খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

নারী দিবস : সকল নারীর জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী চাই

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫, ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ
নারী দিবস : সকল নারীর জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী চাই

নারী মানবজাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে যুগের পর যুগ ধরে নারীকে নানাভাবে বৈষম্য, নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। আজকের আধুনিক বিশ্বেও নারীরা সমান সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। নারী দিবস কেবলমাত্র উৎসবের দিন নয়, এটি একটি সংগ্রামের দিন, একটি অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। তাই নারী দিবসে আমাদের দাবি—নারীদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী, যেখানে তারা স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারবে, তাদের অধিকার নিশ্চিত হবে, এবং তারা সমাজের প্রতিটি স্তরে সমানভাবে অংশ নিতে পারবে। নারী অধিকার বলতে বোঝানো হয় সেই মৌলিক ও মানবিক অধিকারসমূহ, যা প্রত্যেক নারীর জন্য অপরিহার্য। নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকারসহ সকল ক্ষেত্রে তাদের সমান সুযোগ থাকা উচিত। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নারী উন্নয়নের অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। কিন্তু এখনও নারীরা বহুবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। অনেক দেশেই নারীরা এখনও বেতন বৈষম্যের শিকার, কর্মস্থলে যৌন হয়রানির শিকার হয়, গৃহস্থালি ও পারিবারিক দায়িত্ব নারীদের ওপর বেশি চাপিয়ে দেওয়া হয়, এবং অনেক ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। নারীদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী বলতে বোঝায় এমন এক সমাজ যেখানে নারীরা স্বাধীনভাবে, নিরাপদে এবং মর্যাদার সাথে জীবনযাপন করতে পারে। নারী দিবসের মূল লক্ষ্য হলো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। যদিও বিশ্বজুড়ে নারীর অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তবুও এখনও বহু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

নারীর জন্য বাসযোগ্য পৃথিবীর গুরুত্ব : নারীর জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করা শুধু নারীর জন্যই নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য অপরিহার্য। যদি নারীরা সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে, তাদের সম্পূর্ণ অধিকার পায়, তাহলে তারা নিজেদের প্রতিভা ও শ্রম দিয়ে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। বাসযোগ্য পৃথিবী বলতে বোঝায় এমন একটি সমাজ, যেখানে—নারীরা রাস্তায়, কর্মস্থলে, বাসায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। প্রতিটি মেয়ে শিশুকে সমান শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে, যেন তারা নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়তে পারে। নারী-পুরুষের সমান কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে, এবং কাজের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে হবে। নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানি, গার্হস্থ্য সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সমাজে নারীর প্রতি যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তা দূর করতে হবে। পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছোটবেলা থেকেই নারীর প্রতি সম্মান ও সমতার শিক্ষা দিতে হবে।

নারীর প্রতি বৈষম্যের কারণ ও প্রতিকার : নারীদের প্রতি বৈষম্যের মূল কারণ হলো প্রাচীন কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা, ও দারিদ্র্য। নারীদের সমান অধিকারের পথে এগিয়ে যেতে হলে এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়নের প্রথম শর্ত হলো শিক্ষা। শিক্ষিত নারী নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করতে পারে, সচেতন হতে পারে, এবং সমাজে নেতৃত্ব দিতে পারে। নারীদের আত্মনির্ভরশীল হতে হলে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা বাড়াতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য সহজ ঋণের ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যেন অন্যরা এমন অপরাধ করতে সাহস না পায়। পরিবারে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনো বৈষম্য না রেখে সমান সুযোগ দিতে হবে। সমাজে নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে করণীয় : নারীদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে হলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একযোগে কাজ করতে হবে। নারীর প্রতি সম্মান ও সমতা নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে সরকার ও প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করতে হবে। নারী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রসার ঘটাতে হবে। নারীদের মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

নারীর প্রতি বৈষম্যের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা : ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, বিভিন্ন সমাজে নারীদের অধিকার ও স্বাধীনতা বিভিন্নভাবে খর্ব করা হয়েছে। মধ্যযুগে নারী শিক্ষা, সম্পত্তির অধিকার, এমনকি সামাজিকভাবে নিজের মত প্রকাশের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হলেও, বৈষম্য ও নির্যাতন আজও রয়ে গেছে।বিশ্বব্যাপী নারীরা পুরুষদের তুলনায় ২০-৩০% কম বেতন পায় একই ধরনের কাজের জন্য। প্রতি তিনজনে একজন নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে যৌন বা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়। অনেক দেশে নারী এখনো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, যেমন— শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সম্পত্তির অধিকার।

নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজের উন্নয়ন : নারীর ক্ষমতায়ন শুধু নারী নয়, পুরো সমাজের উন্নতির সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি দেশ তখনই উন্নত হতে পারে যখন তার জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ— অর্থাৎ নারীরা— সমান সুযোগ ও মর্যাদা পায়। নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে—নারীরা যদি পুরুষদের সমানভাবে আয়-উপার্জনের সুযোগ পায়, তাহলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। একজন শিক্ষিত ও স্বনির্ভর নারী তার পরিবারের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা বজায় থাকলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয় এবং সামগ্রিকভাবে মানবাধিকার রক্ষা পায়।

নারীর জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গঠনের চ্যালেঞ্জসমূহ : একটি বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে হলে কয়েকটি বড় বাধা দূর করতে হবে— পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। অনেক সমাজেই নারীদের ভূমিকা এখনো গৃহস্থালির কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়। কর্মসংস্থান, রাজনীতি ও উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হয়। নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অনেক দেশেই এখনো নারী শিক্ষার হার পুরুষদের তুলনায় কম। শিক্ষা না থাকলে নারীরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে না এবং সহজেই বঞ্চনার শিকার হয়। মেয়েশিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা। নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকির মধ্যে অন্যতম হলো যৌন হয়রানি, গার্হস্থ্য সহিংসতা ও পাচার। অনেক সময় সামাজিক সংস্কার ও আইনের দুর্বলতার কারণে অপরাধীরা শাস্তি পায়। কঠোর আইন প্রণয়ন, দ্রুত বিচার ব্যবস্থা চালু করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নারীদের কর্মসংস্থানে এখনো অনেক বাধা রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই নারী নেতৃত্বকে বাধাগ্রস্ত করা হয়, এবং অনেক সময় মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে নারীদের ক্যারিয়ারে বাধা আসে। নারীদের জন্য সমান মজুরি, মাতৃত্বকালীন সুবিধা বৃদ্ধি ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা।

বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে আমাদের করণীয় : নারীদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা ও পরিবর্তন আনতে হবে। ছেলেমেয়ের মধ্যে পার্থক্য না করে সমান অধিকার নিশ্চিত করা।মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। নারী কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য দূর করা। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা। নারীবান্ধব আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

নারী দিবস : প্রতিজ্ঞার দিন। নারী দিবস শুধুমাত্র উদযাপনের জন্য নয়, এটি প্রতিজ্ঞার দিন— একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার শপথ নেওয়ার দিন। আমাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত—নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন। নারীর অধিকার রক্ষার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি। নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করা।

নারীদের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে হলে কেবল নারীরাই নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। নারী-পুরুষের সমতা ও সহযোগিতা ছাড়া একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং উন্নত বিশ্ব গঠন সম্ভব নয়। নারী দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—একটি সমতার সমাজ গড়ার, যেখানে প্রতিটি নারী নিরাপদ, সম্মানিত ও স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। তাহলেই আমরা একটি সত্যিকারের বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে পারব, যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়ে সমান সুযোগ ও অধিকার নিয়ে এগিয়ে যাবে এক নতুন ভোরের পথে। নারী দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার, যেখানে প্রতিটি নারী স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবে, তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, এবং সে সমান সুযোগ ও মর্যাদা পাবে। শুধু একদিন নয়, প্রতিদিনই নারীর অধিকারের কথা ভাবতে হবে, কাজ করতে হবে। নারীর উন্নয়ন মানেই সমাজের উন্নয়ন, এবং নারীর জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে পারলেই আমাদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল ও সুন্দর হবে।

লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক, চাঁদপুর।

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।