খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২২ বৈশাখ, ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে মুসলিমদের ভাগ্যে কী ঘটবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে মুসলিমদের ভাগ্যে কী ঘটবে?

দীর্ঘ ১৫ বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে ভারতীয় জনতা পার্টি – বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে তার হিন্দুত্ববাদের ঝান্ডা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। বিজেপি শুধু জিতেই-নি, তৃণমূল কংগ্রেস ও তার নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে হারিয়েছে বড় ব্যবধানে। এতো বড় বিজয় হবে বিজেপি তা হয়তো নিজেও ভাবেনি।
বিতর্কিত ভোটার তালিকায় বড় বিজয়-এমন শিরোনাম করছে অনেক সংবাদমাধ্যম। কারণ এই বিধানসভা নির্বাচনের আগে চলতি মাসে নির্বাচন কমিশন বিশেষ নিবিড় সংশোধন- এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকার হালনাগাদ করেছে। এটি একটি বিতর্কিত প্রক্রিয়া,যা নিয়ে বিহার,আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। বলা হয় এর লক্ষ্য ছিল মুসলিম ভোটারদের ভোট দিতে না দেওয়া।
এর ফলে-৯২ লাখের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারকে ‘অনুপস্থিত’ বা ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়। বাকি ৩০ লাখ বিশেষ ট্রাইব্যুনালে যেতে পেরেছেন,কিন্তু শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ভোট দিতে পারেন নি। যেসব জেলায় মুসলিম বেশি এবং যাঁরা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারেন,সেখানেই নাম কাটার হার বেশি ছিল।
এটিই ছিল বড় ফ্যাক্টর। অন্যসব ব্যাপার তো ছিলই। দীর্ঘদিনের শাসন,তাই পরিবর্তন চাচ্ছিল মানুষ, ছিল মমতার বিরুদ্ধের ব্যাপক দুর্নীতি,সন্ত্রাস এবং দুর্বিনীত আচরণের অভিযোগ।
মমমতার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ভিত্তি ছিল ৩৪ শতাংশ মুসলিম ভোট। তাই এবার বিজেপির জয়ে জোরালোভাবে সামনে আসছে এই আলোচনা যে, সেখানকার মুসলিমদের ভাগ্যে কী হবে?

এসআইআর-এর মাধ্যমে এমন সব মুসলিম ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে যারা ভারতে হয়ে ১৯৭১ এর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ,কার্গিল যুদ্ধ এমনকি সর্বশেষ অপারেশন সিন্দুরেও ভারতীয় সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করে মেডেল পেয়েছেন। এমনসব মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে যারা কয়েকশ বছর বংশ পরম্পরায় সেখানে বাস করছেন।
বলা হচ্ছে যে,মুসলিমদের আসলে পরিকল্পিতভাবে তালিকা থেকে বাদ দিতে এই কাজ করা হয়েছে। তাই এখন বড় চিন্তার বিষয়–পশ্চিবঙ্গের মুসলমানদের কী হবে?
নাগরিকত্ব,বৈধ কাগজপত্র এবং বসবাসের অধিকার এসব বিষয় সামনে আসতে পারে আরও গুরুত্বসহকারে। যদি নতুন সরকার কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করে,তাহলে অনথিভুক্ত বা সন্দেহভাজন অভিবাসীদের ওপর নজরদারি বাড়তে পারে,এমনকি আইনি জটিলতা বা প্রত্যাবাসনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এবং এসব নীতির একমাত্র টার্গেট হবে মুসলিমরা।
সেক্যুলার পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্বাদের উত্থানে বাংলাদেশেও চলছে ব্যাপক বিচার বিশ্লেষণ। অদ্ভুতভাবে বাংলাদেশে যারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করে তারা পশ্চিমবঙ্গে আরেকটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের বিজয় নিয়ে সমালোচনা করেছে। আবার বাংলাদেশে যারা সেক্যুলার রাজনীতি চায় তারা তৃণমূলের পরাজয়ে ব্যথিত। এ এক বড় বৈপরীত্যে।
বিজেপির এই জয় বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত হতে দেননি। বারবার এই প্রশ্নে তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। কিন্তু বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গ মানে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সেই টানাপড়েন আর থাকবে না। ফলে তিস্তার পানি বণ্টন প্রশ্নে দিল্লির সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথ যেমন সহজ হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে বিষয়টি এত সহজও নয় নানা কারণে। কালন তখন ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস, এখন বিজেপি, যাদের রাজ্য নেতারা ভয়ংকর বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য দিয়ে থাকেন।
মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকা শুভেন্দু অধিকারী পরিচিত একজন কঠোর হিন্দুত্ববাদী মুখ হিসেবে। নন্দিগ্রামে মমতাকে পরাজিত করে তিনি যে রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি করেছেন,তাতে বাংলাদেশ বিষয়ক তার অবস্থান কখনোই নমনীয় ছিল না।
ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই পরিবর্তনটি সবচেয়ে স্পর্শকাতর। বিজেপির রাজনীতির কেন্দ্রে হিন্দুত্বের যে আদর্শ,তা পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে ঘিরে নানা রাজনৈতিক বয়ান আরও সোচ্চার হবে। এই বয়ানগুলো অনেক সময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে চাপে ফেলে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমানসে ভারত-বিরোধী অনুভূতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অর্থনৈতিক বিবেচনায় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যের পরিমাণ বিশাল। পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যে বাণিজ্য প্রবাহ,তা দুই দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বিজেপি সরকার যদি সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি আরোপ করে,তাহলে এই বাণিজ্যিক সম্পর্কে ভাটা পড়তে পারে।
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। ঢাকার আলোচনা হবে দিল্লির সঙ্গে। তবে একথাও ঠিক পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া পতাকা ওড়ার মানে শুধু একটি রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তন নয় এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতার সূচনা। আমাদের নীতিনির্ধারকদের এখনই সতর্ক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিতে হবে। আবেগের রাজনীতি নয়,বরং বাস্তববাদী কূটনীতিই হোক আমাদের পথচলার ভিত্তি। কারণ প্রতিবেশী বদলানো যায় না,কিন্তু সম্পর্কের ভাষা বদলানো যায় এবং সেই ভাষাটি আমাদেরই বেছে নিতে হবে।

হামের টিকা কেন দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ণ
হামের টিকা কেন দেওয়া হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

শিশু মৃত্যু ঘটাতে চায়, এরকম কোনো খারাপ উদ্দেশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছিল না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তবে কেন এ টিকা না দেওয়ার ঘটনাটি ঘটলো, তা খতিয়ে দেখা হবে। মঙ্গলবার (০৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শিশু মৃত্যু ঘটাতে চায়, এরকম কোনো খারাপ উদ্দেশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছিল না বলে আমি মনে করি। তবে এটা নিয়ে আমাদের খতিয়ে দেখা দরকার আছে। আমি মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। সেই কাজটি হবে, কেন আসলে এ ঘটনাটি ঘটলো। তিনি জানান, সরকারের নেওয়া কার্যক্রমে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১ কোটি ৬১ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ। আগামী কয়েক দিনে শতভাগ লক্ষ্য অর্জন করবে সরকার।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি তরুণের

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. আলমাছ সরদার ফরিদ (২৪) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বালিথুবা গ্রামের বাসিন্দা। নিহত ফরিদ চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইলশেপাড় পত্রিকার সংবাদদাতা ও ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক আবু তালেব সরদারের ছোট ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় আড়াই বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফরিদ। গত ২৪ মার্চ থেকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদের বাবার মোবাইল ফোনে সৌদি আরব থেকে মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়। ফোনের ওপাশ থেকে বলা হয়, গত ২৪ মার্চ রিয়াদে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদ মারা যান।
হাউমাউ করে কেঁদে সাংবাদিক আবু তালেব সরদার বলেন, ‘আমার ছেলে সৌদি আরবে একটি কপি হাউজে শ্রমিকের কাজ করত। সে দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট। অনেক আশা-ভরসা নিয়ে তাকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। সে পরিবারের হাল ধরবে। কিন্তু গত ২০ দিন আগে ছেলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ২০ দিন পর বিকেলে ছেলের মুঠোফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আমার আদরের সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রবাসের মাটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই ফরিদগঞ্জে সাংবাদিক সমাজ, মৃতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে সাংবাদিক আবু তালেব সরদারের ছেলের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ফরহাদ। এক শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, মৃতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রশ্মিকা মান্দানাসহ তারকাদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন থালাপতি বিজয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
রশ্মিকা মান্দানাসহ তারকাদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন থালাপতি বিজয়

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ ছয় দশকের দ্রাবিড় দ্বৈত শাসন (ডিএমকে-এডিএমকে) অবসান ঘটালেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া সি. জোসেফ বিজয়, যিনি ‘থালাপতি বিজয়’ নামে বেশি পরিচিত। বিধানসভা নির্বাচনে তার দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগামের (টিভিকে) জয় অর্জনের পর চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে অভিনন্দনের ঝড় বইছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিনেত্রী রশ্মিকা মান্দানা বিজয়ের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়কে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “অভিনন্দন বিজয় স্যার। আপনার জন্য অত্যন্ত খুশি এবং এই নতুন যুগে আপনাকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আপনার জন্য অনেক শুভকামনা।”
ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি রজনীকান্তও বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়ে তার দলীয় সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান এবং এটিকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। অভিনেতা ধনুশ মন্তব্য করেন, “প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই জনগণের ব্যাপক সমর্থন পাওয়া বিজয় ও তার দলের জন্য বড় সাফল্য, যা তাদের সরকার গঠনের পথে এগিয়ে নিয়েছে।”
তেলেগু তারকা রাম চরণ বলেন, “বিজয়ের নেতৃত্ব এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগই এই জয়ের মূল কারণ। আশা করি তিনি তামিলনাড়ুর উন্নয়নে সফল হবেন।” প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমন সাফল্য অর্জনের পর, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক তারকা।