খুঁজুন
                               
, ,

নতুন যুগের সাংবাদিকতা : ডিজিটাল মিডিয়া ও ভবিষ্যৎ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
নতুন যুগের সাংবাদিকতা : ডিজিটাল মিডিয়া ও ভবিষ্যৎ

নতুন যুগের সাংবাদিকতা : ডিজিটাল মিডিয়া ও ভবিষ্যৎ
উজ্জ্বল হোসাইন
সাংবাদিকতা সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এটি তথ্য সরবরাহ, জনমত গঠন ও গণতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে সাংবাদিকতার ধরনেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। প্রিন্ট মিডিয়া থেকে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, আর এখন ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে প্রবেশ করেছে সাংবাদিকতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইউটিউব চ্যানেলের উত্থান সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সাংবাদিকতা মানব সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সময়ের সাথে সাথে এটি নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, বিশেষ করে ডিজিটাল যুগের আগমনের পর সাংবাদিকতার চেহারা একেবারেই বদলে গেছে। এরমধ্যে অন্যতম মৌখিক ও লিপিবদ্ধ সংবাদ প্রচার। রাজা-বাদশাহদের ফরমান ও বার্তাবাহক ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান। চীনে প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র (Kaiyuan Za Bao, ৭১৩ খ্রিস্টাব্দ)।
আধুনিক মুদ্রণ সাংবাদিকতার উত্থান (১৫-২০ শতক) হয়েছে –১৪৪০ সালে গুত্তেনবার্গের মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কার, ১৬০৫ সালে প্রথম আধুনিক সংবাদপত্র, ১৬০৫ সালে প্রথম আধুনিক সংবাদপত্র (Relation aller Fürnemmen und gedenckwürdigen Historien), ১৯ শতকে দৈনিক পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতার বিকাশ, সংবাদ সংস্থার (যেমন, রয়টার্স, এপি) আবির্ভাব। সম্প্রচার সাংবাদিকতার যুগ (২০ শতক)-১৯২০-এর দশকে রেডিও সাংবাদিকতার শুরু, ১৯৫০-এর দশকে টেলিভিশন সাংবাদিকতার উত্থান, সরাসরি সম্প্রচার ও রিয়েল-টাইম সংবাদ পরিবেশনের প্রচলন। ইন্টারনেট ও অনলাইন সংবাদ (১৯৯০-এর দশক)-সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণ চালু, দ্রুতগতির তথ্যপ্রবাহ ও বৈশ্বিক তথ্য প্রবেশাধিকার, বিনামূল্যে সংবাদপাঠের অভ্যাস তৈরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব (২০০০-এর পর থেকে)-ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে খবর প্রচার, নাগরিক সাংবাদিকতার বিকাশ যে কেউ সংবাদ পরিবেশন করতে পারে, ভুয়া সংবাদ ও গুজব ছড়ানোর ঝুঁকি বৃদ্ধি।
মোবাইল সাংবাদিকতা ও কনভার্জেন্স মিডিয়া-স্মার্টফোন ও অ্যাপ-ভিত্তিক সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টিং—ভিডিও, টেক্সট, অডিও একসাথে, ব্লগিং, পডকাস্ট ও লাইভ স্ট্রিমিং জনপ্রিয়তা লাভ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও অ্যালগরিদম-নির্ভর সাংবাদিকতা-নিউজ অ্যালগরিদম ও পার্সোনালাইজড কন্টেন্ট, ফ্যাক্ট-চেকিং ও স্বয়ংক্রিয় সংবাদ লেখা, সাংবাদিকতায় ডেটা অ্যানালিটিক্সের ব্যবহার বৃদ্ধি।

ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা : ভুয়া খবর ও মিথ্যা তথ্য, সংবাদপত্রের আর্থিক সংকট (প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষতি), সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত ঝুঁকি, নাগরিক সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের সুযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সাংবাদিকতার মাধ্যমে গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন, ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন মডেল ও বিকল্প আয়ের উৎস।
সাংবাদিকতা আজ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে তথ্য প্রবাহ দ্রুত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক। যদিও ডিজিটাল যুগ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তবুও এটি গণমাধ্যমের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই এবং নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে ডিজিটাল সাংবাদিকতা আরও কার্যকর হতে পারে।সাংবাদিকতার ইতিহাস বহু পুরোনো। পাথরের ফলক, হস্তলিখিত চিঠি, প্রিন্ট মিডিয়া, বেতার, টেলিভিশন—এসব মাধ্যম একসময় মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপায় ছিল। কিন্তু ২১শ শতাব্দীর শুরু থেকে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার সাংবাদিকতায় আমূল পরিবর্তন এনেছে।
পরিবর্তনের কয়েকটি ধাপ : প্রিন্ট মিডিয়া (সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন) ১৮-২০ শতকে মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির প্রধান মাধ্যম ছিল সংবাদপত্র। ইলেকট্রনিক মিডিয়া (রেডিও ও টেলিভিশন): ২০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রেডিও ও টেলিভিশন খবর প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: ২১ শতকে ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে সংবাদমাধ্যম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়েছে।
আজকের যুগে মানুষ দ্রুততম সময়ে সংবাদ পেতে চায়, যা সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ব্লগ এবং পডকাস্ট এখন তথ্য প্রচারের অন্যতম মাধ্যম। তাৎক্ষণিক সংবাদ পরিবেশন : যেকোনো বড় ঘটনা মুহূর্তের মধ্যেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।
ইন্টারঅ্যাকটিভিটি : পাঠকরা মন্তব্য, শেয়ার এবং লাইভ আলোচনার মাধ্যমে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেন।
বহুমাত্রিক উপস্থাপন  : টেক্সট, ছবি, ভিডিও, অ্যানিমেশন ও লাইভ স্ট্রিমিং ব্যবহার করা হয়।
কম খরচে সংবাদ পরিবেশন: প্রচলিত সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেলের তুলনায় অনলাইন সংবাদমাধ্যম পরিচালনার খরচ অনেক কম।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার ইতিবাচক দিক : ডিজিটাল মিডিয়া সাংবাদিকতাকে দ্রুত ও কার্যকর করে তুলেছে। আগে যেখানে সংবাদপত্র ছাপতে বা টিভি সম্প্রচারের জন্য সময় লাগত, এখন তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে খবর প্রকাশ করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে সংবাদ এখন আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। একটি ঘটনা শুধু স্থানীয় নয়, কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তা বৈশ্বিক সংবাদে পরিণত হতে পারে। ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষও সাংবাদিকতার অংশ হতে পারছে। মোবাইল ফোনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার মাধ্যমে যে কেউ সংবাদ প্রচার করতে পারছে। আগে কেবলমাত্র নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হতো, কিন্তু এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও নেতিবাচক দিক : অনলাইন মিডিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভুয়া খবর বা ‘ফেক নিউজ’। অনেক সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যে কেউ সংবাদ প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করা হয় না। ফলে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। অনেক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্লিকবেইট শিরোনাম ব্যবহার করে শুধুমাত্র ট্রাফিক বাড়ানোর জন্য মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করে। অনেক সময় ডিজিটাল সাংবাদিকরা অনলাইনে হয়রানির শিকার হন। সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় হুমকি, সাইবার আক্রমণ বা ট্রোলিং-এর সম্মুখীন হন অনেকে। অনেক সময় অনলাইন মিডিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যায়, যা ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ : ডিজিটাল সাংবাদিকতা ক্রমাগত উন্নতি করছে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও আধুনিক ও কার্যকর হয়ে উঠবে। এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি সংবাদ বিশ্লেষণ, তথ্য যাচাই ও অটোমেটেড রিপোর্টিংয়ে সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই সিস্টেম সাংবাদিকদের কাজ সহজ করবে। সংবাদ পরিবেশন আরও আকর্ষণীয় করতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। ফেক নিউজ প্রতিরোধে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনার দিকে যাচ্ছে। এটি উচ্চমানের সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে পারে। ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমের জন্য নৈতিকতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
ডিজিটাল সাংবাদিকতা আধুনিক বিশ্বের তথ্য প্রবাহের মূল চালিকা শক্তি। এটি যেমন দ্রুত সংবাদ সরবরাহের সুযোগ দিচ্ছে, তেমনি ভুয়া খবর ও হলুদ সাংবাদিকতার মতো চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।
তাই সাংবাদিকতা যেন বস্তুনিষ্ঠ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, সে জন্য সংবাদমাধ্যম, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও সাংবাদিকতার আরও সমন্বিত ব্যবহার সমাজকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল করে তুলবে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচারের মাধ্যম হিসেবেই ডিজিটাল সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে—এই প্রত্যাশা করছি।
লেখক পরিচিতি : সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক, চাঁদপুর।

দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। সে হিসেবে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারে স্বর্ণের বিক্রয় মূল্য কমানো হচ্ছে। নতুন এই মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিলো বাজুস। ওই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৯১ টাকায়।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার গহনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকবে। ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকারের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ঘোষিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের (মোসলেম আহম্মদ) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। এদিকে, যৌন নিপীড়নের বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিশুর অভিভাবক শাহজালাল রুমি অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারেন। চড় দেওয়ার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে যৌন হয়রানি করেন উপাধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন। এ সময় বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে নানা ধরনের ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) সকালে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে ঘটনার জবাবদিহি চান।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) তাকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে শিশু নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে ও সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের দায়িত্ব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ শৃঙ্খলা পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ এর আগে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। এ সময় তিনি উপস্থিত সেনাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। এরপরে তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।