খুঁজুন
                               
, ,

ফ্যাসিবাদের জামানায় শিকারি সাংবাদিক

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদের জামানায় শিকারি সাংবাদিক

ফ্যাসিবাদের যুগে সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত জটিল এবং বিপজ্জনক। ফ্যাসিবাদী শাসন সাধারণত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা, এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দমন করার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা স্থাপন ও রক্ষা করে। এই শাসনব্যবস্থায় সাংবাদিকদের কাজ শুধু কঠিনই নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের “শিকারি” হিসেবে উল্লেখ করা যায়, যারা সত্য ও ন্যায়ের অনুসন্ধানে নিরন্তর কাজ করে, যদিও তারা নিজেরাই শিকার হয়ে পড়ে। ফ্যাসিবাদ হলো এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা, যা জাতীয়তাবাদ, সামরিকতন্ত্র এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উপর সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটি সাধারণত একনায়কতন্ত্র, মতপ্রকাশের দমন, এবং রাজনীতি ও অর্থনীতির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখে। ফ্যাসিবাদী সরকার মিডিয়াকে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তারা সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়ায়, যাতে জনগণ তাদের শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করে। মতবিরোধ, সমালোচনা, বা সরকারের অপকর্ম প্রকাশ করার চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের শারীরিক নির্যাতন, গ্রেফতার, এমনকি হত্যার শিকার হতে হয়।

সাংবাদিকতার ভূমিকা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে : সাংবাদিকতা হল গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এটি শাসকদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখে এবং জনগণকে তথ্যসমৃদ্ধ করে। তবে ফ্যাসিবাদী শাসনের অধীনে সাংবাদিকরা অনেক বাধার সম্মুখীন হন। এ ধরনের শাসনে সাংবাদিকদের মূল চ্যালেঞ্জ হল : ফ্যাসিবাদী শাসন সাধারণত সাংবাদিকদের উপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করে। তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা প্রচার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ফ্যাসিবাদী শাসন তাদের প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য সাংবাদিকদের বাধ্য করে। এতে সাংবাদিকদের নৈতিকতার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফ্যাসিবাদী শাসকরা সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর জন্য গ্রেফতার, হুমকি এবং সহিংসতার আশ্রয় নেয়। অনেক সাংবাদিক নিখোঁজ বা নিহত হন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অনেক সময় এই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বা তাদের সমর্থনে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়।

ফ্যাসিবাদী শাসনে “শিকারি সাংবাদিক” বলতে এমন সাংবাদিকদের বোঝানো হয় যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য অনুসন্ধান করেন। তারা শাসকের ভয় দেখানো বা দুর্নীতির মুখোশ খুলে দিতে সচেষ্ট হন। কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সরশিপের মধ্যেও তারা বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে সত্য তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেন। অনেকে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমে তা প্রকাশ করেন, যাতে তাদের নিজ দেশের আইন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত না হয়। শিকারি সাংবাদিকরা ব্লগ, সামাজিক মাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মতো বিকল্প মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের বার্তা পৌঁছান। এই সাংবাদিকরা জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। উদাহরণ: ফ্যাসিবাদের যুগে শিকারি সাংবাদিকদের সংগ্রাম ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে সাংবাদিকরা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন: হিটলারের শাসনামলে জার্মানিতে স্বাধীন সাংবাদিকতা নিষিদ্ধ করা হয়। তারপরও কিছু সাংবাদিক, যেমন কার্ল ফন অসিয়েতস্কি, তাদের লেখার মাধ্যমে নাৎসি শাসনের অব্যবস্থাপনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রকাশ করেন। এর জন্য তাদের জেল, নির্যাতন এবং মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। স্তালিনের আমলে সংবাদ মাধ্যম কেবলমাত্র শাসকের হাতিয়ার ছিল। তবুও কিছু সাংবাদিক, যেমন আনা পলিটকোভস্কায়া, তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য উদ্ঘাটন করেন। মিয়ানমারে, বেলারুশে এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশে সাংবাদিকদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তবুও শিকারি সাংবাদিকরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যেমন মিয়ানমারের উইন টিন এবং বেলারুশের মারিয়া রাসোলভা।

ফ্যাসিবাদের যুগে সাংবাদিকদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল তাদের নিরাপত্তা। রাষ্ট্র এবং কর্পোরেট শক্তি প্রায়শই তাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়। কিন্তু প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে সাংবাদিকরা নতুন নতুন উপায়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফ্যাসিবাদী সরকাররা নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের উপর নজরদারি করে এবং তাদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করে। অনেক সময় সাধারণ মানুষও ভয়ে সাংবাদিকদের সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানায়। ন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি, যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস, সাংবাদিকদের রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সাংবাদিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, যা সেন্সরশিপ এড়াতে সহায়।

ফ্যাসিবাদের যুগে শিকারি সাংবাদিকরা শুধুমাত্র পেশাদার নন; তারা সমাজের জন্য একজন যোদ্ধা। তাদের কাজের মাধ্যমে তারা শুধু সত্য উদ্ঘাটন করেন না, বরং মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেন এবং শাসকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সাহায্য করেন। যদিও তাদের পথ অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ, তবুও তাদের আত্মত্যাগ মানবজাতির জন্য অনুপ্রেরণা। একবিংশ শতাব্দীতে, যখন ফ্যাসিবাদের নতুন রূপ দেখা যাচ্ছে, তখন এই শিকারি সাংবাদিকরাই আমাদের গণতন্ত্রের প্রতিরক্ষক।

ফ্যাসিবাদের যুগে শিকারি সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে আরো গভীর বিশ্লেষণ যোগ করা যেতে পারে, যা সাংবাদিকতার নৈতিকতা, ফ্যাসিবাদী সরকারের কৌশল, এবং সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত সংগ্রামের দিকগুলোকে বিশদভাবে আলোচনা করবো।ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা সাধারণত তিনটি মূল বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে সাংবাদিকতাকে দমন করে। ফ্যাসিবাদী সরকার সংবাদ মাধ্যমের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। তারা এমন সংবাদ প্রচার করতে বাধ্য করে যা শাসকদের সুনাম বাড়ায় এবং জনগণের মধ্যে ভয় বা একত্রীকরণ তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, নাৎসি জার্মানিতে জোসেফ গোয়েবেলসের প্রোপাগান্ডা মেশিন “ফ্রিহার প্রেস” নামমাত্র স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে দমন করেছিল। সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর জন্য শারীরিক আক্রমণ, বিচারহীন গ্রেপ্তার, এমনকি হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। মেক্সিকো, ফিলিপাইন, এবং তুরস্কের মতো দেশে এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটে। ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিকরা ফ্যাসিবাদী সরকারের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে বিবেচিত হন।

অনেক ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র সংবাদ মাধ্যমকে তাদের “রাষ্ট্রের যুদ্ধ” নীতি বাস্তবায়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। সামরিকীকৃত প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে যুদ্ধ, জাতীয়তাবাদ, এবং শাসকদের কর্তৃত্বকে সঠিক প্রমাণ করা হয়। ঝুঁকি ও নৈতিকতার প্রশ্নে ফ্যাসিবাদী শাসনে সাংবাদিকদের কাজ শুধু তথ্য সংগ্রহ বা প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ একটি যুদ্ধ। ফ্যাসিবাদের অধীনে সাংবাদিকরা প্রায়শই পছন্দের দুই পথের মুখোমুখি হন: শাসকের সাথে আপস করে কাজ চালিয়ে যাওয়া। বা সত্য উদঘাটনের জন্য জীবন, পরিবার এবং পেশা সবকিছুর ঝুঁকি নেওয়া।

আলোচিত কয়েকটি উদাহরণ : ড্যাফনে কারুয়ানা গ্যালিজিয়া (মাল্টা): তিনি মাল্টার শাসনব্যবস্থায় দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করেছিলেন। ২০১৭ সালে বোমা হামলায় তার মৃত্যু ঘটে।জামাল খাশোগি (সৌদি আরব): সৌদি সরকারের নীতির সমালোচনা করার জন্য ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

ফ্যাসিবাদী সরকারের অধীনে কাজ করা সাংবাদিকদের নৈতিক দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার নীতিবোধের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়। ফ্যাসিবাদী শাসকের চাপের মুখে কিছু সাংবাদিক বাধ্য হন সরকারের পক্ষে লিখতে। অন্যদিকে, যারা এর বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তারা প্রায়শই নিজেদের এবং তাদের পরিবারের জীবন বিপন্ন করে। শিকারি সাংবাদিকদের শক্তি ও কৌশল শিকারি সাংবাদিকরা একদিকে শাসকদের প্রোপাগান্ডার মুখোশ উন্মোচন করেন, অন্যদিকে তারা জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেন। তাদের প্রতিরোধের কিছু কৌশল হলো:গোপন সংবাদ সংযোগ:কিছু সাংবাদিক সরকার-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম এড়িয়ে বিকল্প উপায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার করেন। তারা নির্ভর করেন অনলাইন মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার ওপর।

প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে ফ্যাসিবাদী শাসকদের সেন্সরশিপ এড়ানোর নতুন পথ তৈরি হয়েছে। এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকরা তথ্য সরবরাহ করে থাকেন। ফ্যাসিবাদী শাসনে কাজ করা সাংবাদিকরা প্রায়শই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর মতো সংস্থাগুলি সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করে।

শিকারি সাংবাদিকদের ভূমিকা শুধু তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহে সীমাবদ্ধ নয়। তারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী সচেতনতা তৈরি করেন, যা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।সাংবাদিকরা ফ্যাসিবাদী শাসনের অন্যায়, দুর্নীতি, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন তুলে ধরে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ফ্যাসিবাদী সরকার তথ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণকে অজ্ঞ করে রাখার চেষ্টা করে। সাংবাদিকরা সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সাহস এবং সচেতনতা তৈরি করেন।

অনেক সময় ফ্যাসিবাদী শাসন পতনের পর সাংবাদিকরা ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে কাজ করেন। তারা নথিভুক্ত করেন যে কীভাবে একটি জাতি ফ্যাসিবাদের করালগ্রাসে পড়েছিল এবং সেখান থেকে মুক্তি লাভ করেছিল।

ফ্যাসিবাদের যুগে সাংবাদিকদের ভূমিকা কেবলমাত্র একটি পেশার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি নৈতিক, রাজনৈতিক, এবং সামাজিক দায়িত্ব। শিকারি সাংবাদিকরা তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবতার স্বার্থে কাজ করেন। তারা কেবল শাসকদের বিরুদ্ধে নয়, বরং জনগণের উদাসীনতা এবং ভয়কেও চ্যালেঞ্জ জানায়।

যখন ফ্যাসিবাদ সব কিছুকে দমন করতে চায়, তখন এই সাংবাদিকরাই সমাজের অন্ধকার সময়ে আলোর ঝলকানি হয়ে ওঠে। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, সত্যের অনুসন্ধানীরা শাসকদের ভয় পায় না। তাদের আত্মত্যাগ ও সাহস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনো সহজে পাওয়া যায় না।

লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ২০২১ ব্যাচ, বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট (পিআইবি)।

 

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত! অনুমোদিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’। ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিন জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পল্লী সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুঃস্থ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং পেট্রোবাংলার উদ্যোগে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘১টি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের জন্য তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার প্যাকেজগুলোর ঘোষণা দেন। এ সময় হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার খাওয়া ও কোরবানিসহ তিনটি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
হাব জানায়, তিনটি প্যাকেজের মধ্যে বিশেষ প্যাকেজ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা, সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ও সাশ্রয়ী প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবার সাশ্রয়ী প্যাকেজের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টাকা বেশি। এ ছাড়া বিশেষ হজ প্যাকেজে ব্যয় বেড়েছে ৪১ হাজার ৬০ টাকা।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ২০২৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ২টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) এর খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা।

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

ভারতের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিটের) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভ গড়িয়েছে টানা তৃতীয় দিনে। সংঘাত ও বিক্ষোভের মধ্যেই বুধবার (২২ জুলাই) সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকার পার্লামেন্টে প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সরকারি সূত্রগুলো। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংসতার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সেদিনের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাটি পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা উদ্ধৃত করে কিরেন রিজিজু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এনডিএ শরিকদের সংসদের সব ধরনের কাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোকে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ এবং যুবসমাজের কল্যাণে কাজ করা সব সংসদ সদস্যের যৌথ দায়িত্ব।’