খুঁজুন
                               
, ,

গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা-সংঘর্ষে নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা-সংঘর্ষে নিহত ২

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে হামলা–সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল ও পরিবার সূত্র এ কথা জানিয়েছে। নিহত দুজন হলেন গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের বাসিন্দা সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (২৫) ও কোটালীপাড়ার রমজান কাজী (১৮)। আজ বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, বিকেলে তিনজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁরা গুলিবিদ্ধ ছিলেন।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে নিহত দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। অপরজনের মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাসপাতালের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই ব্যক্তির লাশ স্বজনেরা নিয়ে গেছেন। হাসপাতালের কর্মকর্তা জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, আরও ৯ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের অস্ত্রোপচার চলছে।
মৃত্যুর তথ্য জানতে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ধরেননি। তথ্য জানতে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহম্মদ কামরুজ্জামান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. গোলাম কবিরকে কল দিলে তাঁরা কথা বলতে রাজি হননি। নিহত দীপ্ত সাহার চাচা বলেন, দীপ্ত দুপুরের খাবার খেয়ে তাঁর দোকানে যাচ্ছিলেন। শহরের চৌরঙ্গীতে তাঁর পেটে গুলি লাগে।
নিহত রমজান কাজীর বাবা কামরুল কাজী বলেন, ‘আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলছে। আমার ছেলে তো কোনো দোষ করেনি। আমি আমার সন্তানকে কোথায় পাব?’ এর আগে গোপালগঞ্জের পৌর পার্কে এনসিপির সমাবেশ শেষে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, এনসিপির সমাবেশ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে নেতা-কর্মীদের ঘিরে হামলা চালান। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এনসিপির নেতা-কর্মীরা অন্যদিক দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। হামলার ঘটনার পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন। এ সময় পুলিশ-সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। তাদের (এনসিপি) বলা হয়েছিল, সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু তাঁরা সমাবেশস্থলে এসে দেখেন, পরিস্থিতি ঠিক নেই।

গাড়ির চাকায় তিশার হাতের ছাপ

রাজধানীর বনশ্রীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চাঁদপুরের তিশা আহমেদ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীর বনশ্রীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চাঁদপুরের তিশা আহমেদ

রাজধানীর বনশ্রীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চাঁদপুরের পরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন রোটারিয়ান এবং চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাবের সাবেক সভাপতি সফিউদ্দিন আহমেদের মেয়ে তিশা আহমেদ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বনশ্রী জি-ব্লক মেইন রোডে ফরাজী হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের একটি দৃশ্য উপস্থিত মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। যে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে তিশার মৃত্যু হয়েছে, সেই চাকায় লেগে থাকা তাঁর হাতের ছাপ যেন রেখে গেছে এক হৃদয়বিদারক স্মৃতি। কয়েক মুহূর্ত আগেও যে হাতটি ছিল জীবনের স্পন্দনে ভরা, দুর্ঘটনার পর সেই হাতের ছাপই হয়ে ওঠে অকালে ঝরে যাওয়া একটি জীবনের নীরব সাক্ষী।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনয় চন্দ্র পাল জানান, রমজান পরিবহনসহ দুটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই তাসপিয়া আহমেদ নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৯টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রমজান পরিবহনের একটি বাসসহ দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। বাস দুটির চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে। নিহতের ভাই এনাম আহমেদ জানান, তাঁর বোন কাজে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। সন্ধ্যায় তিনি খবর পান, ফরাজী হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে যাওয়ার পর দুই বাসের চাপায় তাঁর বোন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা বনশ্রীর একটি টেইলার্সের মালিক মো. মূসা বলেন, তাসপিয়া তাঁর দোকান থেকে নিয়মিত কাপড় তৈরি করাতেন। তাঁর ভাষায়, তাসপিয়া ছিলেন অত্যন্ত ভালো মানুষ। আগামীকাল তাঁর কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ একদিন আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে হয়েছে। পরে তিনিই তাসপিয়ার পরিবারের সদস্যদের দুর্ঘটনার খবর দেন।
তিশা আহমেদের আকস্মিক মৃত্যুতে চাঁদপুরের রোটারি অঙ্গন, সামাজিক ও পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একজন বাবার কাছে সন্তানের মৃত্যু যে কতটা অসহনীয়, তিশার অকালমৃত্যু যেন তারই নির্মম বাস্তবতা। যে সন্তানকে ঘিরে পরিবারের ছিল ভালোবাসা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনা, একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সবকিছু থমকে দিয়েছে।
তিশার এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল—সড়কে সামান্য অসতর্কতাও মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিতে পারে একটি প্রাণ এবং একটি পরিবারের সব স্বপ্ন।
উল্লেখ্য, নিহত শিক্ষক তাসপিয়া আহমেদ তিসা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আফতাবনগর শাখার শিক্ষক ছিলেন।

৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধ: হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদনে সাড়া মিলল না

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধ: হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদনে সাড়া মিলল না

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ পেল না ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব মামলাটি কার্যতালিকা (কজ লিস্ট) থেকে বাদ দিয়ে আদেশ দেন। আদালত স্পষ্ট জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পূর্বে হাইকোর্টের রায়ে আপাতত হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। ২০১৭ সালে এনবিআরের ১৪ নম্বর কর অঞ্চল এক পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০১২ থেকে ২০১৭—এই পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে মোট ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা আয়কর দাবি করে।
কর দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ রিট করলে আদালত প্রাথমিক রুল জারি করলেও, দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট খারিজ করে রায় দেন। ফলে কর পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। শুনানিতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ আজাদ অংশ নেন। শুনানি শেষে আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত লিভ-টু-আপিল করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই তারা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন। তবে চেম্বার আদালত লিখিত রায় না আসা পর্যন্ত কোনো আদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানান।
চেম্বার আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধের চ্যালেঞ্জে বড় ধরনের ধাক্কা খেল গ্রামীণ কল্যাণ। এখন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই কেবল তারা পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়ায় যেতে পারবে।

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্টের রায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্টের রায়

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আগামী ৩ বছরের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
এর আগে, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে এনবিআরের এই কর দাবি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক একাধিক রিট করা হয়েছিল। সেই রিটের রুল খারিজ করে এ রায় দেওয়া হয়েছে।