খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

নারী ও পুরুষ : একে অপরের শক্তি ও সহযোগী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
নারী ও পুরুষ : একে অপরের শক্তি ও সহযোগী

নারী ও পুরুষের সম্পর্ক মানব সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম দিক। তারা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য বজায় রাখে। সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম ও বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সম্পর্ক গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। জীববিজ্ঞানের ভাষায়, নারী ও পুরুষ দুটি ভিন্ন লিঙ্গ হলেও তারা একে অপরের সাথে জীবনের মূল গঠন প্রক্রিয়ায় জড়িত। প্রজনন ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকা ভিন্ন হলেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুর জন্মের জন্য যেমন পুরুষের শুক্রাণু প্রয়োজন, তেমনই নারীর ডিম্বাণু ও গর্ভাধারণের ভূমিকা অপরিহার্য। এভাবে তারা একে অপরকে পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, যা মানবজাতির টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।

নারী-পুরুষের শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হলেও এই বৈচিত্র্য তাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে। পুরুষের শক্তি ও ধৈর্য সাধারণত শারীরিক কাজে কার্যকর, যেখানে নারীর সহানুভূতি ও পরিচর্যা সম্পর্কিত গুণাবলী পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

নারী ও পুরুষ একসঙ্গে সমাজ গঠন করেছে। প্রাচীন যুগে পুরুষ প্রধানত শিকার ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করত, আর নারী পরিবারের যত্ন ও খাবার সংগ্রহে মনোনিবেশ করত। যদিও আধুনিক যুগে এই ভূমিকার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে, তবুও এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এখনও আমাদের আচরণ ও সামাজিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলে। নারী ও পুরুষ উভয়েই সমাজে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে থাকে। একজন পুরুষ যেমন পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব নিতে পারে, তেমনি একজন নারীও কর্মজীবনে অংশগ্রহণ করতে পারে। বর্তমান সমাজে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, কারণ এটি শুধু তাদের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে না, বরং সমাজকে আরও উন্নত করে।

বিভিন্ন ধর্মে নারী ও পুরুষকে স্রষ্টার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মে নারী ও পুরুষ একে অপরের “লিবাস” (পোশাক) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যা পরস্পরের পূর্ণতা ও নিরাপত্তার প্রতীক। হিন্দুধর্মে স্ত্রী ও পুরুষকে “অর্ধনারীশ্বর” (শিব ও পার্বতীর মিলিত রূপ) বলে চিত্রিত করা হয়েছে, যা তাদের সমান গুরুত্ব বোঝায়। খ্রিস্টান ধর্মে ঈশ্বর আদম ও হাওয়াকে একে অপরের সহচর হিসেবে সৃষ্টি করেছেন বলে বলা হয়েছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নারী ও পুরুষের সম্পর্ক কেবল শারীরিক বা মানসিক নয়, বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক সংযোগ। একে অপরের সহায়তা ছাড়া তাদের পূর্ণতা লাভ সম্ভব নয়। আধুনিক সমাজে নারী ও পুরুষের ভূমিকা আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, এবং পুরুষও ঘরোয়া কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এই পরিবর্তন সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তি তৈরি করছে। তবে, এই পরিবর্তনের ফলে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। যেমন, অনেক ক্ষেত্রে কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও, নারী ও পুরুষের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে সহায়তা করে। নারী ও পুরুষের মধ্যে মানসিক সংযোগ তাদের সম্পর্কের ভিত্তি। এটি কেবল ভালোবাসা বা রোমান্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মধ্যে শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা সম্পর্ককে মজবুত করে। একটি পরিবার গঠন করার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়েরই ভূমিকা অপরিসীম। পুরুষের নেতৃত্ব ও সুরক্ষা এবং নারীর পরিচর্যা ও মানসিক সমর্থন একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু পরিবারের জন্য অপরিহার্য।

নারী ও পুরুষের সম্পর্ক যত গভীরই হোক, তাতে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন, সামাজিক সংস্কার, লিঙ্গবৈষম্য, এবং সমান সুযোগের অভাব। অনেক সমাজে পুরুষদের তুলনায় নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বা সামাজিক স্বীকৃতিতে নারী পিছিয়ে থাকতে পারে। অনেক সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার ও সংস্কার নারী ও পুরুষের সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। অনেক সময় নারী ও পুরুষের মধ্যে সঠিক যোগাযোগের অভাব সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি করে।

নারী ও পুরুষের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, সচেতনতা, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার। সমাজে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠার জন্য নারীর ক্ষমতায়ন ও পুরুষের মানসিকতার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। নারী ও পুরুষ যদি একে অপরকে সমান সম্মান দেয় এবং সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখে, তবে সমাজ আরও প্রগতিশীল ও শক্তিশালী হবে। নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। তাদের সম্পর্ক কেবল শারীরিক বা মানসিক নয়, বরং তা সামাজিক, সাংস্কৃতিক, এবং আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্কের মাধ্যমে মানবজাতি একদিকে যেমন টিকে আছে, তেমনি সমাজ, সংস্কৃতি, এবং সভ্যতার অগ্রগতিও নিশ্চিত হচ্ছে। তাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

পুরুষের শারীরিক চাহিদা পূরণ হলেই তার মানসিক শান্তি ফিরে আসে। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন নারী মানসিক শান্তি পেলে তবেই শারীরিক চাহিদার কথা ভাবে। নারী ও পুরুষের চাহিদার এই ভিন্নতার কারণেই তাদের সম্পর্ক আরও জটিল এবং গভীর। পুরুষের সমস্ত ডিপ্রেশন এবং ক্লান্তি দূর হয় সঙ্গীর সাথে শারীরিক সংযোগে। যদি আপনি আপনার পুরুষ সঙ্গীকে খুশি করতে চান, তবে তার সাথে অবশ্যই শারীরিক Attachment থাকা প্রয়োজন, এবং তা মন থেকে হতে হবে। নারীরা, বিপরীতে, মানসিক Attachment-এ বেশি গুরুত্ব দেয়। যদি তার মন ভালো থাকে, তাহলে সে স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক সংযোগে আগ্রহী হয়। কিন্তু যদি তার মানসিক অবস্থা ভালো না থাকে, তাহলে সে কোনো কিছুতেই সাড়া দেয় না। নারীর মনই তার আসল শক্তি। একজন নারী চাইলে একজন পুরুষের জীবনকে নতুন করে সাজাতে পারে। আবার সেই নারী চাইলে একজন পুরুষের জীবনকে পুরোপুরি নষ্টও করে দিতে পারে। একজন নারী চাইলেই একজন পুরুষকে সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। আবার চাইলে তাকে অসম্মানের তলানিতে নামিয়ে আনতে পারে।

নারী চাইলে একজন পুরুষকে আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ করতে পারে। আবার চাইলে তাকে নিঃস্ব করে দিতে পারে।
নারী চাইলে একটি সুন্দর পরিবার এবং সুখী সংসার গড়ে তুলতে পারে। আবার চাইলে সেই সংসারকে ধ্বংস করে দিতে পারে। নারী একজন পুরুষকে পরিবার, সমাজ, এবং নিজের প্রতি আবদ্ধ রাখতে পারে। আবার চাইলে সে পুরুষকে একা করে, পরিবারহীন করে ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারে।
নারী তার শিক্ষা, শক্তি, মায়া, ভালোবাসা এবং মমতার মাধ্যমে পুরো পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
নারী চাইলে একজন পুরুষকে শত খারাপ অভ্যাস থেকে মুক্ত করে ভালো মানুষে পরিণত করতে পারে। আবার ভালো মানুষকে নষ্ট করতেও সক্ষম। নারী, তোমার প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস। তুমি তোমার সৌন্দর্য, শিক্ষা, এবং ভালোবাসার শক্তি দিয়ে তোমার সংসার, পরিবার এবং সমাজকে সুন্দর করে তুলবে।

তোমার প্রেম হোক তোমার সংসার,
তোমার ভালোবাসা হোক তোমার স্বামী,
আর তোমার মায়ার বাঁধন হোক তোমার সন্তান।

নারী, তুমি চাইলেই অনেক কিছু করতে পারো। তুমি পারো, পুরো পৃথিবী বদলে দিতে। জীবনের পরিপূরক দুই অঙ্গ। নারী ও পুরুষ মানবজীবনের দুটি অপরিহার্য উপাদান। এদের মধ্যে সম্পর্ক শুধু শারীরিক বা মানসিক নয়, বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, এবং আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব বিস্তার করে। তারা একে অপরকে পরিপূরক হিসেবে সহযোগিতা করে মানবসভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। নারী ও পুরুষ একে অপরের উপর নির্ভরশীল। জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তারা প্রজনন প্রক্রিয়ায় সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুরুষের শক্তি ও উদ্যম এবং নারীর পরিচর্যা ও সহানুভূতি মানবজাতির টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।

প্রাচীনকাল থেকে সমাজে নারী ও পুরুষ ভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছে। পুরুষ প্রধানত বাহ্যিক কাজ এবং নিরাপত্তা প্রদান করত, আর নারী পরিবার ও সমাজের অন্তর্গত কাজগুলোর ভার বহন করত। আধুনিক যুগে এই দায়িত্ব পালনের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। এখন নারীরা কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সমান অবদান রাখছে, আর পুরুষরা পারিবারিক দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছে।

প্রত্যেক ধর্ম নারী ও পুরুষের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে, নারী ও পুরুষ একে অপরের পোশাকস্বরূপ, যা তাদের পারস্পরিক সুরক্ষা ও সম্মানের প্রতীক। অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মে স্ত্রী ও পুরুষকে “অর্ধনারীশ্বর” রূপে চিত্রিত করা হয়েছে, যা তাদের সমানতা ও একতার প্রতীক। সমাজে এখনও নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা অর্জন একটি চ্যালেঞ্জ। লিঙ্গবৈষম্য, কর্মক্ষেত্রে নারীর সুযোগের অভাব, এবং সামাজিক কুসংস্কার এই সমতা প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করে। তবে শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। তাদের সম্পর্কের মধ্যে সমতা, সম্মান, এবং সহযোগিতা থাকলে একটি সমাজ উন্নত ও স্থিতিশীল হয়। তাই তাদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানবজীবনের সব দিককে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।