খুঁজুন
                               
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

তথ্য গোপনের অভিযোগে চাঁদপুরে কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ
তথ্য গোপনের অভিযোগে চাঁদপুরে কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি

চাঁদপুরে চলমান এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালনকালে তথ্য গোপনের অভিযোগে এক শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি চাঁদপুর সদর উপজেলার ফরাক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. ইলিয়াছ মিয়া। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা তাকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। এ ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসন ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) ফরাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা যদি পরীক্ষার্থীর অভিভাবক হন—বিশেষ করে তার সন্তান একই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে—তাহলে তিনি কোনোভাবেই কেন্দ্র সচিব বা পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য বাধ্যতামূলক বিধান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মো. ইলিয়াছ মিয়ার মেয়ে রাইসা অরিন আনিকা চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। তিনি চাঁদপুর শহরের আল-আমিন একাডেমির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। অথচ এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে ইলিয়াছ মিয়া কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন, যা শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন তথ্য গোপন করা শুধু অনৈতিকই নয়, বরং তা পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস, পক্ষপাতিত্ব বা অন্যান্য গুরুতর অনিয়মের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় উপজেলা প্রশাসন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে ইলিয়াছ মিয়াকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, আমরা অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, অভিযুক্ত কেন্দ্র সচিব মো. ইলিয়াছ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে তার মেয়ে পরীক্ষার্থী হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে পরে তিনি নিজের বক্তব্য থেকে সরে এসে বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার এই দ্বৈত অবস্থান আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। পরীক্ষা কেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও বিতরণ, পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা—সবকিছুই তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। তাই এ পদে থাকা ব্যক্তির সততা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নাতীত হওয়া জরুরি। কোনো ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকলে তা আগে থেকেই প্রকাশ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব থেকে বিরত থাকা উচিত।
এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেক অভিভাবক বলেন, তারা চান তাদের সন্তানরা একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে পরীক্ষা দিক। এ ধরনের ঘটনা সেই আস্থাকে নষ্ট করে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সকলে মনে করছেন, শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
চাঁদপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করা ছাড়া বিকল্প নেই—এমনটাই মত সচেতন মহলের।

সরকার সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ডেটাবেজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
সরকার সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ডেটাবেজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিতকরণ ও ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৬তম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধ এবং আধুনিক সম্প্রচার ব্যবস্থায় উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সুষ্ঠু বিকাশ, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমতাবস্থায়, ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচার প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?
জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচার প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) কর্তৃক এআই প্রশিক্ষণ, ন্যারেটিভ তৈরি, তথ্যের বিষয়ে নীতিসহায়তা ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি মাসে ঢাকার বাইরে ৪টি এবং ঢাকায় ২টি কর্মশালা বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। প্রতি মাসে ন্যূনতম একটি করে সাংবাদিক নেতাদের নিয়ে ঢাকায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ফ্যাক্ট চেকিং ও ভুয়া খবর নিয়ে বিভিন্ন ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা, মূলধারার সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনাসভা ও সেমিনার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচাররোধে বর্তমান সরকারের সময়ে তথ্য অধিদপ্তর হতে ২২টি ফটোকার্ড ও গুজব প্রতিরোধবিষয়ক ১০টি তথ্যবিবরণী বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও নিউজ পোর্টালে প্রকাশের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯৭৪-এর ১২ ধারা অনুযায়ী, কোনো সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থার সাংবাদিক, সম্পাদক কর্তৃক সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা ও জনরুচি পরিপন্থি সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ রয়েছে। সে অনুযায়ী, প্রেস কাউন্সিলে দায়েরকৃত ৮টি অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। সাংবাদিকদের অপসাংবাদিকতা পরিহার করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের ৩২টি জেলায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে গণমাধ্যমের অপসংবাদিকতা প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে। এছাড়া অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিতকরণ ও ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে সরকার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে

মুহাম্মদ বাদশা ভূঁইয়া, চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে সরকার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে চাঁদপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছেন জেলা ও পৌর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে শহরের বাইতুল আমীন চত্বর থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। এ সময় সাধারণ মুসল্লী, ব্যবসায়ী, যানবাহন চালক ও পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন দলটির নেতাকর্মীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জননেতা মো: শাহজাহান মিয়া। তিনি বলেন, “দেশব্যাপী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আমাদের এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে সরকার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান, সেক্রেটারি মোঃ বেলায়েত হোসেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল হাই লাভলু, জাহাঙ্গীর পাটওয়ারী, তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলমগীর বন্দুকশীলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা। এ সময় বক্তারা বলেন, জনগণের মতামতকে সম্মান না করলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তারা সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করে বর্তমান পরিস্থিতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন।
লিফলেটের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয় এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

চাঁদপুরে পুরানবাজার ভূঁইয়ার ঘাটে পন্টুন সংকটে বাড়ছে দুর্ঘটনা ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরে পুরানবাজার ভূঁইয়ার ঘাটে পন্টুন সংকটে বাড়ছে দুর্ঘটনা ঝুঁকি

চাঁদপুরের পুরানবাজার এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র।  এ বাণিজ্য কেন্দ্রের ভূঁইয়ার ঘাট দীর্ঘদিন ধরে পল্টুন সংকটে ভুগছে।  এ সংকট এখন শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কমিয়ে দিচ্ছে না বরং প্রতিদিনই বাড়িয়ে তুলছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের অভিযোগ—বারবার দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি, ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পুরানবাজারের এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন হয়। মেঘনা নদী ও ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন এ ঘাটটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ওঠানামার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু বর্তমানে এখানে মাত্র একটি পন্টুন থাকায় সেই সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে নদীর পানির স্তর কমে গেলে পন্টুনটি কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে করে নৌযান থেকে পণ্য ওঠানো-নামানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। শ্রমিকদের অনেক সময় সরাসরি নৌকা থেকে পণ্য মাথায় নিয়ে পিচ্ছিল ও অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে ওঠানামা করতে হয়, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ইতোমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও বড় কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটায় বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি—এমন অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, ২০১৭ সালের মে মাসে আমরা বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালকের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছিলাম। তখন দেওয়ানঘাট, ১নং ঘাট এবং জনতা মিল সংলগ্ন নতুন রাস্তার মাথায় তিনটি পল্টুন স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সে সময় আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এত বছর পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, এই ঘাটটি শুধু পুরানবাজার নয়, পুরো চাঁদপুরের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পল্টুন সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক একটি বিষয়।
চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নাজমুল আলম পাটওয়ারী বলেন, আমরা বহুবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, কোনো কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি। প্রতিদিন শত শত টন পণ্য এই ঘাট দিয়ে ওঠানামা করে। পর্যাপ্ত পল্টুন না থাকায় সময় বেশি লাগছে, খরচ বাড়ছে এবং ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, একটি দুর্ঘটনা ঘটলেই বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। আমরা চাই না এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটুক। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তা ও জনতা লবণ মিলসের মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভূঁইয়ার ঘাটের পন্টুনটি পুরানবাজারের ব্যবসার প্রাণ। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য নৌযান ভিড়ে। কিন্তু একটি মাত্র পন্টুন দিয়ে সেই চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। নতুন পল্টুন স্থাপন না করলে ব্যবসার গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
শ্রমিকদের অবস্থাও খুবই নাজুক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি। পন্টুন ঠিকমতো না থাকায় অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। কেউ পড়ে গেলে তাকে বাঁচানোও কঠিন হয়ে যায়। তবুও জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে।
অন্য এক শ্রমিক বলেন, বর্ষাকালে কিছুটা সুবিধা থাকলেও শুকনো মৌসুমে কাজ করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। পন্টুন নিচে নেমে যায়, তখন আমাদের অস্থায়ীভাবে কাঠ বা বাঁশ দিয়ে ব্যবস্থা করতে হয়। এটা খুবই বিপজ্জনক।
এ বিষয়ে বন্দর কর্মকর্তা বলেন, আমি বিষয়টি নতুনভাবে জেনেছি। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবো। এরপর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবো। প্রয়োজনে সেখানে জেটি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।
তবে স্থানীয়দের মতে, শুধু আশ্বাসে আর কাজ হবে না। দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা মনে করেন, অন্তত তিনটি নতুন পন্টুন স্থাপন করা হলে বর্তমান সংকট অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি একটি স্থায়ী জেটি নির্মাণ করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। নদীবন্দরভিত্তিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত দুর্বলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে পর্যাপ্ত পন্টুন না থাকলে শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতি নয়, মানবিক ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। নতুন পন্টুন স্থাপন ও আধুনিক জেটি নির্মাণের মাধ্যমে ভূঁইয়ার ঘাটকে একটি নিরাপদ ও কার্যকর নৌবাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে যেমন ব্যবসার গতি বাড়বে, তেমনি শ্রমিকদের জীবনও নিরাপদ হবে।
পুরানবাজারের ভূঁইয়ার ঘাটের পন্টুন সংকট এখন আর শুধুমাত্র একটি অবকাঠামোগত সমস্যা নয়—এটি হয়ে উঠেছে জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।  দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগই পারে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান এনে দিতে।