খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ঈদুল ফিতর : ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির প্রতীক

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
ঈদুল ফিতর  : ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির প্রতীক

ঈদুল ফিতর ইসলামী সমাজের এক বিশেষ উৎসব যা ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি এবং মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ। এক মাস রমজানের সিয়াম সাধনার পর এই উৎসব আসে মুসলিম জীবনে আনন্দ ও খুশির বার্তা নিয়ে। এই দিনটি শুধু আনন্দের উৎসব নয়, বরং এটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে এক গভীর তাৎপর্য বহন করে। ঈদুল ফিতর মানুষকে মিলনের, ভ্রাতৃত্বের এবং সহমর্মিতার শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে।

ঈদুল ফিতর শব্দের অর্থ হলো “রোজা ভঙ্গের উৎসব”। এই উৎসব ইসলামী হিজরি ক্যালেন্ডারের শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে পালিত হয়। রমজান মাসে দীর্ঘ এক মাস ধরে মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখেন। এই সময়ে তারা নিজেকে সংযম, আত্মশুদ্ধি, এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে আত্মশক্তিতে বলিয়ান করেন। ঈদুল ফিতর সেই সংযম ও আত্মশুদ্ধির একটি পুরস্কার স্বরূপ। এটি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি মাধ্যম, যা তিনি রোজাদারদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।

ঈদুল ফিতরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো “ফিতরা” প্রদান। ফিতরা একটি বাধ্যতামূলক দান যা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমান রমজানের শেষ সময়ে গরীব-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণ করে থাকেন। এটি শুধুমাত্র দানের বিষয় নয়; বরং এটি মুসলিম সমাজে সম্প্রীতি, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ চর্চা।

ঈদুল ফিতর এমন একটি উৎসব যা মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। ঈদের দিনে ধনী-গরীবের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। সবাই একত্রে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা সমাজে সৌহার্দ্যের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ঈদের দিন সকালে ঈদের নামাজ আদায় করার আগে ফিতরা আদায় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এর মাধ্যমে গরিবদের মধ্যেও ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস নেওয়া হয়। এই দানের অর্থ হলো, কেউ যেন ক্ষুধার্ত থেকে ঈদের উৎসবে অংশ নিতে না পারে। এটি ইসলামের সেই সাম্যের বার্তাকে বহন করে, যা সকল মানুষকে সমান মর্যাদায় দেখার শিক্ষা দেয়।

ঈদুল ফিতর পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার জন্য একটি বিশেষ দিন। পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা, একত্রে খাওয়া-দাওয়া করা এবং প্রিয়জনদের মধ্যে উপহার বিনিময় করার মাধ্যমে এই দিনটি স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

এছাড়াও, ঈদুল ফিতরের দিন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করারও একটি বিশেষ সুযোগ। প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা করা, তাদের ঘরে খাবার পাঠানো, এবং ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে এই সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।

ঈদুল ফিতরের আরেকটি বড় দিক হলো এর আন্তর্জাতিকতা। সারা বিশ্বের মুসলমানরা একসঙ্গে এই দিনটি উদযাপন করেন। এটি বিশ্বের বিভিন্ন জাতি, ভাষা এবং সংস্কৃতির মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করে। ঈদুল ফিতর দেখায় যে, ভাষা বা সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সবাই একই ধর্মীয় চেতনার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ।

১. ঈদগাহে নামাজ আদায়: ঈদের দিন সকলে একত্রে ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন। এটি সমাজে ঐক্যের প্রতীক।
২. ফিতরা প্রদান: ফিতরা দিয়ে গরিবদের ঈদ উদযাপনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
৩. সহমর্মিতা ও দান: ঈদুল ফিতর দানের গুরুত্ব শেখায়। দানশীলতা মানুষের মধ্যে সহানুভূতির জন্ম দেয়।
৪. পরিচ্ছন্নতা ও নতুন পোশাক: ঈদের দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা ইসলামী সংস্কৃতির একটি অংশ।

ঈদুল ফিতর কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি সমাজে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ধনী ও গরীবের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। ঈদের মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়। পাশাপাশি, এটি ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ঈদুল ফিতর একটি বহুমাত্রিক উৎসব, যার গুরুত্ব ধর্মীয়, সামাজিক এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনস্বীকার্য। এটি মুসলমানদের জীবনে শুধু আনন্দ নিয়ে আসে না; বরং নৈতিক, আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক শিক্ষা প্রদান করে। চলুন আরও গভীরে গিয়ে ঈদুল ফিতরের বিভিন্ন দিক আলোচনা করি।

রমজান মাসে দীর্ঘ এক মাসের রোজা পালনের পর ঈদুল ফিতর আসে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ দিন হিসেবে। এটি মানুষের আত্মশুদ্ধি এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্যের প্রতীক। ঈদের দিনে যে নামাজ আদায় করা হয়, তা কেবল এক ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।

ঈদের নামাজে একত্রিত হওয়া এবং আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করার মাধ্যমে মুসলমানরা নিজেদের আত্মিক জীবনে এক নতুন প্রেরণা লাভ করে। এটি মানুষকে আল্লাহর করুণা ও দয়া অনুভব করতে সহায়তা করে।

ঈদুল ফিতর কেবল ধনী বা সামর্থ্যবানদের উৎসব নয়; এটি এমন একটি দিন যা গরীবদের প্রতিও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। “ফিতরা” প্রদানের মধ্য দিয়ে সমাজে সমতা এবং সম্প্রীতির বার্তা প্রচারিত হয়। এই দানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, ঈদের আনন্দে কোনো গরীব বা অসহায় মানুষ যেন বঞ্চিত না হয়।

ফিতরার মাধ্যমে মানুষ গরীবদের প্রতি যে সহানুভূতি ও দয়া দেখায়, তা মানবিকতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও সহানুভূতির বন্ধন তৈরি করে।

ইসলাম সাম্যের ধর্ম। ধনী-গরীব, ছোট-বড়, জাতি-গোষ্ঠী—সবাই এক সৃষ্টিকর্তার কাছে সমান। ঈদুল ফিতর সেই সাম্যের বার্তাকেই আরও শক্তিশালী করে। ঈদের নামাজে সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন। এখানে ধনী-গরীবের কোনো ভেদাভেদ থাকে না।

ঈদগাহে নামাজের পর মানুষ একে অপরকে কোলাকুলি করে এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করে। এই কার্যক্রম সমাজে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। ঈদের দিনে ধনী-গরীব, শিশু-বৃদ্ধ, সবাই একত্রে আনন্দে মেতে ওঠে।

ঈদুল ফিতর কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে এক বিশেষ রূপ ধারণ করেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপনের পদ্ধতি ভিন্ন হলেও এর মূল বার্তা এক।

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর এক বিশাল উৎসব হিসেবে পালিত হয়। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই মানুষ নতুন পোশাক কেনা, ঘরবাড়ি সাজানো এবং খাবার প্রস্তুত করার কাজ শুরু করে।

ঈদের সকালে সবাই নতুন পোশাক পরে ঈদগাহে যান। ঈদের বিশেষ খাবার, যেমন সেমাই, ফিরনি, পায়েস, এবং বিরিয়ানির মতো খাবার ঘরে ঘরে প্রস্তুত হয়। আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া এবং উপহার বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে ওঠে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপনের ধরণ ভিন্ন হলেও এর আবেগ এবং উৎসবের আমেজ অভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ খাবারের আয়োজন, তুরস্কে ঈদ মিছরি বিতরণ, এবং ইন্দোনেশিয়ায় বিশেষ প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন ঈদের উদযাপনে বৈচিত্র্য আনে।

ঈদুল ফিতর একটি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক আন্দোলনের মতো। এই সময় ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বৃদ্ধি পায়। ঈদের কেনাকাটায় দোকানপাট এবং বিপণি বিতানগুলো জমজমাট হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, ফিতরা, যাকাত, এবং দানের মাধ্যমে অর্থ সমাজের নিম্নস্তরে প্রবাহিত হয়। এর ফলে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য কিছুটা হলেও লাঘব হয় এবং দরিদ্ররা ঈদের আনন্দে সামিল হতে পারেন।

ঈদুল ফিতর শিশুদের জন্য এক বিশেষ আনন্দের দিন। নতুন পোশাক, ঈদ সালামি, এবং নানা ধরনের খাবার তাদের জন্য উৎসবকে রঙিন করে তোলে। ঈদের দিন শিশুরা বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলা এবং বিনোদনে মেতে ওঠে।

শিশুদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব এবং সম্প্রীতির শিক্ষা দেওয়ার জন্য ঈদ একটি আদর্শ সময়। এই দিন তারা শিখতে পারে কীভাবে গরীব-অসহায়দের প্রতি দয়া এবং সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে হয়।

ঈদুল ফিতর এমন একটি উৎসব যা ধর্মীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে ভ্রাতৃত্ব, সাম্য, এবং মানবিকতার এক জ্বলন্ত প্রতীক। এটি মানুষকে সংযম, দানশীলতা এবং সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়।

এই উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সমাজে ভ্রাতৃত্ব এবং সম্প্রীতির বন্ধন শক্তিশালী করার জন্য আমরা সবাই একত্রে কাজ করতে পারি। ঈদুল ফিতরের প্রকৃত সৌন্দর্য এর মূল চেতনায় নিহিত, যেখানে মানুষকে নিজের চেয়ে অন্যের কথা ভাবতে শেখানো হয়। ঈদুল ফিতরের শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মেনে চলা উচিত, যাতে সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

“ঈদ মোবারক” শব্দ শুধু আনন্দের নয়, এটি ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা এবং সম্প্রীতির এক অনন্য বার্তা। এই বার্তাকে ধারণ করে আমরা যদি জীবনের প্রতিটি দিন উদযাপন করতে পারি, তবে আমাদের সমাজ হবে আরও সুন্দর এবং মানবিক।

ঈদুল ফিতর শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি এবং মানবিকতার এক অপূর্ব উদাহরণ। এটি মানুষকে দান, সংযম, এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতির শিক্ষা দেয়। ঈদুল ফিতরের আনন্দ কেবলমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি সমাজের সকল স্তরে ছড়িয়ে পড়ে।

সুতরাং, ঈদুল ফিতর এমন একটি উৎসব যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি হলো মানবজীবনের অপরিহার্য অংশ। এই বিশেষ দিনে সকলের জন্য প্রার্থনা এবং ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।