খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ড. ইউনূস দেশকে কী দিলেন, কী নিলেন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
ড. ইউনূস দেশকে কী দিলেন, কী নিলেন?

অবশেষে শেষ হলো ড. ইউনূসের শাসনামল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের পরপরই ইউনূসের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। একটি গণঅভ্যুত্থানের পর আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদের অভিপ্রায় অনুযায়ী শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতি বরণ করে নেয়। ড. ইউনূস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। সারাবিশ্বে তার পরিচিতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি যান, বক্তৃতা করেন। তাই তার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগে জাতি উল্লসিত হয়। দেশের মানুষ এরকম একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সরকার প্রধান হিসেবে পেয়ে আশায় বুক বাঁধে।
আমরা আশা করেছিলাম ড. ইউনূসের ছোঁয়ায় বাংলাদেশ বদলে যাবে। নতুন বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ তরতর করে এগিয়ে যাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে। বৈষম্য মুক্ত দেশ হবে, দুর্নীতি বন্ধ হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে না, আইনের শাসন-ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। নারীরা মর্যাদা পাবেন। শিক্ষাঙ্গণে মেধার প্রতিযোগিতা হবে। নতুন বাংলাদেশে সবাই মন খুলে কথা বলবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। সবাই মিলে আমরা এক মানবিক দেশ গড়ে তুলব। এই স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম ড. ইউনূসকে দেখে। শুধু আমরা স্বপ্ন দেখিনি, ড. ইউনূস এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ড. ইউনূস নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ বক্তা। কথার মায়াজালে তিনি এদেশের মানুষকে সম্মোহিত করেছিলেন। কিন্তু ১৮ মাস পর, যদি আমরা হিসেবের খাতা খুলে দেখি, তাহলে দেখবো জমার খাতা শূন্য। ড. ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকাল হতাশার বেদনার, দুঃস্বপ্নের কালো অধ্যায়।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের সাথে সাথে বাংলাদেশের জনগণ যেন কারাগার থেকে মুক্তি পেল। ড. ইউনূসের ১৮ মাস এদেশের মানুষ মনে রাখবে উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের সময় হিসেবে। এক অবর্ণনীয় কষ্ট আর দুঃখের স্মৃতি হিসেবে।
১৮ মাসে ড. ইউনূস বাংলাদেশকে কী দিলেন?
ড. ইউনূস বাংলাদেশে মব সন্ত্রাসকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। গত দেড় বছরে এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে যে, ক্ষমতার জোরে  অন্যের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করা যায়। ড. ইউনূস বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী মব বাহিনী উপহার দিয়েছেন। যারা আইনের ঊর্ধ্বে বিচারের বাইরে, তারা যা বলবে সবাই তা মানতে বাধ্য। এরা যদি বলে পরীক্ষা হবে না, তাহলে পরীক্ষা বন্ধ করতেই হবে। এরা যদি বলে কাউকে গ্রেফতার করতে হবে, তাকে গ্রেফতার না করলে পুলিশের চাকরি যাবে। এরা যদি বলে কাউকে জেল থেকে মুক্তি দিতে হবে, তাহলে আইন কানুন যাই থাকুক, তাদের ছেড়ে দিতেই হবে, নইলে দেশে তুলকালাম হবে। এদের কথাই আইন। এরাই দেশের মালিক। জনগণ ক্রীতদাস।

ড. ইউনূস বলেছিলেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করবেন। বিদেশ থেকে নিজের লোকদের উড়িয়ে এনে বসিয়েছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে। স্যুটটাই পরা এসব প্রবাসীরা বিদেশি পাসপোর্ট নিয়ে দেশে এসে হইচই করলেন। বাংলাদেশ নাকি সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। আমরা সাধারণ মানুষরা তো আনন্দে আত্মহারা। কিন্তু ওমা, একি, কদিন পর আমরা দেখলাম বাংলাদেশ এখন উত্তর কোরিয়ারও নীচে। পরে জানা গেল, এরা সবাই বিদেশি দালাল, বিদেশি নানা কোম্পানির এজেন্ট। এরা এসে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু বিক্রি করার তোড়জোড় শুরু করলো। ড. ইউনূস বললেন, এভাবেই তো দেশ এগুবে। নানা কেনাকাটার ধুম পড়লো। কিন্তু কোনটাই দেশের মানুষের স্বার্থে নয়।
ড. ইউনূস দেখলেন, বেসরকারি খাতকে যদি ধ্বংস না করা যায়, তাহলে বিদেশি কোম্পানির কাছে গ্যাস, সমুদ্র বন্দর, বিমানবন্দর ইত্যাদি বিক্রি হবে কীভাবে। এজন্য তিনি বেসরকারি খাতের কোমর ভাঙার কাজ শুরু করলেন। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক হত্যা মামলা দায়ের করা শুরু হলো। মব বাহিনী শিল্পকারখানায় নির্বিচারে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করতে লাগলো। সরকার দূর থেকে তামাশা দেখতে থাকলো। ব্যবসায়ীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে হয়রানি করা হলো। শিল্প কারখানায় গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। বেসরকারি উদ্যোক্তারা হতাশায় হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকাই নিরাপদ মনে করলো। বন্ধ হলো বহু কারখানা, নতুন করে বেকার হলো দেড় কোটি মানুষ। দারিদ্র্য সীমার নীচে চলে গেল আরও দুই কোটি মানুষ। গত ১৮ মাসে ড. ইউনূস  দেশের অর্থনীতি ফোকলা করে ফেলেছেন। দেড় কোটি বেকার আর দুই কোটি চরম দরিদ্র মানুষ সৃষ্টি করেছেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এটাই তার জাতিকে উপহার।
ড. ইউনূস ১৮ মাসে দেশের শিক্ষার পরিবেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছেন। দেশের শিক্ষাঙ্গণে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। কথায় কথায় মারামারি, ক্লাস বন্ধ, অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করেছে। এসব নিয়ে ড. ইউনূসের না ছিল উদ্বেগ, না ছিল শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান। প্রতিটি ভাষণে শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বরং তিনি এসব প্রশ্রয় দিয়েছেন।
গত ১৮ মাসে গণমাধ্যমে এক আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করেছে।  বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মবের শিকার হয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে বহু সাংবাদিককে। শুধু মাত্র সরকারের সমালোচনা করার কারণে আনিস আলমগীরসহ অনেকেই কারাগারে। ভিন্নমতের উপর প্রকাশ্যে আক্রমণের ঘটনায় সরকার ছিল নীরব।
গত ১৮ মাসে ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ছিল হতাশার চিত্র। রাজনীতির বিষবাষ্প থেকে খেলাধুলাও মুক্ত রাখতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশের ক্রিকেটে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
১৮ মাসে বিশ্বের দরজা বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের জন্য বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। এসব ঘটনায় কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো তিনি দেশের মানুষকে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিদেশিদের সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী প্রকাশ্য-গোপন চুক্তি করেছেন। এই ফিরিস্তি অনেক লম্বা। এক কথায় ড. ইউনূস তার শাসনামলে বাংলাদেশকে একটি অমানবিক ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন।
এতো গেল ১৮ মাসে বাংলাদেশ ড. ইউনূসের কাছ থেকে কী পেল তার হিসাব। এবার দেখা যাক, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে তিনি কী নিলেন?
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন স্বল্পতম সময়ে। একডজন দেশ সফরের অনন্য রেকর্ড করেছেন ড. ইউনূস। কিন্তু এসব বিদেশ সফর যতটা না ছিল দেশের জন্য তার চেয়ে বেশি নিজের জন্য। এসব সফরের একটিও কোন দেশের আমন্ত্রণে সফর করেননি ইউনূস। সবগুলো সফরই মূলত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সম্মেলনে যোগদানের জন্য হয়েছে। সুযোগ মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট, চীনের প্রেসিডেন্ট ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছবি তুলেছেন। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই এইসব সফরে গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট কিছুই অর্জনের সুযোগ থাকে না। প্রকৃতপক্ষে এইসব সফরে স্বল্পমেয়াদি প্রচারণা ও ব্যক্তিগত ইমেজ নির্মাণ ছাড়া দেশের জন্য বাস্তবিক অর্জন প্রায় শূন্য।
ইউনূসের এইসব সফর অধিকাংশ ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বকে খুশি করা, তাদের স্বার্থ রক্ষা করা, এবং নিজের ব্যক্তিগত প্রচারণা ও ব্র্যান্ডকে বৈশ্বিকভাবে আরও শক্তিশালী করার জন্য হয়েছে বলেই দৃশ্যমান হয়। ড. ইউনূসের প্রায় সব বিদেশ সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে তার “থ্রি জিরো” (Three Zeroes) তত্ত্ব নিয়ে বক্তৃতা— যা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। এসব সফরে “দর্শনীয়” হিসেবে যুক্ত হয় নানা দপ্তরের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ, যার কোনো বাস্তব ফলাফল দৃশ্যমান হয়নি কখনোই।
ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেতে শুরু করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিবন্ধন, অনুমোদন, করছাড়সহ বেশকিছু সুবিধা পেয়েছে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ঢাকায় ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে চলবে। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (জিইএসএল) বিএমইটি থেকে একটি লাভজনক জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স (RL No. 2806) পায় এবং এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যপদ লাভ করে। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই গ্রামীণ টেলিকমের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পেমেন্ট সার্ভিস প্রভাইডার (পিএসপি) হিসেবে কাজ করার জন্য অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘অনাপত্তি সনদ’ (এনওসি) পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি পিএসপি লাইসেন্স পায়। ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।
বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। নতুন অধ্যাদেশে শেয়ার হোল্ডারদের মালিকানা ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয় এবং বোর্ডে নির্বাচিত ৯ জন সদস্যের মধ্য থেকে ৩ জন পরিচালক মনোনীত হবেন, যাদের মধ্য থেকে একজনকে বোর্ড চেয়ার হিসেবে নির্বাচন করা হবে। এতে সরকারের চেয়ার নিয়োগের ভূমিকা বাতিল হয়। ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার দুইমাস পর ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেয়। অন্যদিকে, ড. ইউনূস গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই অর্থপাচার মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাঁকে খালাস দেয়। এ ছাড়া, শপথ নেওয়ার আগের দিনই শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের যে ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল, সেই মামলাতেও আদালত তাঁদের খালাস দেয়। এখন হিসাবের খাতা মেলাতে গিয়ে যে কেউ বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। ড. ইউনূস ১৮ মাসে যা নিয়েছেন তার বিনিময়ে তিনি কি এদেশের মানুষকে একটি জিনিস দিতে পেরেছেন? যার নাম-‘শান্তি’। যার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন!
অদিতি করিম : লেখক ও নাট্যকার ই-মেইল : auditekarim@gmail.com

চাঁদপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

একদিনের সফরে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শবিবার (১৬ মে) সকালে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সফরসূচি অনুযায়ী, চাঁদপুরে যাওয়ার পথে বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথ সভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।
এরপর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তা উদ্বোধন করবেন। দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার মধ্য দিয়ে এ সফর শেষ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সর্বশেষ ২০১২ সালে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চাঁদপুর সফর করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর দলের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান এ জেলা সফর করলেন।

হামে আক্রান্ত শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ
হামে আক্রান্ত শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের টিকা নিয়ে কোথায় কী ভুল হয়েছে তা খুঁজে বের করার আগে মানুষের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মূল অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পোলিও ভ্যাকসিন গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, হামের টিকা নিয়ে কে দোষ করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকাদান ব্যবস্থাপনায় কোনো ভুল বা অব্যবস্থাপনা হয়ে থাকলে তা নিয়ে তদন্ত করার বিষয়টি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। এই সংকট মোকাবিলার পর সরকার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো হলেও, সরকার এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বেশিরভাগ জেলাতেই টিকাদান শেষ হয়েছে। বাকি শিশুদেরকেও টিকার আওতায় আনা হবে। এছাড়া, আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, আজকে চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক চায়না সরকারের এনড্রোসমেন্টসহ ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল, যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজের সমপরিমাণ ভ্যাকসিন হাতে পেয়েছি। আমাদের হাতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন রয়েছে। আমরা পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব। এটাতে কোনো অসুবিধা হবে না। মন্ত্রী বলেন, আমরা অ্যান্টির‌্যাবিস টিকাও দেওয়া শুরু করছি। একটা রোগীও এই ভ্যাকসিনের বাইরে থাকবে না। প্রতিটা ভ্যাকসিন এখন চলছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল একটু শর্ট আছে। জুন নাগাদ আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ পেয়ে যাব। পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা বছরে দুইবার ভিটামিন-এ দেব। এই সেক্টরে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না। অনুষ্ঠানে সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা এবং ইপিআই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারকে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে দিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন।

২৭তম বিসিএস থেকে নিয়োগ পেলেন আরও ৯৬ জন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
২৭তম বিসিএস থেকে নিয়োগ পেলেন আরও ৯৬ জন

দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও অপেক্ষার পর ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে’র মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত দপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই তারিখের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অন্য কোনো নির্দেশনা না এলে ১৮ মে থেকেই তাদের যোগদান কার্যকর হবে। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে তা চাকরিতে অনাগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং নিয়োগ আদেশ বাতিল হয়ে যাবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা রক্ষার জন্য তাদের নিয়োগ কার্যকর ধরা হবে ওই ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে। অর্থাৎ, ধারণাগতভাবে তারা ব্যাচের অন্য কর্মকর্তাদের সমপর্যায়ের জ্যেষ্ঠতা পাবেন। তবে এই সুবিধার বিপরীতে কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা বা বেতন-ভাতা প্রদান করা হবে না। ২৭তম বিসিএসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি জটিলতা চলছিল। প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হলেও ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেই ফল বাতিল করে পুনরায় মৌখিক পরীক্ষা নেয়।
পরে প্রথম ভাইভার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০০৮ সালে হাইকোর্ট ফল বাতিলকে বৈধ ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে আপিল বিভাগে বিষয়টি গড়ায়। অবশেষে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ ১ হাজার ১৩৭ জন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীকে চাকরিতে নিয়োগের নির্দেশ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এবার আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ার নতুন অগ্রগতি হলো।