খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সহযোগী না কি সৃজনশীলতার নীরব সংকট?

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সহযোগী না কি সৃজনশীলতার নীরব সংকট?

ডিজিটাল বিপ্লবের এই সময়ে সাংবাদিকতা এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি।  তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ধারায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এখন শুধু প্রযুক্তি জগতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গণমাধ্যমের অঙ্গনেও শক্তভাবে জায়গা করে নিয়েছে।  সংবাদ সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, এমনকি প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।  অনেক ক্ষেত্রে এটি কাজকে সহজ, দ্রুত এবং তথ্যনির্ভর করে তুলছে—কিন্তু একইসঙ্গে উঠছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এই প্রযুক্তি কি সাংবাদিকতার সৃজনশীলতাকে সহায়তা করছে, নাকি ধীরে ধীরে তা ক্ষয় করে দিচ্ছে?
বর্তমান বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, অনেক সাংবাদিক সরাসরি এআই ব্যবহার করে সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করছেন।  এটি নিঃসন্দেহে সময় সাশ্রয়ী এবং তাৎক্ষণিক ফলপ্রসূ মনে হতে পারে।  কিন্তু এর অন্তর্নিহিত ঝুঁকিও কম নয়।  যখন একজন সাংবাদিক নিজে চিন্তা না করে, বিশ্লেষণ না করে একটি যন্ত্রের ওপর নির্ভর করেন তখন তার পেশাগত দক্ষতা ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে।  লেখার মৌলিক গঠন, ভাষার শৈলী, তথ্যের ব্যাখ্যা—সবকিছুতেই একধরনের যান্ত্রিকতা প্রবেশ করে।  ফলে সাংবাদিকতার প্রাণ, অর্থাৎ মানবিক অনুভূতি ও গভীরতা, ক্রমশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয় এটি মানুষের গল্প বলার একটি শক্তিশালী শিল্প।  একটি প্রতিবেদন তখনই প্রভাব ফেলে, যখন সেখানে থাকে মানবিক স্পর্শ, বাস্তব অভিজ্ঞতার গভীরতা এবং লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি।  এআই হয়তো দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে সাজিয়ে দিতে পারে, কিন্তু একজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কান্না, দুর্যোগে বেঁচে থাকার সংগ্রাম কিংবা সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ—এই অনুভূতিগুলো একটি যন্ত্র কখনোই সম্পূর্ণভাবে ধারণ করতে পারে না।  ফলে এআই-নির্ভর প্রতিবেদনগুলো অনেক সময় তথ্যসমৃদ্ধ হলেও প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।  একজন সাংবাদিক যখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন, তখন তিনি শুধু আগুনের ক্ষয়-ক্ষতি নয়, মানুষের আতঙ্ক, অসহায়ত্ব এবং বেঁচে থাকার আকুতি প্রত্যক্ষ করেন।  সেই অভিজ্ঞতা তার লেখায় প্রতিফলিত হয়, যা পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।  কিন্তু যদি একই প্রতিবেদন শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক এআই দিয়ে তৈরি করা হয়, তাহলে সেখানে সংখ্যার হিসাব থাকলেও মানবিক আবেগের ঘাটতি থেকেই যাবে।  এটাই সাংবাদিকতা ও যান্ত্রিক লেখার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য।
তবে এআই-কে পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই।  বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি সাংবাদিকতার জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। গবেষণামূলক কাজে, তথ্য যাচাইয়ে, ডেটা বিশ্লেষণে কিংবা নতুন ধারণা খুঁজে পেতে এআই হতে পারে এক অসাধারণ সহায়ক।  উদাহরণস্বরূপ, কোনো জটিল আইনগত বিষয়ের ওপর রিপোর্ট করতে গেলে সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা, পূর্ববর্তী নজির বা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট দ্রুত খুঁজে বের করতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  এতে সময় বাঁচে এবং প্রতিবেদনের তথ্যভিত্তিক শক্তি বাড়ে।
কিন্তু এখানেই একটি সীমারেখা টানা জরুরি।  তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে এআই সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সেই তথ্যকে ব্যাখ্যা করা প্রেক্ষাপট তৈরি করা এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করার দায়িত্ব একজন সাংবাদিকেরই।  এই ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে সাংবাদিকতা তার মৌলিক চরিত্র হারাবে।
বর্তমান সময়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হিউম্যান টাচ বা মানবিক স্পর্শ।  পাঠক বা দর্শক শুধুমাত্র তথ্য জানতে চায় না; তারা চায় সেই তথ্যের পেছনের গল্প জানতে, অনুভব করতে।  একটি ভালো প্রতিবেদনে লেখকের চিন্তা, অনুভূতি এবং পর্যবেক্ষণের ছাপ থাকে।  এআই-নির্ভর লেখায় এই উপাদানগুলো অনেক সময় অনুপস্থিত থাকে।  ফলে তা পাঠকের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়।
এছাড়া অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা সাংবাদিকদের মধ্যে অলসতা তৈরি করতে পারে।  যখন সহজেই একটি লেখা তৈরি হয়ে যায়, তখন নিজের মেধা ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়।  দীর্ঘমেয়াদে এটি পেশাগত দক্ষতার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।  একজন সাংবাদিকের শক্তি তার অনুসন্ধানী মনোভাব, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং ভাষার ওপর দক্ষতা।  এই দক্ষতাগুলো চর্চার মাধ্যমে উন্নত হয়—কিন্তু এআই-এর ওপর নির্ভরতা বাড়লে এই চর্চা কমে যেতে পারে।
সাংবাদিকতার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য পড়ার অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  ভালো মানের পত্রিকা, বই, গবেষণাপত্র এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রতিবেদন পড়লে একজন সাংবাদিক তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে পারেন।  ভাষার বৈচিত্র্য, উপস্থাপনার কৌশল এবং তথ্য বিশ্লেষণের ধরন সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়।  এই অভ্যাস একজন সাংবাদিককে আত্মনির্ভরশীল করে তোলে, যা কোনো প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।
এছাড়া মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা সাংবাদিকতার জন্য অপরিহার্য।  বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া, মানুষের সঙ্গে কথা বলা, তাদের অভিজ্ঞতা শোনা—এই প্রক্রিয়াগুলো একজন সাংবাদিককে সমৃদ্ধ করে। এআই এই অভিজ্ঞতা দিতে পারে না। এটি কেবল তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা উপলব্ধি করার ক্ষমতা তার নেই।
তবে এটিও সত্য যে আধুনিক সাংবাদিকতা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে।  দ্রুত সংবাদ পরিবেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রতিযোগিতা, দর্শকের পরিবর্তিত চাহিদা—এসবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য।  তাই এআই-কে পুরোপুরি বর্জন করা বাস্তবসম্মত নয়।  বরং প্রয়োজন এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা হতে পারে—এআই-কে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করা।  এটি তথ্য সংগ্রহ, ধারণা তৈরি এবং প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করতে সাহায্য করতে পারে।  এরপর সেই খসড়াকে একজন সাংবাদিক নিজের অভিজ্ঞতা, বিশ্লেষণ এবং ভাষার দক্ষতা দিয়ে সমৃদ্ধ করবেন। এতে সময়ও বাঁচবে, আবার সৃজনশীলতাও বজায় থাকবে।
এছাড়া গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।  সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এআই ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি শেখানো উচিত।  পাশাপাশি মৌলিক লেখার দক্ষতা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।  প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারলেই সাংবাদিকতা তার মান বজায় রাখতে পারবে।
নৈতিকতার বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এআই-নির্ভর প্রতিবেদনে অনেক সময় ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকার ঝুঁকি থাকে।  তাই তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব সাংবাদিকেরই।  কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা নিশ্চিত করা পেশাগত দায়িত্বের অংশ। এই দায়িত্ব কোনো যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না।
পরিশেষে বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাংবাদিকতার জন্য একদিকে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, অন্যদিকে এটি একটি সতর্কবার্তাও নিয়ে এসেছে।  এটি যেমন কাজকে সহজ করছে, তেমনি সৃজনশীলতা ও মৌলিকতার জন্য চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।  তাই প্রয়োজন সচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং পেশাগত দায়িত্ববোধ।
আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প নয়; এটি কেবল একটি সহায়ক মাধ্যম। একজন সাংবাদিকের প্রকৃত শক্তি তার চিন্তা, অনুভূতি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতায়।  এই শক্তিকে ধরে রেখেই যদি আমরা এআই-কে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। আর যদি আমরা অন্ধভাবে এর ওপর নির্ভর করি, তাহলে একসময় আমাদের সৃজনশীলতা এবং পেশাগত স্বাতন্ত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।
সুতরাং, সময় এসেছে নতুন করে ভাবার—আমরা কি যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হব, নাকি যন্ত্রকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রেখে সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করব? সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই সিদ্ধান্তের ওপরই।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, এমসিএস, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্স।

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।