খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

অনলাইনে কী এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎই না অপেক্ষা করছে এই মানবজাতির জন্যে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
অনলাইনে কী এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎই না অপেক্ষা করছে এই মানবজাতির জন্যে!

কথিত সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি ফটোকার্ডের শিরোনাম :
১. সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করলেন ড. ইউনূস।
২. প্রবাসে থেকেই আমি নির্বাচনে অংশ নেব : তারেক রহমান।
৩. ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না দিলে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে আন্দোলন শুরু করব : সালাউদ্দিন।
৪. বিরোধী দল থেকে উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না দিলে নির্বাচনে যাব না : জামায়াত আমির।
এর একটিও সত্য খবর নয় এবং যেসব মাধ্যমে এই খবরগুলো এসেছে, তার একটিও দেশের প্রচলিত সংবাদমাধ্যম নয়। এগুলোর নাম কামবেলা, প্রথম আলু, জনকষ্ট, চেন্নাই টোয়েন্টিফোর, জানিনা টিভি ইত্যাদি। অর্থাৎ মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের আদলে ডিজাইন করে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অসংখ্য মানুষ তা বিশ্বাস করছে। কারণ প্রথম দেখায় এটা বুঝতে পারা কঠিন যে, আসলেই এসব ফটোকার্ড ভুয়া নাকি সঠিক।
শুধু তাই নয়, মূলধারার পত্রিকা বা টিভির হুবহু নাম, লোগো ও ডিজাইনেও এরকম ভুল ও বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে মানুষ বিশ্বাস করছে। ভাইরাল হওয়ার পরে জানা যাচ্ছে সেটা ফেইক। অর্থাৎ ফেইক ফটোকার্ডের মহামারি শুরু হয়েছে—যা সমাজে তৈরি করছে অস্থিরতা। মূলধারার সংবাদমাধ্যম পড়ছে চ্যালেঞ্জের মুখে।
চ্যানেল ওয়ানের লোগো ও ডিজাইন কপি করে একটি ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে, ‘জামাত শিবিরের গুপ্ত লীগ ওসমান হাদিকে গুলি করেছে।’ অথচ চ্যানেল ওয়ান এরকম কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। ‘বোনকে সঙ্গে নিয়ে মির্জা ফখরুলের জন্য দোয়া করলেন শেখ হাসিনা’—এই শিরোনামে একটি ফটোকার্ড বানানো হয়েছে প্রথম আলোর লোগো দিয়ে। এটিও ভুয়া। কিন্তু প্রথম দেখায় খুব কম লোকই এটাকে সন্দেহ করবেন। কালবেলা পত্রিকার হুবহু নাম, লোগো ও ডিজাইনে বানানো একটি ফটোকার্ডে প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি নিয়ে লেখা হয়েছে, ‘২০২৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই’। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন এ রকম অসংখ্য গুজব ও বিভ্রান্তি পরিবেশিত হচ্ছে সংবাদের মোড়কে। শুধু তাই নয়, এরকম ভুয়া, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারকারী কোনো কোনো পেইজ তাদের ফলোয়ার সংখ্যা বাড়লে সেটি নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেয়। যেমন জানিনা টেলিভিশনের লোগো সম্বলিত একটি ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে : জানিনা টেলিভিশন ১০ হাজারের পরিবার।
বলা হয়, বাংলাদেশে যত দ্রুত স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ হয়েছে, ওই তুলনায় যথেষ্ট পিছিয়ে আছে ডিজিটাল লিটারেসি। যে কারণে কোনটা খবর আর কোনটা গুজব; কোনটা জনকণ্ঠ আর কোনটা জনকষ্ট; কোনটা যমুনা টিভি আর কোনটা জানিনা টিভি—সেটি প্রথম দর্শনে অনেকেই ঠাওর করতে পারেন না। না পেরে তিনিও ওই ‘খবর’ বিশ্বাস করে নিজের ফেইসবুক ওয়ালে শেয়ার করেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনাই এভাবে বিভ্রান্তির মোড়কে ছড়িয়ে পড়ে লাখ লাখ বা কোটি কোটি মানুষের মধ্যে। এটা এখন আর নিরব নয়, বরং সরব মহামারী। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে একটি অবিশ্বাসী বা ‘ফেইক প্রজন্ম’।
অসংখ্য মানুষ ফেইসবুককে সংবাদমাধ্যম মনে করে। তারা পরস্পরের আলাপচারিতায় বলে, “দেখেন তো খবরটা ফেসবুকে দিছে কি না।” অথচ ফেসবুক যে খবরের জায়গা নয়, এই সাধারণ জ্ঞান ও কাণ্ডজ্ঞান তৈরির আগেই মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে ইন্টারন্টে সংযুক্ত স্মার্টফোন ও ফেসবুক।
মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের আদলে ডিজাইন করে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রথম দেখায় এটা বোঝা কঠিন যে, আসলেই এসব ফটোকার্ড ভুয়া নাকি সঠিক।
মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের আদলে ডিজাইন করে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রথম দেখায় এটা বোঝা কঠিন যে, আসলেই এসব ফটোকার্ড ভুয়া নাকি সঠিক।
প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করা তথা দৃশ্যত শিক্ষিত মানুষজনও কোনটা খবর, কোনটা বেখবর, কোনটা প্রোপাগান্ডা, কোনটা গুজব—সেটি বুঝতে পারে না। পারার কথাও নয়। কারণ এই শিক্ষাটা তিনি পাননি। যে কারণে ফেসবুকে কে কী লিখলেন, কে প্রোফাইল লাল বা কালো করলেন, কে কার ছবিতে লাইক ও কমেন্ট করলেন—এসব দিয়েই একজন মানুষ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। অথচ ফেসবুক পোস্ট বা কমেন্টই যে একজন মানুষকে বোঝা বা তাকে বিচার করার একমাত্র উপায় নয়; বরং ভার্চুয়াল দুনিয়ার বাইরেও যে প্রত্যেকের একটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবন রয়েছে; ফেসবুকের বাইরেও যে তিনি আরেকজন স্বতন্ত্র মানুষ—ওই চিন্তাটা অনেকেই করেন না। করতে চান না।
প্রায়শই অফিসের লিফটে খেয়াল করি, শিক্ষিত সচেতন বলে মনে হয় এমন মানুষেরাও মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে স্ক্রল করতে করতে এসব বিভ্রান্তিকর খবর, গুজব ও ফেইক ফকোটকার্ড বিশ্বাস করে আরেকজনকে বলছেন। যার সঙ্গে বলছেন তিনিও বিশ্বাস করছেন। কিন্তু কালবেলা যে কামবেলা, আর যমুনা টিভি যে আনোয়ার টিভি হয়ে গেছে, সেটা হয়তো অনেকেই খেয়াল করছেন না বা এটুকু খেয়াল করার মতো সচেতনতাও হয়তো তার নেই। সমাজের শিক্ষিত মানুষের যখন এই দশা, তখন ইন্টারনেট সংযুক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারকারী একজন দিনমজুর বা কম পড়ালেখা জানা মানুষের বিভ্রান্ত হওয়া কতটা সহজ—তা সহজেই অনুমেয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার শেয়ার করা বিভ্রান্তিকর, অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ কনটেন্টের আরেকটা বড় সমস্যা হলো, কোনো একজন ব্যক্তির অনেক কথার মাঝখান থেকে একটি বা দুটি লাইন নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে সেটি ছড়িয়ে দেয়া হয়। তার ফলে ওই বক্তব্যের আগে পরে কী আছে, সেটা মানুষ জানে না। অনেক সময় কারও বক্তব্যের খণ্ড খণ্ড অংশ জোড়া দিয়ে এমন একটি বাক্য তৈরি করা হয়, যে কথা আদৌ ওই ব্যক্তি বলেননি। বিশেষ করে রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। ফলে ওইসব বক্তব্য নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। এই প্রবণতা শুধু ভুয়া সংবাদমাধ্যমের নয়, বরং অনেক সময় কোনো কোনো মূলধারার সংবাদমাধ্যমও এইধরনের কাটপিস তৈরি করে বেশি ভিউয়ের নেশায়।
কোনো সমাজে যখন খবর আর গুজব এক হয়ে যায়, যখন সমাজের বিরাট অংশের মানুষ গুজবকে খবর বলে বিশ্বাস করে, তখন সেখানে প্রথম চোটে মার খায় ইথিক্যাল জার্নালিজম বা নীতিবান সাংবাদিকতা। দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে যখন সকল সত্যকেই মিথ্যা এবং সকল মিথ্যাকেই সত্য বলা হয়, তখন মানুষ সবই বিশ্বাস করে এবং সবই অবিশ্বাস করে। সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ কিংবা বিরোধী দল থেকে উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে জামায়াতের দাবিসম্বলিত ফটোকার্ডকেও মানুষ সংবাদ বলে মনে করে এবং সেটি  চায়ের দোকানে, অফিসে বা সামাজিক আলাপচারিতায় আলোচিত হয়।
এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে ভিউ বাণিজ্য। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো পেইজ মনিটাইজড হয়ে গেলেই সেখান থেকে টাকা আসে, আর যে কনটেন্টের যত বেশি ভিউ তত বেশি টাকা, অতএব ভিউয়ের নেশায় ছুটছে পুরো সোশ্যাল মিডিয়া। তবে এটা ঠিক যে, ভিউয়ের নেশায় মূলধারার সংবাদমাধ্যমও পিছিয়ে নেই। অনেক পত্রিকা ও টেলিভিশনও চটকদার শিরোনাম আর বিভ্রান্তির খবর পরিবেশ করে বেশি ভিউয়ের আশায়। যার ফলে যেসব সংবাদমাধ্যম প্রকৃতই বস্তুনিষ্ঠ ও ইথিক্যাল জার্নালিজমের চর্চা করে, তারা অনেক সময় বাণিজ্যিকভাবে পিছিয়ে পড়ে। ফলে একসময় তারাও এই ইঁদুর দৌড়ে শামিল হয়।
শুধু সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ডই নয়, বরং রাজনৈতিক দলের প্যাডে কোনো ঘোষণা বা বার্তা দিয়ে সেগুলোও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। যেমন গত বছরের ১১ নভেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জানান, কোনো স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল তার স্বাক্ষর জাল করে ফেসবুকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেছে, যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
যদিও সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলোর মধ্যে কোনটি আসল আর কোনটি ফেইক, সেটি বোঝা হয়তো খুব কঠিন নয়। একটু ভালো করে কার্ডগুলো খেয়াল করলে হয়তো এর ফাঁকফোকর ধরা সম্ভব। কিন্তু সেই ন্যূনতম সচেতনতার বোধ কত শতাংশ মানুষের আছে সেটি যেমন প্রশ্ন, তেমনি মানুষ আদৌ ফটোকার্ডের সত্যমিথ্যা যাচাই করতে চায় কি না, সেটিও প্রশ্ন। কেননা, বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া ফটোকার্ডগুলো বানানো হয় মানুষ যা শুনতে চায়, এমন সব বিষয়ে। ফলে সে যখন ভুল ও ভুয়া খবরও দেখে, সে এটা এনজয় করে। শেয়ার করে। কিন্তু তার এই মেনে নেয়া ও নির্ভারতাই ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ বাড়াতে সহায়তা করে। মানুষের এই বোকামি, উন্মাদনা, উন্নাসিকতা, অশিক্ষা ও অসচেনতনার সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ টাকা কামাচ্ছে। অন্যদিকে সমাজে বাড়ছে বিভ্রান্তি। বিভেদ।
গত ১৫ নভেম্বর বিবিসির সাংবাদিক মিজানুর রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, এআই দিয়ে তো আজকাল সবই করা সম্ভব। একটা স্টিল ছবি দিলে ভিডিও বানিয়ে দেয়। এমনকি, ব্যাংক নোটে দোয়েল পাখির ছবি পাখা ঝাপটায়, কৃষকরা পানিতে পাট ধুয়ে নেয়! এসব দেখতে দেখতে ভাবি, কী এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎই না অপেক্ষা করছে এই মানবজাতির জন্য। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। ভালো হোক মন্দ হোক এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করে নিতেই হবে। আর পেছনে ফেরা যাবে না। মানুষ যদি এই প্রযুক্তিকে ঠিকভাবে ব্যবহার করে, তাহলে সভ্যতার আরও উন্নতি হবে। সেরকম না হলে এই এআই-এর কাছেই পরাজয় ঘটবে মানুষের। (সূত্র : বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম)

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।