খুঁজুন
                               
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনা হবে : তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনা হবে : তারেক রহমান

জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআর -এর নাম পুনর্বহাল করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানার হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে শহীদ সেনা দিবস, অথবা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপকমিটি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। তারেক রহমান বলেন, “২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর পতিত, পরাজিত, বিতাড়িত, ফ্যাসিস্ট বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআর এর নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিল। এমনকি তাদের পোশাকের রং ও পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। আমি আপনাদের সামনে একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করতে চাই। জনগণের রায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআর এর নাম পুনর্বহাল করা হবে।”
তিনি বলেন, “বক্তব্য দেওয়ার আগে সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা আমাকে সেনাবাহিনী জন্য কিছু সুপারিশ তুলে দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু কিছু বিধিমালা পরিমার্জন বা সংস্কারসহ এসব সুপারিশ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। তবে এতোটুকু বলতে পারি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আপনাদের উপস্থাপিত এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর সাবেক এবং বর্তমান সদস্যদের সমন্বয়ে আমরা একটি কমিটি গঠন করব। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাবি-দাওয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “সেনাবাহিনী আমার কাছে বৃহত্তর পরিবার বলে মনে হয়। সেনানিবাসে আমার বেড়ে ওঠা। ছোট বেলায় আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। আমি বড় হয়ে দেখেছি সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার এক ধরনের নির্ভরতা ছিল, সম্মান ছিল। মা সব সময় মনে করতেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকা দরকার। সন্তান হিসেবে আমার পিতাকে নিয়ে যেমন আমি গর্ব করি, তেমনি বিশ্বাস করি একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি সেনাবাহিনীকে গর্বিত করেছিলেন।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রিয় জনগণের কাছে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “শহীদ জিয়াকে নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক জনগণ যেমন গর্বিত, তেমনি আমি, আমার পরিবার বিশ্বাস করে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীও তেমন গর্বিত। জনগণ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রহরী হিসেবে মনে করে। সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে সংযুক্ত করা হলে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় বলে মনে করি।”
তিনি আরও বলেন, “বিগত দেড় দশকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং গৌরব সম্পর্কে সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যরা নিজেরা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞেস করলে হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। তাঁবেদার এবং অপশক্তির কবলে পড়ার পর দেশের গণতন্ত্র শুধু হরণ হয়নি, একইসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল। এমনকি পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের দিন সেনাবাহিনী যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি বা রাখতে দেওয়া হয়নি।”
সেনাবাহিনীর হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া হবে আমি এরকম কথা বলতে চাই না— উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না এটা অর্জনের বিষয়। গৌরব ধারণ করার বিষয়। সেনাবাহিনীর গৌরব সেনাবাহিনীকে রক্ষা করতে হবে। সেনাবাহিনীর নিজেদের সম্মান এবং মর্যাদা সম্পর্কে নিজেদেরই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, তবে একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে একটি কথাই বলতে পারি, জনগণের রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেনাবাহিনীকে অবশ্যই রাজনৈতিক কোনো স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনীর সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয় এমন কোনো কাজ-বিএনপি অতীতেও করেনি বর্তমানেও না, ভবিষ্যতেও করবে না। কারণ বিএনপির সব সময় বাংলাদেশের পক্ষের দল। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের শক্তি।
তারেক রহমান আরও বলেন, সেনাবাহিনী অবশ্যই রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া উচিত হবে না। রাজনীতির চাদরে তাদের পেশাদারিত্ব যেন আবর্তিত হয়ে না যায় সে ব্যাপারে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের সচেতন থাকা জরুরি।
বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য রাখেন মেজর (অব.) মিজানুর রহমান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এডিসি হিসেবে কাজ করা কর্নেল (অব.) হারুনুর রশিদ খান, মেজর (অব.) জামাল হয়দার, বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সন্তান রাকিন আহমেদ প্রমুখ।

চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করায় দুই রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করায় দুই রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ অভিযানের অংশ হিসেবে শহরের দুটি নামী রেস্তোরাঁকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ এবং ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অপরাধে এই অর্থদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১০ মে ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা আফরোজ নিপার নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে শহরের হকার্স মার্কেটের বিপরীত দিকে অবস্থিত তাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এবং তালতলা রোডের কালাম বিরিয়ানি হাউজকে পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট : হকার্স মার্কেটের বিপরীতে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া সেখানে তৈরিকৃত দইয়ের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ বা মেয়াদের কোনো উল্লেখ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি চায়ের মূল্য বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি রাখছিল। এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কালাম বিরিয়ানি হাউজ : তালতলা রোডের এই প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ফ্রিজে রাখা পচা-বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত পুরাতন মাংস পাওয়া যায়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মেয়াদবিহীন বোরহানি ও দই উৎপাদন ও বিক্রয়ের দায়ে তাদেরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানার আদেশ প্রদান করলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির মালিকপক্ষ স্বেচ্ছায় জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের জনস্বাস্থ্যবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর প্রদান করেন।
এদিন শুধু জরিমানাই নয়, বরং সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহরের ‘বাঙালিয়ানা হোটেল’ সহ আরও বেশ কিছু খাবারের দোকান পরিদর্শন করেন। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। যারা তুলনামূলক পরিষ্কার পরিবেশে কাজ করছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে মান বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিযানটি সফলভাবে পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চাঁদপুর জেলা শাখার প্রতিনিধি মোঃ বিপ্লব সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাঈমা আফরোজ নিপা গণমাধ্যমকে জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের এই অভিযান একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, সেমাই কারখানা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় যেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শহরের সাধারণ নাগরিকরা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল বিশেষ দিবস নয়, বছরজুড়েই যেন এমন তদারকি বজায় থাকে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।

চাঁদপুরে পাবলিক টয়লেট এখন পরিত্যক্ত আস্তাবলে, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরে পাবলিক টয়লেট এখন পরিত্যক্ত আস্তাবলে, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

চাঁদপুর শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ডব্লিউ রহমান জুট মিলের সামনের চিত্রটি এখন এক ভয়াবহ জনদুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি। জনসাধারণের সুবিধার্থে নির্মিত পৌরসভার পাবলিক টয়লেটটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, অব্যবস্থাপনা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন কার্যত একটি পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। এক সময়ের পরিচ্ছন্ন এই স্থাপনাটি এখন ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধের ভাগাড়ে রূপ নেয়ায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার পথচারী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে।
সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে দেখা যায়, পাবলিক টয়লেটটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। স্থাপনার দেয়ালগুলো শ্যাওলা ধরে কালচে হয়ে গেছে, অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়ছে। প্রবেশপথের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, ময়লা-আবর্জনা ও মাটির স্তূপ ডিঙিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, টয়লেটের কোনো দরজাই অবশিষ্ট নেই। ভাঙাচোরা কাঠামো আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এটি এখন ব্যবহারের উপযোগিতা সম্পূর্ণ হারিয়েছে। পর্যাপ্ত পানি বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো চিহ্ন সেখানে নেই। ডব্লিউ রহমান জুট মিল এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল। এখানে প্রতিদিন শত শত শ্রমিক কাজ করেন। এছাড়া অটোরিকশা চালক, স্থানীয় দোকান কর্মচারী এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের আনাগোনা থাকে সবসময়। টয়লেটটি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক হানিফ তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারাদিন রাস্তায় গাড়ি চালাই। প্রয়োজনে এখানে আসতে হয়, কিন্তু টয়লেটের যে দশা, তাতে ভেতরে পা দেওয়ার পরিবেশ নেই। দরজা নেই, নোংরা পানি জমে আছে। বাধ্য হয়ে অনেক সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় এটি ব্যবহার করতে হয়। আমাদের কথা কেউ ভাবে না। একই প্রতিধ্বনি শোনা গেল স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাজির পাটোয়ারীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, পৌরসভা থেকে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল মানুষের উপকারের জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার নেই। রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় এটি এখন অপরাধীদের আড্ডাস্থল কিংবা ময়লা ফেলার জায়গায় পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এই এলাকায় এসে কোনো টয়লেট সুবিধা পায় না, যা অত্যন্ত অমানবিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জনাকীর্ণ এলাকায় এভাবে উন্মুক্ত ও নোংরা টয়লেট পড়ে থাকা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। এর ফলে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে এবং ডায়রিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এটি সংস্কার করা না হলে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি বারবার নজরে এলেও চাঁদপুর পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। টয়লেটটি সংস্কারের জন্য কোনো বরাদ্দ বা তদারকি কমিটি আছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় রয়েছে। জনস্বার্থে নির্মিত একটি সরকারি স্থাপনা এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া কেবল অর্থের অপচয় নয়, বরং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
সাধারণ মানুষের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে টয়লেটের ভাঙা অংশ সংস্কার ও নতুন দরজা স্থাপন করতে হবে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ ও আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। টয়লেটের চারপাশের ময়লা ও মাটির স্তূপ দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
চাঁদপুরকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট শহর হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য, তার পথে এই ধরনের অব্যবস্থাপনা একটি বড় বাধা। ডব্লিউ রহমান জুট মিল এলাকার পাবলিক টয়লেটটি দ্রুত সংস্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি জনদুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসবে, নাকি এটি এভাবেই ‘পরিত্যক্ত স্থাপনা’ হিসেবে পড়ে থাকবে—এ প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষের মনে। জনস্বার্থে দ্রুত পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

ফরিদগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নূর রহমান (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে ২০২৬) সকালে উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সকালে পথচারীরা রাস্তার পাশে একটি মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিছুটা এগিয়ে গেলে সড়কের ওপরই গুরুতর আহত অবস্থায় নূর রহমানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো অজ্ঞাতনামা দ্রুতগতির যানবাহন তাকে চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় আশপাশে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। পরে তারা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িত যানবাহন শনাক্তে চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিহত নূর রহমান ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দোকানের নিয়মিত ক্রেতা ও পরিচিতজনরা তার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নূর রহমানের পরিবারে রয়েছে তার দুইটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে সন্তান। এছাড়া তিনি আট ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার ওপরই পরিবারের দায়িত্ব ছিল। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তা ও দুঃখের মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়কে নজরদারি বৃদ্ধি, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বানও জানান তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।