খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

শিশু-কৈশোরে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫, ২:১৮ অপরাহ্ণ
শিশু-কৈশোরে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ

শিশু থেকে কৈশোরে রূপান্তর হলো মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, যেখানে মানসিক, শারীরিক, এবং সামাজিক পরিবর্তনের এক জটিল প্রক্রিয়া ঘটে। এটি জীবনের সেই সময়, যখন ব্যক্তি তার পরিচয়, চাহিদা, এবং সামগ্রিক ব্যক্তিত্বের একটি ভিত্তি তৈরি করতে শুরু করে। কৈশোরকাল সাধারণত ১০ থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত বিস্তৃত, যা শৈশবের সরলতা থেকে প্রাপ্তবয়স্কের জটিল বাস্তবতায় প্রবেশের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
এই রূপান্তরের সময়ে শিশুরা শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়, যা তাদের ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা, এবং সামাজিক আচরণের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনগুলো এই পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ববহ, কারণ এগুলোই ভবিষ্যতের ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে।
কৈশোরকালীন মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন বলতে বোঝায় শিশুদের মানসিক বিকাশের সেই ধাপগুলো, যেখানে তারা শৈশবের নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে স্বাধীন পরিচয় এবং চিন্তাধারার দিকে এগিয়ে যায়। এই সময়ে কিশোর-কিশোরীরা তাদের আবেগ, চিন্তা-ভাবনা, এবং আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন অনুভব করে। শিশু থেকে কৈশোরে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের প্রধান দিক-শিশুদের আবেগ সরল এবং প্রত্যক্ষ থাকে, কিন্তু কৈশোরে তা জটিল রূপ নিতে শুরু করে। কৈশোরে হরমোনের পরিবর্তন আবেগকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ফলে, তারা হঠাৎ রাগ, আনন্দ, দুঃখ বা উদ্বেগ অনুভব করতে পারে। কৈশোরে শিশুরা নিজের পরিচয় খুঁজতে শুরু করে। তারা “আমি কে?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চায়। এই সময়ে তারা কখনো খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে এবং ছোটখাটো বিষয়েও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। জ্ঞানীয় পরিবর্তন হলো চিন্তাশক্তির বিকাশ।
শিশুরা সাধারণত কংক্রিট চিন্তাভাবনার ওপর নির্ভরশীল থাকে, তবে কৈশোরে তারা বিমূর্ত চিন্তা করতে শেখে। উদাহরণস্বরূপ, তারা ন্যায়-অন্যায়, নীতি, এবং আদর্শ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করে। তারা যুক্তিসঙ্গত চিন্তা এবং সমস্যার সমাধানে সক্ষম হয়ে ওঠে। তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ সম্পূর্ণ না হওয়ার কারণে তারা অনেক সময় ঝুঁকি নিতে পছন্দ করে। শিশু থেকে কৈশোরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। কৈশোরীরা পরিবারের চেয়ে বন্ধুদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। তারা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে।
সমবয়সীদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এবং তাদের মতো আচরণ করার প্রবণতা দেখা যায়। শিশুরা এই সময়ে পরিবারের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে স্বাধীন হতে চায়।
এই সময়ে শিশুরা আত্মবিশ্বাস এবং আত্মসম্মান সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া শারীরিক পরিবর্তনের কারণে তারা আত্মবিশ্বাস হারাতে পারে। যেমন: উচ্চতা, শরীরের গঠন, বা ত্বকের সমস্যার কারণে আত্মসম্মান কমে যেতে পারে। নিজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা এই সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কৈশোরকালীন পরিবর্তনে প্রভাবক-পরিবার এই পরিবর্তনগুলোতে বড় ভূমিকা পালন করে। ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ কিশোরের মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। সমাজের মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতি কৈশোরের চিন্তাভাবনা এবং আচরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আজকের প্রযুক্তি-নির্ভর যুগে মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কৈশোরের মানসিকতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এ সময় থাকে মানসিক চাপ এবং হতাশা। পরিচয় সঙ্কট। ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, যেমন : নেশা, বিদ্রোহ। সমবয়সীদের চাপ।
উত্তরণের উপায় : পারিবারিক সমর্থন বৃদ্ধি। পজিটিভ রোল মডেল প্রদান। মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা। সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ।
শিশু থেকে কৈশোরে রূপান্তর শুধুমাত্র শারীরিক বা বাহ্যিক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মনস্তাত্ত্বিক, আবেগীয়, সামাজিক এবং জ্ঞানীয় দিক থেকে গভীর প্রভাব ফেলে। এই পর্যায়টি মানব জীবনের ভিত্তি গঠনের অন্যতম প্রধান ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। কৈশোরের সঠিক বিকাশ ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক অবস্থানের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
কৈশোরে শারীরিক পরিবর্তন, যেমন উচ্চতা বৃদ্ধি, যৌন বৈশিষ্ট্যের বিকাশ এবং শরীরে হরমোনের পরিবর্তন, শিশুদের আবেগ, আচরণ এবং মানসিকতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। কৈশোরে হরমোনের পরিবর্তন আবেগের অস্থিরতা এবং মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। টেস্টোস্টেরন এবং ইস্ট্রোজেনের বৃদ্ধি: এটি আবেগপ্রবণতা এবং কখনো কখনো বিদ্রোহী আচরণে প্রভাব ফেলে। অল্পতেই খুশি হওয়া বা রাগান্বিত হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। শরীরে আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারাতে পারে। শরীরের চেহারা বা ওজন নিয়ে অসন্তুষ্টি তাদের আত্মসম্মানকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে শারীরিক পরিবর্তন (যেমন : মাসিক) নতুন অভিজ্ঞতা এবং মানসিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
কিশোরদের মানসিক বিকাশ বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্ব রয়েছে। এরিকসন কৈশোরকালকে “পরিচয়ের সংকট” বা Identity vs. Role Confusion পর্যায় বলে চিহ্নিত করেন। এই সময়ে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের পরিচয় খুঁজতে চায়। তারা নিজেদের লক্ষ্য এবং সমাজে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করে। পরিচয় গঠনে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং সংকট দেখা দিতে পারে। পিয়াজে কৈশোরকে Formal Operational Stage হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে কিশোর-কিশোরীরা বিমূর্ত এবং যৌক্তিক চিন্তাভাবনা করতে শুরু করে। এই সময়ে তারা “কী হতে পারে” এই ধারণাগুলো নিয়ে চিন্তা করতে পারে। নীতি এবং মূল্যবোধের বিষয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করে। ফ্রয়েড কৈশোরকে Genital Stage হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে যৌন চেতনার বিকাশ ঘটে। এই পর্যায়ে যৌন আকর্ষণ এবং সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। সামাজিক সম্পর্ক এবং যোগাযোগ এই পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আবেগপ্রবণতা এবং মানসিক সংকট। কৈশোরীরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে কঠিন সময় পার করে। তারা কখনো খুশি, কখনো হতাশাগ্রস্ত হয়। তারা নিজেদের আত্মপরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত থাকে। কৈশোরে আত্মসম্মান এবং আত্মবিশ্বাস গঠনের কাজ শুরু হয়। শারীরিক গঠন এবং চেহারার প্রভাব, সমাজ এবং সমবয়সীদের প্রতিক্রিয়া তাদের আত্মসম্মান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য বা ব্যর্থতা আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে। সামাজিক সম্পর্ক এই সময়ে নতুন মাত্রা লাভ করে। কৈশোরীরা বন্ধুদের সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি শেয়ার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এই সময়ে তারা ভালোবাসা এবং সম্পর্কের প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করে। পরিবারের প্রভাব কমে যাওয়া: কিশোর-কিশোরীরা ধীরে ধীরে পরিবারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যায়। এই সময়ে মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ার কারণে তারা ঝুঁকি নিতে বেশি পছন্দ করে। মাদকাসক্তি, ধূমপান, বা ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় অংশগ্রহণ এই সময়ে বৃদ্ধি পেতে পারে। সামাজিক চাপ এবং বন্ধুবান্ধবের প্রভাব তাদের আচরণকে প্রভাবিত করে।
কৈশোরের সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেমন-কৈশোরে আবেগপ্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ডিপ্রেশন এবং উদ্বেগে ভুগতে পারে। শিক্ষার চাপ, সম্পর্কের জটিলতা, এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ডিপ্রেশনের কারণ হতে পারে। “আমি কে?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কিশোর-কিশোরীরা হতাশায় পড়তে পারে। পরিবার এবং বন্ধুদের কাছ থেকে দূরত্ব তৈরি হলে তারা একাকিত্ব অনুভব করতে পারে। বন্ধুদের মতামত অনুসরণ করার প্রবণতা তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে। কৈশোরে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সমর্থন তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পরিবার ও সমাজের ভূমিকা-আবেগপ্রবণ মুহূর্তে তাদের পাশে থাকা। উন্মুক্ত আলোচনা এবং সমালোচনা না করা। ভালো অভ্যাস এবং মূল্যবোধ শেখানো। তাদের দক্ষতা এবং সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করা। পরীক্ষার চাপ বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যায় সমাধান দেওয়া। ইতিবাচক রোল মডেল সৃষ্টি। শিক্ষামূলক এবং সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনা।
শিশু থেকে কৈশোরে রূপান্তরের সময় মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন গভীর এবং বহুস্তরীয়। এটি এমন একটি পর্যায়, যা সঠিকভাবে পরিচালিত হলে একজন সুস্থ, সৃজনশীল, এবং দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক তৈরি করতে সাহায্য করে। এই সময়ে পরিবার, শিক্ষক এবং সমাজের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৈশোরের চ্যালেঞ্জগুলোকে সঠিকভাবে মোকাবিলা করে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে সাফল্যময় এবং সমৃদ্ধ করা সম্ভব। শিশু থেকে কৈশোরে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন একটি জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এটি সঠিকভাবে পরিচালিত হলে একজন কিশোর সুস্থ এবং সফল প্রাপ্তবয়স্কে পরিণত হতে পারে। পরিবার, সমাজ, এবং শিক্ষা এই পর্যায়ে বড় ভূমিকা পালন করে। যত্ন এবং সমর্থনের মাধ্যমে এই সময়ের পরিবর্তনগুলোকে ইতিবাচক অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়া সম্ভব।
লেখক পরিচিতি : উজ্জ্বল হোসাইন, লেখক ও সাংবাদিক, চাঁদপুর।

কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। গত কয়েক দিন থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ।হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। হাসপাতালে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া বলেন, আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়েরি তাই ভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল বেলা ঠান্ডা ও শীতে বাড়িত থাকি বের হওয়া যায় না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ চলমান রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই জারি করা হয়েছে এ সতর্কতা। ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক হয়েছে। মূলত ইরান পরিস্থিতিই ছিল সেই ফোনালাপের একমাত্র বিষয়বস্তু। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে নেতানিয়াহু-রুবিওর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগের দিন শুক্রবার মার্কিন দৈনিক দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইরান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমার মনে হয় কোনো ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে কী ঘটছে, তা দেখা। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল ও ইরান। টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সেবার।

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে তিনটি ও সদরের দক্ষিণ বাজারের গোডাউন এলাকায় ৪টি অভিযানে সাতটি মামলায় মোট দশ ডিলারকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও নিরুপম মজুমদার। ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্যে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘টিভিতে দামের ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।’ ক্রেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।’ খুশবু আক্তার বলেন, ‘তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।’
পরিবেশক মোহাম্মদ কাজল ও ফাহিম বলেন, ‘গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক।’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।’ রায়পুর উপজেলা পরিষদের সামনে পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।’
ওমেরা ও যমুনা এলপিজির পরিবেশক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওমেরা ও যমুনা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের ৭ জনকে ৪২ হাজার ও রায়পুর শহরের ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা কঠিন হবে।’
রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লুধুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এলপিজি বাজারের অনিয়ম উদ্বেগজনক। সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান, কঠোর শাস্তি ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। না হলে নির্ধারিত দাম কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাছান বলেন, লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি-এর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে সদরে ৭টি মামলায় ৪২ হাজার টাকা এবং রায়পুরে তিন মামলায় ১১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।