খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বয়সের আগুনে পুড়ছে অবশিষ্ট ভালোবাসা

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
বয়সের আগুনে পুড়ছে অবশিষ্ট ভালোবাসা

ভালোবাসা মানুষের জীবনকে গঠন করে তাকে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়। কখনো সুখের স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, আবার কখনো গভীর দুঃখের অতলে ডুবিয়ে দেয়। তবে সময়ের সঙ্গে ভালোবাসার রূপ বদলায়। কোনো সম্পর্কই একই রকম থাকে না। ভালোবাসা যেমন ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, তেমনি কখনো কখনো তা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, ধ্বংস হয়, আর তার অবশিষ্ট আগুন জ্বলতে জ্বলতে একসময় নিভে যায়। ভালোবাসা মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অনুভূতি, যা কখনো আনন্দ দেয়, কখনো কষ্টের গভীরে নিয়ে যায়। সম্পর্কের সূচনা যেমন আবেগময় হয়, তেমনি সময়ের সাথে সাথে তা পরিবর্তিত হয়, বিবর্ণ হতে থাকে, কখনো হারিয়ে যায়, কখনো বা অবশিষ্ট আগুনের মতো ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে। আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই আগুন কখনো পুরোপুরি নিভে যায়, আবার কখনো তার ছাই থেকে নতুন অনুভূতির জন্ম হয়।
আমাদের জীবনেও হয়তো সেই অবশিষ্ট আগুন এখনও ধিকিধিকি জ্বলছে, পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতিতে, ভুল বোঝাবুঝির যন্ত্রণায় বা অতীতের কোনো অনুভূতির ছায়ায়। কিছু ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না, বরং তার রেশ থেকে যায় আমাদের মানসিকতার গভীরে, আচরণে, এবং পরবর্তী সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে।
ভালোবাসা কখনোই একদিনে জন্ম নেয় না, এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, একটি মানুষের অন্তরের গভীরে স্থান করে নেয়। প্রথম প্রেম, প্রথম স্পর্শ, প্রথম অভিজ্ঞতা—সবই মনের গভীরে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে। তবে সময়ের সাথে সাথে সম্পর্কের মাঝে ক্লান্তি আসে, ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়, বিশ্বাস ভেঙে পড়ে, এবং কখনো কখনো সম্পর্কের পরিণতি হয় বিচ্ছেদে। অনেক সময় সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও তার রেশ থেকে যায়, হয়তো কোনো গানের লিরিকে, কোনো চেনা গলির মোড়ে, পুরোনো দিনের চিঠিতে বা কিছু ছবির ভাঁজে। সেই অনুভূতির অবশিষ্টাংশ আমাদের মনে বারবার ফিরে আসে, স্মৃতির মতো, কখনো আনন্দদায়ক, কখনো বেদনাদায়ক।
যখন কোনো সম্পর্ক ভেঙে যায়, তার মানে এই নয় যে ভালোবাসা একেবারে মুছে যায়। বরং সম্পর্কের শেষ মুহূর্তগুলোর স্মৃতি, যন্ত্রণা, হতাশা, এবং অভিমান আমাদের মধ্যে বাস করতে থাকে।
কিছু সম্পর্কের অবশিষ্ট আগুন সুখের স্মৃতি হিসেবে থাকে, যা মাঝে মাঝে মনে পড়ে আনন্দ এনে দেয়। আবার কিছু সম্পর্কের অবশিষ্ট আগুন জ্বলতে জ্বলতে কষ্টের এক বিশাল প্রাচীর তৈরি করে, যা আমাদের নতুন সম্পর্ক তৈরি করতে বাধা দেয়। আমরা হয়তো বারবার ফিরে যেতে চাই পুরোনো সেই মুহূর্তগুলোর কাছে, কিন্তু বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সে সময় আর ফিরে আসবে না।
যৌবনের ভালোবাসা আবেগে ভরা থাকে, সেখানে যুক্তির চেয়ে অনুভূতি বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে, অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে, আমাদের ভালোবাসার ধরনও বদলে যায়। যে আবেগ একসময় বন্য ঝড়ের মতো ছিল, তা ধীরে ধীরে শান্ত নদীর মতো হয়ে যায়। বয়স বাড়ার সাথে আমরা বুঝতে পারি, ভালোবাসা মানে শুধু আবেগের জয়গান নয়; বরং এটি দায়িত্ব, বিশ্বাস, এবং বোঝাপড়ার সমষ্টি। যখন কোনো সম্পর্কের মধ্যে এই উপাদানগুলো হারিয়ে যেতে থাকে, তখন ভালোবাসার অবশিষ্ট আগুন ধীরে ধীরে নিভে যায়।
আধুনিক যুগে ভালোবাসার সংজ্ঞা এবং এর প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়েছে। একসময় ভালোবাসা মানে ছিল সারাজীবন একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি, ভালোবাসার জন্য লড়াই করা, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা। কিন্তু বর্তমান সমাজে ভালোবাসার স্থায়ীত্ব কমে যাচ্ছে, সম্পর্কগুলো দ্রুত গড়ে ওঠে এবং দ্রুত ভেঙে যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রযুক্তির উন্নতি, এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করার ফলে ভালোবাসার রূপান্তর হচ্ছে। আমাদের সম্পর্কগুলো এখন অনেকটাই তাৎক্ষণিক, যেখানে গভীরতা কম কিন্তু অভিজ্ঞতা বেশি। ফলে ভালোবাসার অবশিষ্ট আগুন আমাদের জীবন থেকে দ্রুত নিভে যায়, স্মৃতিগুলো মুছে যায়, এবং নতুন বাস্তবতা আমাদের সামনে উপস্থিত হয়।
যে আগুন একসময় আমাদের পুড়িয়েছিল, তা হয়তো আমাদের আরও পরিপক্ক করেছে। একবার ভালোবাসায় পোড়ার পর মানুষ আরও সতর্ক হয়ে যায়, সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশি সচেতন হয়ে ওঠে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ভালোবাসা আর আসবে না। বরং, পুরোনো আগুনের ছাই থেকে নতুন ভালোবাসার ফুল ফোটে। কেউ কেউ পুরোনো ক্ষত থেকে শিখে নতুন করে জীবন শুরু করে, আবার কেউ হয়তো সেই স্মৃতির আগুনেই সারাজীবন পুড়ে যেতে থাকে।
ভালোবাসা প্রথমে নির্দিষ্ট কিছু মুহূর্তের সাথে যুক্ত হয়—প্রথম দেখা, প্রথম কথা, প্রথম ছোঁয়া, প্রথম অনুভূতি। এটি আমাদের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটে, একধরনের স্বপ্ন তৈরি করে, যেখানে একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি, ভালোবাসার আবেগ এবং একে অপরকে ধরে রাখার ইচ্ছে কাজ করে।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সম্পর্কের ধরন বদলায়। জীবনের বাস্তবতা, পারস্পরিক দূরত্ব, মানসিক পরিবর্তন এবং পরিস্থিতির চাপে সম্পর্কের গভীরতা কমতে থাকে। যখন সম্পর্কের উত্তাপ কমে আসে, তখন ভালোবাসার অবশিষ্ট অংশটুকু টিকে থাকে স্মৃতির আকারে। সেই স্মৃতির আগুন হয়তো আমাদের মনে কষ্ট দেয়, কিন্তু সেটাই আমাদের ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। কিছু কিছু সম্পর্ক আমাদের জীবন থেকে চলে গেলেও তার ছাপ মুছে যায় না। কিছু মুহূর্ত আমাদের মনে থেকে যায়, কোনো গানের সুরে, পুরোনো এক খামে লুকানো চিঠিতে, অথবা কোনো বিশেষ স্থানে দাঁড়িয়ে থাকার সময়। এই স্মৃতিগুলো আমাদের মনে একধরনের অদৃশ্য অনুভূতি তৈরি করে, যা সুখ বা দুঃখের রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে, বাস্তবতা আমাদের শেখায় যে অতীতকে ধরে রাখা সম্ভব নয়। আমরা যতই পুরোনো অনুভূতিতে বেঁচে থাকতে চাই, জীবন আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বাধ্য করে। ফলে ভালোবাসার অবশিষ্ট আগুন ক্রমশ নিভে আসে, কিন্তু তার তাপ আমাদের মনে দীর্ঘস্থায়ীভাবে থেকে যায়। যৌবনের ভালোবাসা আবেগপ্রবণ ও বেপরোয়া হতে পারে, কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমরা বুঝতে পারি ভালোবাসা কেবল আবেগের উপর নির্ভরশীল নয়। এটি দায়িত্ব, আত্মত্যাগ, বোঝাপড়া এবং পারস্পরিক সম্মানের ওপর ভিত্তি করে টিকে থাকে।
যখন আমরা তরুণ থাকি, তখন ভালোবাসাকে শুধুমাত্র আবেগ ও রোমাঞ্চের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি। কিন্তু সময়ের সাথে বাস্তবতা আমাদের শেখায় যে শুধুমাত্র আবেগ টিকিয়ে রাখা যথেষ্ট নয়, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন বোঝাপড়া, ধৈর্য এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ। অনেক সম্পর্ক শুধু আবেগের কারণে টেকে না, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস ও মানসিক পরিপক্বতার কারণে দীর্ঘস্থায়ী হয়। কিছু সম্পর্ক একসময় শেষ হয়ে যায়, এবং তখন ভালোবাসার অবশিষ্ট অংশটুকু আমাদের মনকে দ্বিধায় ফেলে। আমরা কি সেই পুরোনো মুহূর্তগুলোকে আঁকড়ে ধরে থাকব, নাকি নতুন জীবনের দিকে এগিয়ে যাব?
অনেকে ভালোবাসার অতীত স্মৃতিকে মনে ধরে রাখে, কারণ তারা বিশ্বাস করে সেই অনুভূতির আর কোনো বিকল্প নেই। আবার কেউ কেউ মনে করে, পুরোনো অনুভূতিকে স্মৃতির পাতায় রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।
এই দ্বন্দ্ব মানুষের ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে। কেউ হয়তো আগের সম্পর্কের স্মৃতিকে সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলতে চায়, আবার কেউ সেই স্মৃতিকে সঙ্গী করেই বাকি জীবন কাটিয়ে দেয়। যে আগুন একসময় আমাদের পুড়িয়েছে, সেটাই হয়তো আমাদের নতুনভাবে বাঁচতে শিখিয়েছে। ভালোবাসার অভিজ্ঞতা, কষ্ট, এবং বিচ্ছেদ আমাদের আরও শক্তিশালী করে তোলে, আমাদের আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
বিচ্ছেদের পর মানুষ দুটি পথে হাঁটে- কেউ পুরোনো অনুভূতিতে আটকে থাকে, নতুন ভালোবাসার পথে আর পা বাড়ায় না। কেউ পুরোনো স্মৃতিকে জীবনের অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করে, এবং নতুন করে জীবন শুরু করে।
কিছু মানুষ একা থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, আবার কেউ নতুন সম্পর্ক তৈরি করে, যেখানে তারা অতীত থেকে শেখা জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
আজকের ডিজিটাল যুগে ভালোবাসার সংজ্ঞা ও প্রকাশভঙ্গি আগের চেয়ে অনেক বদলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, দ্রুতগতির জীবনযাত্রা, এবং সম্পর্কের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ভালোবাসাকে আরও ক্ষণস্থায়ী করে তুলেছে।
আগের দিনে সম্পর্কগুলো ধৈর্য, ত্যাগ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে গড়ে উঠত, কিন্তু বর্তমান সময়ে সম্পর্ক দ্রুত গড়ে ওঠে এবং দ্রুত ভেঙেও যায়। ফলে ভালোবাসার অবশিষ্ট আগুন জ্বলে ওঠার সুযোগই পায় না; বরং মানুষ নতুন সম্পর্কে ঢুকে পড়ে পুরোনো ক্ষতকে ভুলে থাকার জন্য। কিন্তু এর ফলে অনেক মানুষই একাকীত্ব অনুভব করে, কারণ তারা সত্যিকারের ভালোবাসার গভীরতা থেকে বঞ্চিত হয়।
আমরা যদি ভালোবাসার অবশিষ্ট অংশটুকুকে কেবল যন্ত্রণা হিসেবে দেখি, তাহলে সেটি আমাদের মনকে আরও ভারাক্রান্ত করবে। কিন্তু যদি এটিকে জীবন শিক্ষার অংশ হিসেবে গ্রহণ করি, তাহলে আমরা ব্যক্তিগতভাবে আরও পরিণত হতে পারব। আমরা ভালোবাসতে পেরেছিলাম, সেটাই এক বড় ব্যাপার। ভালোবাসার অনুভূতি হারিয়ে গেলেও, সেটি আমাদের জীবনকে রঙিন করেছিল। নতুন সম্পর্কের পথে হাঁটার আগে পুরোনো সম্পর্কের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
অতএব, ভালোবাসার অবশিষ্ট আগুন শুধুমাত্র কষ্টের প্রতীক নয়, এটি আমাদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা, যা আমাদের আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।
ভালোবাসার অবশিষ্ট আগুন কখনো পুরোপুরি নিভে যায় না, বরং এটি সময়ের সাথে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে। আমাদের জীবন, সম্পর্ক, এবং সমাজের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই আগুন কখনো জ্বলে ওঠে, কখনো নিভে যায়।
যদি আমরা পুরোনো ভালোবাসার ছায়ায় আটকে থাকি, তাহলে নতুন ভালোবাসা আসার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যদি আমরা সেই অবশিষ্ট আগুনকে অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করি, তাহলে তা আমাদের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করতে পারে। ভালোবাসা শেষ হতে পারে, কিন্তু তার শিক্ষা, তার স্মৃতি আমাদের জীবনকে নতুনভাবে গড়তে সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত, আমাদের জীবন ভালোবাসারই গল্প—কখনো তা আনন্দে ভরা, কখনো বেদনার আগুনে পোড়া। কিন্তু সেই আগুন থেকেই আমরা নতুন আলো খুঁজি, নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যাই।
ভালোবাসার অবশিষ্ট আগুন কখনো পুরোপুরি নিভে যায় না, বরং এটি আমাদের হৃদয়ে এক ধরনের আলো হয়ে থাকে। কিছু স্মৃতি আমাদের কষ্ট দেয়, কিছু আমাদের হাসায়, কিছু আমাদের নতুন করে জীবন শুরু করতে অনুপ্রাণিত করে।
যদি আমরা পুরোনো ক্ষত নিয়ে বাঁচতে চাই, তাহলে সেই আগুন আমাদের জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ফেলবে। কিন্তু যদি আমরা সেই আগুনকে অভিজ্ঞতার আলো হিসেবে দেখি, তাহলে তা আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেবে।
ভালোবাসা শেষ হতে পারে, সম্পর্কের পরিণতি যা-ই হোক, কিন্তু ভালোবাসার চিহ্ন থেকে যায়—আমাদের অনুভূতিতে, স্মৃতিতে, এবং জীবনের সিদ্ধান্তে। তাই ভালোবাসার অবশিষ্ট আগুন শুধু পোড়ায় না, কখনো কখনো এটি আমাদের নতুন আলোও দেখায়।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, সাংবাদিক প্রাবন্ধিক, চাঁদপুর।

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।