খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বাংলা সাহিত্যে গল্প যখন জীবনের প্রতিচ্ছবি

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ মার্চ, ২০২৫, ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
বাংলা সাহিত্যে গল্প যখন জীবনের প্রতিচ্ছবি

সাহিত্য মানেই জীবন, আর গল্প সেই জীবনের প্রতিচ্ছবি। গল্প আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি, অনুভূতি, স্বপ্ন এবং সংগ্রামের কথা বলে। বাস্তবতার আয়নায় যখন গল্পের চরিত্রগুলো ফুটে ওঠে, তখন আমরা নিজের জীবনের ছায়া দেখতে পাই। কখনো সেই গল্প আনন্দ দেয়, কখনো কাঁদায়, কখনো প্রশ্ন জাগায়, আবার কখনো আশার আলো দেখায়। গল্প শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যা মানুষের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে পারে। বাস্তব জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, সম্পর্কের জটিলতা, সমাজের বৈষম্য, সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম—সবকিছুই গল্পের মধ্য দিয়ে উঠে আসে। গল্প শুধু কাল্পনিক নয়, এটি জীবনের এমন এক আয়না, যা আমাদের ভাবতে শেখায়, উপলব্ধি করতে সাহায্য করে এবং কখনো কখনো আমাদের জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রভাব ফেলে।
গল্পকে অনেকেই কল্পনার সৃষ্টি মনে করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গল্প কল্পনার মিশ্রণে বাস্তব জীবনের প্রতিফলন। প্রতিটি গল্পের পেছনে থাকে বাস্তবতার একটি নির্দিষ্ট ভিত্তি। গল্পকার তাঁর অভিজ্ঞতা, চারপাশের সমাজ বা অন্যের জীবনের কাহিনিকে নির্দিষ্ট রূপ দিয়ে গল্পের আকার দেন। যেমন-মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের “পদ্মানদীর মাঝি” উপন্যাসটি কেবল একটি কল্পকাহিনি নয়, এটি তখনকার সমাজের দরিদ্র জেলেদের জীবনযুদ্ধের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “পথের পাঁচালী”-তে আমরা অপু-দুর্গার জীবনসংগ্রামের মাধ্যমে গ্রামবাংলার বাস্তব চিত্র পাই। এই গল্পগুলো কেবল কল্পনার ফসল নয়, বরং বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া কাহিনিগুলো কল্পনার রঙে রাঙানো হয়েছে মাত্র। কিছু গল্প আবার আমাদের ভবিষ্যতের প্রতিচিত্র আঁকে, যা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্য হিসেবে পরিচিত। সত্যজিৎ রায়ের “প্রফেসর শঙ্কু” বা জুল ভার্নের under the sea গল্পগুলো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক চেষ্টা ছিল। অনেক ক্ষেত্রেই এই কল্পনা পরে বাস্তবে পরিণত হয়েছে। গল্পে বাস্তবতা ও কল্পনার সংমিশ্রণ একটি আকর্ষণীয় শৈলী, যা পাঠকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেয়। এ ধরনের গল্পে লেখক বাস্তব জীবনের সত্য ঘটনা, চরিত্র বা সামাজিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে কল্পনার মিশেল ঘটিয়ে একটি অনন্য জগত সৃষ্টি করেন। গল্পের স্থান, কাল ও পাত্র বাস্তব জীবনের হতে পারে, যাতে পাঠক তা বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন। কিছু অতিপ্রাকৃত, অসম্ভব বা কাল্পনিক উপাদান সংযোজন করা হয়, যা গল্পকে আকর্ষণীয় করে তোলে। বাস্তব ঘটনার সঙ্গে কল্পনার সংমিশ্রণ সমাজের বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। চরিত্ররা বাস্তব জীবনের মতোই হতে পারে, তবে তাদের কিছু বিশেষ ক্ষমতা বা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। যেমন-গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের One Hundred Years of Solitude-যেখানে বাস্তবিক ঐতিহাসিক ঘটনা এবং জাদুবাস্তবতার মিশেল রয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের “গুপী গাইন বাঘা বাইন”-যেখানে সাধারণ চরিত্রদের হাতে জাদুকরি ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়। হুমায়ূন আহমেদের অনেক উপন্যাস-যেখানে বাস্তব জীবনের গল্পের মধ্যেও রহস্যময় বা অলৌকিক ঘটনা ঘটে। এই শৈলী গল্পকে একই সঙ্গে বাস্তবসম্মত ও রোমাঞ্চকর করে তোলে, যা পাঠকদের মুগ্ধ করে রাখতে পারে।
গল্প শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। একটি ভালো গল্প মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনতে পারে, সামাজিক অসঙ্গতি তুলে ধরতে পারে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে। যুগে যুগে সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তনের বড় ভূমিকা রেখেছে। গল্পের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের উপায়। গল্প সমাজের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলে, যা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “দেবদাস” উপন্যাসে সামাজিক কুসংস্কার ও নারীর দুর্দশার কথা উঠে এসেছে, যা পরবর্তী সময়ে সামাজিক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা দিয়েছে। গল্পের চরিত্ররা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে, যা বাস্তব জীবনের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। মার্ক টোয়েনের “অ্যাডভেঞ্চার অব হাকলবেরি ফিন” দাসপ্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। গল্প মানুষের মধ্যে বিদ্রোহের আগুন জ্বালাতে পারে। “মা” (ম্যাক্সিম গোর্কি) উপন্যাসটি রাশিয়ার বিপ্লবের পটভূমিতে রচিত, যা বিপ্লবীদের অনুপ্রাণিত করেছিল। গল্প সমাজের ভুল ধ্যানধারণা ভাঙতে সাহায্য করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “গোরা” উপন্যাস হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছে, যা সামাজিক ঐক্য গঠনে ভূমিকা রেখেছে। গল্প শিশুরা যেমন নৈতিক শিক্ষা পায়, তেমনি প্রাপ্তবয়স্করাও জীবনের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি লাভ করে। হুমায়ূন আহমেদের গল্পগুলো বাস্তব জীবনের জটিলতা সহজভাবে বুঝিয়ে দেয়, যা পাঠকদের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনে। গল্প শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম। একটি গল্প মানুষের মনোভাব বদলাতে পারে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস জোগাতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে। তাই, গল্পকারদের দায়িত্বশীলভাবে গল্প বলা উচিত, যাতে তা সমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে। গল্প কেবল বিনোদনের জন্য লেখা হয় না, এটি সমাজ পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমও। অনেক সময় সমাজের অসংগতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গল্পকারেরা গল্পের আশ্রয় নেন। উদাহরণস্বরূপ, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “দেবদাস” কেবল প্রেমের কাহিনি নয়, এটি তৎকালীন সমাজে নারীদের অবস্থা ও সামাজিক বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে এক গভীর বার্তা বহন করে। একইভাবে, রবি ঠাকুরের “গোরা” গল্পে জাতিভেদপ্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে। প্রতিবাদী সাহিত্য যেমন ছিল, তেমনি গল্পের মাধ্যমে অনুপ্রেরণাও দেওয়া হয়েছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “আনন্দমঠ” উপন্যাসটি ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে, গল্পের মাধ্যমে দারিদ্র্য, লিঙ্গবৈষম্য, পরিবেশ বিপর্যয়, প্রযুক্তির অপব্যবহার, যুদ্ধ, অভিবাসন সমস্যার মতো বিষয়গুলোও উঠে আসছে। গল্প মানুষের মনকে নাড়া দেয়, পরিবর্তনের চিন্তা জাগায় এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে ধাবিত করে।
গল্প শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি জীবনের প্রতিফলনও। গল্পের চরিত্রগুলো আমাদের চারপাশের মানুষের প্রতিচ্ছবি বহন করে। তাদের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম, প্রেম, হতাশা—সবকিছুই বাস্তব জীবনের অনুভূতির প্রতিফলন। একটি ভালো গল্প বাস্তবতার সঙ্গে এতটাই মিশে যায় যে পাঠক তার সঙ্গে সংযোগ অনুভব করে, কখনো নিজের জীবনকে চরিত্রের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে, কখনো নতুন কিছু শেখে। গল্পকারেরা চরিত্র তৈরির সময় বাস্তব জীবনের মানুষদের পর্যবেক্ষণ করেন। যেমন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “শ্রীকান্ত” উপন্যাসের শ্রীকান্ত চরিত্রটি অনেক বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। আবার, হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের হিমু বা মিসির আলি চরিত্রগুলো সমাজের নানা দিককে তুলে ধরে। গল্পের চরিত্রগুলো মানুষের হাসি-কান্না, ভালোবাসা-বেদনা, সংগ্রাম-সফলতার প্রতিচিত্র। প্রেমের উপন্যাসে যেমন চরিত্ররা ভালোবাসার গভীর অনুভূতি প্রকাশ করে, তেমনি যুদ্ধ বা বিপ্লবমূলক গল্পে তারা লড়াই ও আত্মত্যাগের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। গল্পের চরিত্ররা তাদের সময় ও সমাজের প্রতিফলন বহন করে। যেমন, মার্ক্সিম গোর্কির “মা” উপন্যাসের নায়িকা একজন সাধারণ রুশ শ্রমজীবী নারী, যিনি ধীরে ধীরে বিপ্লবের অংশ হয়ে ওঠেন। আবার, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “পথের পাঁচালী”-এর অপু চরিত্রটি দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনসংগ্রামের বাস্তব প্রতিচিত্র। মহাভারতের যুধিষ্ঠির চরিত্র সত্য ও ন্যায়ের প্রতি অটল থাকার শিক্ষা দেয়, আবার শেক্সপিয়ারের ম্যাকবেথ চরিত্র ক্ষমতার লোভের কুফল দেখায়। কোনো চরিত্রের জীবনসংগ্রাম, প্রেম বা আত্মত্যাগ পাঠককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সামাজিক অবিচার বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে গল্পের চরিত্ররা লড়াই করে, যা পাঠকদের সচেতন করে তোলে। অনেক চরিত্র মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে, যেমন হ্যারি পটারের সাহসিকতা বা রবীন্দ্রনাথের “গোরা”-র আত্ম-অনুসন্ধান।
গল্পের চরিত্র শুধু কল্পনার সৃষ্টি নয়; তারা জীবনেরই অংশ। বাস্তব জীবনের ঘটনা ও অনুভূতিগুলো গল্পে এসে মিশে যায়, যা পাঠকের মনকে নাড়া দেয়, সমাজকে সচেতন করে এবং জীবনের গভীর সত্যকে তুলে ধরে। তাই, গল্পের চরিত্রগুলো আমাদের চারপাশের বাস্তবতারই এক বিশেষ প্রতিফলন। গল্পের চরিত্র ও জীবনের প্রতিফলন গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর চরিত্রগুলো। মানুষ জীবনে নানা সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে যায়—পিতা-মাতা, ভাই-বোন, বন্ধু, প্রেমিক-প্রেমিকা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী—প্রত্যেকেরই আলাদা গল্প আছে। গল্পের চরিত্রগুলো সেই বাস্তব জীবনেরই প্রতিচিত্র। উদাহরণ হিসেবে, প্রেমচাঁদের “গবন” উপন্যাসের চরিত্ররা মধ্যবিত্ত সমাজের লোভ, লাঞ্ছনা ও সংগ্রামের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। “নসিবন”, “হিরামন”, “সোহিনী”-রা বাস্তব জীবনেরই চরিত্র, যারা আমাদের আশেপাশে দেখা যায়। শরৎচন্দ্রের গল্পে গ্রামের সাধারণ মেয়ে রাজলক্ষ্মী বা অভিজাত পরিবারের দেবদাস, বঙ্কিমের উপন্যাসে দুর্ধর্ষ স্বাধীনতাকামী নারীরা প্রত্যেকটি চরিত্র বাস্তব জীবনেরই ছায়া। পাঠক এই চরিত্রগুলোর মধ্যে নিজেদের খুঁজে পান।
গল্প মানুষের হৃদয়ের ভাষা। এতে সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বিষাদ, প্রেম, বিরহসহ জীবনের নানা অনুভূতি মূর্ত হয়ে ওঠে। আবেগ হলো গল্পের প্রাণ, যা পাঠকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। আনন্দ ও বিরহ এই দুটি আবেগ গল্পের অন্যতম শক্তিশালী উপাদান। কিছু গল্প হাসায়, আনন্দ দেয়, আবার কিছু গল্প কাঁদায়, ব্যথিত করে। জীবনের মতোই গল্পেও এই দুই বিপরীত অনুভূতির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। আনন্দ ও বিরহ কেবল গল্পের সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং চরিত্র ও কাহিনির গভীরতা বাড়িয়ে পাঠকের মনে গভীর রেখাপাত করে। গল্পের প্রধান কাজ হলো পাঠকের মনকে স্পর্শ করা। এজন্য গল্পে আবেগের উপস্থিতি অপরিহার্য। আবেগহীন গল্প প্রাণহীন হয়ে যায়। আনন্দ ও বিরহের সংমিশ্রণ গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। গল্পের আবেগ পাঠকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে পেতে সাহায্য করে। কেউ যখন আনন্দময় গল্প পড়ে, তখন তার নিজের জীবনের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো মনে পড়ে যায়। তেমনই, বিরহের গল্প পাঠকের মনে দুঃখের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। আবেগের কারণে গল্পের চরিত্রগুলো বাস্তব মনে হয়। তাদের হাসি-কান্না, ভালোবাসা, বেদনা পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে। শুধুমাত্র ঘটনা দিয়ে গল্প হয় না; আবেগ গল্পকে প্রাণবন্ত করে তোলে। আনন্দময় গল্প পাঠককে হাসায়, স্বস্তি দেয়, আর বিরহের গল্প পাঠককে দুঃখের গভীরে নিয়ে যায়।
আনন্দ মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। গল্পেও এই আনন্দের প্রকাশ ভিন্ন ভিন্নভাবে ঘটে। হাস্যরস এমন একটি উপাদান, যা পাঠকের মনকে আনন্দিত করে। বাংলা সাহিত্যে সৈয়দ মুজতবা আলী, পরশুরাম, সত্যজিৎ রায়ের ছোটগল্পে চমৎকার রসবোধ রয়েছে। এসব গল্পে আনন্দ পাঠকের ক্লান্ত মনকে চাঙ্গা করে তোলে। টেনিদা সিরিজ (নরেন্দ্রনাথ মিত্র)-যেখানে চরিত্রদের কৌতুকপূর্ণ সংলাপ পাঠককে হাসতে বাধ্য করে। গোগোল (সত্যজিৎ রায়) রহস্যময় গল্প হলেও অনেক মজার সংলাপ ও পরিস্থিতি পাঠককে আনন্দ দেয়। প্রেম সবসময় দুঃখের হয় না, কিছু প্রেমের গল্প পাঠকের মনে আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে। প্রেম যখন সফল হয়, তখন তা গল্পে সুখের আবেশ এনে দেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “ল্যাবরেটরি”-প্রেমের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে লেখা একটি গল্প, যেখানে নারী চরিত্রের শক্তিশালী উপস্থিতি গল্পের আনন্দের মাত্রা বাড়ায়। হুমায়ূন আহমেদের “হিমু” সিরিজ যেখানে হিমুর উদ্ভট জীবনযাপন ও সংলাপ পাঠককে আনন্দ দেয়। পরিবার ও বন্ধুত্ব নিয়ে লেখা অনেক গল্প রয়েছে, যা পাঠকের মনে উষ্ণতা ও আনন্দ আনে। সত্যজিৎ রায়ের “গুপী গাইন বাঘা বাইন” দুই বন্ধুর সঙ্গীত ও দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প, যা পাঠকদের মুগ্ধ করে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “পথের পাঁচালী” অপু ও দুর্গার শৈশবের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো গল্পে এক অনন্য আনন্দের আবহ সৃষ্টি করে। বিরহ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভালোবাসা যেমন জীবনে সুখ এনে দেয়, তেমনি বিচ্ছেদ আনে দুঃখ ও বেদনা। গল্পেও বিরহের গভীর ছোঁয়া পাওয়া যায়, যা পাঠককে আবেগপ্রবণ করে তোলে। প্রেমের গল্পে বিরহ সবসময় একটি শক্তিশালী উপাদান। বিচ্ছেদ, অপূর্ণতা, ভুল বোঝাবুঝি এসব বিষয় প্রেমের গল্পে বিরহের আবহ তৈরি করে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “দেবদাস” – প্রেমের কষ্ট ও বিচ্ছেদ কীভাবে একজন মানুষকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে পারে, তা চিত্রিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” যেখানে অমিত ও লাবণ্যের প্রেম পরিণতি পায় না, কিন্তু তাতে এক অনন্য বেদনার সৌন্দর্য রয়ে যায়। গল্পে কখনো সমাজের কারণে মানুষের জীবনে বিরহ আসে। সামাজিক নিয়ম, কুসংস্কার, দারিদ্র্য এসবের ফলে অনেক চরিত্রের জীবন দুঃখময় হয়ে ওঠে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “আরণ্যক” যেখানে শহর ছেড়ে অরণ্যের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নিলেও, শেষ পর্যন্ত সেই অরণ্য থেকে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা রয়েছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের “পদ্মানদীর মাঝি” যেখানে কুবের চরিত্রটি দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবনের প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ অনুভব করে। যুদ্ধের গল্পে বিচ্ছেদ, মৃত্যু ও হারানোর ব্যথা গভীরভাবে ফুটে ওঠে। এরিচ মারিয়া রেমার্কের “অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট” যেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও বন্ধুদের হারানোর বেদনা বিরহের আবহ তৈরি করে।সেলিনা হোসেনের “হাঙর নদী গ্রেনেড” মুক্তিযুদ্ধের কষ্ট, হারানোর বেদনা এবং দেশপ্রেমের বিরহ এই উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে।
গল্পে কখনো কখনো আনন্দ ও বিরহ পাশাপাশি থাকে। জীবনের মতোই গল্পেও হাসি-কান্না একসঙ্গে মিশে যায়। হুমায়ূন আহমেদের “কোথাও কেউ নেই” – বাকের ভাইয়ের চরিত্রটি প্রথমে আনন্দ দেয়, কিন্তু গল্পের শেষ পরিণতি পাঠককে কাঁদিয়ে তোলে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “কাবুলিওয়ালা” – প্রথমে মিনি ও কাবুলিওয়ালার সম্পর্ক আনন্দ দেয়, কিন্তু কাবুলিওয়ালার বিদায়ের দৃশ্য পাঠকের মনে গভীর দুঃখ সৃষ্টি করে। আনন্দ ও বিরহ গল্পের দুই অপরিহার্য অংশ। জীবনের মতো গল্পেও সুখ ও দুঃখ হাত ধরাধরি করে চলে। কখনো হাসায়, কখনো কাঁদায়। আনন্দময় গল্প পাঠককে স্বস্তি দেয়, আর বিরহের গল্প পাঠককে ভাবিয়ে তোলে, গভীর আবেগে আপ্লুত করে। ভালো গল্পের সৌন্দর্য এটাই—যেখানে আনন্দ ও বিরহ একসঙ্গে মিলেমিশে পাঠকের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে যায়। গল্প আবেগকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। সুখ, দুঃখ, প্রেম, বিরহ, আনন্দ—সবকিছু গল্পের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” প্রেমের এক অনন্য উদাহরণ, যেখানে লাবণ্য ও অমিতের সম্পর্কের টানাপোড়েন জীবনের বাস্তবতার প্রতিচিত্র। একইভাবে, বিভূতিভূষণের “আরণ্যক” আমাদের প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে সংযোগের গল্প বলে। কিছু গল্প কেবল আনন্দ দেয়, কিছু গল্প আবার কাঁদায়। বিভূতিভূষণের “পথের পাঁচালী”-তে দুর্গার মৃত্যু পাঠকের চোখে জল এনে দেয়, আবার “অপরাজিত”-তে অপু যখন নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যায়, তখন পাঠকের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়। প্রতিটি যুগে গল্পের ধরণ পরিবর্তিত হয়েছে। প্রাচীনকালে গল্প ছিল পৌরাণিক, যেমন “মহাভারত”, “রামায়ণ”, “থাকুরমার ঝুলি”। উনিশ শতকে গল্পের মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের প্রচেষ্টা দেখা যায়, যেমন বঙ্কিম, শরৎচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য। বিশ শতকে মানুষের মানসিক দ্বন্দ্ব, বিশ্বযুদ্ধ, রাজনৈতিক পরিবর্তন—এসব গল্পের মধ্যে উঠে এসেছে। একবিংশ শতকে প্রযুক্তি, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, নারীবাদ, রাজনৈতিক মতাদর্শ, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি গল্পের মূল বিষয় হয়ে উঠছে।
গল্প শুধু কিছু শব্দের বিন্যাস নয়, এটি জীবনের প্রতিচ্ছবি। গল্প আমাদের বাস্তবতার দর্পণ, যা আমাদের জীবন ও সমাজকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। কখনো গল্প আমাদের ভাবায়, কখনো স্বপ্ন দেখায়, কখনো প্রতিবাদী করে তোলে, আবার কখনো আনন্দ দেয়। সাহিত্যের এই শক্তিশালী মাধ্যম আমাদের অতীতের সঙ্গে পরিচয় করায়, বর্তমানকে বোঝায় এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়। গল্প শুধু কল্পনার খেলা নয়, এটি বাস্তবতার এক রঙিন ছোঁয়া, যা আমাদের চিন্তাভাবনার গভীরে প্রবেশ করে এবং আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করে। গল্প জীবনকে শেখায়, জীবন গল্পকে বাঁচিয়ে রাখে।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, লেখক ও প্রাবন্ধিক, চাঁদপুর।

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।