খুঁজুন
                               
, ,

কাঁঠাল খাওয়ার এই উপকারিতাগুলো জানতেন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ মে, ২০২৫, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
কাঁঠাল খাওয়ার এই উপকারিতাগুলো জানতেন?

কাঁঠাল এমন একটি ফল যা অনেকে খেতে ভীষণ পছন্দ করেন, অনেকের কাছে আবার মোটেই পছন্দের নয়। তা আপনি খেতে পছন্দ করেন বা না করেন, এর উপকারিতার কথা অস্বীকার করার কিন্তু কোনো উপায় নেই। আকৃতিতে বড়, মিষ্টি, রসালো এই গ্রীষ্মকালীন ফলের রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা। এতে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ রয়েছে। কম চর্বি এবং কোলেস্টেরলমুক্ত কাঁঠাল হজমে সহায়তা করে, শক্তি বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন কাঁঠাল খাওয়া উপকারী-

১. হাইড্রেটেড রাখে

কাঁঠালে পানির পরিমাণ বেশি থাকে, যা গরমের দিনে হাইড্রেশনের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই ফল খেলে ঘামের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া তরল পদার্থ পূরণ করা যায় এবং ডিহাইড্রেশনজনিত ক্লান্তি বা মাথাব্যথা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কাঁঠাল শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। এটি শরীরকে মৌসুমী সংক্রমণ এবং ঠান্ডা বা তাপজনিত জ্বরের মতো সাধারণ গ্রীষ্মকালীন অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।

৩. হজমশক্তি উন্নত করে

কাঁঠালের প্রাকৃতিক আঁশ স্বাভাবিক মলত্যাগ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে হজমে সহায়তা করে। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে, যা গ্রীষ্মের তাপের কারণে হজমশক্তি ধীর হয়ে গেলে বিশেষভাবে সহায়ক।

৪. দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে

কাঁঠালে ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজের মতো প্রাকৃতিক চিনি থাকে যা প্রক্রিয়াজাত চিনির মতো নয়। এই চিনি কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি করে। ওয়ার্কআউটের আগে নাস্তা হিসেবে কিংবা গ্রীষ্মের দুপুরে সতেজতার জন্য কাঁঠাল খেতে পারেন।

৫. হৃদরোগ দূরে রাখে

কাঁঠাল পটাশিয়ামের একটি ভালো উৎস, যা সোডিয়াম প্রতিরোধ করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রক্তনালীকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকেও রক্ষা করে, এভাবে ধীরে ধীরে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধ: হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদনে সাড়া মিলল না

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধ: হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদনে সাড়া মিলল না

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ পেল না ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব মামলাটি কার্যতালিকা (কজ লিস্ট) থেকে বাদ দিয়ে আদেশ দেন। আদালত স্পষ্ট জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পূর্বে হাইকোর্টের রায়ে আপাতত হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। ২০১৭ সালে এনবিআরের ১৪ নম্বর কর অঞ্চল এক পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০১২ থেকে ২০১৭—এই পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে মোট ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা আয়কর দাবি করে।
কর দাবির বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ রিট করলে আদালত প্রাথমিক রুল জারি করলেও, দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট খারিজ করে রায় দেন। ফলে কর পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। শুনানিতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ আজাদ অংশ নেন। শুনানি শেষে আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত লিভ-টু-আপিল করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই তারা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন। তবে চেম্বার আদালত লিখিত রায় না আসা পর্যন্ত কোনো আদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানান।
চেম্বার আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধের চ্যালেঞ্জে বড় ধরনের ধাক্কা খেল গ্রামীণ কল্যাণ। এখন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই কেবল তারা পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়ায় যেতে পারবে।

ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্টের রায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে : হাইকোর্টের রায়

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আগামী ৩ বছরের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
এর আগে, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে এনবিআরের এই কর দাবি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক একাধিক রিট করা হয়েছিল। সেই রিটের রুল খারিজ করে এ রায় দেওয়া হয়েছে।

দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে অস্থিরতার সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতি না মেনে টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প নেওয়া, কোথাও কাজ না করে এবং কোথাও নামমাত্র কাজ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মাত্র দুই দিনে ২১টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটোয়ারী অপসারণের এক দিন আগে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ১৭টি চেক ইস্যু করে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর আগে ১৪ আগস্ট চারটি প্রকল্পের বিপরীতে আরও ১৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যে দুই দিনের উত্তোলনের পরিমাণ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলা হয়েছে।
নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনায় কয়েকটি প্রকল্পে কাজ না হওয়া এবং কিছু প্রকল্পে আংশিক কাজ করে পুরো বিল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন ঠিকাদার দাবি করেছেন, তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ ও বিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও প্রকল্প সম্পর্কে তারা জানতেন না।
১৮ আগস্ট ইস্যু করা চেকগুলোর মধ্যে চেয়ারম্যানের আত্মীয় ঠিকাদার শেখ নজরুল ইসলামের নামে সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিল দেওয়ার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে বাবুরহাট মার্কেটের সাইট প্রস্তুত ও বালু ভরাটের দুটি কাজের বিপরীতে প্রায় ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, সেখানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ গাড়ি বালু ফেলা হয়েছিল এবং পুরো জায়গা ভরাট হয়নি। শেখ নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি যে কাজ করেছেন শুধু সেই কাজের বিল নিয়েছেন।
জেলা পরিষদের হলরুমের ওয়াল টাইলসকরণ এবং ভবন সংস্কার ও রংকরণ প্রকল্পে প্রায় ১৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে এসব কাজে বাস্তবে কাজ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বক্তব্যেও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। একজন ঠিকাদার প্রথমে হলরুমে কাজ না করার কথা বললেও পরে নিজের লাইসেন্সে কাজ হয়েছে বলে জানান। আরেক ঠিকাদার দাবি করেন, প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানতেন না এবং টাকা উত্তোলনের পর প্রকৌশলী তার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে যান।
এ ছাড়া আরও পাঁচটি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। চেয়ারম্যান অপসারিত হওয়ায় ওই অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি; পরে চেকগুলো বাতিল করা হয়। জেলা পরিষদ প্রশাসকের দাবি, এসব চেকের বিপরীতে কোনও ফাইল বা প্রকল্প ছিল না। সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, ফাইলগুলো সঠিক না হওয়ায় চেক বাতিল করা হয় এবং ভুল করে লেখা হয়েছিল।
জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আব্দুল কুদ্দুস ভাটের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু কাজ হয়নি, কিছু কাজ আংশিক হয়েছে এবং কয়েকটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, প্রকল্প পরিদর্শন ও কাজের পরিমাণ যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রকৌশলীর। সাবেক প্রকৌশলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাজ হওয়ার পরই বিল দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দুদক তথ্য চেয়েছে এবং তদন্ত করছে। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ দুদককে প্রয়োজনীয় তথ্য দেবে।
নথিতে থাকা অর্থ উত্তোলন, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহারের দাবি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। কোন প্রকল্প বাস্তবে হয়েছে, কে কাজ করেছেন, কে প্রত্যয়ন দিয়েছেন এবং অর্থ কার হাতে গেছে—এসব বিষয় এখন দুদকের তদন্তে নির্ধারিত হবে।