খুঁজুন
                               
, ,

চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে জাহাজে সেভেন মার্ডারে যা ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে জাহাজে সেভেন মার্ডারে যা ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে সারবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে সাত জনকে হত্যার উদ্দেশ ডাকাতি নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পেছনে অন্য রহস্য আছে বলে তারা ধারণা করছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে পুলিশ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, সিআইডি ও প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। ধারণা করা হচ্ছে, নৌপথে অস্থিরতা তৈরি করতেই এ হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটানো হয়েছে।

নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ৮ জন নয়, সেখানে আমরা ৯ জন থাকার খবর পাচ্ছি। এরই মধ্যে আমাদের কাছে আরো নানা তথ্য আসছে। এটা প্রথম দিকে ডাকাতি মনে হলেও এখন এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ধরেই আমরা এগুচ্ছি। নৌপথে অস্থিরতা তৈরি করতেই এমনটি করা হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখছি। সকাল ১১টার দিকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এর আগে চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাটের পশ্চিমে মেঘনা নদীর পাড়ে মাঝিরচর এলাকায় একটি জাহাজ থেকে সোমবার বিকেল ৩টার দিকে পাঁচজনের মরদেহ এবং তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে আরও ২ জন মারা যান। নিহত সবার নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়া, ইঞ্জিনচালক সালাউদ্দিন, সুকানি আমিনুল মুন্সি, গ্রিজার সজিবুল, রানা, সবুজ, নিস্বার্থ। এদের বাড়ি নড়াইল ও ফরিদপুর জেলায়। এছাড়া গুরুতর আহত ব্যক্তির নাম জুয়েল। এমন লোমহর্ষক ঘটনা দেখে বিস্মিত চাঁদপুরবাসী। তারা এ ঘটনার রহস্য উন্মোচনসহ দ্রুত জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এদিকে জাহাজটি নোঙ্গর করা অবস্থায় ছিলো না বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা জানান, এটি স্রোতের টানে ঈশানবালা ঘাটের দিকে আটকে ছিলো।

বিভিন্ন জাহাজের সংশ্লিষ্টদের বরাত দিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এমভি আল-বাখেরা জাহাজের মালিক একাধিক ব্যক্তি। মাষ্টার নিয়োগসহ লেনদেনে দ্বন্দ্ব থেকেও এ হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটানো হতে পারে। এদিকে এমভি আল-বাকেরা জাহাজে সাতজন ক্রু সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। আগামী ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যম কর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে আলোচনায় বসেছি। এভাবে অনিরাপদভাবে কার্গো জাহাজ চলাচল করতে পারে না। আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই। তাই অচিরেই আমরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি হাতে নিতে যাচ্ছি।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিরাপত্তা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। এখন থেকে নিরাপত্তা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ শুরু করেছি। আশা করছি এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উন্মোচিত হবে। এদিকে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার রহস্য উন্মোচনে ছায়া তদন্তে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম। ইতিমধ্যেই ওই জাহাজ থেকে রক্তমাখা চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।

নৌ-পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক শেখ আব্দুস সবুর বলেন, প্রথমে জাহাজে ৮ জন থাকার কথা জানলেও পরে ৯ জন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এখন যিনি সুস্থ আছেন তিনিই ভালো বলতে পারবেন বাকি যে ব্যক্তি তার পরিচয়। এটি ডাকাতির ঘটনা মনে হয়নি। জাহাজে প্রায় ২ কোটি টাকার সার ছিলো, যার কিছুই লুট হয়নি। এছাড়া জাহাজেরও কোন ক্ষতি হয়নি। তাই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ সময় এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “নোঙ্গর অবস্থায় জাহাজটি পাওয়ার বিষয়টি এখনো আমরা নিশ্চিত নই। আবার যাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাকে ঘিরেও কোনো নাটকীয়তা আছে কিনা তাও তদন্তের বিষয়। মালিক পক্ষের কোনো ঝামেলা থেকে এ ঘটনা কিনা তাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “ধারণা করছি রবিবার রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা সোমবার দুপুর ২টার দিকে খবর পেয়েছি। এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রত্যেকের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। জাহাজের পাঁচটি কক্ষে পাঁচ জনের লাশ পেয়েছি আমরা। আরও তিন জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পেয়েছি। পরে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুজনের মৃত্যু হয়। আটজনই জাহাজটিতে ছিলেন। ধারণা করছি, ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।”

এদিকে জাহাজটির একাধিক মালিকানার তথ্য নিশ্চিত করেছেন এর অন্যতম মালিক মাহবুব মোর্শেদ। তিনি বলেন, “আমরা ৬ জন এই জাহাজটির মালিকানায় রয়েছি। তবে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। তাছাড়া মাষ্টার ও একজন স্টাফ ছাড়া আমরা কাউকেই নিয়োগ দেই না। এগুলো নিয়ে মাথাও ঘামাই না আমরা। জাহাজে কতজন কাজ করবে সেটা মাষ্টারই ঠিক করেন। জাহাজটিতে ৮ জন নাকি ৯ জন ছিলো তা আমি বা আমরা কেউই নিশ্চিত নই। আমরাও চাই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত জানা যাক।

এর আগে রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় সারবোজাই করে চট্টগ্রামের কাপ্পো জেটি হতে মেসার্স বৃষ্টি এন্টার প্রাইজের আল-বাখেরাহ জাহাজটি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে চাঁদপুরের হাইমচরের গাজীপুর ইউনিয়নের ঈশানবালা ও মাঝের চর এলাকার মাঝামাঝি মেঘনা নদীতে জাহাজটি দেখে অন্য জাহাজের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে পাঁচজনের রক্তাক্ত অবস্থা দেখে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে প্রশাসন পৌঁছলে সেখানে পাঁচজনকে মৃত অবস্থায় দেখেন। এরপর জাহাজটির বিভিন্ন ডেকে আরও তিনজনকে রক্তাক্ত মুমূর্ষু অবস্থায় পেয়ে হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং একজনকে ঢাকা প্রেরণ করেন।

দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
দুই দিনে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে অস্থিরতার সময়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতি না মেনে টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প নেওয়া, কোথাও কাজ না করে এবং কোথাও নামমাত্র কাজ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে মাত্র দুই দিনে ২১টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ওসমান গণি পাটোয়ারী অপসারণের এক দিন আগে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ১৭টি চেক ইস্যু করে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর আগে ১৪ আগস্ট চারটি প্রকল্পের বিপরীতে আরও ১৬ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যে দুই দিনের উত্তোলনের পরিমাণ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলা হয়েছে।
নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনায় কয়েকটি প্রকল্পে কাজ না হওয়া এবং কিছু প্রকল্পে আংশিক কাজ করে পুরো বিল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন ঠিকাদার দাবি করেছেন, তাদের লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ ও বিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও প্রকল্প সম্পর্কে তারা জানতেন না।
১৮ আগস্ট ইস্যু করা চেকগুলোর মধ্যে চেয়ারম্যানের আত্মীয় ঠিকাদার শেখ নজরুল ইসলামের নামে সাতটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিল দেওয়ার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে বাবুরহাট মার্কেটের সাইট প্রস্তুত ও বালু ভরাটের দুটি কাজের বিপরীতে প্রায় ২৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, সেখানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ গাড়ি বালু ফেলা হয়েছিল এবং পুরো জায়গা ভরাট হয়নি। শেখ নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি যে কাজ করেছেন শুধু সেই কাজের বিল নিয়েছেন।
জেলা পরিষদের হলরুমের ওয়াল টাইলসকরণ এবং ভবন সংস্কার ও রংকরণ প্রকল্পে প্রায় ১৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে এসব কাজে বাস্তবে কাজ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বক্তব্যেও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। একজন ঠিকাদার প্রথমে হলরুমে কাজ না করার কথা বললেও পরে নিজের লাইসেন্সে কাজ হয়েছে বলে জানান। আরেক ঠিকাদার দাবি করেন, প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানতেন না এবং টাকা উত্তোলনের পর প্রকৌশলী তার কাছ থেকে অর্থ নিয়ে যান।
এ ছাড়া আরও পাঁচটি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। চেয়ারম্যান অপসারিত হওয়ায় ওই অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি; পরে চেকগুলো বাতিল করা হয়। জেলা পরিষদ প্রশাসকের দাবি, এসব চেকের বিপরীতে কোনও ফাইল বা প্রকল্প ছিল না। সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, ফাইলগুলো সঠিক না হওয়ায় চেক বাতিল করা হয় এবং ভুল করে লেখা হয়েছিল।
জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী আব্দুল কুদ্দুস ভাটের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু কাজ হয়নি, কিছু কাজ আংশিক হয়েছে এবং কয়েকটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, প্রকল্প পরিদর্শন ও কাজের পরিমাণ যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রকৌশলীর। সাবেক প্রকৌশলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কাজ হওয়ার পরই বিল দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দুদক তথ্য চেয়েছে এবং তদন্ত করছে। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ দুদককে প্রয়োজনীয় তথ্য দেবে।
নথিতে থাকা অর্থ উত্তোলন, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঠিকাদারদের লাইসেন্স ব্যবহারের দাবি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। কোন প্রকল্প বাস্তবে হয়েছে, কে কাজ করেছেন, কে প্রত্যয়ন দিয়েছেন এবং অর্থ কার হাতে গেছে—এসব বিষয় এখন দুদকের তদন্তে নির্ধারিত হবে।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া।
প্রস্তাবিত ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠির সঙ্গে আইনের খসড়ার সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে জানা যায়, ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করতে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ৮ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
গঠিত কমিটি কর্তৃক একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী- খসড়া আইনটির ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার ‘এফবি বরকত’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখনও পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও আট জেলেকে। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ট্রলার মালিক সমিতি। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে গভীর সমুদ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির মালিক বরগুনার পাথরঘাটার আশরাফ কোম্পানি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার দিন আগে ১৩ জন জেলে পাথরঘাটা থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায় ‘এফবি বরকত’। গতকাল সোমবার বিকেলে সাগরে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে ডুবে যাওয়া ট্রলারের কাছাকাছি থাকা পাথরঘাটার অপর একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা পানিতে ভাসতে থাকা আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া জেলেদের বরাত দিয়ে তারা ট্রলারডুবির বিষয়টি মালিকপক্ষকে জানান। এ ঘটনায় এখনো পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে কাজ করছে ট্রলার মালিক সমিতি। নিখোঁজ পাঁচ জেলের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ‘এফবি বরকত’ নামে একটি ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার খবর তারা অপর একটি ট্রলারের জেলেদের মাধ্যমে পেয়েছেন। খবর পাওয়ার পর ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারের জন্য ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আট জেলেকে উপকূলে নিয়ে আসা হচ্ছে।