খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

গণমাধ্যমে হলুদ সাংবাদিকতার প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠতা

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
গণমাধ্যমে হলুদ সাংবাদিকতার প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠতা

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। তথ্য সরবরাহ, জনমত গঠন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে গণমাধ্যমের এই শক্তির অপব্যবহার যখন শুরু হয়, তখন তা হয়ে ওঠে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’। বর্তমানে বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী হলুদ সাংবাদিকতার প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হলুদ সাংবাদিকতা বলতে এমন ধরনের সংবাদ পরিবেশনাকে বোঝায়, যেখানে সত্যের চেয়ে চাঞ্চল্য, গুজব, অর্ধসত্য, এবং অতিরঞ্জনের প্রতি বেশি মনোযোগ দেয়া হয়। এতে পাঠক বা দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তবে এর মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বিকৃত হয়। সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এমনকি সামাজিক মাধ্যমেও হলুদ সাংবাদিকতার বিস্তার লক্ষ্য করা যায়।
হলুদ সাংবাদিকতা অনেকগুলো বৈশিষ্ট আছে-অতিরঞ্জিত শিরোনাম, যাচাইবিহীন তথ্য, ব্যক্তিগত চরিত্রহনন, গুজব ও ভিত্তিহীন সংবাদের প্রচার, জনসচেতনতা বৃদ্ধির পরিবর্তে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।
মূলকত হলুদ সাংবাদিকতার শুরু মূলত ১৯ শতকের শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। উইলিয়াম র‌্যান্ডলফ হার্স্ট এবং জোসেফ পুলিৎজারের মধ্যে সংবাদপত্র বিক্রির প্রতিযোগিতায় চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশের প্রবণতা দেখা দেয়। তখন “ইয়েলো কিড” নামে একটি কমিক চরিত্র জনপ্রিয় হওয়ায় ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ শব্দটির জন্ম হয়। ধীরে ধীরে এটি একটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হতে থাকে। বর্তমান সময়ে, আধুনিক প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের বিকাশের সাথে সাথে হলুদ সাংবাদিকতার বিস্তার আরও দ্রুত হয়েছে।
বাংলাদেশে গণমাধ্যমের বিকাশ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১৯৯০-এর দশকের পর থেকে প্রিন্ট মিডিয়া ছাড়াও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং বর্তমানে অনলাইন মিডিয়া অনেক বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক বাজার, দর্শক আকৃষ্ট করার চাপ এবং বিজ্ঞাপন আয়ের নির্ভরতাই মূলত হলুদ সাংবাদিকতার প্রসারে ভূমিকা রাখছে। কিছু সংবাদপত্র ও চ্যানেল সত্যাসত্য যাচাই না করেই চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রচার করে থাকে। যার ফলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এমনকি জাতীয় নিরাপত্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
হলুদ সাংবাদিকতার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। যেমন-প্রতিযোগিতা এবং পাঠকসংখ্যা বাড়ানোর চাপ, বাজারে টিকে থাকার জন্য সংবাদমাধ্যমগুলো দ্রুততম এবং চিত্তাকর্ষক খবর প্রকাশের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। অর্থনৈতিক লাভের উদ্দেশ্য-বিজ্ঞাপনদাতারা যেখানে বেশি দর্শক বা পাঠকসংখ্যা দেখেন, সেখানে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেন। ফলে গণমাধ্যমগুলো দর্শকসংখ্যা বাড়াতে সংবাদের গুণগত মানের চেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে।
সাংবাদিকতার নৈতিকতার অভাব-অনেক সাংবাদিক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষা ছাড়াই পেশায় প্রবেশ করেন, যা হলুদ সাংবাদিকতার বিস্তার ঘটায়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-কিছু সংবাদমাধ্যম রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার-সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা মূলধারার মিডিয়াতেও স্থান পায়, ফলে হলুদ সাংবাদিকতা বাড়ে।
হলুদ সাংবাদিকতার নানামূখী প্রভাব রয়েছে-তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জনমনে বিভ্রান্তি-ভিত্তিহীন এবং অতিরঞ্জিত সংবাদ জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, যা সামাজিক বিশৃঙ্খলা ডেকে আনতে পারে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনামহানি-মিথ্যা বা অপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের ফলে ব্যক্তিগত জীবনে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। গণমাধ্যমের উপর আস্থা কমে-বারবার হলুদ সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা জনগণকে গণমাধ্যমের প্রতি অবিশ্বাসী করে তোলে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষতি-প্রকৃত তথ্যের অভাবে নাগরিকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে। সামাজিক অস্থিরতা-বিশেষ করে গুজব নির্ভর সংবাদ দ্রুত সামাজিক উত্তেজনা ও সহিংসতা সৃষ্টি করতে পারে।
হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিরোধের আমাদেও অনেক করণীয় রয়েছে-যেমন নৈতিক সাংবাদিকতা চর্চা-সাংবাদিকদের উচিত নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব মেনে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করা। সঠিক তথ্য যাচাই না করে কোনো সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়। সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা-গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার শিক্ষা প্রয়োজন। গণমাধ্যমের স্বনিয়ন্ত্রণ-গণমাধ্যমগুলো নিজেরাই নিজেদের কার্যক্রমের জন্য দায়বদ্ধ থাকতে হবে। প্রেস কাউন্সিল বা সাংবাদিকতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। আইনগত ব্যবস্থা-ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তবে এতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি-পাঠক ও দর্শকদের সচেতন হতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো খবর বিশ্বাস করা উচিত নয়। মিডিয়া লিটারেসি শিক্ষার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তোলা জরুরি। সত্য-নির্ভর সাংবাদিকতার উৎসাহ-সংবাদের মান ও নির্ভরযোগ্যতার জন্য পুরস্কার ও স্বীকৃতি প্রদান করা হলে সাংবাদিকরা হলুদ সাংবাদিকতার পরিবর্তে গঠনমূলক সাংবাদিকতার দিকে আগ্রহী হবে। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ-
ফেক নিউজ বা গুজব রোধে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং সরকারিভাবে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করতে হবে।
হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিরোধে বাংলাদেশে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে গণমাধ্যম নীতিমালা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে কিছুটা হলেও হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, কিছু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করে সংবাদ যাচাইয়ের পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন যেমন প্রেস কাউন্সিল, সাংবাদিক ইউনিয়ন ইত্যাদি সংগঠন সংবাদ পরিবেশনায় নৈতিকতার প্রচারণা চালাচ্ছে।
গণমাধ্যম আধুনিক সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু সংবাদ পরিবেশন করে না, বরং জনমত গঠনে, গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে গণমাধ্যমের এই শক্তি তখনই ইতিবাচক হয় যখন এটি বস্তুনিষ্ঠতার সাথে পরিচালিত হয়। বস্তুনিষ্ঠতা মানে হলো সত্যতা, নিরপেক্ষতা এবং পক্ষপাতহীনভাবে তথ্য উপস্থাপন করা। গণমাধ্যম যদি বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে তা জনগণের কাছে ভুল বার্তা প্রেরণ করে এবং সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হলো তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করে তা যথাযথভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সংবাদ পরিবেশনের সময় ব্যক্তিগত মতাদর্শ, রাজনৈতিক পক্ষপাত কিংবা বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রভাবিত না করতে পারাই হলো বস্তুনিষ্ঠতা। একজন সাংবাদিকের কর্তব্য হচ্ছে তথ্যের উৎস যাচাই করা, ভিন্নমতকে সম্মান দেখানো এবং ঘটনার সবদিক তুলে ধরা। পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশন সমাজে বিভাজন তৈরি করে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।
আজকের বিশ্বে ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট এবং অনলাইন মাধ্যমের বিপুল বিস্তারের কারণে সংবাদ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিযোগিতার এই যুগে কিছু গণমাধ্যম দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন বা অর্থনৈতিক লাভের জন্য অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে থাকে। এতে পাঠক বা দর্শকের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়। গণমাধ্যমের উচিত — সংবাদের গতি নয়, গুণগত মানের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া। একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই পারে সঠিক তথ্য তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করতে।
গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষার জন্য প্রয়োজন স্ব-নিয়ন্ত্রণ এবং নৈতিকতা। সাংবাদিকদের অবশ্যই তাদের পেশাগত নীতিমালা মেনে চলতে হবে। একই সাথে, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে হবে। বিজ্ঞাপনী স্বার্থ বা কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার করা গণমাধ্যমের জন্য আত্মঘাতী। বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম জনগণের আস্থা অর্জন করে, আর এই আস্থাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
তাছাড়া, সাধারণ জনগণেরও গণমাধ্যমের ওপর নজরদারি রাখা প্রয়োজন। ভোক্তাদের সচেতনতা গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ থাকার জন্য উৎসাহিত করে। আজকের যুগে সামাজিক মাধ্যমের বিস্তারে সাধারণ মানুষও সংবাদ প্রচারের অংশ হয়ে উঠেছে। তাই সংবাদ যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি। মিথ্যা সংবাদ বা গুজবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এবং সত্য-ভিত্তিক তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে নাগরিকরাও গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সর্বশেষে বলা যায়, গণমাধ্যমের শক্তি তখনই প্রকৃত অর্থে সমাজের কল্যাণে আসে যখন সেটি বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখে। পক্ষপাতমুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও সত্যনিষ্ঠ গণমাধ্যমই পারে একটি সুস্থ, উন্নত ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে।
গণমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি হলো সত্য এবং জনস্বার্থ রক্ষা। হলুদ সাংবাদিকতা সেই শক্তিকে দুর্বল করে জনগণের আস্থা বিনষ্ট করে। তাই গণমাধ্যমের উচিত সত্যের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা এবং নৈতিকতার আদর্শ অনুসরণ করা। একইসঙ্গে পাঠক, দর্শক, সরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
তথ্যভিত্তিক, নিরপেক্ষ এবং গঠনমূলক সাংবাদিকতাই পারে গণতন্ত্রকে মজবুত করতে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে। সুতরাং, আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলুদ সাংবাদিকতার বিষয়ে সচেতন থাকা, এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ব্যাচ ২০২১, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ, ঢাকা।

কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। গত কয়েক দিন থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ।হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। হাসপাতালে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া বলেন, আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়েরি তাই ভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল বেলা ঠান্ডা ও শীতে বাড়িত থাকি বের হওয়া যায় না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ চলমান রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই জারি করা হয়েছে এ সতর্কতা। ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক হয়েছে। মূলত ইরান পরিস্থিতিই ছিল সেই ফোনালাপের একমাত্র বিষয়বস্তু। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে নেতানিয়াহু-রুবিওর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগের দিন শুক্রবার মার্কিন দৈনিক দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইরান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমার মনে হয় কোনো ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে কী ঘটছে, তা দেখা। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল ও ইরান। টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সেবার।

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে তিনটি ও সদরের দক্ষিণ বাজারের গোডাউন এলাকায় ৪টি অভিযানে সাতটি মামলায় মোট দশ ডিলারকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও নিরুপম মজুমদার। ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্যে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘টিভিতে দামের ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।’ ক্রেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।’ খুশবু আক্তার বলেন, ‘তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।’
পরিবেশক মোহাম্মদ কাজল ও ফাহিম বলেন, ‘গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক।’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।’ রায়পুর উপজেলা পরিষদের সামনে পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।’
ওমেরা ও যমুনা এলপিজির পরিবেশক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওমেরা ও যমুনা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের ৭ জনকে ৪২ হাজার ও রায়পুর শহরের ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা কঠিন হবে।’
রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লুধুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এলপিজি বাজারের অনিয়ম উদ্বেগজনক। সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান, কঠোর শাস্তি ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। না হলে নির্ধারিত দাম কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাছান বলেন, লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি-এর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে সদরে ৭টি মামলায় ৪২ হাজার টাকা এবং রায়পুরে তিন মামলায় ১১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।