খুঁজুন
                               
, ,

দুবাই থেকে ঢাকা হয়ে স্বর্ণ যায় চোরাচালানের ‘সেফ রুট’ যশোর সীমান্তে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
দুবাই থেকে ঢাকা হয়ে স্বর্ণ যায় চোরাচালানের ‘সেফ রুট’ যশোর সীমান্তে

স্বর্ণ চোরাচালানের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে ভারত সীমান্তঘেঁষা জেলা যশোর। বিশেষ করে জেলার শার্শা, বেনাপোল ও চৌগাছা সীমান্তকে স্বর্ণ চোরাচালানের ‘সেফ রুট’ হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাচালানিরা। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ঢাকা হয়ে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পৌঁছে যাচ্ছে চোরাচালানের স্বর্ণ। মাঝেমধ্যে কিছু স্বর্ণ জব্দ এবং দু-একজন আটক হলেও তারা মূলত বাহক বা শ্রমিক, যাদের স্থানীয় ভাষায় ‘খ্যাপ’ খাটা জোন বলা হয়। তবে স্বর্ণের মূল মালিক, ব্যবসায়ী বা মহাজনেরা জটিল কৌশল অবলম্বন করায় বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
বিজিবি দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন (যশোর), বেনাপোল কাস্টমস হাউস ও স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বার্ষিক অপরাধ প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালে বিজিবির যশোর ব্যাটালিয়নের আওতা থেকে ২৭ দশমিক ৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ, ৩৮-৪০ জন চোরাকারবারি বা বাহক আটক, অন্তত ৪০টি মামলা দায়ের ও ১৩ জনের পুরোনো মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। ২০২৪ সালে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারকালে ১৫১ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। এ সময় অন্তত ১০০ জন আটক, অর্ধশতাধিক মামলা এবং পুরোনো মামলায় পাঁচ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। ২০২৫ সালে এ সীমান্তে সাড়ে ৬৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ, ৫০ জন আটক, ৪০টি মামলা ও আগের মামলায় ৮-১০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়।
চলতি ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ২৪ কেজি স্বর্ণ জব্দ, ২৮ জন চোরাকারবারি বা বাহক আটক, ২২টি মামলা দায়ের ও আগের মামলায় আটজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও থামছে না স্বর্ণের এই অবৈধ প্রবাহ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও অন্যান্য সূত্র আরও জানিয়েছে, যে পরিমাণ স্বর্ণ চোরাচালান হয়, জব্দ হয় তার ছিটেফোঁটা।
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে চোরাচালান হওয়া স্বর্ণের সিংহভাগই আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। সবচেয়ে বেশি আসে দুবাই থেকে। এ তালিকায় আরও আছে ওমান, কাতার ও সৌদি আরব। এর মধ্যে দুবাইকে স্বর্ণ চোরাচালানের ‘ট্রানজিট হাব’ বলা হয়ে থাকে। দুবাই থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বড় বড় চালান বাংলাদেশে পৌঁছায় আকাশপথে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণের বার আসে।
সূত্রমতে, এসব স্বর্ণের বেশির ভাগই দেশে ঢোকে মূলত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে। বিভিন্ন উপায়ে আনা স্বর্ণ বিমানকর্মীদের সহায়তায় বিমানবন্দর থেকে বের করে রাজধানীর নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। সেখান থেকে বড় চালানগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে পাঠানো হয় যশোর সীমান্তের সিন্ডিকেটের কাছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় সড়কপথের দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, রেলপথ, এমনকি কুরিয়ার সার্ভিসকেও।
সীমান্ত সিন্ডিকেট সেগুলো যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা, অগ্রভুলোট, পাঁচভুলোট, বেনাপোলের পুটখালী ও দৌলতপুর, চৌগাছা উপজেলার শাহজাদপুর, মাসিলা, কাঠগড়, আন্দুলপোতা ও কাবিলপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এবং উত্তর ২৪ পরগনার এজেন্টদের হাতে পৌঁছে দেয়। সর্বশেষ যারা ভারতের চোরাকারবারিদের হাতে স্বর্ণ তুলে দেন, তারা সীমান্তসংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দা। তথ্যমতে, দুবাই থেকে ঢাকা হয়ে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারত—এটিই হলো স্বর্ণ চোরাচালানের প্রধান রুট।
স্বর্ণ ঢাকা থেকে যশোর সীমান্তে পৌঁছাতে তিন-চারবার হাতবদল হয় সংকেত বা পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে। মূলত যে বা যারা ঢাকা থেকে স্বর্ণ আনছে, সে জানে না সীমান্তের ওপারে কাকে বা কাদের এটি দিতে হবে। আবার যে বা যারা সীমান্ত পার করছে, সেও জানে না ঢাকার মূল মালিক কে বা কারা। মাঝপথে দু-একজন ধরা পড়লেও সে আগের বা পরের কারও তথ্য দিতে পারে না। এই জটিল কৌশলের কারণে মূল হোতারা সব সময় থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ভারতে স্বর্ণের ওপর উচ্চ আমদানি শুল্ক থাকায় সেখানে স্বর্ণের দাম মধ্যপ্রাচ্য ও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। এই শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে চোরাকারবারিরা বাংলাদেশকে সেফ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে। সূত্র আরও জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাচারের হার সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ এই সময়ে ভারতে দীপাবলি ও বিয়ের মৌসুম থাকে, যার ফলে সেখানে স্বর্ণের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। ভারতের বিশাল বাজারে স্বর্ণের এই চড়া চাহিদাই চোরাচালানের প্রধান কারণ।
স্বর্ণ আমদানির একটি বৈধ পথ রয়েছে, যেখানে সরকারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্যাক্স দিতে হয়। কিন্তু চোরাচালানের মাধ্যমে আসা স্বর্ণের কোনো ট্যাক্স দেওয়া হয় না। এতে সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়। তা ছাড়া চোরাকারবারিরা যখন বিদেশ থেকে স্বর্ণ কেনে, তখন তারা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে টাকা পাঠায় হুন্ডির মাধ্যমে। ফলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটা বড় অংশ দেশের রিজার্ভে না ঢুকে চলে যায় চোরাকারবারীদের হাতে। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা তৈরি এবং ডলার সংকটকে আরও প্রকট করে তোলে।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যুবক ও কিশোরেরা অল্প সময়ে বেশি টাকার লোভে চোরাচালানের পথে পা বাড়ায়। এতে তারা পড়াশোনা বা বৈধ পেশা ছেড়ে অপরাধ জগতের অংশ হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওই অঞ্চলের সামাজিক কাঠামোর ক্ষতি করছে। শুধু স্বর্ণ চোরাচালানের বাহকদের ধরলেই এই মহোৎসব বন্ধ হবে না। এর নেপথ্যে থাকা রাঘব-বোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে যশোর সীমান্তকে স্বর্ণ চোরাচালানমুক্ত করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় কর্মসংস্থানের অভাব এবং অতিদরিদ্র মানুষকে চোরাচালানে প্রলুব্ধ করা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা জরুরি।
যশোর জুয়েলারি সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর মোশাররফ হোসেন বাবু বলেন, বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স আছে ১৭-১৯ জন ব্যবসায়ীর। চোরাচালানিদের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। কারণ অবৈধভাবে আসা স্বর্ণের কারণে বাজারে দাম ও জোগানে এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, স্বর্ণ চোরাচালান দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। সীমান্তকে ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টা করে, যা প্রতিরোধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। আমরা সীমান্তে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি। আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং টহল আগের চেয়ে অনেক গুণ বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে একের পর এক চালান ধরা পড়ছে। তবে দুর্গম সীমান্ত এলাকা এবং চোরাকারবারিদের নিত্যনতুন জটিল কৌশলের কারণে অনেক সময় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়।

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি থেকে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে!

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া।
প্রস্তাবিত ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠির সঙ্গে আইনের খসড়ার সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে জানা যায়, ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ রহিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় সৃজন করতে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ৮ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে আট সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
গঠিত কমিটি কর্তৃক একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী- খসড়া আইনটির ওপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লিখিত মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, ‘চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: এখনও নিখোঁজ ৫ জেলে

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটার ‘এফবি বরকত’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখনও পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরও আট জেলেকে। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ট্রলার মালিক সমিতি। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে গভীর সমুদ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির মালিক বরগুনার পাথরঘাটার আশরাফ কোম্পানি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার দিন আগে ১৩ জন জেলে পাথরঘাটা থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায় ‘এফবি বরকত’। গতকাল সোমবার বিকেলে সাগরে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে ডুবে যাওয়া ট্রলারের কাছাকাছি থাকা পাথরঘাটার অপর একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা পানিতে ভাসতে থাকা আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া জেলেদের বরাত দিয়ে তারা ট্রলারডুবির বিষয়টি মালিকপক্ষকে জানান। এ ঘটনায় এখনো পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে কাজ করছে ট্রলার মালিক সমিতি। নিখোঁজ পাঁচ জেলের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ‘এফবি বরকত’ নামে একটি ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার খবর তারা অপর একটি ট্রলারের জেলেদের মাধ্যমে পেয়েছেন। খবর পাওয়ার পর ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারের জন্য ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আট জেলেকে উপকূলে নিয়ে আসা হচ্ছে।

ক্যামব্রিজ ও লেভেলে সাত বিষয়ে এ প্লাস পেলেন সাফওয়ান হোসেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
ক্যামব্রিজ ও লেভেলে সাত বিষয়ে এ প্লাস পেলেন সাফওয়ান হোসেন

ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের জুন ২০২৬ Cambridge O Level পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছেন সাফওয়ান হোসেন। রাজধানীর Scholastica Uttara-এর এই মেধাবী শিক্ষার্থী সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে প্রতিটিতেই A + গ্রেড অর্জন করেছেন। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, Mathematics Syllabus D বিষয়ে সাফওয়ান হোসেন পেয়েছেন ৯৯ নম্বর, Physics-এ ৯৮, Biology-তে ৯৬, English Language-এ ৯৫, Chemistry-তে ৯৪, Additional Mathematics-এ ৯৩ এবং Bengali-তে ৯২ নম্বর। সাতটি বিষয়ের মোট নম্বরের গড় দাঁড়িয়েছে ৯৫.৬ শতাংশ।
বিশেষ করে Mathematics-এ ৯৯ এবং Physics-এ ৯৮ নম্বর অর্জন তাঁর অসাধারণ একাডেমিক দক্ষতার প্রমাণ বহন করছে। বিজ্ঞান ও গণিতের পাশাপাশি ভাষাভিত্তিক বিষয়েও সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন তাঁর বহুমুখী মেধা ও ধারাবাহিক অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়েছে। সাফওয়ান হোসেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ডাচ-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (DBCCI) প্রেসিডেন্ট শাখাওয়াত হোসেন মামুন এবং শিল্প উদ্যোগতা শেখ সুবর্ণা রসুলের জ্যেষ্ঠ সন্তান। দুই ভাইয়ের মধ্যে সাফওয়ান বড় তাঁর ছোট ভাই সারওয়ান হোসেন। সাফওয়ানের এই কৃতিত্বে তাঁর পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর এমন সাফল্য শুধু পরিবারের জন্য নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দেশের জন্যও গর্বের বিষয়।
শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থায় এমন ফলাফল অর্জনের পেছনে শিক্ষার্থীর মেধার পাশাপাশি নিয়মিত অধ্যয়ন, কঠোর পরিশ্রম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, অভিভাবকের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের যথাযথ দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাফওয়ানের সাত বিষয়ে A + অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এই সাফল্য দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীকেও পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সাফওয়ান হোসেনের এই অসাধারণ সাফল্যে দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে তিনি দেশের জন্য আরও গৌরব বয়ে আনবেন এমন প্রত্যাশা সবার।