খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা : অনিশ্চয়তায় বিপন্ন

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা : অনিশ্চয়তায় বিপন্ন

সহ-শিক্ষা কার্যক্রম কোনো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায় না। বক্তৃতা, বিতর্ক, নাটক, আবৃত্তি, সংগীত কিংবা খেলাধুলা এসবই শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে সহায়তা করে। বিশেষত বিতর্ক প্রতিযোগিতা একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতা, বক্তৃতার গুণাবলি এবং দলগতভাবে কাজ করার ক্ষমতা বাড়ায়। বাংলাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়, তবে ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকা আয়োজন খুব বেশি নেই।
চাঁদপুর জেলায় ‘পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা’  এক অনন্য উদ্যোগ। একটানা ১২ বছর ধরে এ প্রতিযোগিতা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতর্কচর্চা, যুক্তিবাদী মনোভাব এবং মুক্তচিন্তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিক্ষার্থীদের জন্যে এটি হয়ে উঠেছিলো বার্ষিক উৎসবের মতো। কিন্তু সম্প্রতি এ প্রতিযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এটি কি আর চালু থাকবে, না কি এ মূল্যবান উদ্যোগটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে?
প্রতিযোগিতার সূচনা : চাঁদপুর একটি সংস্কৃতি -শিক্ষাবান্ধব জেলা। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা বরাবরই মেধা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় সুনাম কুড়িয়েছে। কিন্তু ১৯৮৩ সালের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ধীরে ধীরে সীমিত হতে থাকে। দীর্ঘ সময় ব্যবধানে ২০০৯ সালে চাঁদপুর কণ্ঠ একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা হিসেবে জেলার শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু করে। পরে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়। এভাবেই জন্ম নেয় পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা।
প্রতিযোগিতার ইতিহাস : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-চাঁদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর অফিস যখন কালীবাড়ি মোড়ের নূর ম্যানশনে ছিলো তখন আমরা ইয়েস সদস্য হিসেবে সনাক-টিআইবির সাথে জড়িত ছিলাম। তখন সারা বাংলাদেশে মাত্র ৩৪টি সনাক ছিলো। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের দুই ধরনের কমিটি ছিলো, একটি হলো সনাক ও অন্যটি ইয়েস। তখনকার সনাক-টিআইবি, চাঁদপুর গঠিত হয়েছিল চাঁদপুরের সুধীজনদের একাংশ নিয়ে। তৎকালীন সনাক সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক মনোহর আলী (বর্তমানে প্রয়াত) এবং সনাক সদস্য ছিলেন প্রথিতযশা চিকিৎসক আলহাজ্ব ডা. এম. এ. গফুর, ডা. মো. এ কিউ রুহুল আমিন, কাজী শাহাদাত, অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন খান, প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মোশারেফ হোসেন, রূপালী চম্পক ও কৃষ্ণা সাহাসহ বিশিষ্টজনরা। তখন টিআইবির আয়োজনে জাতীয়ভাবে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সেখানে চাঁদপুর থেকে ইয়েস সদস্য ওমর ফারুক ফাহিম (বর্তমানে জজশীপে কর্মরত) অংশগ্রহণ করেন। ফাহিম সেখানে অংশগ্রহণ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। তিনি সারাদেশের সকল বিতার্কিককে পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছিলেন। অনুজপ্রতিম ওমর ফারুক ফাহিমের সেই বিজয় সারাদেশের সাথে চাঁদপুরে আলোচিত বিষয় ছিলো। আর এই ফাহিমের বিতর্কের জয়গানের আলোচনার মাধ্যমেই চাঁদপুরে কীভাবে বিতর্ক চর্চা শুরু করা যায় সেটি নিয়ে ভাবতে থাকেন সনাক-টিআইবির ইয়েস সদস্যরা। তখনকার ইয়েস সদস্যদের মধ্যে ইবনে আজম সাব্বির, হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, এহসান ফারুক ছন্দ, নাঈম হোসেন, উজ্জ্বল হোসাইন, নুরে আলম নয়ন, কেএম মাসুদ, দৌলত হোসেন শান্ত, ইকরাম হোসেন পুতুল, নেয়ামুল হক, বিপ্লব, আছমা আক্তার আঁখি, নাজিয়া আহমেদ পিকসী, ওমর ফারুক ফাহিমসহ আরো অনেকেই জড়িত ছিলেন। ইয়েস সদস্যদের মধ্যে আবার দুটি ভাগ ছিলো। এদের কিছু সংখ্যক নিয়ে সনাকের গণনাট্য দল ছিলো এবং কিছু সংখ্যককে নিয়ে ইয়েস কার্যক্রম পরিচালিত হতো। মূলত গণনাটক আর ইয়েস সদস্য সকলে ইয়েস সদস্য হিসেবেই পরিচিত ছিলো। ওমর ফারুক ফাহিমের বিতর্কের সাফল্যের কারণে ইবনে আজম সাব্বিরের নেতৃত্বে ইয়েস মিটিংয়ের আলোচনায় চাঁদপুরে বিতর্ক চর্চা এবং বিতর্ক সংগঠন করার প্রস্তাব আসে। যেহেতু টিআইবি একটি স্বতন্ত্র সংগঠন, সেহেতু সনাক-টিআইবির ব্যানারে বিতর্ক চর্চাকে সাংগঠনিক কাঠামোতে নেয়া যায়নি। কারণ, টিআইবির ব্যানারে কোনো সংগঠন করার এখতিয়ার ছিলো না। তাই ইয়েস সদস্যরা চিন্তা করে, যে কোনোভাবেই হোক একটি বিতর্ক সংগঠনের করার ব্যবস্থা করতে হবে।
পরবর্তী ইয়েস মিটিংয়ে বিতর্ক সংগঠন করার বিষয়ে ইয়েস সদস্যরা সবাই আলোচনায় মিলিত হন। সেই সভায় সনাক-টিআইবি কার্যালয়ে সকলের প্রস্তাব ও সম্মতির ভিত্তিতে একটি নাম নির্ধারণ করা হয়। নামটি হচ্ছে চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলন, ইংরেজিতে চাঁদপুর ডিবেট মুভমেন্ট, সংক্ষেপে সিডিএম। ইয়েস সদস্য ইবনে আজম সাব্বির, ওমর ফারুক ফাহিম, আহসান ফারুক ছন্দ, আশিক-বিন-ইকবাল আনন্দ এবং আমিসহ একটি খসড়া কমিটির তালিকাও প্রস্তুত করি। আমি বয়সে সিনিয়র হওয়ায় সকলে আমাকে সভাপতি হওয়ার জন্যে অনুরোধ জানান। কিন্তু আমি দেখেছি যে, আমার দ্বারা বিতর্কের মঞ্চে বিতর্ক করা সম্ভব নয়, তাই বিতর্ক সংগঠক হতে পারবো এটাই আমার জন্যে গর্বের বিষয় ছিলো। ইবনে আজম সাব্বিরকে সভাপতি এবং ওমর ফারুক ফাহিমকে সেক্রেটারী করে চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলনের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিষ্ঠাকালীন সহ-সভাপতি নির্বাচন করা হয় আমাকে। এভাবেই শুরু হলো চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলনের বিতর্ক চর্চা। বিতর্ক আন্দোলন সৃষ্টির পর থেকেই চাঁদপুর রোটারী ভবনে তখন এটির প্রথম আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা করা হয় প্রয়াত অধ্যাপক মনোহর আলী স্যারকে এবং সাথে উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তৎকালীন সনাক সদস্যদের। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী শাহাদাত, প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মোশারেফ হোসেন, অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার প্রমুখ। প্রথম বিতর্ক কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় চাঁদপুর রোটারী ভবনে, সেখানে আমাদের সকলের উপস্থিতিতে খুব সুন্দর একটি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এরপর আর চাঁদপুরে বিতর্ক চর্চার জন্যে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শুরু থেকেই চাঁদপুরে বিশিষ্টজনদের নামে বিতর্ক উৎসব করা হতো। এরপর চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলনের আয়োজনে চাঁদপুর ক্লাবে জাতীয় বিতর্ক উৎসব করা হয়। এ উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক ও প্রকাশক রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাড. ইকবাল-বিন-বাশার। আমরা যারা সামনে থেকে বিতর্ক যোদ্ধা হিসেবে কাজ করি, তাদের নেপথ্যে ছিলেন ইকবাল-বিন-বাশার ও শাহিদুর রহমান চৌধুরীর মতো সমাজসেবীরা। তবে বিতর্ক চর্চার প্রসার ও প্রচারের কাজটি খুবই সহজতর হয়েছে শুধুই চাঁদপুর কণ্ঠ ও কাজী শাহাদাতের মতো বিতর্ক-জ্বরে আক্রান্ত মানুষের জন্যে।
বিতর্ক আন্দোলনের শুরুতেই  দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ এবং টাইটেল স্পন্সর হিসেবে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সকে সংযুক্ত করা হয়। কয়েক বছর চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে জেলাব্যাপী একসাথে বিতর্ক চর্চা করার পর চাঁদপুর বিতর্ক আন্দোলন তাদের নিজস্ব গণ্ডিতে ফিরে যায়। ঠিক তখনই কাজী শাহাদাত চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে সাথে ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজন চন্দ্র দে, সাইফুল ইসলাম, আরিফ হোসেনসহ আরো অনেকে।
কাজী শাহাদাত বিতর্কের প্রাণপুরুষ। একটু রেগে গেলেও কাজের বেলায় আসলে তিনিই কাজী। তার কাজে রয়েছে একটি নিজস্বতা। কোনো কাজ সঠিকভাবে না হলে তিনি সেটি কখনোই করেনই না। আর তিনি যে কাজে হাত দেন সেটি অবশ্যই সঠিকভাবে করেই ছাড়েন। চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন শুরু থেকেই যাত্রা করে এ পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা সদর ও উপজেলাগুলোতে বিতর্কের প্রচার-প্রসার ও বীজ বপন করে আজ ফলবান বৃক্ষ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। যার ফলস্বরূপ প্রতিবছর পাঞ্জেরী-চাঁদপুর বিতর্ক প্রতিযোগিতার মহাযজ্ঞ চলে। ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ১১টি প্রতিযোগিতার সফল সমাপ্তির পর করোনা মহামারীর কারণে দ্বাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার আসর হয়নি। সেটি হয়েছে ২০২৩-২৪ বছরে।
স্বপ্নদ্রষ্টার ভূমিকা : এই প্রতিযোগিতার আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন চাঁদপুরের বিতর্ক জগতের কর্ণধার কাজী শাহাদাত। তিনি শুধু সংগঠকই নন, একজন দক্ষ বিতর্ক সংগঠক হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে বিতর্কচর্চায় অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর সঙ্গে আরও ক’জন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি দীর্ঘ ১২ বছর নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তাদের প্রচেষ্টা ছাড়া এতো বড়ো একটি প্রতিযোগিতা ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা সম্ভব হতো না। তারা বিচারক খুঁজে বের করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বুদ্ধ করা, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, স্পন্সর সংগ্রহ করা সব কিছুতেই সক্রিয় ছিলেন। ফলে চাঁদপুরে একটি শক্তিশালী বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে উঠে।
শিক্ষার্থীদের বিকাশ ও প্রভাব : বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তি-তর্কের সঠিক চর্চা গড়ে তোলে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চাঁদপুরের বহু শিক্ষার্থী পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ের বিতর্কে সাফল্য অর্জন করেছে। অনেকে আবার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিখ্যাত বিতর্ক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ প্রতিযোগিতা শুধু মেধা বিকাশই করেনি, বরং শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করেছে। তারা জনসম্মুখে সাবলীলভাবে বক্তব্য রাখার অভ্যাস অর্জন করেছে। অনেক শিক্ষার্থী এ প্রতিযোগিতা থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলি শিখে নিয়েছে, যা পরবর্তীতে তাদের জীবনে কাজে লেগেছে।
১২ বছরের ধারাবাহিকতা একটি মাইলফলক : একটানা ১২ বছর ধরে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ প্রতিযোগিতা আয়োজন চাঁদপুরে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে খুব কম জেলায় এতো দীর্ঘ সময় ধরে জেলা পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতা টিকেছিলো। এ কারণে পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্যে এক অনন্য অর্জন।
চ্যালেঞ্জ ও সংকট : তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রতিযোগিতার সামনে নানা চ্যালেঞ্জ এসেছে। প্রধান সমস্যাগুলো হলো :
অর্থনৈতিক সংকট : স্পন্সরদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা আয়োজন কঠিন হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনিক জটিলতা : অনেক সময় স্থানীয় প্রশাসন বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত সহযোগিতা দেয় না।
নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়া : মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতর্কের প্রতি আগ্রহ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
সংগঠকদের ক্লান্তি : দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করলেও নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি, ফলে পুরানো সংগঠকদের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে ১২ বছরের একটানা এই প্রতিযোগিতার ইতি টানতে হয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ : প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে চালু হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। একদিকে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ হ্রাস এসব মিলিয়ে আয়োজন ঝুঁকির মুখে। যদি এটি বন্ধ হয়ে যায় বা চালু করা না যায়, তাহলে চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্যে একটি বড়ো সুযোগ হারিয়ে যাবে। এক সময় হয়তো এটি ইতিহাসেই থেকে যাবে। তবে অনেকেই বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা থাকলে আবারও এ প্রতিযোগিতা নবউদ্যমে শুরু হতে পারে। এর জন্যে প্রয়োজন স্থানীয় সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নতুন সংগঠক তৈরির উদ্যোগ এবং সরকারের সহযোগিতা।
সমাধান ও সুপারিশ : স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। জেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাঞ্জেরী বা অন্যান্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে যুক্ত করতে হবে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিতর্ক ক্লাব গঠন করে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ জাগাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিতর্কের প্রচার করতে হবে।
সারমর্ম : পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুধু একটি সহ-শিক্ষা কার্যক্রম নয়; এটি চাঁদপুরের তরুণ প্রজন্মের চিন্তা, যুক্তি ও সৃজনশীলতার বিকাশের প্রতীক ছিলো। একটানা ১২ বছর ধরে যে মাইলফলক অর্জিত হয়েছে, সেটি হারিয়ে গেলে শুধু একটি প্রতিযোগিতাই বন্ধ হবে না, বরং শিক্ষার্থীদের জন্যে একটি অনন্য শিক্ষার ক্ষেত্রও সংকুচিত হবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু রাখা এবং আরও প্রসারিত করা জরুরি। চাঁদপুরবাসীকে এই উদ্যোগ রক্ষার জন্যে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন।

হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হামজনিত কারণে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাকি ৮ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১১০৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ১৭৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের। এতে বোঝা যাচ্ছে রাজধানীতে সংক্রমণের হার ও তীব্রতা সবথেকে বেশি। গত এক মাসে মোট ১৮,২৩১ জন শিশু উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে, যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯,৩০৪ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব ক্রমান্বয়ে জটিল আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে উপসর্গ নিয়ে
শিশুদের শরীরে জ্বর ও লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগের বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ

অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল থেকে চট্টগ্রামের এই কারখানাটিতে পরিশোধন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইআরএল কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শোধনাগারটি সচল রাখতে গত কয়েকদিন ধরে বিকল্প সব পথ অবলম্বন করা হয়েছিল:
মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন এবং চারটি স্টোরেজ ট্যাংকের তলানিতে থাকা ‘ডেড স্টক’ তুলেও পরিশোধন কাজ চালানো হয়। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৪,৫০০ টন তেল পরিশোধন করলেও, সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা কমিয়ে ৩,৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। গত ৪ মার্চ থেকেই ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুদ ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে, যা একটি শোধনাগার চালানোর জন্য একেবারেই অপর্যাপ্ত।
প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হবে কি না—এমন উদ্বেগের মুখে জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করে জানয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ইআরএল বন্ধ থাকলেও জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় বা বাজারে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত এবং বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর একটি বড় অংশই আমদানিকৃত পরিশোধিত তেল দিয়ে মেটানো হলেও, অভ্যন্তরীণভাবে তেল পরিশোধনের একমাত্র উৎসটি বন্ধ হয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্ষবরণে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের সন্ধান

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
বর্ষবরণে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের সন্ধান

ভিন্নতা মুছে ফেলার চেষ্টা মানেই প্রকৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। এই পৃথিবীর অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য তার বৈচিত্র্যে-রঙে, রূপে, ভাষায়, বিশ্বাসে এবং চিন্তার বহুমাত্রিকতায়। মানুষে মানুষে পার্থক্যই পৃথিবীকে জীবন্ত করে তোলে, তাকে দেয় গভীরতা ও বিস্ময়ের অনন্ত সম্ভাবনা। যদি সবকিছু একরকম হয়ে যেত, তবে জীবন হয়ে উঠত নিস্তরঙ্গ, সৃষ্টিশীলতা হারিয়ে ফেলত তার আলো। বৈচিত্র্য আমাদের শুধু আলাদা করে না, বরং আমাদের শেখায় সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান এবং নতুনকে গ্রহণ করার সাহস। তাই ভিন্নতাকে মুছে ফেলার বদলে তাকে গ্রহণ ও লালন করাই মানবিকতার প্রকৃত পরিচয়।
এই ভাবনার মাঝেই আসে বাংলা নববর্ষ, নতুন সূচনার বার্তা নিয়ে। পুরোনোকে পেছনে ফেলে নতুনের আহ্বান জানায় এই উৎসব। রঙিন পহেলা বৈশাখে মানুষ যখন আনন্দে মেতে ওঠে, ঘরে ঘরে সাজে উৎসবের আবহ, তখন এই আনন্দ যেন সার্বজনীন হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সমাজের একাংশে যখন উৎসবের রং ছড়ায়, অন্য প্রান্তে তখন জমে ওঠে শোক, বেদনা আর হতাশার কালো ছায়া। যেন উৎসবের আলো কোথাও গিয়ে আটকে যায় বিভাজন, অসহিষ্ণুতা এবং সহিংসতার দেয়ালে।
সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একদল মানুষ পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। মৃত্যুর আগে বারবার নিজের কথা বলার সুযোগ চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেই মানবিক আবেদন হারিয়ে যায় উন্মত্ত জনতার চিৎকারে। এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি আমাদের সমাজে বেড়ে ওঠা অসহিষ্ণুতার এক নগ্ন প্রতিচ্ছবি।
এই ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। আমাদের সমাজে ক্রমেই একমুখী চিন্তা ও মতের প্রাধান্য বাড়ছে। বহুত্ববাদ, যা একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি, তা ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে ভিন্নমত প্রকাশ করলেই মানুষকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে, তাকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলে না, বরং একটি জাতির গণতান্ত্রিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে।
গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো মতের ভিন্নতা এবং সেই ভিন্নতার সহাবস্থান। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি, ভিন্নমতকে ক্রমেই দমন করা হচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেবল সংবিধানের পাতায় সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে, বাস্তব জীবনে তা হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ। মানুষ নিজের মত প্রকাশে ভয় পাচ্ছে, দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। এই ভয়ের সংস্কৃতি একটি সুস্থ সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, কারণ এটি সৃষ্টিশীলতা ও উদ্ভাবনের পথ রুদ্ধ করে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপনের পর এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে ওঠে-আমরা কি সেই আদর্শের পথে আছি, যার জন্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল? ১৯৭১ সালের সংগ্রাম শুধু একটি ভূখণ্ডের স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই ছিল না; এটি ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সহাবস্থানের এক স্বপ্ন। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? আমরা কি সত্যিই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে পেরেছি, নাকি ক্রমশ সরে যাচ্ছি সেই পথ থেকে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংকীর্ণতা নতুন নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার রূপ বদলেছে, কিন্তু চরিত্রে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে এই সংকীর্ণতা আরও তীব্র হয়েছে। ভিন্নমতকে দমন করার প্রবণতা বেড়েছে, আর রাজনীতি হয়ে উঠেছে বিভাজনের হাতিয়ার। প্রতিযোগিতামূলক গণতন্ত্রের নামে সমাজকে আরও বিভক্ত করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
রাজনীতিকরা প্রায়ই ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি এবং শান্তির কথা বলেন। কিন্তু সেই কথাগুলো অনেক সময়ই বাস্তব উদ্যোগের অভাবে ফাঁপা বাণীতে পরিণত হয়। যখন আদর্শ ও নৈতিকতার চেয়ে ক্ষমতার স্বার্থ বড় হয়ে ওঠে, তখন গণতন্ত্র তার প্রকৃত অর্থ হারায়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়, আর সংখ্যালঘু বা ভিন্নমতের কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায় কোলাহলের ভিড়ে।
এই বাস্তবতায় আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে-আমরা কেমন সমাজ চাই? এমন একটি সমাজ, যেখানে ভিন্নমত দমন করা হবে, নাকি এমন একটি সমাজ, যেখানে মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু সহাবস্থানও নিশ্চিত হবে? বৈচিত্র্যকে ভয় পেলে আমরা নিজেরাই নিজেদের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলব।
সহনশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু আইন বা শাস্তি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে শেখাতে হবে ভিন্নতাকে সম্মান করার গুরুত্ব। সংস্কৃতি ও পারিবারিক মূল্যবোধের মাধ্যমেও এই শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে। ধর্ম, ভাষা বা মতের পার্থক্য নয়-মানুষ হিসেবে আমাদের অভিন্ন পরিচয়ই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় ভিত্তি।

বাংলা নববর্ষের এই সময় তাই শুধু আনন্দের নয়, আত্মসমালোচনারও। নতুন বছরের শুরুতে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত, আমরা বৈচিত্র্যকে রক্ষা করব, সহনশীলতাকে শক্তিশালী করব এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলব। কারণ একটি দেশের উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক সূচকে মাপা যায় না; তা মাপা যায় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা এবং সহাবস্থানের মানদণ্ডে।
নতুন বছরের সূচনায় তাই প্রত্যাশা একটাই – বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য, বিভেদের মাঝে সহমর্মিতা, আর সংঘাতের বদলে সহাবস্থানের এক নতুন বাংলাদেশ।
রূপসী বাংলার সকল পাঠক-কে শুভ নববর্ষ।