খুঁজুন
                               
, ,

রক্ষকই যখন ভক্ষক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
রক্ষকই যখন ভক্ষক

সিলেটের ভোলাগঞ্জে রেলওয়ের জন্য সংরক্ষিত প্রস্তর কোয়ারি তথা ‘রেলের বাঙ্কার’ হইতে যেইভাবে প্রকাশ্যে প্রস্তর উত্তোলন এবং শত শত নৌকা পূর্ণ করিয়া লইয়া যাইতেছে, উহা লুণ্ঠনেরই নামান্তর। বুধবার বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত  প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংরক্ষিত এলাকাটির নজরদারির জন্য রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী-আরএনবি রহিয়াছে। ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা হইবার কারণে তথায় বিজিবি সদস্যরাও সক্রিয়।

তথাপি এইরূপে সংঘবদ্ধ লুণ্ঠন কীভাবে চলিতে পারে, উহা মস্তিষ্কে ধারণ করিতে বিশেষজ্ঞ হইবার প্রয়োজন নাই। কেবল রেলওয়ের বাঙ্কারই নহে; খোদ ভোলাগঞ্জ কোয়ারি হইতেই লুট হইয়াছে প্রস্তর। বিগত ১০ মাসে ইহা এমন অধিক হারে ঘটিয়াছে, এই সাম্রাজ্যে এখন প্রস্তরের পরিবর্তে ছোট-বড় অসংখ্য গহ্বর দৃশ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মদদেই এই অবিমৃষ্যকারিতা চলিতেছে। তবে রেলের বাঙ্কার এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকিলেও তথাকার লুটপাটের চিত্র সমস্ত এলাকার সংকটাপন্ন পরিস্থিতিরই সাক্ষ্যবহ।

সমকালের সচিত্র প্রতিবেদনে রেলওয়ের প্রস্তরক্ষেত্রের চতুর্দিকে ভিড় পরিলক্ষিত। সূর্যতাপ ও বৃষ্টিধারা হইতে রক্ষাকল্পে রীতিমতো বংশদণ্ডে ত্রিপল ও প্লাস্টিকের আচ্ছাদনও লাগানো হইয়াছে। রেলওয়ের মালিকানাধীন তথা সরকারি এই সম্পদের প্রহরীদিগের নিষ্ক্রিয়তাই প্রমাণ করিতেছে– রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। সংশ্লিষ্টদের সহিত সাক্ষাতে নিশ্চিত হইয়াছেন, প্রতিটি নৌকা হইতে আরএনবি সদস্যরা দুই-তিনশ টাকা বাম হস্তে গ্রহণ করিয়া থাকে। বিজিবি সদস্যদের তিনশত হইতে পাঁচশত টাকা দিতে হয় এবং প্রতি নৌকা তিন হইতে পাঁচ সহস্র টাকায় প্রস্তর বিক্রয় হয়। অর্থাৎ প্রস্তর লুণ্ঠন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে গড়িয়া উঠিয়াছে চোরাই বিপণি!

প্রায় সাড়ে তিনশত একরের রেলওয়ের বাঙ্কারের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রস্তর এই প্রকারে আহরণের কারণে টিলাসমূহ প্রায় সমতল ভূমিতে রূপ লইয়াছে। তথায় তৈয়ার হইয়াছে অসংখ্য গহ্বর, যেইগুলি বৃষ্টিধারায় ডোবায় পরিণত। এই প্রস্তর তুলিবার কারণে ভয়াবহ পরিবেশগত ও মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈয়ার হইয়াছে। যাহার ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, তৎসহিত নদীভাঙন, ভূমিধস ও প্রাণহানির ন্যায় অঘটনও ঘটমান।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলার তথ্যানুযায়ী, সিলেট জেলার আটটি প্রস্তর কোয়ারি রহিয়াছে। এই সকল জায়গায় ‘বোমা মেশিন’ ব্যবহার করিয়া প্রস্তর উত্তোলন পরিবেশ ও জনপদে ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। যেই কারণে উচ্চ আদালত যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করিবার রায় দিয়াছেন। কিন্তু ৫ আগস্ট সরকারের পতন হইলে পূর্বোক্ত রায় উপেক্ষা করিয়াই স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিকগণ পুনরায় প্রস্তর লুণ্ঠনের অশুভ সূচনা করিয়াছেন।

ভোলাগঞ্জে প্রস্তর কোয়ারি হইতে এই লুণ্ঠনের পর আমরা দেখিতেছি সংরক্ষিত এলাকা রেল বাঙ্কারের প্রস্তরও নিষ্কৃতি পাইতেছে না।

আমরা মনে করি, নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর হইলে এহেন লুণ্ঠনকর্ম রোধ করা দুষ্কর হইবে না। এতদিন ধরিয়া তাহারা কেন দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা প্রদর্শন করিয়াছে, তজ্জন্য তাহাদের জবাবদিহি করিতে হইবে। প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা পালন করিলে সিলেটের এই প্রস্তররাজ্য পুনরুদ্ধার সম্ভব। বিশেষত, শ্বেতপ্রস্তরের সৌন্দর্য দর্শন করিতে তথায় পর্যটক যেইভাবে ছুটিয়া যান, সেই পরিবেশ রক্ষা করিতে হইবে। প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাইলে প্রস্তরের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ হইতে পারে। অন্যথায়, দেশের সম্পদের লুণ্ঠন যদ্রূপ বৃদ্ধি পাইবে, তদ্রূপ প্রতিবেশ ব্যবস্থাও পড়িবে ঝুঁকিতে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে সব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে সব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন আইন অনুযায়ী সব ধরনের সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী মো. সাহাবুদ্দিন সব ধরনের সুবিধা পাবেন। তার নিরাপত্তার জন্য এসএসএফ ও পিজিআরসহ ছয় মাসের একটি বিধান রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকেও তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। আইন অনুযায়ী যেসব সুবিধা প্রাপ্য, সেগুলোর সবই তিনি পাবেন। মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংকটময় সময়ে তিনি সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিধি-বিধান অনুযায়ীই তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি।
তিনি বলেন, সেই সময় সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষা (প্রিভিলেজ) ভোগ করতেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে বা এ-সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে কোনো মামলা করা যায় না। তবে এর বাইরে কোনো সময়ের বক্তব্য নিয়ে কেউ মতামত দিলে, সেটি তাদের স্বাধীনতা। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বিষয় সেখানে দেখিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের সে অধিকার রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল, মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে, সেটি রয়েছে। এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। তবে আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য সেখানে নেই।

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত! অনুমোদিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’। ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিন জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পল্লী সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুঃস্থ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং পেট্রোবাংলার উদ্যোগে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘১টি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের জন্য তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার প্যাকেজগুলোর ঘোষণা দেন। এ সময় হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার খাওয়া ও কোরবানিসহ তিনটি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
হাব জানায়, তিনটি প্যাকেজের মধ্যে বিশেষ প্যাকেজ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা, সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ও সাশ্রয়ী প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবার সাশ্রয়ী প্যাকেজের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টাকা বেশি। এ ছাড়া বিশেষ হজ প্যাকেজে ব্যয় বেড়েছে ৪১ হাজার ৬০ টাকা।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ২০২৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ২টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) এর খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা।