খুঁজুন
                               
, ,

অনলাইনে কী এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎই না অপেক্ষা করছে এই মানবজাতির জন্যে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
অনলাইনে কী এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎই না অপেক্ষা করছে এই মানবজাতির জন্যে!

কথিত সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি ফটোকার্ডের শিরোনাম :
১. সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করলেন ড. ইউনূস।
২. প্রবাসে থেকেই আমি নির্বাচনে অংশ নেব : তারেক রহমান।
৩. ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না দিলে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে আন্দোলন শুরু করব : সালাউদ্দিন।
৪. বিরোধী দল থেকে উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না দিলে নির্বাচনে যাব না : জামায়াত আমির।
এর একটিও সত্য খবর নয় এবং যেসব মাধ্যমে এই খবরগুলো এসেছে, তার একটিও দেশের প্রচলিত সংবাদমাধ্যম নয়। এগুলোর নাম কামবেলা, প্রথম আলু, জনকষ্ট, চেন্নাই টোয়েন্টিফোর, জানিনা টিভি ইত্যাদি। অর্থাৎ মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের আদলে ডিজাইন করে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অসংখ্য মানুষ তা বিশ্বাস করছে। কারণ প্রথম দেখায় এটা বুঝতে পারা কঠিন যে, আসলেই এসব ফটোকার্ড ভুয়া নাকি সঠিক।
শুধু তাই নয়, মূলধারার পত্রিকা বা টিভির হুবহু নাম, লোগো ও ডিজাইনেও এরকম ভুল ও বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে মানুষ বিশ্বাস করছে। ভাইরাল হওয়ার পরে জানা যাচ্ছে সেটা ফেইক। অর্থাৎ ফেইক ফটোকার্ডের মহামারি শুরু হয়েছে—যা সমাজে তৈরি করছে অস্থিরতা। মূলধারার সংবাদমাধ্যম পড়ছে চ্যালেঞ্জের মুখে।
চ্যানেল ওয়ানের লোগো ও ডিজাইন কপি করে একটি ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে, ‘জামাত শিবিরের গুপ্ত লীগ ওসমান হাদিকে গুলি করেছে।’ অথচ চ্যানেল ওয়ান এরকম কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। ‘বোনকে সঙ্গে নিয়ে মির্জা ফখরুলের জন্য দোয়া করলেন শেখ হাসিনা’—এই শিরোনামে একটি ফটোকার্ড বানানো হয়েছে প্রথম আলোর লোগো দিয়ে। এটিও ভুয়া। কিন্তু প্রথম দেখায় খুব কম লোকই এটাকে সন্দেহ করবেন। কালবেলা পত্রিকার হুবহু নাম, লোগো ও ডিজাইনে বানানো একটি ফটোকার্ডে প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি নিয়ে লেখা হয়েছে, ‘২০২৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই’। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন এ রকম অসংখ্য গুজব ও বিভ্রান্তি পরিবেশিত হচ্ছে সংবাদের মোড়কে। শুধু তাই নয়, এরকম ভুয়া, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারকারী কোনো কোনো পেইজ তাদের ফলোয়ার সংখ্যা বাড়লে সেটি নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেয়। যেমন জানিনা টেলিভিশনের লোগো সম্বলিত একটি ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে : জানিনা টেলিভিশন ১০ হাজারের পরিবার।
বলা হয়, বাংলাদেশে যত দ্রুত স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ হয়েছে, ওই তুলনায় যথেষ্ট পিছিয়ে আছে ডিজিটাল লিটারেসি। যে কারণে কোনটা খবর আর কোনটা গুজব; কোনটা জনকণ্ঠ আর কোনটা জনকষ্ট; কোনটা যমুনা টিভি আর কোনটা জানিনা টিভি—সেটি প্রথম দর্শনে অনেকেই ঠাওর করতে পারেন না। না পেরে তিনিও ওই ‘খবর’ বিশ্বাস করে নিজের ফেইসবুক ওয়ালে শেয়ার করেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনাই এভাবে বিভ্রান্তির মোড়কে ছড়িয়ে পড়ে লাখ লাখ বা কোটি কোটি মানুষের মধ্যে। এটা এখন আর নিরব নয়, বরং সরব মহামারী। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে একটি অবিশ্বাসী বা ‘ফেইক প্রজন্ম’।
অসংখ্য মানুষ ফেইসবুককে সংবাদমাধ্যম মনে করে। তারা পরস্পরের আলাপচারিতায় বলে, “দেখেন তো খবরটা ফেসবুকে দিছে কি না।” অথচ ফেসবুক যে খবরের জায়গা নয়, এই সাধারণ জ্ঞান ও কাণ্ডজ্ঞান তৈরির আগেই মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে ইন্টারন্টে সংযুক্ত স্মার্টফোন ও ফেসবুক।
মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের আদলে ডিজাইন করে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রথম দেখায় এটা বোঝা কঠিন যে, আসলেই এসব ফটোকার্ড ভুয়া নাকি সঠিক।
মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের আদলে ডিজাইন করে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রথম দেখায় এটা বোঝা কঠিন যে, আসলেই এসব ফটোকার্ড ভুয়া নাকি সঠিক।
প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করা তথা দৃশ্যত শিক্ষিত মানুষজনও কোনটা খবর, কোনটা বেখবর, কোনটা প্রোপাগান্ডা, কোনটা গুজব—সেটি বুঝতে পারে না। পারার কথাও নয়। কারণ এই শিক্ষাটা তিনি পাননি। যে কারণে ফেসবুকে কে কী লিখলেন, কে প্রোফাইল লাল বা কালো করলেন, কে কার ছবিতে লাইক ও কমেন্ট করলেন—এসব দিয়েই একজন মানুষ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। অথচ ফেসবুক পোস্ট বা কমেন্টই যে একজন মানুষকে বোঝা বা তাকে বিচার করার একমাত্র উপায় নয়; বরং ভার্চুয়াল দুনিয়ার বাইরেও যে প্রত্যেকের একটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবন রয়েছে; ফেসবুকের বাইরেও যে তিনি আরেকজন স্বতন্ত্র মানুষ—ওই চিন্তাটা অনেকেই করেন না। করতে চান না।
প্রায়শই অফিসের লিফটে খেয়াল করি, শিক্ষিত সচেতন বলে মনে হয় এমন মানুষেরাও মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে স্ক্রল করতে করতে এসব বিভ্রান্তিকর খবর, গুজব ও ফেইক ফকোটকার্ড বিশ্বাস করে আরেকজনকে বলছেন। যার সঙ্গে বলছেন তিনিও বিশ্বাস করছেন। কিন্তু কালবেলা যে কামবেলা, আর যমুনা টিভি যে আনোয়ার টিভি হয়ে গেছে, সেটা হয়তো অনেকেই খেয়াল করছেন না বা এটুকু খেয়াল করার মতো সচেতনতাও হয়তো তার নেই। সমাজের শিক্ষিত মানুষের যখন এই দশা, তখন ইন্টারনেট সংযুক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারকারী একজন দিনমজুর বা কম পড়ালেখা জানা মানুষের বিভ্রান্ত হওয়া কতটা সহজ—তা সহজেই অনুমেয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার শেয়ার করা বিভ্রান্তিকর, অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ কনটেন্টের আরেকটা বড় সমস্যা হলো, কোনো একজন ব্যক্তির অনেক কথার মাঝখান থেকে একটি বা দুটি লাইন নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে সেটি ছড়িয়ে দেয়া হয়। তার ফলে ওই বক্তব্যের আগে পরে কী আছে, সেটা মানুষ জানে না। অনেক সময় কারও বক্তব্যের খণ্ড খণ্ড অংশ জোড়া দিয়ে এমন একটি বাক্য তৈরি করা হয়, যে কথা আদৌ ওই ব্যক্তি বলেননি। বিশেষ করে রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। ফলে ওইসব বক্তব্য নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। এই প্রবণতা শুধু ভুয়া সংবাদমাধ্যমের নয়, বরং অনেক সময় কোনো কোনো মূলধারার সংবাদমাধ্যমও এইধরনের কাটপিস তৈরি করে বেশি ভিউয়ের নেশায়।
কোনো সমাজে যখন খবর আর গুজব এক হয়ে যায়, যখন সমাজের বিরাট অংশের মানুষ গুজবকে খবর বলে বিশ্বাস করে, তখন সেখানে প্রথম চোটে মার খায় ইথিক্যাল জার্নালিজম বা নীতিবান সাংবাদিকতা। দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে যখন সকল সত্যকেই মিথ্যা এবং সকল মিথ্যাকেই সত্য বলা হয়, তখন মানুষ সবই বিশ্বাস করে এবং সবই অবিশ্বাস করে। সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ কিংবা বিরোধী দল থেকে উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে জামায়াতের দাবিসম্বলিত ফটোকার্ডকেও মানুষ সংবাদ বলে মনে করে এবং সেটি  চায়ের দোকানে, অফিসে বা সামাজিক আলাপচারিতায় আলোচিত হয়।
এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে ভিউ বাণিজ্য। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো পেইজ মনিটাইজড হয়ে গেলেই সেখান থেকে টাকা আসে, আর যে কনটেন্টের যত বেশি ভিউ তত বেশি টাকা, অতএব ভিউয়ের নেশায় ছুটছে পুরো সোশ্যাল মিডিয়া। তবে এটা ঠিক যে, ভিউয়ের নেশায় মূলধারার সংবাদমাধ্যমও পিছিয়ে নেই। অনেক পত্রিকা ও টেলিভিশনও চটকদার শিরোনাম আর বিভ্রান্তির খবর পরিবেশ করে বেশি ভিউয়ের আশায়। যার ফলে যেসব সংবাদমাধ্যম প্রকৃতই বস্তুনিষ্ঠ ও ইথিক্যাল জার্নালিজমের চর্চা করে, তারা অনেক সময় বাণিজ্যিকভাবে পিছিয়ে পড়ে। ফলে একসময় তারাও এই ইঁদুর দৌড়ে শামিল হয়।
শুধু সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ডই নয়, বরং রাজনৈতিক দলের প্যাডে কোনো ঘোষণা বা বার্তা দিয়ে সেগুলোও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। যেমন গত বছরের ১১ নভেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জানান, কোনো স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল তার স্বাক্ষর জাল করে ফেসবুকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেছে, যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
যদিও সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলোর মধ্যে কোনটি আসল আর কোনটি ফেইক, সেটি বোঝা হয়তো খুব কঠিন নয়। একটু ভালো করে কার্ডগুলো খেয়াল করলে হয়তো এর ফাঁকফোকর ধরা সম্ভব। কিন্তু সেই ন্যূনতম সচেতনতার বোধ কত শতাংশ মানুষের আছে সেটি যেমন প্রশ্ন, তেমনি মানুষ আদৌ ফটোকার্ডের সত্যমিথ্যা যাচাই করতে চায় কি না, সেটিও প্রশ্ন। কেননা, বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া ফটোকার্ডগুলো বানানো হয় মানুষ যা শুনতে চায়, এমন সব বিষয়ে। ফলে সে যখন ভুল ও ভুয়া খবরও দেখে, সে এটা এনজয় করে। শেয়ার করে। কিন্তু তার এই মেনে নেয়া ও নির্ভারতাই ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ বাড়াতে সহায়তা করে। মানুষের এই বোকামি, উন্মাদনা, উন্নাসিকতা, অশিক্ষা ও অসচেনতনার সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ টাকা কামাচ্ছে। অন্যদিকে সমাজে বাড়ছে বিভ্রান্তি। বিভেদ।
গত ১৫ নভেম্বর বিবিসির সাংবাদিক মিজানুর রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, এআই দিয়ে তো আজকাল সবই করা সম্ভব। একটা স্টিল ছবি দিলে ভিডিও বানিয়ে দেয়। এমনকি, ব্যাংক নোটে দোয়েল পাখির ছবি পাখা ঝাপটায়, কৃষকরা পানিতে পাট ধুয়ে নেয়! এসব দেখতে দেখতে ভাবি, কী এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎই না অপেক্ষা করছে এই মানবজাতির জন্য। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। ভালো হোক মন্দ হোক এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করে নিতেই হবে। আর পেছনে ফেরা যাবে না। মানুষ যদি এই প্রযুক্তিকে ঠিকভাবে ব্যবহার করে, তাহলে সভ্যতার আরও উন্নতি হবে। সেরকম না হলে এই এআই-এর কাছেই পরাজয় ঘটবে মানুষের। (সূত্র : বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম)

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত! অনুমোদিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’। ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিন জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পল্লী সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুঃস্থ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং পেট্রোবাংলার উদ্যোগে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘১টি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের জন্য তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার প্যাকেজগুলোর ঘোষণা দেন। এ সময় হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার খাওয়া ও কোরবানিসহ তিনটি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
হাব জানায়, তিনটি প্যাকেজের মধ্যে বিশেষ প্যাকেজ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা, সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ও সাশ্রয়ী প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবার সাশ্রয়ী প্যাকেজের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টাকা বেশি। এ ছাড়া বিশেষ হজ প্যাকেজে ব্যয় বেড়েছে ৪১ হাজার ৬০ টাকা।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ২০২৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ২টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) এর খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা।

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

ভারতের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিটের) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভ গড়িয়েছে টানা তৃতীয় দিনে। সংঘাত ও বিক্ষোভের মধ্যেই বুধবার (২২ জুলাই) সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকার পার্লামেন্টে প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সরকারি সূত্রগুলো। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংসতার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সেদিনের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাটি পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা উদ্ধৃত করে কিরেন রিজিজু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এনডিএ শরিকদের সংসদের সব ধরনের কাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোকে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ এবং যুবসমাজের কল্যাণে কাজ করা সব সংসদ সদস্যের যৌথ দায়িত্ব।’