খুঁজুন
                               
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

হান্টা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক, মহামারির ঝুঁকি কতটা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
হান্টা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক, মহামারির ঝুঁকি কতটা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ঘুরতে বের হয়েছিল ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের একটি প্রমোদতরি। ভ্রমণকালে প্রমোদতরিটিতে হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রাদুর্ভাবটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক মাস আগে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা প্রমোদতরিটিতে এখন পর্যন্ত তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে।
চিকিৎসার জন্য আরো চারজনকে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে একটি বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বিমানে করে ফিরে গেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, সাধারণ জনগণের জন্য ঝুঁকি কম। তাহলে আমাদের কতটা উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?
কিভাবে আলোচনায় এই ভাইরাস?
বিশ্বের দক্ষিণতম শহর আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে এমভি হন্ডিয়াস ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করেছিল। ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস পরিচালিত এই বিলাসবহুল ক্রুজটি আর্জেন্টিনা থেকে ব্রিটিশশাসিত দক্ষিণ জর্জিয়া অঞ্চলে যাওয়ার কথা ছিল।
জাহাজটি এমন এক সমুদ্রযাত্রায় ছিল, যেখানে যাত্রীদের আটলান্টিকের সবচেয়ে দুর্গম ও অদেখা কিছু ভূখণ্ড অতিক্রম করে জীবনের সেরা এক ভ্রমণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে ২৮টি দেশের প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু এই জাহাজে ছিলেন বলে জানা গেছে।

ফরিদগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নূর রহমান (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে ২০২৬) সকালে উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সকালে পথচারীরা রাস্তার পাশে একটি মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিছুটা এগিয়ে গেলে সড়কের ওপরই গুরুতর আহত অবস্থায় নূর রহমানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো অজ্ঞাতনামা দ্রুতগতির যানবাহন তাকে চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় আশপাশে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। পরে তারা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িত যানবাহন শনাক্তে চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিহত নূর রহমান ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দোকানের নিয়মিত ক্রেতা ও পরিচিতজনরা তার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নূর রহমানের পরিবারে রয়েছে তার দুইটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে সন্তান। এছাড়া তিনি আট ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার ওপরই পরিবারের দায়িত্ব ছিল। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তা ও দুঃখের মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়কে নজরদারি বৃদ্ধি, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বানও জানান তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজারে পাবলিক টয়লেটের অভাবে হাজারো নিত্য ভোগান্তি

মুহাম্মদ বাদশা ভূঁইয়া
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজারে পাবলিক টয়লেটের অভাবে হাজারো নিত্য ভোগান্তি

চাঁদপুর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ও ট্রাফিক পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত ‘ওয়ারলেস বাজার’। চাঁদপুর পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এই এলাকাটি মূলত জেলা শহরের প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন এই স্থান দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। গড়ে উঠেছে বিশাল কাঁচাবাজার ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। কিন্তু আধুনিক নাগরিক সুবিধার এই যুগেও অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এখানে নেই কোনো পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা। ফলে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, ব্যবসায়ী, পথচারী এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুরা অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন।
চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঠিক পাশেই অবস্থিত ওয়ারলেস বাজার। এই মোড়টি চাঁদপুর শহরের সাথে কুমিল্লা, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং পণ্যবাহী ট্রাক থামে। ওয়ারলেস বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কাঁচাবাজারে ভোর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতার ঢল নামে। এ ছাড়াও আশপাশে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এত বিশাল কর্মযজ্ঞের এই কেন্দ্রে একটি পাবলিক টয়লেট না থাকাটা বর্তমান সময়ের এক বড় নাগরিক পরিহাস হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
সরেজমিনে ওয়ারলেস বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস থেকে নামা যাত্রীরা টয়লেটের প্রয়োজনে দিশেহারা হয়ে এদিক-ওদিক ছুটছেন। বিশেষ করে যারা লক্ষ্মীপুর বা নোয়াখালী থেকে চাঁদপুর হয়ে ঢাকা বা অন্য কোথাও যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এই স্থানটি একটি বিরতিস্থল। কিন্তু এখানে নেমে টয়লেটের সুবিধা না পেয়ে তারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।
ঢাকা অভিমুখী বাস যাত্রী আলামিন মুন্সি ক্ষোভের সাথে বলেন, দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা রাস্তায় থাকার পর স্বাভাবিকভাবেই টয়লেটের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এই ব্যস্ত বাজারে এসে যখন দেখি কোনো ব্যবস্থা নেই, তখন খুব অসহায় লাগে। বাধ্য হয়ে পাশের মসজিদ বা মাদ্রাসায় যেতে হয়। অনেক সময় তারা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ঢুকতে দিতে চায় না। এটি খুব অপমানজনক ও বিব্রতকর। পাবলিক টয়লেট না থাকার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী যাত্রীরা। পুরুষরা কোনোভাবে বিকল্প পথ খুঁজলেও নারীদের পক্ষে তা অসম্ভব। সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী রেবেকা সুলতানা বলেন, “জরুরি প্রয়োজনে নারীদের যে কী পরিমাণ কষ্ট হয়, তা কর্তৃপক্ষ বুঝলে হয়তো অনেক আগেই ব্যবস্থা নিত। আমাদের কোনো মানুষের বাসা খুঁজে বের করতে হয় কিংবা কোনো দোকানের পেছনে গিয়ে সাহায্য চাইতে হয়। একটি সভ্য সমাজে নাগরিক সুবিধা বলতে কিছুই নেই এখানে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওয়ারলেস বাজার সংলগ্ন এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)-এর পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা পড়ে আছে। অথচ জায়গা থাকা সত্ত্বেও সেখানে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি চাঁদপুর পৌরসভা বা সওজ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাগর গাজী জানান, আমরা বছরের পর বছর ধরে এখানে একটি টয়লেটের দাবি জানিয়ে আসছি। পৌরসভা বলে জায়গা নেই, আবার সওজ বলে তারা পরিকল্পনা করছে না। মাঝখান থেকে আমাদের মতো ব্যবসায়ীরা এবং বাজারে আসা হাজার হাজার ক্রেতা কষ্ট পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল বলেন, পৌরসভা চাইলে সওজ-এর সাথে সমন্বয় করে খুব সহজেই একটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট তৈরি করতে পারত। এর জন্য বড় কোনো বাজেটের চেয়ে মানসিক সদিচ্ছার বেশি প্রয়োজন।
বাজারে পাবলিক টয়লেট না থাকায় এলাকার মসজিদগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। মুসুল্লিদের ইবাদতের জন্য সংরক্ষিত অজু ও টয়লেটের জায়গাগুলোতে সাধারণ মানুষের ভিড় লেগে থাকে। এতে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা যেমন কঠিন হচ্ছে, তেমনি মুসুল্লিদের ওজু করার ক্ষেত্রেও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। অনেক সময় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে যখন মসজিদ কমিটি বহিরাগতদের প্রবেশে বাধা দেয়। ওয়ারলেস বাজারের সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, চাঁদপুর পৌরসভা শহরের অন্যান্য এলাকায় যেভাবে টয়লেট পরিচালনা করছে, এখানেও একই মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “পৌরসভা এখানে একটি আধুনিক কমপ্লেক্স তৈরি করতে পারে যেখানে স্বল্প খরচে ব্যবহারের বিনিময়ে টয়লেট পরিচালনা করা হবে। সেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে এবং সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য স্টাফ নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। এতে পৌরসভার যেমন আয় হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও এক নিমেষে দূর হবে।”
যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগের ফলে এলাকার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। বাজারের পেছনের গলি বা ড্রেনের পাশে অনেকেই অস্বাস্থ্যকরভাবে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন, যার ফলে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, আর কত বছর অপেক্ষা করলে এই নূন্যতম নাগরিক সুবিধাটি নিশ্চিত হবে?
চাঁদপুর একটি পর্যটন ও ব্যবসা-সফল জেলা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। ইলিশের বাড়ি হিসেবে খ্যাত এই শহরের প্রবেশদ্বারে এমন একটি জনদুর্ভোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ওয়ারলেস বাজারের এই সমস্যাটি এখন কেবল একটি দাবি নয়, বরং এটি হাজারো মানুষের অধিকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে চাঁদপুরকে একটি স্মার্ট ও নাগরিকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলবে—এটাই এখন সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।

একটি যুদ্ধ শেষ, এখন শুরু আরেকটি : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
একটি যুদ্ধ শেষ, এখন শুরু আরেকটি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেটা হলো, আমরা মানুষকে যে কথা দিয়েছিলাম তার বাস্তবায়ন করা।’ এ সময় তিনি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন। আজ সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে করা সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ‘নতুন সংগ্রামে’ নামতে হবে।” তিনি আরো বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা মাঠে ছিলেন।
আমি বলেছিলাম নির্বাচন কিন্তু কঠিন হবে। আপনারা প্রত্যেকেই পরতে পরতে সেটা অনুভব করেছেন। মানুষ আমাদের দলের পক্ষে, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে।’ নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের দেওয়া ইশতেহার ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ম্যানিফেস্টো।
নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে বিশেষ করে আমরা সরকার গঠন করার পরে এই ইশতেহারটি আমাদের সরকারের তথা বাংলাদেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কারণ ভোট দেওয়া দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ মূলত আমাদের এই ম্যানিফেস্টোর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। কাজেই এই ম্যানিফেস্টোতে যা যা বলেছিলাম, আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা মানুষকে বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন দেব। আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ পাবে।
নারী-পুরুষ, শিশু সবাই নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।’
তিনি বলেন, আমরা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলাম তখন বলেছিলাম যে আমাদের ওপরে যে রকম অত্যাচার-নির্যাতন হচ্ছে, গুম-খুনের শিকার হতে হচ্ছে, তাতে আমরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক, যেখানে আমরা বিতর্ক করব, স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করব।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা বলি বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার। অর্থাৎ সরকার ঠিকই আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার। সে জন্য বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে, অনেক ক্ষেত্রেই সরকার সফল হতে পারবে না।’
এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়।
দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনও উপস্থিত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম মতবিনিময় সভা।