খুঁজুন
                               
, ,

আধুনিক সাংবাদিকতায় জনজীবনের উপর প্রভাব

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৫, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
আধুনিক সাংবাদিকতায় জনজীবনের উপর প্রভাব

আধুনিক সাংবাদিকতা জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে, কারণ এটি শুধু তথ্য পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের মতামত গঠন, সামাজিক পরিবর্তন এবং নীতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং অনলাইন সাংবাদিকতার কারণে তথ্য এখন দ্রুত এবং সহজলভ্য। এটি মানুষকে বিশ্বব্যাপী ঘটমান ঘটনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। সাংবাদিকতা জনমত তৈরির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। প্রতিবেদনের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করা সম্ভব। বিশেষত, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে সংবাদ পরিবেশন জনমতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের দায়বদ্ধ রাখা সম্ভব। দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অন্যায় প্রকাশ করার মাধ্যমে সাংবাদিকতা জনস্বার্থ রক্ষা করে। সাংবাদিকতা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করে এবং সচেতন করে। এটি স্বাস্থ্য, পরিবেশ, অধিকার, এবং সামাজিক সমস্যাগুলোর বিষয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সাংবাদিকতা সামাজিক আন্দোলন এবং সংস্কৃতির পরিবর্তনে ভূমিকা পালন করে। নারী অধিকার, মানবাধিকার, এবং পরিবেশগত ইস্যুতে জনমত গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আধুনিক সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভুয়া খবর এবং প্রোপাগান্ডার বিস্তার। ভুল তথ্য জনজীবনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতা বাড়ায়। একটানা নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের কারণে মানুষ মানসিক চাপ এবং হতাশার শিকার হতে পারে। তাই সাংবাদিকতার ইতিবাচক এবং ভারসাম্যপূর্ণ দিকও জরুরী।

আধুনিক সাংবাদিকতা জনজীবনে একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। তবে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এর ইতিবাচক দিকগুলোকে কাজে লাগানো সম্ভব, যা একটি সচেতন ও উন্নত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আধুনিক সাংবাদিকতা জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে এবং শাসকগোষ্ঠীকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসে। এটি নির্বাচন, রাজনৈতিক আলোচনা এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে সাংবাদিকতা আরও গতিশীল ও বহুমাত্রিক হয়েছে। এখন প্রত্যেকেই সাংবাদিকতার একটি অংশ হয়ে উঠছে (যেমন: সিটিজেন জার্নালিজম)। এটি তথ্য প্রবাহকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং জনগণকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, মহামারি বা রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতিতে সাংবাদিকতা জরুরি তথ্য দ্রুত পৌঁছে দিয়ে জীবন রক্ষায় ভূমিকা পালন করে। এটি দুর্যোগকালীন সময়ে জনগণের সঠিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সহায়ক।

সাংবাদিকতা অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে, যেমন শেয়ারবাজারের খবর, পণ্যমূল্যের ওঠানামা বা নতুন নীতিমালা। এটি ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

সাংবাদিকতা ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পণ্যের গুণগত মান, প্রতারণা, এবং বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাই করে সাংবাদিকতা জনগণের স্বার্থে কাজ করে।

শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয় যেমন নতুন নীতি, পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন, এবং শিক্ষার সুযোগ নিয়ে আধুনিক সাংবাদিকতা জনগণকে সচেতন করে। এটি শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়।

আধুনিক সাংবাদিকতা মানুষকে শুধু তাদের স্থানীয় পরিবেশের খবর জানায় না, বরং বিশ্বব্যাপী সংযোগ ঘটায়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক রাজনীতি, এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তন নিয়ে তথ্য মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।

সাংবাদিকতা বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়। এটি সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখে এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা বাড়ায়।

আধুনিক সাংবাদিকতা মানুষের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে এবং অসাম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলে। এটি অবহেলিত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরে।

সাংবাদিকতা প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং উদ্ভাবন নিয়ে সচেতনতা তৈরি করে। নতুন আবিষ্কার, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি নিয়ে রিপোর্টিং মানুষকে উন্নত জীবনের দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। তরুণ প্রজন্ম সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্কে সচেতন হয়। এটি তাদের ভবিষ্যৎ গঠন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য প্রভাবিত করে।

আধুনিক সাংবাদিকতা জনজীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে। এর ইতিবাচক দিকগুলো যেমন সমাজে সচেতনতা, উন্নয়ন, এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, তেমনই এর অপব্যবহার বিভ্রান্তি, মিথ্যা প্রচার এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। সঠিক নৈতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সাংবাদিকতা পরিচালিত হলে এটি সমাজকে আরও উন্নত করতে পারে।

আধুনিক সাংবাদিকতা জনজীবনে গভীর ও বিস্তৃত প্রভাব ফেলছে, এবং এটি সমাজের বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূত্রপাত করছে। আরও কিছু দিক বিশদভাবে উল্লেখ করা হলো: সাংবাদিকতা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। প্রথাগত কুসংস্কার ও ধ্যানধারণা ভাঙার মাধ্যমে এটি মানুষকে প্রগতিশীল ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে সহায়তা করে।আধুনিক সাংবাদিকতা পরিবেশের সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে। এটি জনসাধারণ এবং নীতিনির্ধারকদের পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হতে অনুপ্রাণিত করে।

ডিজিটাল সাংবাদিকতা মানুষের জীবনধারা প্রযুক্তি-নির্ভর করে তুলেছে। লাইভ নিউজ, মোবাইল নোটিফিকেশন, এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে গতিশীল করেছে।

সংবাদমাধ্যম অপরাধের ঘটনা তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলিকে সক্রিয় হতে বাধ্য করে। পাশাপাশি, এটি নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

আধুনিক সাংবাদিকতা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে। যেমন: নতুন রোগ, ভ্যাকসিন, স্বাস্থ্যনীতি, এবং প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা। মহামারীর সময়ে এটি আরও কার্যকর হয়ে ওঠে। সাংবাদিকতা বিনোদন জগতের খবর যেমন সিনেমা, সংগীত, এবং নাটকের প্রচার করে। এটি সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায় এবং শিল্পীদের কাজ সবার সামনে তুলে ধরে। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সাংবাদিকতা যেমন সহজলভ্যতা বাড়িয়েছে, তেমনই এর ফলে ভুল তথ্য ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাংবাদিকতা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং এবং দায়িত্বশীল রিপোর্টিংয়ের গুরুত্ব বাড়াচ্ছে।

আঞ্চলিক সাংবাদিকতা মানুষের স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরে। রাস্তা, পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভাবের মতো বিষয়গুলো সরকারের নজরে এনে সমাধান করতে সাহায্য করে।

আধুনিক সাংবাদিকতা নারী অধিকার, সমতা এবং তাদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে। এটি নারীশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

সাংবাদিকতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম রাজনীতি, ইতিহাস, অর্থনীতি এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে পারে। এটি তাদের জ্ঞান বৃদ্ধি এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়ক।সাংবাদিকতা মানুষকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের কার্যক্রম নিয়ে বিশ্লেষণ বা বিতর্ক অনুষ্ঠান মানুষের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং দুর্যোগের খবর পৌঁছে দিয়ে বৈশ্বিক সহানুভূতি সৃষ্টি করে। এটি মানবিক সাহায্যের জন্য জনগণ এবং সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করা।

আধুনিক সাংবাদিকতা শুধুমাত্র তথ্য সরবরাহের মাধ্যম নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তবে এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব নিশ্চিত করা সম্ভব। এজন্য সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সত্যতা, এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

লেখক: উজ্জ্বল হোসাইন, গনমাধ্যম ও‌ সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ২০২১, পিআইবি।

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত! অনুমোদিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’। ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিন জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পল্লী সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুঃস্থ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং পেট্রোবাংলার উদ্যোগে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘১টি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের জন্য তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার প্যাকেজগুলোর ঘোষণা দেন। এ সময় হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার খাওয়া ও কোরবানিসহ তিনটি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
হাব জানায়, তিনটি প্যাকেজের মধ্যে বিশেষ প্যাকেজ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা, সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ও সাশ্রয়ী প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবার সাশ্রয়ী প্যাকেজের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টাকা বেশি। এ ছাড়া বিশেষ হজ প্যাকেজে ব্যয় বেড়েছে ৪১ হাজার ৬০ টাকা।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ২০২৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ২টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) এর খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা।

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

ভারতের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিটের) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভ গড়িয়েছে টানা তৃতীয় দিনে। সংঘাত ও বিক্ষোভের মধ্যেই বুধবার (২২ জুলাই) সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকার পার্লামেন্টে প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সরকারি সূত্রগুলো। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংসতার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সেদিনের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাটি পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা উদ্ধৃত করে কিরেন রিজিজু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এনডিএ শরিকদের সংসদের সব ধরনের কাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোকে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ এবং যুবসমাজের কল্যাণে কাজ করা সব সংসদ সদস্যের যৌথ দায়িত্ব।’