খুঁজুন
                               
, ,

সংবাদ বিশ্লেষণ : যুক্তরাজ্যে ইউনূস সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫, ১:১২ অপরাহ্ণ
সংবাদ বিশ্লেষণ : যুক্তরাজ্যে ইউনূস সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা?

বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার প্রধান এখনও যুক্তরাজ্যে। তার এই সফর ইতোমধ্যে বেশ বিতর্ক তৈরি করেছে। এই সফরটি সরকারি না ব্যক্তিগত এই আলোচনা এখনও চলমান। সরকারি হলে বিমানবন্দরে তাঁকে সরকারিভাবে বরণ করা হতো। কিন্তু তা হয়নি। তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন সে দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। একটি পদক আনতে তিনি সেখানে গেছেন। তাঁর হাতে পদক তুলে দেওয়ার কথা রাজা চার্লস-এর। এ পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাথে ড.ইউনুসের দেখা করা নিয়ে। বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে অনেক চেষ্টা সত্বেও শেষ পর্যন্ত বৃটিশ পত্রিকাগুলো খবর দিয়েছে যে, বাংলাদেমের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধে সাড়া দেননি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।  যুক্তরাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে এখন অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কোনো পরিকল্পনা কিয়ার স্টারমারের নেই। এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তাঁরা।

ক্ষমতায় বসার শুরু থেকেই নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনুসের প্রতি দেশবাসীর উচ্চাশা এই যে, আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিতি থাকা একমাত্র বাঙালি যেহেতু দেশের সরকার প্রধান হয়েছেন, নিশ্চয়ই বাংলাদেশ বিশ্ব পরিসরে আলাদা মর্যাদা পাবে। মর্যাদা ভূলুন্ঠিত হয়েছে এটা বলা না গেলেও বলতে হবে যে সে রকম সাফল্য এই দশ মাসে দৃশ্যমান হয়নি। এই ১০ মাসে তিনি ১১ বার বিদেশ গেছেন। এর মধ্যে চীন ছাড়া বাকি কোনটিই সরকারি সফর ছিল না। লন্ডন সফরের আগে তিনি জাপান গিয়েছিলেন। সেটিও ছিল তাঁর ব্যক্তিগত সফর; দিপাক্ষিক নয়। সেখানে মূলত তিনি গিয়েছিলেন নিকে এশিয়া ফোরামের একটা সেমিনারে যোগ দিতে। পরে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতের চেষ্টায় সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার একটা সাক্ষাতের ব্যবস্থা হয়।  এবার সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

এটিকে বিবেচনা করা হচ্ছে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই। প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতকার নিয়ে যে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে তার কারণ বাংলাদেশ নিজেই।  প্রেস সচিব শফিকুল আলম বললেন, দুই সরকার প্রধানের দেখা হওয়া অনিশ্চিত, কারণ কিয়ার স্টারমার এখন লন্ডনে নেই, আছেন কানাডায়। কিন্তু সাথে সাথেই প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি লন্ডনেই আছেন, কানাডায় যাবেন শনিবার। তিনি যখন বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কানাডায় অবস্থান করছেন এবং সে কারণে ইউনূসের সঙ্গে তাঁর কোনো সাক্ষাৎ হবে না, সাথে সাথেই সামাজিক মাধ্যম, এ প্রমাণ চলে আসে যে স্টারমার লন্ডনেই আছেন। সবশেষ বৃটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা Financial Times শিরোনাম করল— “Keir Starmer declines to meet Bangladesh leader tracking down missing billions!”

প্রশ্ন হলো কিয়ার স্টারমার আমাদের প্রধান উপদেষ্টাকে কেনো গুরুত্ব দিলেন না?  ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, লন্ডনে সফরত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধে সাড়া দেননি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে পাচার হওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলার উদ্ধারের প্রচেষ্টায় বৃটেন সরকারের জোরালো সমর্থন আদায়ের পরিপ্রেক্ষিতে স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা জানায় বাংলাদেশ। তবে তাতে সাড়া দেননি স্টারমার। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, কেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও বোঝাপড়ার আলোচনায় বসতে পারেন না? কেন সরকারিভাবে এত ঢাকঢোল পেটানো হলো, অথচ পরিণামে এই প্রত্যাখ্যান পেতে হলো? প্রেস উইংই বা কেন পরিষ্কারভাবে কেন তথ্য দিতে পারল না?

প্রধান উপদেষ্টার মতো একজন বিশ্বব্যাপী পরিচিত ব্যক্তিত্বকে এ ভাবে উপেক্ষিত হতে দেখাটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য দুঃখজনক। এটি শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, রাষ্ট্রের জন্যও মর্যাদার ইস্যু। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মতো নোবেলজয়ী একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যে আচরণ সেখানে বসবাসরত বাঙালিরা করেছে, এবং কিয়ার স্টারমার যে নীরবতা দেখিয়েছেন তা দু:খজনক।

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত! অনুমোদিত নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’। ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিন জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮ বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পল্লী সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুঃস্থ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং পেট্রোবাংলার উদ্যোগে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ের ‘১টি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটি সরকারি ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
বেসরকারিভাবে হজ পালনে ৩ প্যাকেজ ঘোষণা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের জন্য তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার প্যাকেজগুলোর ঘোষণা দেন। এ সময় হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার খাওয়া ও কোরবানিসহ তিনটি হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
হাব জানায়, তিনটি প্যাকেজের মধ্যে বিশেষ প্যাকেজ ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা, সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ও সাশ্রয়ী প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবার সাশ্রয়ী প্যাকেজের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। আর সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টাকা বেশি। এ ছাড়া বিশেষ হজ প্যাকেজে ব্যয় বেড়েছে ৪১ হাজার ৬০ টাকা।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ২০২৭ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ২টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ধরা হয়েছে ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) এর খরচ ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা।

প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পার্লামেন্টে আলোচনায় প্রস্তুত ভারত সরকার

ভারতের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিটের) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভ গড়িয়েছে টানা তৃতীয় দিনে। সংঘাত ও বিক্ষোভের মধ্যেই বুধবার (২২ জুলাই) সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকার পার্লামেন্টে প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সরকারি সূত্রগুলো। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সামনে আসার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংসতার পর থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সেদিনের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাটি পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা উদ্ধৃত করে কিরেন রিজিজু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এনডিএ শরিকদের সংসদের সব ধরনের কাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোকে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ এবং যুবসমাজের কল্যাণে কাজ করা সব সংসদ সদস্যের যৌথ দায়িত্ব।’