খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১৭ চৈত্র, ১৪৩২

প্রথমবারের মতো সরকারি বেতনের আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রথমবারের মতো সরকারি বেতনের আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদরা

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। খেলাধুলাকে কেবল শখ নয়, বরং সম্মানজনক পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক ‘ক্রীড়া ভাতা’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাথমিক পর্যায়ে ১২৯ জন নির্বাচিত ক্রীড়াবিদকে বিশেষ ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে তারা মাসিক বেতন ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। বেতনের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে কৃতী খেলোয়াড়দের বিশেষ সম্মাননাও প্রদান করা হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই স্থায়ী বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
এই সুবিধা কেবল নামমাত্র নয়, বরং গুণগত মান বজায় রাখার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে: প্রতি চার মাস অন্তর তালিকাভুক্ত ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। যারা মাঠে নিজেদের দক্ষতা ও পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারবেন, তারাই কেবল এই বেতন সুবিধা অব্যাহত রাখতে পারবেন। পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা দিলে বা মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার নিয়ম রাখা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে সবার জন্য সমান বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভাতার সুনির্দিষ্ট অংকটি এখনই প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি এই পৃষ্ঠপোষকতা দেশের উদীয়মান অ্যাথলেটদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করবে। এর ফলে খেলোয়াড়রা পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে নিজেদের খেলার মান উন্নয়ন করতে পারবেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য আরও ত্বরান্বিত করবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার

দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান চাপ মোকাবিলায় সরকার বিস্তৃত সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি,ডলার সংকট এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এসব উদ্যোগ বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে,বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৈনন্দিন কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিনের বেশি করার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে, যাতে শিল্প ও অফিস খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো যায়। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অফিসে আংশিকভাবে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া অফিস সময়সূচি পুনর্বিন্যাস, বিশেষ করে দিনের আলো বেশি থাকা সময়ের মধ্যে কার্যক্রম সীমিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, যাতে কৃত্রিম আলো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমানো যায়। প্রয়োজন ছাড়া সরকারি দপ্তরে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার সীমিত করা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের পর আলোকসজ্জা কমানোর নির্দেশনাও আসতে পারে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে নতুন করে নির্দেশনা জারি করার কথাও ভাবা হচ্ছে। শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময়সূচি সমন্বয় এবং উচ্চ চাহিদার সময় (পিক আওয়ার) এ ব্যবহার কমানোর দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি—বিশেষ করে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। ফলে বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চাহিদা ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
তারা আরও জানান, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হলে বিদ্যুতের অপচয় কমবে, জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।
সরকার আশা করছে, পরিকল্পিত এই সাশ্রয়মূলক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সীমিত জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংকট এড়ানো যাবে।

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

আজ (২৬ মার্চ)— মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের বিরুদ্ধে শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র প্রতিরোধ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে অর্জিত হয় স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা। এ বছর পালিত হচ্ছে স্বাধীনতার ৫৬তম বার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দিবসটি পালন করছে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে।
রক্তঝরা ইতিহাসের সূচনা
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। কিন্তু দমে যায়নি বাঙালি জাতি। সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গড়ে তোলে প্রতিরোধ। নয় মাসের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়— জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ জাতিকে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা জোগায়। তিনি সাম্য, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
দেশব্যাপী কর্মসূচি
দিবসটি উপলক্ষে ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার এবং বিদেশি কূটনীতিকরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাজধানীসহ সারা দেশে আয়োজন করা হয়েছে কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে বিএনপির শ্রদ্ধা
বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ বিভিন্ন ঘাটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সিনেমা হলে বিনা টিকিটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। জাদুঘরগুলোও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। দেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জাতীয় ঐক্যের আহ্বান
মহান স্বাধীনতা দিবস শুধু অতীতের গৌরব স্মরণের দিন নয়, বরং ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকারের দিন। জাতির এই মহান অর্জনকে অর্থবহ করতে প্রয়োজন ঐক্য, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়া। স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আজকের দিনের অঙ্গীকার।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৫

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ১১ জন নারী, ৭ শিশু ও ৭ জন পুরুষ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. হাফিজুর রহমান বলেন, দৌলতদিয়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩নং পন্টুন থেকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।