাদার শেখ নজরুল ইসলামের নামে সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিল দেওয়ার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে বাবুরহাট মার্কেটের সাইট প্রস্তুত ও বালু ভরাটের দুটি কাজের বিপরীতে প্রায় ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, সেখানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ গাড়ি বালু ফেলা হয়েছিল এবং পুরো জায়গা ভরাট হয়নি। শেখ নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি যে কাজ করেছেন শুধু সেই কাজের বিল নিয়েছেন।
জেলা পরিষদের হলরুমের ওয়াল টাইলসকরণ এবং ভবন সংস্কার ও রংকরণ প্রকল্পে প্রায় ১৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে এসব কাজে বাস্তবে কাজ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বক্তব্যেও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। একজন ঠিকাদার প্রথমে হলরুমে কাজ না করার কথা বললেও পরে নিজের লাইসেন্সে কাজ হয়েছে বলে জানান। আরেক ঠিকাদার দাবি করেন, প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানতেন না এবং টাকা উত্তোলনের পর প্রকৌশলী তার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে যান।
এ ছাড়া আরও পাঁচটি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। চেয়ারম্যান অপসারিত হওয়ায় ওই অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি; পরে চেকগুলো বাতিল করা হয়। জেলা পরিষদ প্রশাসকের দাবি, এসব চেকের বিপরীতে কোনও ফাইল বা প্রকল্প ছিল না। সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, ফাইলগুলো সঠিক না হওয়ায় চেক বাতিল করা হয় এবং ভুল করে লেখা হয়েছিল।
জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আব্দুল কুদ্দুস ভাটের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু কাজ হয়নি, কিছু কাজ আংশিক হয়েছে এবং কয়েকটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, প্রকল্প পরিদর্শন ও কাজের পরিমাণ যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রকৌশলীর। সাবেক প্রকৌশলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাজ হওয়ার পরই বিল দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দুদক তথ্য চেয়েছে এবং তদন্ত করছে। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ দুদককে প্রয়োজনীয় তথ্য দেবে।
নথিতে থাকা অর্থ উত্তোলন, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহারের দাবি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। কোন প্রকল্প বাস্তবে হয়েছে, কে কাজ করেছেন, কে প্রত্যয়ন দিয়েছেন এবং অর্থ কার হাতে গেছে—এসব বিষয় এখন দুদকের তদন্তে নির্ধারিত হবে।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া।
প্রস্তাবিত ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠির সঙ্গে আইনের খসড়ার সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে জানা যায়, ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করতে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ৮ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
গঠিত কমিটি কর্তৃক একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী- খসড়া আইনটির ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার ‘এফবি বরকত’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখনও পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও আট জেলেকে। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ট্রলার মালিক সমিতি। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে গভীর সমুদ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির মালিক বরগুনার পাথরঘাটার আশরাফ কোম্পানি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার দিন আগে ১৩ জন জেলে পাথরঘাটা থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায় ‘এফবি বরকত’। গতকাল সোমবার বিকেলে সাগরে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে ডুবে যাওয়া ট্রলারের কাছাকাছি থাকা পাথরঘাটার অপর একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা পানিতে ভাসতে থাকা আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া জেলেদের বরাত দিয়ে তারা ট্রলারডুবির বিষয়টি মালিকপক্ষকে জানান। এ ঘটনায় এখনো পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে কাজ করছে ট্রলার মালিক সমিতি। নিখোঁজ পাঁচ জেলের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ‘এফবি বরকত’ নামে একটি ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার খবর তারা অপর একটি ট্রলারের জেলেদের মাধ্যমে পেয়েছেন। খবর পাওয়ার পর ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারের জন্য ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আট জেলেকে উপকূলে নিয়ে আসা হচ্ছে।