খুঁজুন
                               
, ,

জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্র কিংবা কন্সপেরেসি থিওরি কল্পনা নয় বাস্তব

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্র কিংবা কন্সপেরেসি থিওরি কল্পনা নয় বাস্তব

জায়োনিজম একটি রাজনৈতিক আন্দোলন যা মূলত উনিশ শতকের শেষভাগে গড়ে ওঠে এবং ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরিণতি লাভ করে। কিন্তু জায়োনিজমের সঙ্গে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব (Conspiracy Theory) যুক্ত করে অনেক আলোচনা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী মনে করে যে জায়োনিস্টরা বিশ্ব রাজনীতিতে গোপনে প্রভাব বিস্তার করছে, অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং বিভিন্ন দেশ ও সমাজে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করছে। এই প্রবন্ধে জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্র তত্ত্বের উৎপত্তি, প্রকৃতি, প্রভাব ও বাস্তবতা বিশ্লেষণ করা হবে। জায়োনিজম শব্দটি এসেছে “জায়োন” (Zion) থেকে, যা ইহুদিদের জন্য বিশেষ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ববাহী। এটি মূলত ইহুদিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে উনিশ শতকে উদ্ভূত হয়। এটি ইহুদি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, যার উদ্দেশ্য ছিল ইহুদিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র মাতৃভূমি প্রতিষ্ঠা করা। ১৮৯৭ সালে থিওডোর হার্জল প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে “জায়োনিস্ট কংগ্রেস” গঠন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে এই আন্দোলন শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। অনেক মুসলিম দেশ, বিশেষ করে ফিলিস্তিনিরা, এটি দখলদারি ও ঔপনিবেশিক প্রকল্প হিসেবে দেখে আসছে। জায়োনিস্টদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলোর শেকড় বহু পুরনো। ইউরোপীয় সমাজে মধ্যযুগ থেকেই ইহুদিদের বিরুদ্ধে নানা গুজব রটানো হতো। তারা ব্যাংকিং ও বাণিজ্যে সফল হওয়ায় অনেকেই মনে করত যে ইহুদিরা গোপনে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। এটি একটি ভুয়া নথি, যা ১৯০৩ সালে রাশিয়ায় প্রকাশিত হয়। এতে দাবি করা হয় যে ইহুদিরা গোপনে বিশ্ব শাসনের পরিকল্পনা করছে। যদিও এটি পরবর্তীতে ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়, তবে অনেকেই এটিকে সত্য মনে করে। কিছু ষড়যন্ত্রবাদীরা বলে যে জায়োনিস্টরা বিশ্ব মিডিয়া, বিনোদন শিল্প ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন, হলিউড ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ওপর ইহুদিদের আধিপত্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়। একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে জায়োনিস্টরা বিশ্ব সরকার গঠন করতে চায় এবং গোপনে বিভিন্ন সরকার ও সংস্থার মাধ্যমে কাজ করছে। অনেকে মনে করে যে জায়োনিস্টরা ফিলিস্তিনের জমি দখল করার পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে। এই ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরির ক্ষেত্রে এসব ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বড় ভূমিকা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিভাজন – জায়োনিস্ট আন্দোলন নিয়ে বিতর্ক বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের বিভাজন সৃষ্টি করেছে। যেমন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত। সামাজিক উত্তেজনা – সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য মাধ্যমের মাধ্যমে এই তত্ত্বগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত থাকলেও এগুলোর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। মিডিয়া ও ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ – সত্য যে কিছু ইহুদি পরিবার অর্থনীতিতে প্রভাবশালী, তবে এটা বলতে গেলে বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র চলছে তা যুক্তিযুক্ত নয়।
বিশ্ব সরকার গঠন – এ ধরনের দাবির পক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই। ফিলিস্তিন প্রশ্ন – ইসরায়েলের কার্যক্রমের সমালোচনা করা যায়, তবে তা জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।  জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব (Zionist Conspiracy Theory) বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও ইতিহাসের এক বিতর্কিত বিষয়। জায়োনিজম একটি রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে শুরু হলেও, এটি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, জায়োনিস্টরা বিশ্ব শাসনের গোপন পরিকল্পনা করছে এবং বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে, অনেকে এসব দাবিকে ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন। এই প্রবন্ধে জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্র তত্ত্বের উৎপত্তি, প্রচলিত ধরণ, বাস্তবতা এবং এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে।

জায়োনিজম মূলত ইহুদি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, যার মূল লক্ষ্য ছিল ইহুদিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। ইহুদিদের জন্য একটি নিরাপদ মাতৃভূমি প্রতিষ্ঠা করা। বাইবেলের বিবরণ অনুসারে, ইসরায়েল হলো ইহুদিদের প্রতিশ্রুত ভূমি। উনিশ শতকের ইউরোপে ইহুদিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নিপীড়ন বেড়ে যাওয়ার ফলে অনেক ইহুদি নিজেদের আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।

১৮৯৭ সালে থিওডোর হার্জল প্রথম “জায়োনিস্ট কংগ্রেস” গঠন করেন এবং ইহুদিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করেন। ১৯১৭ সালের বেলফোর ঘোষণা (Balfour Declaration) এবং ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা জায়োনিজমের প্রধান ফলাফল। ২. জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব: কী এবং কেন? জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মূলত ধারণা করে যে জায়োনিস্টরা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা বিস্তার করছে। প্রটোকলস অব দ্য এল্ডার্স অব জায়োন (Protocols of the Elders of Zion)। এটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত একটি ভুয়া দলিল, যেখানে বলা হয়েছিল ইহুদিরা বিশ্ব শাসনের ষড়যন্ত্র করছে।
যদিও এটি পরবর্তীতে ভুয়া প্রমাণিত হয়, তবু অনেক ষড়যন্ত্রবাদীরা এটি সত্য বলে বিশ্বাস করে। ষড়যন্ত্রবাদীদের মতে, জায়োনিস্টরা গণমাধ্যম, হলিউড, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও ফেডারেল রিজার্ভ নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন, কিছু বিখ্যাত মিডিয়া কোম্পানির মালিক ইহুদি হওয়ার কারণে অনেকেই মনে করেন তারা বিশ্বব্যাপী প্রচারমাধ্যমের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে। একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে জায়োনিস্টরা একটি গোপন বিশ্ব সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছে। দাবি করা হয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা (যেমন: UN, WHO, IMF) জায়োনিস্টদের দ্বারা পরিচালিত। অনেকে মনে করেন যে জায়োনিস্টরা মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে এবং তাদের দুর্বল করার চেষ্টা করছে। ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়ার অস্থিরতা এবং ফিলিস্তিনের দখলকে জায়োনিস্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হয়।

মধ্যযুগ থেকেই ইউরোপীয় সমাজে ইহুদিদের বিরুদ্ধে নানা গুজব রটানো হতো। তাদের ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক সফলতা অনেকের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছিল। ইসরায়েলের সামরিক নীতি ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি নিপীড়ন জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ব্লগসাইটে এই ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়, যা অনেক মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। যদিও জায়োনিস্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে, তবে এদের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিছু ইহুদি পরিবার অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলেও, এটি প্রমাণিত নয় যে তারা সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশ্বব্যাংক, IMF ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করে, যা ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে দুর্বল করে। ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে এটি জায়োনিস্টদের বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের প্রমাণ নয়। অনেক ইহুদি নিজেই ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বার্থে কাজ করে, যা একটি বৃহৎ জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাকে দুর্বল করে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের ষড়যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই তত্ত্বের কারণে অনেক সাধারণ মানুষ ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করতে শুরু করে। ইউরোপ ও আমেরিকায় ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন সময় হামলা হয়েছে। জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘর্ষ সৃষ্টি করে।এটি ইসরায়েল ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তব সমস্যার পরিবর্তে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ওপর মনোযোগ দিলে প্রকৃত সমাধান খোঁজা কঠিন হয়ে পড়ে। মানুষ বিজ্ঞান, ইতিহাস ও বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে।

জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ইতিহাস, রাজনীতি ও ধর্মীয় অনুভূতির মিশ্রণে গড়ে ওঠা একটি জটিল বিষয়। যদিও জায়োনিজম একটি বাস্তব রাজনৈতিক আন্দোলন, তবে অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অতিরঞ্জিত এবং ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির প্রকৃত বিশ্লেষণের জন্য বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ওপর নয়। এই বিষয়ে গবেষণা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে মতামত গঠন করা উচিত। জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব একদিকে ইতিহাস ও রাজনীতির বাস্তবতার মিশ্রণ, অন্যদিকে অনেকাংশেই অতিরঞ্জিত। যদিও ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করা স্বাভাবিক, তবে এটিকে এককভাবে একটি বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা কতটা যৌক্তিক, তা বিবেচনার দাবি রাখে। গবেষণা ও তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ বিষয়ে যথাযথ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত।

লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, লেখক ও সাংবাদিক, চাঁদপুর।

দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। সে হিসেবে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারে স্বর্ণের বিক্রয় মূল্য কমানো হচ্ছে। নতুন এই মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিলো বাজুস। ওই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৯১ টাকায়।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার গহনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকবে। ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকারের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ঘোষিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের (মোসলেম আহম্মদ) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। এদিকে, যৌন নিপীড়নের বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিশুর অভিভাবক শাহজালাল রুমি অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারেন। চড় দেওয়ার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে যৌন হয়রানি করেন উপাধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন। এ সময় বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে নানা ধরনের ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) সকালে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে ঘটনার জবাবদিহি চান।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) তাকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে শিশু নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে ও সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের দায়িত্ব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ শৃঙ্খলা পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ এর আগে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। এ সময় তিনি উপস্থিত সেনাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। এরপরে তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।