খুঁজুন
                               
, ,

মানুষ তাঁর কল্পনাতেই সুন্দর বাস্ববতায় সংগ্রামী

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৫, ২:২৫ অপরাহ্ণ
মানুষ তাঁর কল্পনাতেই সুন্দর বাস্ববতায় সংগ্রামী

মানুষকে বলা হয় সৃষ্টিশীল জীব, কারণ তার সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা তাকে প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা করেছে। সৃষ্টিশীলতা হলো এমন একটি গুণ, যা মানুষের চিন্তা, কল্পনা, এবং নতুন কিছু তৈরি করার সামর্থ্যকে তুলে ধরে। এটি শুধু শিল্প বা সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সমাজবিজ্ঞান, এবং প্রতিদিনের জীবনযাপনেও প্রভাব ফেলে। মানুষের এই সৃজনশীল গুণের মাধ্যমে সভ্যতা এগিয়ে চলেছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে।  সৃষ্টিশীলতা বলতে বোঝায় এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানুষ নতুন কিছু তৈরি করে বা বিদ্যমান জিনিসে নতুনত্ব আনে। এটি হতে পারে একটি ছবি আঁকা, একটি গান রচনা করা, একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা, বা একটি সমস্যার অনন্য সমাধান বের করা। সৃষ্টিশীলতা কেবল শৈল্পিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

মানুষের কল্পনা করার শক্তি তার সৃষ্টিশীলতার মূল চালিকা শক্তি। কল্পনার মাধ্যমে মানুষ এমন জিনিস কল্পনা করতে পারে যা বাস্তবে এখনও সম্ভব হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, বিজ্ঞানীরা মহাকাশ ভ্রমণের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। মানুষের সৃজনশীলতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদ্যমান জিনিসকে উন্নত করার ক্ষমতা। উদাহরণস্বরূপ, হুইল আবিষ্কারের পর মানুষ সেটি ব্যবহার করে গাড়ি, বাইসাইকেল এবং আরও উন্নত যানবাহন তৈরি করেছে। মানুষ তার সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার সৃজনশীলতারই ফল।
মানুষের সৃষ্টিশীলতা বিভিন্ন ধরনের শিল্প এবং সংস্কৃতির বিকাশে অবদান রেখেছে। এটি মানুষের জীবনকে আরও সুন্দর, অর্থবহ, এবং সমৃদ্ধ করেছে।

শিল্পের জগতে সৃষ্টিশীলতা মানুষের সৃজনশীলতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির “মোনালিসা” থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা, সঙ্গীত, এবং চিত্রকলা—সবই মানুষের সৃষ্টিশীলতার ফল। বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন থেকে শুরু করে এলন মাস্ক পর্যন্ত, সবাই সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে পৃথিবীকে বদলে দিয়েছেন। নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ সূত্র আবিষ্কার বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছে, আর মাস্কের টেসলা এবং স্পেসএক্স প্রযুক্তির দুনিয়ায় বিপ্লব ঘটিয়েছে। মানুষের সৃজনশীলতা প্রযুক্তির অগ্রগতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, স্মার্টফোন—সবকিছুই সৃষ্টিশীলতার উদাহরণ। মানুষের সৃজনশীলতার প্রভাব সমাজের কাঠামোতেও দেখা যায়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, আইন, এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সৃষ্টিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সৃষ্টিশীলতা বিকাশের জন্য একটি উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, এবং সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করে। অনেক সময় মানুষ নতুন কিছু করতে ভয় পায় বা নিজেকে অক্ষম মনে করে। এটি সৃষ্টিশীলতার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। সৃষ্টিশীল কার্যক্রমের জন্য সময় এবং সম্পদের প্রয়োজন। যখন এগুলোর অভাব হয়, তখন সৃষ্টিশীলতার বিকাশ ধীরগতিতে হয়। মানুষের সৃষ্টিশীলতা বিকাশের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল, কলেজ, এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা উৎসাহিত করা উচিত। সৃষ্টিশীলতা বিকাশের জন্য উন্মুক্ত চিন্তাভাবনার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এটি মানুষের মনের সীমাবদ্ধতা দূর করতে সাহায্য করে। পরিবেশ এমন হতে হবে, যেখানে মানুষ তার সৃজনশীলতাকে প্রয়োগ করতে এবং পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন কিছু শিখতে পারে। মানুষকে তার সৃজনশীলতা প্রকাশের জন্য উৎসাহ এবং সমর্থন প্রদান করা প্রয়োজন। এটি তার আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নতুন কিছু করার প্রেরণা যোগায়।
মানুষ প্রকৃতির একটি অনন্য সৃষ্টি। তার সৃষ্টিশীলতার জন্যই সভ্যতা আজ এতদূর এগিয়েছে। সৃষ্টিশীলতা শুধু একটি ব্যক্তিগত গুণ নয়, এটি একটি সামাজিক সম্পদ। সৃষ্টিশীল মানুষের প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বিশ্ব নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে চলেছে। তাই সৃষ্টিশীলতাকে লালন এবং বিকাশ করার জন্য সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে। মানুষের সৃষ্টিশীলতা যত বৃদ্ধি পাবে, ততই সভ্যতা উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে।

কল্পনা মানুষের সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। এটি এমন একটি মানসিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানুষ ভবিষ্যতের ছবি আঁকতে, নতুন ধারণা তৈরি করতে এবং অজানা বিষয় সম্পর্কে চিন্তা করতে সক্ষম হয়। কল্পনার ক্ষমতা মানুষকে প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা করে এবং তাকে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার পথে পরিচালিত করে। কল্পনার সংজ্ঞা কল্পনা হলো মানুষের মনের এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে বাস্তবে দেখা বা উপলব্ধি করা তথ্যের ভিত্তিতে নতুন কিছু তৈরি করা হয়। এটি হতে পারে বাস্তব অভিজ্ঞতার রূপান্তর বা সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারণা।
কল্পনার মাধ্যমে মানুষ অতীত অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কৃষিকাজ শুরুর আগে মানুষ প্রকৃতির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তা থেকে ভবিষ্যতের জন্য ধারণা তৈরি করেছে। কল্পনার ক্ষমতা মানুষের মধ্যে জিজ্ঞাসার উদ্রেক ঘটায়। এটি মানুষকে এমন বিষয় নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে, যা সে আগে কখনও দেখেনি বা জানেনি। উদাহরণস্বরূপ, বিজ্ঞানীরা কল্পনার মাধ্যমে মহাকাশ অনুসন্ধান শুরু করেছিলেন। কল্পনার ক্ষমতা সৃজনশীলতাকে জ্বালানি যোগায়। নতুন শিল্পকর্ম, প্রযুক্তি, বা সাহিত্য সৃষ্টির পেছনে কল্পনার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। মানুষ তার কল্পনাশক্তি ব্যবহার করে একই সমস্যার বিভিন্ন সমাধান খুঁজে বের করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এক সমস্যার জন্য একাধিক প্রযুক্তি বা পদ্ধতি আবিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের কল্পনার শক্তি বিশ্বকে বদলে দিয়েছে। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব তার গভীর কল্পনার ফল। তেমনি, জুল ভার্নের বইতে মহাকাশ ভ্রমণের ধারণা বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করেছিল। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির “দ্য লাস্ট সাপার” বা মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর “ডেভিড” মূর্তি তাদের কল্পনার একটি অসাধারণ প্রকাশ। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, এবং রোবোটিকসের পেছনে মানুষের কল্পনার বড় ভূমিকা রয়েছে। স্মার্টফোনের ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে কল্পনাকে একীভূত করার একটি উদাহরণ। অনেক সময় মানুষের কল্পনা বাস্তবতার সীমারেখায় আটকে যায়। এটি উদ্ভাবন প্রক্রিয়াকে ধীর করে। কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহস এবং প্রেরণা প্রয়োজন। অনুপ্রেরণার অভাব কল্পনাশক্তিকে দমিয়ে দিতে পারে। কখনও কখনও মানুষের কল্পনা নেতিবাচক হতে পারে, যা তাকে ভয় বা উদ্বেগের দিকে ঠেলে দেয়। এটি তার মানসিক স্বাস্থ্য ও কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।

বই পড়া এবং নতুন বিষয় শেখার মাধ্যমে কল্পনার শক্তি বৃদ্ধি পায়। মুক্ত চিন্তা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা কল্পনাশক্তিকে প্রসারিত করে। আঁকা, লেখা, বা মিউজিকের মতো সৃজনশীল কাজ কল্পনাশক্তিকে জাগ্রত করে। পরিবেশ এমন হতে হবে, যেখানে নতুন ধারণা গ্রহণযোগ্য এবং উৎসাহিত হয়। কল্পনার ক্ষমতা মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এটি শুধু নতুন কিছু তৈরি করতেই নয়, বরং ভবিষ্যতের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দিতে সাহায্য করে। মানুষের কল্পনাশক্তি যতই বিকশিত হবে, ততই সভ্যতা আরও সমৃদ্ধ হবে। তাই কল্পনার শক্তিকে লালন এবং বিকাশ করার জন্য প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা, পরিবেশ এবং মানসিক উদ্দীপনা।

মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সংশোধন এবং উন্নয়নের ক্ষমতা। এই গুণের মাধ্যমে মানুষ তার ভুলত্রুটি শুধরে নিতে পারে এবং বিদ্যমান জিনিসকে আরও ভালো ও কার্যকর করতে পারে। সংশোধন ও উন্নয়নের ক্ষমতাই মানুষের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। এর ফলেই সভ্যতার ক্রমোন্নতি সম্ভব হয়েছে এবং মানুষ প্রকৃতির সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পেরেছে। সংশোধনের ক্ষমতা মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মানুষ তার ভুলগুলো চিহ্নিত করে এবং সেগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা মানুষকে আরও উন্নত করে তোলে।
প্রতিদিনের জীবনে মানুষ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়, যেগুলোর কিছু সঠিক হয়, কিছু ভুল। ভুল সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে সংশোধনের ক্ষমতা প্রকাশ পায়। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভুল উত্তর দিলে পরবর্তী সময়ে সঠিক উত্তর শিখে নেয়। তেমনি কর্মক্ষেত্রে ভুল কর্মপরিকল্পনা সংশোধন করে সঠিক পথে এগোনোর মাধ্যমে উন্নতি ঘটে। মানব ইতিহাসের ভুল সিদ্ধান্ত, যেমন যুদ্ধ বা পরিবেশ ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষ বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে আরও টেকসই করার চেষ্টা করছে। উন্নয়ন হলো মানুষের প্রগতিশীল মানসিকতার প্রতিফলন। এটি বিদ্যমান অবস্থা থেকে আরও ভালো কিছু তৈরি করার প্রক্রিয়া। মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতা উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।

মানুষের উন্নয়নের ক্ষমতা নতুন নতুন প্রযুক্তি, ধারণা এবং পদ্ধতি উদ্ভাবন করে। উদাহরণস্বরূপ, আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে আধুনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, সবই উন্নয়নের উদাহরণ। উন্নয়ন মানে শুধু নতুন কিছু তৈরি করা নয়, বরং সমস্যার আরও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা। উদাহরণস্বরূপ, পরিবেশ দূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত। উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষ এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চায়, যা দীর্ঘস্থায়ী এবং সকলের জন্য উপকারী। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে মানুষের উন্নয়ন বিস্ময়কর। টেলিগ্রাফ থেকে শুরু করে আজকের ইন্টারনেট—এটি উন্নয়নের ধারাবাহিক উদাহরণ। তেমনি, বিজ্ঞানে ভ্যাকসিনের উদ্ভাবন মানুষের জীবনের গুণগত মান উন্নত করেছে। সমাজের কাঠামো উন্নত করার জন্য মানুষ আইন, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে অগ্রগতি ঘটিয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মানুষের উন্নয়নের ক্ষমতা লক্ষণীয়। বার্টার সিস্টেম থেকে শুরু করে আজকের ডিজিটাল লেনদেন পর্যন্ত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
কিছু মানুষ পরিবর্তন বা উন্নয়নকে ভয় পায়, যা সংশোধন এবং অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যথাযথ শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে মানুষ প্রায়ই তার ভুল বুঝতে ব্যর্থ হয় এবং উন্নয়নের সুযোগ হাতছাড়া করে। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অভাব সংশোধন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। সংশোধন ও উন্নয়নের ক্ষমতা বিকাশের উপায়। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে তার ভুলত্রুটি চিহ্নিত করার ক্ষমতা এবং উন্নয়নের পদ্ধতি শেখানো যায়। সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা মানুষের সংশোধন ও উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন ধারণা এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করলে মানুষ উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে। সংশোধন ও উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার মানুষের ক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
সংশোধন এবং উন্নয়নের ক্ষমতা মানুষের সৃষ্টিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মানুষকে তার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে এবং উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এই ক্ষমতার মাধ্যমেই মানুষ যুগে যুগে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ভবিষ্যতেও এই গুণ মানুষের অগ্রগতি এবং পৃথিবীকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হবে।

লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, লেখক ও প্রাবন্ধিক।

দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। সে হিসেবে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারে স্বর্ণের বিক্রয় মূল্য কমানো হচ্ছে। নতুন এই মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিলো বাজুস। ওই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৯১ টাকায়।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার গহনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকবে। ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকারের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ঘোষিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের (মোসলেম আহম্মদ) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। এদিকে, যৌন নিপীড়নের বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিশুর অভিভাবক শাহজালাল রুমি অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারেন। চড় দেওয়ার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে যৌন হয়রানি করেন উপাধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন। এ সময় বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে নানা ধরনের ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) সকালে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে ঘটনার জবাবদিহি চান।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) তাকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে শিশু নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে ও সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের দায়িত্ব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ শৃঙ্খলা পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ এর আগে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। এ সময় তিনি উপস্থিত সেনাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। এরপরে তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।