খুঁজুন
                               
, ,

নারী দিবস : সকল নারীর জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী চাই

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫, ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ
নারী দিবস : সকল নারীর জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী চাই

নারী মানবজাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে যুগের পর যুগ ধরে নারীকে নানাভাবে বৈষম্য, নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। আজকের আধুনিক বিশ্বেও নারীরা সমান সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। নারী দিবস কেবলমাত্র উৎসবের দিন নয়, এটি একটি সংগ্রামের দিন, একটি অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। তাই নারী দিবসে আমাদের দাবি—নারীদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী, যেখানে তারা স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারবে, তাদের অধিকার নিশ্চিত হবে, এবং তারা সমাজের প্রতিটি স্তরে সমানভাবে অংশ নিতে পারবে। নারী অধিকার বলতে বোঝানো হয় সেই মৌলিক ও মানবিক অধিকারসমূহ, যা প্রত্যেক নারীর জন্য অপরিহার্য। নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকারসহ সকল ক্ষেত্রে তাদের সমান সুযোগ থাকা উচিত। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নারী উন্নয়নের অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। কিন্তু এখনও নারীরা বহুবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। অনেক দেশেই নারীরা এখনও বেতন বৈষম্যের শিকার, কর্মস্থলে যৌন হয়রানির শিকার হয়, গৃহস্থালি ও পারিবারিক দায়িত্ব নারীদের ওপর বেশি চাপিয়ে দেওয়া হয়, এবং অনেক ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। নারীদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী বলতে বোঝায় এমন এক সমাজ যেখানে নারীরা স্বাধীনভাবে, নিরাপদে এবং মর্যাদার সাথে জীবনযাপন করতে পারে। নারী দিবসের মূল লক্ষ্য হলো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। যদিও বিশ্বজুড়ে নারীর অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তবুও এখনও বহু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

নারীর জন্য বাসযোগ্য পৃথিবীর গুরুত্ব : নারীর জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করা শুধু নারীর জন্যই নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য অপরিহার্য। যদি নারীরা সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে, তাদের সম্পূর্ণ অধিকার পায়, তাহলে তারা নিজেদের প্রতিভা ও শ্রম দিয়ে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। বাসযোগ্য পৃথিবী বলতে বোঝায় এমন একটি সমাজ, যেখানে—নারীরা রাস্তায়, কর্মস্থলে, বাসায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। প্রতিটি মেয়ে শিশুকে সমান শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে, যেন তারা নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়তে পারে। নারী-পুরুষের সমান কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে, এবং কাজের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে হবে। নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানি, গার্হস্থ্য সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সমাজে নারীর প্রতি যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তা দূর করতে হবে। পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছোটবেলা থেকেই নারীর প্রতি সম্মান ও সমতার শিক্ষা দিতে হবে।

নারীর প্রতি বৈষম্যের কারণ ও প্রতিকার : নারীদের প্রতি বৈষম্যের মূল কারণ হলো প্রাচীন কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা, ও দারিদ্র্য। নারীদের সমান অধিকারের পথে এগিয়ে যেতে হলে এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়নের প্রথম শর্ত হলো শিক্ষা। শিক্ষিত নারী নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করতে পারে, সচেতন হতে পারে, এবং সমাজে নেতৃত্ব দিতে পারে। নারীদের আত্মনির্ভরশীল হতে হলে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা বাড়াতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য সহজ ঋণের ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যেন অন্যরা এমন অপরাধ করতে সাহস না পায়। পরিবারে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনো বৈষম্য না রেখে সমান সুযোগ দিতে হবে। সমাজে নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে করণীয় : নারীদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে হলে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একযোগে কাজ করতে হবে। নারীর প্রতি সম্মান ও সমতা নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে সরকার ও প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করতে হবে। নারী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রসার ঘটাতে হবে। নারীদের মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

নারীর প্রতি বৈষম্যের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা : ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, বিভিন্ন সমাজে নারীদের অধিকার ও স্বাধীনতা বিভিন্নভাবে খর্ব করা হয়েছে। মধ্যযুগে নারী শিক্ষা, সম্পত্তির অধিকার, এমনকি সামাজিকভাবে নিজের মত প্রকাশের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হলেও, বৈষম্য ও নির্যাতন আজও রয়ে গেছে।বিশ্বব্যাপী নারীরা পুরুষদের তুলনায় ২০-৩০% কম বেতন পায় একই ধরনের কাজের জন্য। প্রতি তিনজনে একজন নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে যৌন বা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়। অনেক দেশে নারী এখনো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, যেমন— শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সম্পত্তির অধিকার।

নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজের উন্নয়ন : নারীর ক্ষমতায়ন শুধু নারী নয়, পুরো সমাজের উন্নতির সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি দেশ তখনই উন্নত হতে পারে যখন তার জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ— অর্থাৎ নারীরা— সমান সুযোগ ও মর্যাদা পায়। নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে—নারীরা যদি পুরুষদের সমানভাবে আয়-উপার্জনের সুযোগ পায়, তাহলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। একজন শিক্ষিত ও স্বনির্ভর নারী তার পরিবারের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা বজায় থাকলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয় এবং সামগ্রিকভাবে মানবাধিকার রক্ষা পায়।

নারীর জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গঠনের চ্যালেঞ্জসমূহ : একটি বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে হলে কয়েকটি বড় বাধা দূর করতে হবে— পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। অনেক সমাজেই নারীদের ভূমিকা এখনো গৃহস্থালির কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়। কর্মসংস্থান, রাজনীতি ও উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হয়। নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অনেক দেশেই এখনো নারী শিক্ষার হার পুরুষদের তুলনায় কম। শিক্ষা না থাকলে নারীরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে না এবং সহজেই বঞ্চনার শিকার হয়। মেয়েশিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা। নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকির মধ্যে অন্যতম হলো যৌন হয়রানি, গার্হস্থ্য সহিংসতা ও পাচার। অনেক সময় সামাজিক সংস্কার ও আইনের দুর্বলতার কারণে অপরাধীরা শাস্তি পায়। কঠোর আইন প্রণয়ন, দ্রুত বিচার ব্যবস্থা চালু করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নারীদের কর্মসংস্থানে এখনো অনেক বাধা রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই নারী নেতৃত্বকে বাধাগ্রস্ত করা হয়, এবং অনেক সময় মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে নারীদের ক্যারিয়ারে বাধা আসে। নারীদের জন্য সমান মজুরি, মাতৃত্বকালীন সুবিধা বৃদ্ধি ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা।

বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে আমাদের করণীয় : নারীদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা ও পরিবর্তন আনতে হবে। ছেলেমেয়ের মধ্যে পার্থক্য না করে সমান অধিকার নিশ্চিত করা।মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। নারী কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য দূর করা। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা। নারীবান্ধব আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

নারী দিবস : প্রতিজ্ঞার দিন। নারী দিবস শুধুমাত্র উদযাপনের জন্য নয়, এটি প্রতিজ্ঞার দিন— একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার শপথ নেওয়ার দিন। আমাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত—নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন। নারীর অধিকার রক্ষার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি। নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করা।

নারীদের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে হলে কেবল নারীরাই নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। নারী-পুরুষের সমতা ও সহযোগিতা ছাড়া একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং উন্নত বিশ্ব গঠন সম্ভব নয়। নারী দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—একটি সমতার সমাজ গড়ার, যেখানে প্রতিটি নারী নিরাপদ, সম্মানিত ও স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। তাহলেই আমরা একটি সত্যিকারের বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে পারব, যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়ে সমান সুযোগ ও অধিকার নিয়ে এগিয়ে যাবে এক নতুন ভোরের পথে। নারী দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার, যেখানে প্রতিটি নারী স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবে, তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, এবং সে সমান সুযোগ ও মর্যাদা পাবে। শুধু একদিন নয়, প্রতিদিনই নারীর অধিকারের কথা ভাবতে হবে, কাজ করতে হবে। নারীর উন্নয়ন মানেই সমাজের উন্নয়ন, এবং নারীর জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে পারলেই আমাদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল ও সুন্দর হবে।

লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক, চাঁদপুর।

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত! অনুমোদিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’। ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিন জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পল্লী সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুঃস্থ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং পেট্রোবাংলার উদ্যোগে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘১টি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের জন্য তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার প্যাকেজগুলোর ঘোষণা দেন। এ সময় হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার খাওয়া ও কোরবানিসহ তিনটি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
হাব জানায়, তিনটি প্যাকেজের মধ্যে বিশেষ প্যাকেজ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা, সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ও সাশ্রয়ী প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবার সাশ্রয়ী প্যাকেজের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টাকা বেশি। এ ছাড়া বিশেষ হজ প্যাকেজে ব্যয় বেড়েছে ৪১ হাজার ৬০ টাকা।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ২০২৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ২টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) এর খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা।

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

ভারতের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিটের) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভ গড়িয়েছে টানা তৃতীয় দিনে। সংঘাত ও বিক্ষোভের মধ্যেই বুধবার (২২ জুলাই) সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকার পার্লামেন্টে প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সরকারি সূত্রগুলো। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংসতার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সেদিনের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাটি পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা উদ্ধৃত করে কিরেন রিজিজু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এনডিএ শরিকদের সংসদের সব ধরনের কাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোকে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ এবং যুবসমাজের কল্যাণে কাজ করা সব সংসদ সদস্যের যৌথ দায়িত্ব।’