খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

রবীন্দ্রনাথ : ধর্ম প্রকৃতি প্রেম ও সাহিত্যের আধুনিকায়ন

সামীম আহমেদ খান
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
রবীন্দ্রনাথ : ধর্ম প্রকৃতি প্রেম ও সাহিত্যের আধুনিকায়ন

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ‘রোমান্টিক’ শব্দটির আবির্ভাব হয়েছে ফরাসী শব্দ ‘রোমাঞ্চ’ থেকে। এর অর্থ হলো লাতিন শব্দের পরিবর্তে গ্রাম্য কথ্যভাষায় রচনা করা। ১৭৪৮ সালে রোমান্টিক শব্দটি একাডেমী কর্তৃক স্বীকৃত হয়। এক অর্থে স্প্যানিশ একটি ছন্দের নাম ‘রোমাঞ্চ’। রোমান্টিক শব্দের মধ্যেই নিহিত রয়েছে তার স্বরূপ। রোমান্টিক ভাষার মধ্যে প্রাণ-প্রাচুর্যের কল-কল্লোল ও কলরব শোনা যায়। অর্থাৎ ভাষা তার অলঙ্করণে সজ্জিত হয়ে আড়ষ্টতা থেকে মুক্তি পায়। প্রচলিত ছন্দের বন্ধন ভেঙ্গে ছন্দের নব নব সৃষ্টি ভাষাকে করে তোলে চঞ্চল, প্রবহমান ও গতিমুখর।
বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক গাঁথা কাব্যের অন্যতম প্রবর্তক অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী ছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের বন্ধু ও দ্বিজন সভার মধ্যমণি। রবীন্দ্রনাথ ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি অক্ষয় চৌধুরীর সান্নিধ্যে আসেন। তাঁরই প্রেরণায় রবীন্দ্রনাথ বালক বয়সে সেকালের ইংরেজি কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেন। তিনি ছিলেন রবীন্দ্র প্রতিভার একজন সহৃদয় আলোচক ও অন্তরঙ্গ উৎসাহদাতা।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের গীতিময় জীবনের বিশুদ্ধ সৌন্দর্যবাদী অভিজ্ঞান তাঁর চিত্ত-চেতনা ও সংস্কারে যে দূর সঞ্চারী প্রবর্তনা এনেছিলো তা আমাদের বাংলা সাহিত্যে এক গভীরতম প্রাণের উচ্ছ্বাস।

১৯১৩ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন তাঁর সৃজনশীল সাহিত্য কর্মের জন্য নোবেল পুরস্কার পেলেন, তখন তিনি ছিলেন পাশ্চাত্যে প্রায় অপরিচিত। পাশ্চাত্যের সাহিত্যজগত তখনও কবি রবী ঠাকুরের সাহিত্য কর্মের সাথে পরিচিত হয় নি। এমনকি তাঁর নামটি বড় সংবাদপত্রগুলো ঠিক করে লিখতে পারেনি। কোনো কোনো বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র ‘রবীন্দ্রনাথ’ নামের পরিবর্তে লিখেছিলো ‘বাবীন্দ্রনাথ’ এমনকি ‘হিন্দু কবি’ ‘অশ্বেতাঙ্গ’ এসব শব্দ ব্যবহার করে চমক সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিলো। নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর পরই ‘The New York Times’ ১৯১৩ সালের ১৪ নভেম্বর ঠিক এভাবে লেখে : NOBEL PRIZE GIVEN TO A HINDU POET. This years literature award conferred on Babindranath Tagore of Bengal. Created a furore in Europe.

এটি বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, সমগ্র ইউরোপ ও আমেরিকায় কবি রবীন্দ্রনাথ অপরিচিত থাকলেও সুইডিশ সোসাইটিতে তিনি অপরিচিত ছিলেন না। ১৯১১ সালের শুরু থেকেই সুইডিশ সোসাইটি তাঁর সাহিত্য বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। আবার দুঃখজনক হলেও সত্যি, ১৯৬৪ সালের পর থেকে রবীন্দ্রনাথের কোনো সাহিত্যকর্ম আর সুইডিশ ভাষায় প্রকাশিত হয়নি। বিশিষ্ট কোনো সুইডিশ লেখক বা সুইডেনে বসবাসরত বাঙালিরাও এরকম কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। কিন্তু আমাদের বাংলা সাহিত্যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সংবেদনশীলতা, কল্পনাবৃত্তির নিগূঢ়তা, উদ্ভাবন ক্ষমতা ও অনুভূতির অন্তর্মুখিতা রোমান্টিক জীবন দৃষ্টিসম্পন্ন।

১৯ শতকের ইংরেজি সাহিত্যের রোমান্টিক সৌরজগতের অন্যতম কবি শেলী। মসৃণ ছিলো না তাঁর জীবনের গতিপথ। দুস্তর প্রস্তরময় সমাজের কঠিন মৃত্তিকার ওপর দিয়ে তিনি জীবনের যাত্রা শুরু করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের আবির্ভাবও ঊনিশ শতকের নবজাগরণের শিল্পগৌরবে দীপ্তালোকে উদ্ভাসিত। যখন ইংরেজি সাহিত্যের রোমান্টিকতার প্লাবন বয়ে যাচ্ছে, ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণের কর্মীপুরুষ রামমোহন রায়ের বিশুদ্ধ ব্রাহ্মধর্ম সম্পর্কে শিষ্যত্ব বরণ করেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি হিন্দু ধর্মের বাহ্য আচার-আচরণ আর প্রাণহীন প্রথার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। হিন্দু ধর্মের নিষ্প্রাণ হৃদয়হীন আচারের নির্দয়-নিষ্ঠুরতাকে উপেক্ষা করে তিনি প্রাচ্যের বিশ্বমানব প্রেম ধর্মকে পাথেয় করেছিলেন। তাই রবী ঠাকুর বলেছেন, ‘আমার পরিবার আমার জন্মের পূর্বেই সমাজের নোঙর তুলে দূরে বাঁধা ঘাটের বাহিরে এসে ভিড়েছিলো। আচার-অনুশাসন, ক্রিয়া-কর্ম সেখানে সমস্তই বিরল।’

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ধ্যান সৃষ্টির জীবন চেতনায় দেবেন্দ্রনাথ ছিলেন অগ্রণী ভূমিকায়। শান্তম, শিবম, সুন্দরম সাধনায় রবীন্দ্রনাথের সিদ্ধিলাভ হয়েছিলো মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের নির্দেশে। তাই রবীন্দ্রনাথের যৌবনধর্মে কোথাও অসংযত ভাবাবেগের প্রকাশ নেই।

কিন্তু শেলী সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। নতুন সৃষ্টির অদম্য নেশায় পুরাতনকে অস্বীকার করেছেন। ধর্মতন্ত্রের সামাজিক বিধি-নিষেদের প্রতি তাঁর ছিলো তীব্র অনীহা এবং এক পর্যায়ে তিনি বিদ্রোহ করেছেন। আঘাত করেছেন ইউরোপীয় সমাজের অচলায়তনকে। অস্বীকার করেছেন ঈশ্বরের স্বীকৃতিকে। কিন্তু ইংরেজ সমাজ শেলীকে ক্ষমা করেনি। ‘নাস্তিক’ আখ্যায় ভূষিত করে শেলীকে ইংল্যান্ডের মাটি থেকে বিতাড়িত করে নির্বাসন দিয়েছিলো তৎকালীন সঙ্কীর্ণ বুদ্ধির পরিচায়ক ইংরেজ সমাজ। কবি রবীন্দ্রনাথ শেলীর মতো চিরায়ত প্রথার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হতে পারেননি। কেননা আধ্যাত্মিক সাধনায় কবিকে দুঃসাহসিকতার পরিবর্তে চিন্তাশীল হতে বাধ্য করেছে। দুর্জয়ের জয়মাল্য কবির জ্ঞানলোকের পরিধিকে যতই পুষ্পার্ঘ্যে পূর্ণ করুক না কেনো তবু রুদ্র সন্ন্যাসী শ্মশানের বৈরাগ্যবিলাসী। তাই রবীন্দ্রনাথ হিন্দুধর্মের তথাকথিত প্রাণহীন আচার অনুষ্ঠানকে আঘাত হেনেছেন, কিন্তু ধর্ম বা ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে নয়।

রবীন্দ্রনাথের প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, সসীম ও অসীম, খণ্ড ও অখণ্ড, বিশেষ ও নির্বিশেষ, স্থায়িত্ব ও অস্থায়িত্ব, অহং ও আত্মা, স্বাতন্ত্র্য ও মিলন, সংসার-অনুরাগ ও সংসার বিরাগ এবং প্রাপ্তি ও ত্যাগ তথা সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সকল বিষয়ে যে অন্তরঙ্গ মিল খুঁজে পাওয়া যায় তা রবীন্দ্র বোধের চালিকাশক্তি এবং আমাদের প্রকাশরীতির আলাদা আলাদা ক্ষেত্র।

ঊনবিংশ শতাব্দীর ইংরেজি সাহিত্যের রোমান্টিক যুগের মধ্যাহ্নক্ষণে সে যুগের সর্বকনিষ্ঠ কবি জন কীটস-এর আবির্ভাব। ১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দে ২৯ অক্টোবর এক দরিদ্র পরিবারে কীটসের জন্ম। জন্মের পর থেকেই তার চারদিক ঘিরে দুঃখের জমাট আঁধার। কীটস আত্মশক্তির অন্তর্গত প্রেরণাকে সৌন্দর্য সৃষ্টির মূলমন্ত্র মনে করেন। ফরাসী বিপ্লবের কোনো প্রভাব কীটসের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়নি। তিনি নবজাগরণের বৈপ্লবিক পরিবর্তন সৃষ্টি করেছেন আত্মশক্তির মহিমায়। কিন্তু সমাজ সংস্কারে তাঁর তেমন প্রভাব নেই। তিনি কোনো দর্শনকে কাব্যের মধ্যে প্রচারমুখী করতেন না। অপরদিকে রবীন্দ্রনাথ সামাজিক গতি চেতনায় উদ্যমশীলতা, আত্মবিশ্বাস, নব্য সাংস্কৃতিক রুচিবোধ, বাঙালি মানসের জ্ঞান, কর্ম ও বিশুদ্ধ বুদ্ধিস্রোতে হৃদয়বৃত্তি তথা ভাবসম্পদকে সৌন্দর্য সৃষ্টির মূলমন্ত্র মনে করেন। রবীন্দ্রনাথ একটি শতাব্দীর জীবনের কাল-মহাকাল দেখেছেন। তাই তাঁর চেতনালোকে অভিজ্ঞতার পরিধি অসীম ও ব্যাপক এবং তাঁর সৃষ্টিও গভীর ও সীমাহীন।

কীটসের জীবন রবীন্দ্রনাথের মতো দীর্ঘ নয়। বাংলার ক্ষণজন্মা কবি সুকান্তের মতোই কীটস মাত্র ২৫ বছরের আয়ুষ্কালে জীবনের এক নিখুঁত সত্যকে আবিষ্কার করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ কীটসের মতো প্রেম ও রোমান্টিকতার অন্ধ আবেগে নিজেকে সঁপে দেননি। কবিগুরু বলেছেন, ‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না, শুধু সুখ চলে যায়, এমনি মায়ার ছলনা।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের মধ্যে অত্যন্ত প্রগাঢ় যে সত্যটুকু বিরাজমান তা হলো তিনি বর্তমানের কবি এবং তিনি সচেতনতার কবি। বর্তমানকে তিনি মর্যাদা দিয়েছেন। ফলে অস্পষ্ট অতীত তার ক্ষণকালের ছায়া ফেলেছে মাত্র তাঁর অন্তর্লোকের সীমানায়। তিনি পরিপূর্ণ অতীত হতে পারেননি বা হননি। কবি বলেছেন :

‘আপাতত এই আনন্দে গর্বে বেড়াই নেচে কালিদাসতো নামেই আছেন আমি আছি বেঁচে।’

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ মানবপ্রেমের চারণ কবি। প্রকৃতিকে এক অন্তর্নিহিত নির্যাসশক্তি সৃষ্টিকর্তা দান করেন, যা পার্থক্য স্পষ্ট করে জড় বস্তু থেকে। জড় বস্তুর প্রকৃতি আদি-অনাদি একইরূপে প্রকাশিত। প্রকৃতির সৃষ্টিশীল ক্ষমতা নেই। মানুষ তার সৃষ্টিতে অমর। কবি বলেছেন :

‘পাখিরে দিয়েছো গান, গান সেই গান,

তার বেশি করে না সে দান

আমারে দিয়েছো স্বর, আমি তার বেশি

করি দান

আমি গাহি গান।’

বাংলার ঋতু পরিক্রমায় রবীঠাকুরের রোমান্টিকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রকৃতির সবকিছু খুঁটে খুঁটে নিবিড় আত্মীয়তা সৃষ্টি করা মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না, তবুও কবি জন্ম রোমান্টিক। দখিনা বাতাস, ফাগুনের আগুনমম, কোকিলের কুজন, পিয়ালের ছায়ায় পূর্ণিমা তিথি কবির অন্তরের গভীর দুয়ার যে রঙে রাঙিয়ে দিয়েছে তারই লালিমা স্মরণে কবি গাইলেন :

‘তব আমি জন্ম রোমান্টিক

আমি যেই পথের পথিক

যে পথ দেখায়ে চলে দখিনা বাতাসে

পাখির ইশারা যায় যে পথের অলক্ষ্য

আকাশে’।

লেখক : সামীম আহমেদ খান, সভাপতি, জাতীয় কবিতা পরিষদ, চাঁদপুর জেলা শাখা।

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।