খুঁজুন
                               
, ,

গরিবের চিকিৎসাসেবার মানবতার বাতিঘর ঘিরে পুরানবাজারবাসীর মধ্যে স্বস্তি

১০৫ বছরের দাতব্য চিকিৎসালয় ফের চালু হচ্ছে চাঁদপুরে

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
১০৫ বছরের দাতব্য চিকিৎসালয় ফের চালু হচ্ছে চাঁদপুরে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে চাঁদপুর পৌরসভার ১০৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী দাতব্য চিকিৎসালয়। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় পুরানবাজারসহ আশপাশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাত্র ২ টাকার বিনিময়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছে মানবতার বাতিঘর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
স্থানীয়দের মতে, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চাঁদপুর পৌরসভার এই দাতব্য চিকিৎসালয় নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে পুরানবাজার ও আশপাশের এলাকার দরিদ্র, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষ নামমাত্র খরচে এখান থেকে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতেন। ফলে চিকিৎসালয়টি শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নয় বরং স্থানীয় মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশে পরিণত হয়েছে।
তবে গত বছর তৎকালীন পৌর প্রশাসনের সময়ে নানা কারণ দেখিয়ে চিকিৎসালয়টির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন নিম্নআয়ের রোগীরা। অল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ হারিয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র কিংবা ফার্মেসির ওপর নির্ভর করতে থাকেন। এতে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে যায়।
চিকিৎসালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এটি পুনরায় চালুর দাবি জোরালো হতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহলের পাশাপাশি গণমাধ্যমেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
গণমাধ্যমকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন।
চাঁদপুর-৩ আসনের সাংসদ শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, জেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা করেন। সকালের উদ্দেশ্য ছিল—পুরানবাজারের দরিদ্র মানুষের দীর্ঘদিনের এই চিকিৎসাসেবাটি যেন আবারও চালু হয়।
এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছেন ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ। ঢাকায় অবস্থান করেও তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পুরানবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে ভূমিকা রাখেন।
সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর অবশেষে চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর পথ তৈরি হয়েছে। চাঁদপুর পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি এলজিডি) মো. এরশাদ উদ্দিনের উদ্যোগকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চিকিৎসালয়টি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে পুরানবাজার ও আশপাশের এলাকার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা নামমাত্র খরচে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
চিকিৎসালয়টির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি চাঁদপুর পৌরসভার অন্যতম প্রাচীন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। সময়ের সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার প্রসার ঘটলেও দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা কমেনি। বরং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ ধরনের সেবাকেন্দ্রের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
সচেতন মহলের অভিমত, চিকিৎসালয়টি শুধু পুনরায় চালু করলেই হবে না; এর সেবার মানও নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও তার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারবে।
তাদের মতে, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসালয়কে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সীমিত পরিসরে হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ, বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা হলে এটি দরিদ্র মানুষের জন্য আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
পুরানবাজারের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আগে সামান্য অসুস্থতা হলেও অনেকে এই চিকিৎসালয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারতেন। মাত্র ২ টাকা খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ দরিদ্র মানুষের জন্য ছিল বড় সহায়তা। চিকিৎসালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। পুনরায় চালুর উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসালয়টির কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগের মতোই দরিদ্র মানুষের সেবায় প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এর সেবা আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী বলেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা তার পেশাগত দায়িত্ব। তবে পুরানবাজারের সন্তান হিসেবে এই চিকিৎসালয়ের সঙ্গে তার আবেগও জড়িয়ে আছে। পুরান বাজারের বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর। এখান থেকে নতুন বাজার চিকিৎসা সেবা নিতে গেলে কমপক্ষে ১০০ টাকা যাতায়াত বাড়ার খরচ হয়। এটি চালু হলে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা পাবে এতে করে তারা বড় কোন রোগে আক্রান্ত হবে না। তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরে এখানকার দরিদ্র মানুষ নামমাত্র মূল্যে যে চিকিৎসাসেবা পেতেন, তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি বিভিন্ন মহলে তুলে ধরেছেন। চিকিৎসালয়টি পুনরায় চালুর উদ্যোগ সফল হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে এটি আমার জন্য বড় একটি প্রাপ্তি। একই সঙ্গে পুরানবাজারের সন্তান হিসেবে গরিব মানুষের এই চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রটি আবার চালু হতে যাচ্ছে—এটি আমার জন্য অন্যরকম তৃপ্তির বিষয়।
চাঁদপুর পৌরসভার এই ১০৫ বছরের পুরোনো দাতব্য চিকিৎসালয় পুনরায় চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের কার্যক্রমই শুরু হচ্ছে না; বরং দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার একটি পুরোনো ঐতিহ্যও নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ‘মানবতার বাতিঘর’ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে—এমন প্রত্যাশাই পুরানবাজারবাসীর।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল-সবুজের ঐতিহাসিক জয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল-সবুজের ঐতিহাসিক জয়

যা আগে কখনো করতে পারেনি, ডারউইনে সেটিই করে দেখাল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে প্রথমবার টেস্টে হারিয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রান। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় অবশ্য দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন প্রথম ইনিংসের শতকজয়ী তানজিদ হাসান। জশ হ্যাজলউডের দুর্দান্ত বলে কোনো রান না করেই বোল্ড হন তিনি। অস্ট্রেলিয়া এরপর চাপ তৈরির চেষ্টা করলেও হাতের মুঠোয় আসা ইতিহাস আর ফসকে যেতে দেয়নি বাংলাদেশ। ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
এই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় তারা। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের মধ্যে একমাত্র স্টিভ স্মিথই প্রতিরোধ গড়তে পেরেছিলেন, করেন ৭১ রান। জবাবে ব্যাট হাতেও আধিপত্য দেখায় বাংলাদেশ। তানজিদের ঐতিহাসিক ১০১, অধিনায়ক শান্তর ৮৪ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানে ৪২৬ রান তোলে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট শতকটি আসে তানজিদের ব্যাট থেকে। প্রথম ইনিংস শেষে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে রাখার একমাত্র নায়ক ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট শতক তুলে নিয়ে ১০৪ রান করেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট তুলে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ।
ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশের সামনে ৫৭ রানের লক্ষ্য
বল হাতে এবার নেতৃত্ব দেন মিরাজ। স্টিভ স্মিথ, অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নকে ফিরিয়ে ৬৬ রানে নেন ৫ উইকেট। কামিন্সকে আউট করে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক হাজার রান ও ১০০ উইকেটের ডাবলও পূর্ণ করেন তিনি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচে হাসানের শিকার দাঁড়ায় ৯টি।
২০০৩ সালের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়েই ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। দেশটির মাটিতে এটি টাইগারদের প্রথম টেস্ট জয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সব মিলিয়ে দ্বিতীয়। ২০১৭ সালে মিরপুরে ২০ রানের জয়টি ছিল তাদের আগের একমাত্র সাফল্য।
ডারউইনের এই জয় শুধু একটি অঘটন নয়। চার দিন ধরে ব্যাটিং, বোলিং ও মানসিক দৃঢ়তায় অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে পাওয়া বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ ও ২৮৪
বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ৫৭/১ (১৪.২ ওভার)
ফল: বাংলাদেশ ১ উইকেটে জয়ী।

চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১৫

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে উপজেলার বানিয়াচোঁ পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী আল-আরাফাহ পরিবহনের একটি বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা হাইড্রোলিক বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ওভারটেক করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের আশঙ্কা, গুরুতর আহতদের মধ্যে আরও কেউ মারা যেতে পারেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওভারটেক করতে গিয়ে বাস ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং দুটিই সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

৭১ ও ২৪-এর শহীদদের স্বপ্নপূরণে সবাইকে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ
৭১ ও ২৪-এর শহীদদের স্বপ্নপূরণে সবাইকে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেছেন, ৭১ ও ২৪ -এ যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য লড়াই করা, যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে এবং সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ স্কাউটসের শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল দেশে একটি পরিবর্তন আনা। এমন একটি পরিবর্তন, যার মধ্য দিয়ে মানুষের মৌলিক চাহিদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ অন্তত শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। শহীদদের আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা কারোর নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা শহীদ হয়েছেন, তারা একটি মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তাদের জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে শুধু তাদের স্মরণ করলেই হবে না, তাদের মধ্যে থেকে আমারা যারা বেঁচে আছি,আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশ স্কাউটসদের সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সবাইকে দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রাণ-প্রকৃতির পাশে থাকার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি অন্যদেরও এ কাজে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ স্কাউটসের ১০ শহীদ পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক ও সম্মাননা পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি নাসিমুল গণি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের অবদান ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জাতীয় পাঠ্যক্রমে তাদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে, শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ড.মাহাদী আমিনসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।