খুঁজুন
                               
, ,

আধুনিক সংবাদিকতার প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
আধুনিক সংবাদিকতার প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ

সাংবাদিকতা একটি সমাজের প্রতিচ্ছবি এবং গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। এর মাধ্যমে জনগণের মতামত গঠিত হয়, সমাজের বিভিন্ন সমস্যার প্রতিফলন ঘটে এবং সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা প্রযুক্তির বিকাশ, সমাজের পরিবর্তনশীল চাহিদা এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িত। আমরা জানি, সাংবাদিকতার মূল কাজ হলো তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এটি সমাজে গণতন্ত্র রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। সাংবাদিকরা কেবল তথ্য সরবরাহ করেন না। তারা মতামত তৈরি করেন, সচেতনতা বৃদ্ধি করেন এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটান। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতার ভূমিকা আরও বিস্তৃত এবং জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সোস্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের প্রসার সাংবাদিকতার ধরণে বিপ্লব ঘটিয়েছে।
পত্রিকা, টেলিভিশন বা রেডিওর মতো প্রচলিত মাধ্যম ছাড়াও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ব্লগ, পডকাস্ট এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলি নতুন প্রজন্মের সংবাদ গ্রহণের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
পাশাপাশি ফেসবুক, টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। তবে এখান থেকে ভুল তথ্য বা ভুয়া খবরের সমস্যাও বেড়ে গেছে।
সবাই জানি যে, সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা। কিন্তু বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের উপর রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক সময় মিডিয়া হাউসগুলো রাজনৈতিক দল বা কর্পোরেট স্বার্থের পক্ষপাতিত্ব করে থাকে। এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের কাছে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
বিভিন্ন সময় সাংবাদিকতার মান উন্নত করার জন্য গভীর সাংবাদিকতা (ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গভীর সাংবাদিকতা সরকারের দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সামাজিক অন্যায় উন্মোচনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তবে বর্তমান যুগে দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতার কারণে অনেক সময় এই ধরনের গভীর সাংবাদিকতার অভাব দেখা যায়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি :
১. ভুয়া খবর : প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার কারণে ভুয়া খবর ছড়ানো সহজ হয়ে গেছে। ফলে সত্যতা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
২. রাজনৈতিক চাপ : বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকদের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
৩. অর্থনৈতিক চাপ : অনেক মিডিয়া হাউস অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন। বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভরশীলতা সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
৪. জনগণের আস্থা : ভুল তথ্য, পক্ষপাতিত্ব এবং সেনসেশনালিজমের কারণে সাংবাদিকতার উপর থেকে জনগণের আস্থা কমছে। তবে চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন : আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (অও), বিগ ডেটা এবং ড্রোন সাংবাদিকতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
গণমাধ্যমের বিকেন্দ্রীকরণ : ছোট ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলো বিকশিত হচ্ছে, যা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে সহায়ক।
সচেতন পাঠকসমাজ : বর্তমান যুগে মানুষ সত্যতা যাচাই করার ব্যাপারে আরও সচেতন হয়ে উঠছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতা যেমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তেমনি এর সম্ভাবনাও বিশাল। এর মাধ্যমে সমাজে সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার কাজ আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে এজন্য সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।
আধুনিক সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ : আধুনিক সাংবাদিকতা প্রযুক্তি, সমাজ এবং রাজনীতির গতিশীল পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। তথ্য সংগ্রহ এবং পরিবেশনের ক্ষেত্রে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারে ভুয়া খবর বা ভধশব হবংি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্লগের মাধ্যমে অপ্রমাণিত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এখন অনেক সহজ। এর ফলে সংবাদমাধ্যমগুলোর উপর সত্যতা যাচাইয়ের বড় চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রাজনৈতিক চাপ ও সেন্সরশিপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের হয়রানি, গ্রেপ্তার, এমনকি হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। গণমাধ্যমগুলো বিজ্ঞাপন আয়ের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এর ফলে কর্পোরেট স্বার্থ এবং বাণিজ্যিক চাপের কারণে অনেক সময় সত্য তথ্য প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আধুনিক সাংবাদিকতায় অনেক সময় রাজনৈতিক বা কর্পোরেট পক্ষপাতিত্ব লক্ষ্য করা যায়। নিরপেক্ষতার অভাব সংবাদমাধ্যমের উপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। যদিও প্রযুক্তি সাংবাদিকতার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তবে এটি নতুন চ্যালেঞ্জও এনেছে। তথ্য ফাঁস এবং সাইবার আক্রমণ সাংবাদিকদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অ্যালগরিদম নির্ভর সংবাদ পরিবেশনে মানবিক বিশ্লেষণের অভাব দেখা দেয়।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য সংবাদ দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার চাপ থাকে। এর ফলে অনেক সময় সংবাদ যাচাই না করেই প্রকাশিত হয়, যা ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক সংবাদমাধ্যম অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার লড়াই করছে। প্রিন্ট সাংবাদিকতার চাহিদা কমে যাওয়ায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেও পর্যাপ্ত আয় নিশ্চিত করা কঠিন। পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অনেক সময় সংবাদমাধ্যমগুলো অতিরঞ্জিত শিরোনাম বা ক্লিকবেট ব্যবহার করে। এটি সাংবাদিকতার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করে।
সোশ্যাল মিডিয়া সাংবাদিকতার জন্য যেমন একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, তেমনি এটি সাংবাদিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও প্রায়ই তথ্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। আধুনিক পাঠকরা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। সাংবাদিকতার প্রতি তাদের চাহিদা ও প্রত্যাশা দ্রুত বদলাচ্ছে। এটি সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
আধুনিক সাংবাদিকতা চ্যালেঞ্জে পূর্ণ, তবে এই চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলার মধ্যেই এর উন্নতির পথ রয়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, সত্যতা যাচাই, এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ববোধ ধরে রাখার মাধ্যমে সাংবাদিকতা সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, গণমাধ্যম সাংবাদিকতায় মাস্টার্স (ব্যাচ ২০২১), প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।

সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

রাঙামাটির সাজেকে স্থানীয় সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মুখে আটকে পড়া প্রায় দুই হাজার পর্যটককে সম্পূর্ণ নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুর রকিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের কঠোর পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন পর্যটকরা। তবে দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে মাঝপথে উজো বাজারসহ কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বাধার মুখে পড়েন তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের বহর নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বারবার এমন অবরোধের ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং সাধারণ মানুষের জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বাসসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর আগে সফরের প্রথম দিন তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। সে হিসেবে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারে স্বর্ণের বিক্রয় মূল্য কমানো হচ্ছে। নতুন এই মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিলো বাজুস। ওই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৯১ টাকায়।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার গহনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকবে। ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকারের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ঘোষিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।