খুঁজুন
                               
, ,

বাঙালির প্রাণের উৎসব আজ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
বাঙালির প্রাণের উৎসব আজ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপীড়িত অস্থির সময় বিশ্বের নানা প্রান্তে নিয়ে এসেছে নানা টানাপোড়েন। আশা-নিরাশার দোলাচলে দুলছে জীবন। এর মধ্যেই তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে উড়ায়ে দিতে, পুরনো বছরের আবর্জনা দূর করতে আজ এসেছে বাঙালির প্রাণের উৎসব—পহেলা বৈশাখ।
দিনটি প্রতিবছর নবশক্তি, নবোদ্যম এবং গভীরতর সাংস্কৃতিক চেতনা নিয়ে ফিরে এসে আরো উজ্জ্বল করে তোলে বাঙালির আত্মপরিচয়।
দুঃখ-কষ্ট ভুলে, হতাশা-গ্লানি মুছে আজ নবরূপে আত্মশক্তিতে উজ্জীবিত হবে সবাই। অপরিমেয় শুভ্র সাংস্কৃতিক শক্তিতে ঐতিহ্যের নবরূপায়ণ হবে।
আজ মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের যাত্রা। বাংলা নববর্ষ কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তনের দিন নয়, এটি বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও আত্মপরিচয়ের পুনর্জাগরণের দিন।
হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সংস্কৃতির বহমান ধারাকে ধারণ করে নববর্ষ আজ এক সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তাই রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারা দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে দিনটি। উত্সবের আমেজ, রঙিন পোশাক, পান্তা-ইলিশ, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দিনভর মুখর হয়ে থাকবে জনপদ।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসী ও বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি পহেলা বৈশাখকে ঐক্য, সমপ্রীতি ও অসামপ্রদায়িক চেতনার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকে কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। নতুন বছরে ভেদাভেদ ভুলে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি উন্নত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পহেলা বৈশাখকে জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে নববর্ষের গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। নতুন বছরের মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সবার জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
প্রতিবছর নববর্ষ উদযাপনে ভোরের আলো ফোটার আগেই মানুষের ঢল নামে রাজধানীর রমনা উদ্যানে। সূর্যের প্রথম কিরণে শুরু হয় ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় প্রায় দুই শ শিল্পীর অংশগ্রহণে সুর, বাণী ও ছন্দের এক অপূর্ব সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে ছায়ানটের এই আয়োজন। প্রকৃতি, মানবতা, দেশপ্রেম ও লোকজ জীবনের গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির রূপ ফুটে উঠবে। এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে স্মরণ হবে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরী এবং পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের গীতিকার-সুরকার মতলুব আলীকে।
সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। বিতর্ক এড়াতে এবার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ ও ‘আনন্দ’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হলেও এর প্রাণবন্ততা ও তাত্পর্যে কোনো ঘাটতি নেই। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর ঘুরে পুনরায় চারুকলায় ফিরে এসে শেষ হবে। এ বছর শোভাযাত্রার স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’।
এবারের শোভাযাত্রায় স্থান পেয়েছে পাঁচটি প্রধান মোটিফ— মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। লোকজ প্রতীকের ধারায় এগুলো যথাক্রমে নতুন দিন, শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’ এবং বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান শোভাযাত্রাকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলবে। প্রায় দুই শ শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করে শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন, যা সামষ্টিক চেতনার এক উজ্জ্বল প্রকাশ।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিও বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ১৩ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে। ১৪ এপ্রিল মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নাট্যশালায় বিকেল ৩টায়, যেখানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, শতকণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনা, কবিগান, গম্ভীরা ও বাউল গানের আসর বসবে।
পরবর্তী দিনগুলোতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা, অ্যাক্রোব্যাটিক প্রদর্শনী, ‘জাতি বৈচিত্র্যে বৈশাখী উত্সব’ এবং পুতুলনাট্য মঞ্চস্থ হবে। সমাপনী দিনে নৃত্য, লোকসংগীত, ব্যান্ডসংগীত ও তারকা শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি প্রদর্শিত হবে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ে জোসনা’।
এ ছাড়া ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে চ্যানেল আই ও সুরের ধারার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ’। ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পীরা অংশ নেবেন। একই সঙ্গে সেখানে বসেছে বৈশাখী মেলা, যেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাটির তৈরি খেলনা, তৈজসপত্র, লোকজসামগ্রী এবং নাগরদোলাসহ গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা উপকরণ।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও সারা দেশের জেলা-উপজেলায় বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ উত্সবের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজন বাঙালির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অতীতে পহেলা বৈশাখে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেত হালখাতার উত্সব, যেখানে ব্যাবসায়িক হিসাব-নিকাশের নতুন সূচনা হতো। গ্রামবাংলায় মিষ্টিমুখ, নিমন্ত্রণ ও নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে সম্পর্ক নবায়নের এক সামাজিক বন্ধন গড়ে উঠত। যদিও সময়ের সঙ্গে এই প্রথা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। তবু দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে এখনো হালখাতার আয়োজন চোখে পড়ে।
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। মোগল সম্রাট আকবরের আমলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন হয়। পরবর্তী সময়ে এটি ‘ফসলি সন’ থেকে ‘বঙ্গাব্দে’ রূপান্তরিত হয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।
কালের পরিক্রমায় পহেলা বৈশাখ শুধু অর্থনৈতিক বা কৃষিভিত্তিক উত্সব হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পাকিস্তান আমলে এটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠে। ১৯৬৭ সালে ছায়ানটের উদ্যোগে রমনা বটমূলে প্রভাতী অনুষ্ঠান ছিল তৎকালীন সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বাঙালির জাতিসত্তা পুনর্জাগরণের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। ১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা, যা অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।
২০১৬ সালে ইউনেসকো এই শোভাযাত্রাকে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই স্বীকৃতি শুধু একটি উত্সবকে নয়; বরং বাঙালির সংগ্রাম, চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া।
প্রস্তাবিত ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠির সঙ্গে আইনের খসড়ার সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে জানা যায়, ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করতে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ৮ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
গঠিত কমিটি কর্তৃক একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী- খসড়া আইনটির ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার ‘এফবি বরকত’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখনও পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও আট জেলেকে। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ট্রলার মালিক সমিতি। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে গভীর সমুদ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির মালিক বরগুনার পাথরঘাটার আশরাফ কোম্পানি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার দিন আগে ১৩ জন জেলে পাথরঘাটা থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায় ‘এফবি বরকত’। গতকাল সোমবার বিকেলে সাগরে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে ডুবে যাওয়া ট্রলারের কাছাকাছি থাকা পাথরঘাটার অপর একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা পানিতে ভাসতে থাকা আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া জেলেদের বরাত দিয়ে তারা ট্রলারডুবির বিষয়টি মালিকপক্ষকে জানান। এ ঘটনায় এখনো পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে কাজ করছে ট্রলার মালিক সমিতি। নিখোঁজ পাঁচ জেলের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ‘এফবি বরকত’ নামে একটি ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার খবর তারা অপর একটি ট্রলারের জেলেদের মাধ্যমে পেয়েছেন। খবর পাওয়ার পর ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারের জন্য ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আট জেলেকে উপকূলে নিয়ে আসা হচ্ছে।

ক্যামব্রিজ ও লেভেলে সাত বিষয়ে এ প্লাস পেলেন সাফওয়ান হোসেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
ক্যামব্রিজ ও লেভেলে সাত বিষয়ে এ প্লাস পেলেন সাফওয়ান হোসেন

ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের জুন ২০২৬ Cambridge O Level পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছেন সাফওয়ান হোসেন। রাজধানীর Scholastica Uttara-এর এই মেধাবী শিক্ষার্থী সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে প্রতিটিতেই A + গ্রেড অর্জন করেছেন। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, Mathematics Syllabus D বিষয়ে সাফওয়ান হোসেন পেয়েছেন ৯৯ নম্বর, Physics-এ ৯৮, Biology-তে ৯৬, English Language-এ ৯৫, Chemistry-তে ৯৪, Additional Mathematics-এ ৯৩ এবং Bengali-তে ৯২ নম্বর। সাতটি বিষয়ের মোট নম্বরের গড় দাঁড়িয়েছে ৯৫.৬ শতাংশ।
বিশেষ করে Mathematics-এ ৯৯ এবং Physics-এ ৯৮ নম্বর অর্জন তাঁর অসাধারণ একাডেমিক দক্ষতার প্রমাণ বহন করছে। বিজ্ঞান ও গণিতের পাশাপাশি ভাষাভিত্তিক বিষয়েও সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন তাঁর বহুমুখী মেধা ও ধারাবাহিক অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়েছে। সাফওয়ান হোসেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ডাচ-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (DBCCI) প্রেসিডেন্ট শাখাওয়াত হোসেন মামুন এবং শিল্প উদ্যোগতা শেখ সুবর্ণা রসুলের জ্যেষ্ঠ সন্তান। দুই ভাইয়ের মধ্যে সাফওয়ান বড় তাঁর ছোট ভাই সারওয়ান হোসেন। সাফওয়ানের এই কৃতিত্বে তাঁর পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর এমন সাফল্য শুধু পরিবারের জন্য নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দেশের জন্যও গর্বের বিষয়।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থায় এমন ফলাফল অর্জনের পেছনে শিক্ষার্থীর মেধার পাশাপাশি নিয়মিত অধ্যয়ন, কঠোর পরিশ্রম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অভিভাবকের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের যথাযথ দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাফওয়ানের সাত বিষয়ে A + অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এই সাফল্য দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীকেও পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সাফওয়ান হোসেনের এই অসাধারণ সাফল্যে দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে তিনি দেশের জন্য আরও গৌরব বয়ে আনবেন এমন প্রত্যাশা সবার।