খুঁজুন
                               
, ,

রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ৪১ বছর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ৪১ বছর

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে ৪১ বছর পার করেছেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপাসন নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন এ নেত্রী। বিএনপি চেয়ারপারসনের দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয় আপসহীন নেত্রীর উপাধি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েন। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছিল স্বামী জিয়াউর রহমানকে হারানোর বেদনা নিয়ে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর সংকটে পড়ে বিএনপি। ঠিক সেই সময় গৃহবধূ থেকে খালেদা জিয়া দলটিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।
চেয়ারপারসনের প্রচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৯৮৩ সালে সাত-দলীয় জোট গঠন করে জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম শুরু করে। এরশাদের স্বৈরশাসন অবসানের লক্ষ্যে পরিচালিত দীর্ঘ সংগ্রামে খালেদা জিয়া অবৈধ এরশাদ সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করেননি। বিভিন্ন সময়ে নিষেধাজ্ঞামূলক আইনের দ্বারা তার স্বাধীন গতিবিধিকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আট বছরে সাত বার অন্তরীণ করা সত্ত্বেও জেনারেল এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত কারার আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া।

৪১ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বহুবার সংকটের মুখে পড়েছেন খালেদা জিয়া। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পর বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর থেকে আদালতের আদেশে যেমন তার স্বামীর সময়ে পাওয়া বাড়ি হারাতে হয়েছে, তেমনি ছোট সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর লাশও তাকে দেখতে হয়েছে। ২০১৫ সালে ৩ মাসের অবরোধ চলাকালে তার বিরুদ্ধে আগুন সন্ত্রাসের অভিযোগ ওঠে। যদিও বিএনপির নেতারা বরাবরই বলে এসেছেন, ‘আগুন সন্ত্রাস ক্ষমতাসীনদের কৌশল।’
জাতীয়তাবাদী ঘরানার বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। দেশের জনপ্রিয়তম নেত্রী তিনিই। নির্বাচন করে কখনোই নিজের আসনে হারতে হয়নি বিএনপির চেয়ারপারসনকে।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রচার বিভাগ থেকে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ব্যবসা উপলক্ষে জলপাইগুঁড়িতে বসবাস করতেন। তার আদি নিবাস ছিল ফেনী জেলার ফুলগাজী থানায়। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর জলপাইগুঁড়িতে চা ব্যবসা ছেড়ে তিনি দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

৫ ভাই-বোনের মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়। দুই সন্তান তারেক রহমান পিনো ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জননী খালেদা জিয়া।
দিনাজপুর মিশনারি স্কুলে খালেদা জিয়া প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন এবং পরে ১৯৬০ সালে দিনাজপুর বালিকা হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ওই বছরই তৎকালীন ক্যাপ্টেন (পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি) জিয়াউর রহমান সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরশাদের শাসনামল ছাড়াও খালেদা জিয়া জেলে গিয়েছিলেন ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তারের পর সোজা নিয়ে যাওয়া হয় সিএমএম আদালতে। আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলে তাকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত সাব জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই কারাগারে ৩৭২ দিন কাটানোর পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পান। কারাবন্দি থাকাকালেই তার মায়ের মৃত্যু হয়। সাব জেলে থাকার সময় ২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার মা বেগম তৈয়বা মজুমদার দিনাজপুরে নিজ বাসভবনে মারা যান। তার লাশ হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরদিন (১৯ জানুয়ারি) খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মইনুল রোডের বাসায় গিয়ে মায়ের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে যেতে হয়। প্রায় দুই বছর কারাবন্দি থাকার পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় পারিবারিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাসের জন্য শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। শর্ত ছিল—তিনি গুলশানের বাসায় থাকবেন এবং দেশ ত্যাগ করবেন না। পরে ছয় মাস করে একাধিকবার সরকার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায়। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাকে দণ্ডমুক্ত ঘোষণা করলে বিএনপি চেয়ারপারসন সম্পূর্ণ মুক্তি পান।
গত প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনে খালেদা জিয়া অন্যতম জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন; যিনি তার রাজনৈতিক জীবনে কখনও নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রতিবারই ৫টি আসনে প্রার্থী ছিলেন। সবগুলো আসনে তিনি জয়লাভ করেছেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতে জয়ী হন।
এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। আর দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আদেশের কারণে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া। সবশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনও বয়কট করে বিএনপি। অর্থাৎ ২০১৪ সাল থেকে নির্বাচনের বাইরে ছিলেন খালেদা জিয়া। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তার ৩টি আসন থেকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এরমধ্যে দ্বিতীয় দফার দায়িত্বকাল ছিল একমাস।
বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি বিজয়ী হয়। ওই বছরই বেগম জিয়া পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বেই সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন হয়। ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এক মাসের জন্য ষষ্ঠ সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়নের পর ওই বছর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যায় খালেদা জিয়ার দল বিএনপি, তিনি হন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা।
১৯৯৯ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, গোলাম আজমের (একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত) নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী ও শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে গঠিত চারদলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী দলীয় নেতা হন খালেদা জিয়া।

দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। সে হিসেবে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারে স্বর্ণের বিক্রয় মূল্য কমানো হচ্ছে। নতুন এই মূল্য আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিলো বাজুস। ওই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে স্বর্ণের দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৯১ টাকায়।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার গহনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকবে। ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আলাদাভাবে আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকারের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। অলংকার ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ঘোষিত বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের (মোসলেম আহম্মদ) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিন টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। এদিকে, যৌন নিপীড়নের বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিশুর অভিভাবক শাহজালাল রুমি অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারেন। চড় দেওয়ার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে যৌন হয়রানি করেন উপাধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন। এ সময় বিষয়টি কাউকে না জানাতে শিশুটিকে নানা ধরনের ভয়ভীতিও দেখানো হয়। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। পরদিন ২১ অক্টোবর (বুধবার) সকালে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে ঘটনার জবাবদিহি চান।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) তাকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে শিশু নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
‘বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে কাজ করছে সরকার’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সময়োপযোগী করতে ও সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে কাজ করছে সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের দায়িত্ব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ শৃঙ্খলা পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ এর আগে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে সাভার সেনানিবাসে পৌঁছান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল। এ সময় তিনি উপস্থিত সেনাদের সঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। এরপরে তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।